জাতীয় সংবাদ

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘সেপা’ চুক্তি সই, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘সেপা’ চুক্তি সই, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট—সেপা) সই করেছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। বিপরীতে বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই সুবিধার আওতায় আসবে।

    মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের মধ্যে সেপা চুক্তি সই হয়। পরে ‘সেপা নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সেরেমনি’ শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে এটি প্রথম সেপা চুক্তি। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে শুল্কমুক্ত ও সুবিধা পাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির দেশ। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।’

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন, যার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ জরুরি। সেপার মতো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন,‘বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি পণ্য বহুমুখীকরণের দিকে এগোচ্ছে। তাই উভয় দেশকেই আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে যুক্ত হতে হবে।’

    তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা (সাপ্লাই চেইন) খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এ চুক্তির ফলে কোরীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও সহজ ও অনুকূল পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।”

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩৯ কোটি (১.৩৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯ কোটি ১৭ লাখ (৪৯১.৭৩ মিলিয়ন) ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০ কোটি ২৯ লাখ (৯০২.৯০ মিলিয়ন) ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪১ কোটি (৪১১ মিলিয়ন) ডলার।

    উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক। অন্যদিকে, দেশটি থেকে বাংলাদেশে প্রধানত লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ এবং কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।

  • মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

    মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে পর্যালোচনা চলছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যেসব মন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ২৪ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রীর কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন চলছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

    সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্রেট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ-সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

    রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন করে কাউকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

    এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

    সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে অন্তত ১২ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এজন্য দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

    মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক্ষেত্রে দু-একজন প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক অনেক ভালো ‘পারফরম্যান্স’ করছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তারা পূর্ণ মন্ত্রীও হতে পারেন। এছাড়া সংসদ-সদস্য এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ভেবেচিন্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

  • বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে বসত ঘরে একই পরিবারের তিন জনের লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

    পুলিশ, পিবিআই ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভীর করেছেন। এখনও লাশ ঘরের মধ্যে রয়েছে, সিআইডি পৌঁছালে লাশ উদ্ধার করা হবে।

    মৃতরা হলেন, চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলীর স্ত্রী মনিরা বগেম (৫২) ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৮৫)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।

    কয়েকদিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন তিনি।

  • ‘বিচার পাওয়ার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হবে গুমের শিকার পরিবারগুলো’

    ‘বিচার পাওয়ার পরিবর্তে হয়রানির শিকার হবে গুমের শিকার পরিবারগুলো’

    মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত গুমসংক্রান্ত খসড়া আইনের সমালোচনাা করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানান।

    তার মতে, খসড়া আইনের প্রস্তাবিত বিধানগুলো গুমের শিকার পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করবে এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি হয়রানি ও শাস্তির মুখে ফেলবে।

    নাবিলা ইদ্রিসের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মূলত আইনের দুটি বিশেষ ধারার কার্যকারিতা ও এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।

    খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো পরিবার যদি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করে, তবে সেই অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই করবে। এই বিধানের কঠোর সমালোচনা করে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এর ফলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিজেই তদন্ত করে নিজেদের দায়মুক্ত দেখানোর সুযোগ পাবে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

    প্রস্তাবিত আইনের ধারা ২১-এ বলা হয়েছে, তদন্তের পর যদি আদালতে গুমের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী পরিবারের ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হবে। সাবেক এই কমিশন সদস্য মনে করেন, এই ধরনের শাস্তির বিধান থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভয়ে মুখ খুলতেই সাহস পাবে না।

    সোমবার মন্ত্রিসভায় গুম সংক্রান্ত নতুন এই আইনের খসড়া অনুমোদন পায়। রাষ্ট্রীয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আসার পর তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিনের।

    তবে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্ত বাহিনী নিজেই যদি তদন্তের দায়িত্ব পায়, তবে তা থেকে ন্যায়বিচার আশা করা কঠিন। তাছাড়া, মিথ্যা অভিযোগের জিগির তুলে ৫ বছরের কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর এক ধরনের চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং আইনি হুমকি তৈরি করবে।

    সাবেক কমিশন সদস্যের এই বক্তব্য প্রকাশের পর আইনটির কার্যকারিতা ও এর খসড়া সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

  • মালয়েশিয়ায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

    মালয়েশিয়ায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

    মালয়েশিয়ার নেগ্রি সেম্বিলান রাজ্যের লিঙ্গিতে সহকর্মীদের মধ্যকার সহিংস সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার পর পর অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সি এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।

    নেগ্রি সেম্বিলান রাজ্যের পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারে পুলিশ। খবর পেয়েই লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তিনজনের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি মালয়েশীয় পুলিশ। আহত বাংলাদেশি বর্তমানে রেম্বাউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সকলেই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং একই বাসায় বসবাস করতেন। হত্যা মামলা (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা) দায়ের করে ঘটনার মূল কারণ ও পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

  • জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন বুধবার, সবার জন্য উন্মুক্ত বৃহস্পতিবার

    জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন বুধবার, সবার জন্য উন্মুক্ত বৃহস্পতিবার

    আগামীকাল ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের দিন বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য এটা উন্মুক্ত থাকবে।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে বুধবার সকাল ৯টায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ফলক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন শেষে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারকসমূহ পরিদর্শনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হবেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি সংরক্ষণ, সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শহীদ ও জুলাইযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ এবং বিজয়ের ইতিহাসভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে বলে জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক উপস্থিত সব অতিথি, জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিবৃন্দ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন, জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

    জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। এখানে বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং ছোটদের জন্য ২৫ টাকা টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সরকার

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমে প্রচার করা হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে আদালতের আদেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ নির্দেশ অমান্য করা হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করেছিল। কেউ যদি আগাম ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে তা আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

    তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারের দায়িত্ব হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তাই সবাইকে আদালতের আদেশ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

    তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। কারও যদি আদালতের আদেশের বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতেই তা চ্যালেঞ্জ করা উচিত। কিন্তু আদেশ বহাল থাকা পর্যন্ত সেটি মেনে চলতে হবে।

    শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। এ লক্ষ্যে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থন, আইনজীবী নিয়োগসহ সব ধরনের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে চলবে।

    শেখ হাসিনার সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। এখনও কেউ কেউ তাকে সমর্থন করতে পারেন, তবে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সাংগঠনিক বা নৈতিক সক্ষমতা তাদের নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এ মুহূর্তে ওই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা নিয়ে সরকারের কোনো তদন্ত কার্যক্রম চলছে না।

    সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের তথ্য সরকার দেরিতে জানার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নন। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রশাসনে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রশাসনিক কাঠামো একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনও রয়েছেন। তাদের পরিবর্তে নতুন জনবল গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন।

  • ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক কার্ডের তালিকা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছবি ও কিউআর কোড-সংবলিত কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজার-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্ড তৈরির নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় জানানো হয়, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

    কৃষি খাতে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি, সহজ শর্তের ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এ কার্ডের সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের কমবেশি দুই কোটি কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সভায় কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস. এম. আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

  • ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২ তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালরি ডেকেরেশনের কাজ করছিলেন। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।’

  • পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

    পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে একদল বিশেষজ্ঞের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ফুটস্টেপস বাংলাদেশের নেতৃত্বে পরিবেশ, পানি ও প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞ এবং এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। তারা দেশের পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা এবং সমাধান নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

    সভায় দেশের খাল পুনরুদ্ধার, নদী ও বাঁধের স্থিতিশীলতা, নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য পানি পরিশোধন এবং বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে সমন্বিত ও কার্যকর নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনে দেশের টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ট্রাস্টি ও হেড অব পার্টনারশিপস ফাসবীর এস্কান্দার, সভাপতি শাহ রাফায়াত চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ তাকী ইয়াসির, বিশ্বব্যাংকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, রেড অরেঞ্জের পরিচালক অলোক কুমার মজুমদার, উপপরিচালক সামিউল ইসলাম, ইয়ুথ ফর এনডিসির নির্বাহী পরিচালক আমানুল্লাহ পরাগ, গারবেজম্যানের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিদ উদ্দিন শুভ এবং নগর ও গ্রামীন পরিকল্পনাবিদ এস এম মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।

  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

    অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

  • জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১১ পয়সা ধরে)। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবাহ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ২৪৭ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর আগে বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৫২৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সম্প্রসারিত সুযোগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    শ্যামনগরে বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাঁকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, “বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

  • ঢালিউডের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর

    ঢালিউডের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর

    বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক ‘মুখ ও মুখোশ’। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা সবাক চলচ্চিত্রটি মুক্তির মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি ছিল আজ।

    ৭০ বছর আগে এই দিনে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে উদ্বোধন করা হয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের পথিকৃৎ ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’। উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। ছবিটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান। এই চলচ্চিত্রের জন্মই হয়েছিল এক চ্যালেঞ্জ থেকে। ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় বলা হয়েছিল, এ অঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব নয়। সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আবদুল জব্বার খান ঘোষণা দেন– তিনি নিজেই ছবি নির্মাণ করে দেখাবেন। চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের লেখা ‘ডাকাত’ নাটক অবলম্বনে চিত্রনাট্য তৈরি করেন তিনি।

    কলকাতা থেকে পুরোনো একটি আইমো ক্যামেরা ও সাধারণ একটি টেপ রেকর্ডার এনে শুরু হয় কাজ। নারীশিল্পীর অভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনেত্রী খুঁজে নেওয়া হয়। নায়িকা কুলসুম চরিত্রে অভিনয় করেন কলকাতার পূর্ণিমা সেনগুপ্ত, আর পরিচালক নিজেই অভিনয় করেন নায়ক আফজালের ভূমিকায়।

    বুড়িগঙ্গার ওপারের কালীগঞ্জ, লালমাটিয়া, তেজগাঁও, জিঞ্জিরা ও টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ছবিটির শুটিং সম্পন্ন হয়। ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর শুটিং শেষ হওয়ার পর সম্পাদনা ও প্রিন্টের কাজ করা হয় লাহোরের শাহনুর স্টুডিওতে। প্রথমে ঢাকার পরিবেশকরা ছবিটি মুক্তি দিতে আগ্রহী না হলেও পরে ‘পাকিস্তান ফিল্ম ট্রাস্ট’ ও ‘পাকিস্তান ফিল্ম সার্ভিস’ পরিবেশনার দায়িত্ব নেয়। রূপমহল সিনেমা হলে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনাতেও ছবিটি মুক্তি পায়। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত সাড়া প্রমাণ করে, বাংলার মাটিতেও চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। আর সেই সাফল্যের মধ্য দিয়েই রচিত হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নতুন ইতিহাস। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন সমর দাস। কণ্ঠ দেন মাহবুবা হাসনাত ও আবদুল আলীম, আর নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন গওহর জামিল।

    ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ২ আগস্ট চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে স্থান পায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের পোস্টারের পাশাপাশি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত দর্শকনন্দিত সিনেমাগুলোর পোস্টারও।

    উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শিশুসাহিত্যিক ও প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর, চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ, মতিন রহমান, অভিনেতা সোহেল আরমানসহ চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।

    অনুষ্ঠানে মো. আব্দুস সালাম বলেন, প্রদর্শনীতে থাকা অনেক সিনেমাই তিনি দেখেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পাশাপাশি অন্যান্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। দর্শকদের মানসম্মত সিনেমা উপহার দিতে পারলে তারা অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে ফিরবেন বলেও মনে করেন তিনি।

    চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমান বলেন, ১৯৫৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। তবে ২০০০ সালের পর থেকে চলচ্চিত্রশিল্পে ধীরে ধীরে মন্দা নেমে আসে। একসময় দেশে প্রায় ১,৭০০টি সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি। ঈদের মতো বড় উৎসবে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ৮০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়।

    তিনি বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ৭০ বছরের ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি বর্তমান সংকটও বাস্তবতা। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

    চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ বলেন, সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তি যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে দর্শকদের দেখার মাধ্যমও। তবে সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, “সিনেমা কোনোদিন বিলীন হবে না। যারা একসময় হলবিমুখ হয়েছিল, তারাও এখন আবার সিনেমা দেখতে শুরু করেছে। সরকার যদি সারা দেশে আরও সিনেপ্লেক্স নির্মাণে সহযোগিতা করে, তাহলে বাংলা চলচ্চিত্র নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।”

  • এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সফল করতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠন না করলে তাদের এমপিও সুবিধা স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করবে।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

  • সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    সন্ধ্যায় জামায়াতের জরুরি প্রেস ব্রিফিং

    আজ ৩ আগস্ট (সোমবার) সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে।

    জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজারস্থ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

  • দেশকে পরিষ্কার রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    দেশকে পরিষ্কার রাখতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে; যা নিশ্চিত করবে আমাদের আগামী দিনের বংশধরদের জন্য একটি সুস্থ দেশ, সুস্থ পরিবেশ। আজ সোমবার সকালে ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্পর্শ করে। ৪০ বা ৩০ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরসহ জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট এবং বাজার এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ব্যবহৃত টিস্যুসহ নানাবিধ আবর্জনা যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।’

    ময়লা আবর্জনা সঠিক উপায়ে ধ্বংস করার প্রতি গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই পায়ে হেঁটে চলে অথবা বাসে চলাচল করে। এই মানুষগুলো যখন রাস্তা পার হয়, বিভিন্ন জায়গায় যখন আবর্জনা জমে থাকে, ময়লা থাকে, এই মানুষগুলোর কিন্তু অনেক কষ্ট হয়। বিভিন্ন জায়গায় অনেক দুর্গন্ধ হয়, আবর্জনা জমে থাকে। তবে আমরা যদি সকলে মিলে একটু সচেতন হই। যত্রতত্র আমাদের ব্যবহারকৃত আবর্জনা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করি এবং নির্দিষ্ট উপায়ে যদি এটাকে পরে ধ্বংস করি, তাহলে যেমন আমাদের পরিবেশটি ভালো থাকবে ঠিক একইভাবে আমরা আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দরভাবে রাখতে পারব।’

    নিজের ঘরের পরিচ্ছন্নতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘চিন্তা করে দেখুন তো আপনার ঘরে যে ঘরটিতে আপনি থাকেন, যে বাসাটিতে আপনি থাকেন, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, যদি চারিদিকে এমন আবর্জনা ছড়িয়ে থাকতো, আপনার কাছে কি ভালো লাগতো দেখতে? নিশ্চয়ই না। আমাদের কারো কাছেই ভালো লাগতো না। কবি তো সুন্দরভাবে লিখেছেন, সবুজ, শস্য শ্যামলা আমার ভুবন। তবে আমরা কেন আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করতে পারবো না।’

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসে যখন আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি হয়তো কোন একটি পুকুরের পাশ দিয়ে যাচ্ছি, দেখেছি পুকুরের ভিতরে বিভিন্ন রকম ময়লা স্তূপ হয়ে পড়ে আছে। অথবা পুকুরপাড়ে বিভিন্ন ময়লা স্তুূপ হয়ে পড়ে আছে। অথচ একসময় এসব স্থানে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বসত ও গল্প করত।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখন যাই তখন হয়তো যারা পরিচ্ছন্ন কর্মী তারা হয়তো পরিষ্কার করে রাখছে। কিন্তু আমরা যখন বেরিয়ে আসছি তখন আর সেটি আগের মতন পরিষ্কার থাকছে না। যদি পরিষ্কার থাকতো আপনি যদি পরিষ্কার করে রেখে আসেন আপনার পরবর্তীতে যে যাবে সেও সেই পরিচ্ছন্নতার সুন্দর পরিবেশটি উপভোগ করতে পারবে।’

    সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আজকে থেকে প্রত্যেকে সচেতন হই আমাদের হাতের আবর্জনা বা ব্যবহৃত আবর্জনা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় সুন্দরভাবে আমরা গুছিয়ে ফেলি তাহলে ধীরে ধীরে হয়তো আমরা আমাদের এই বাংলাদেশটাকে আবর্জনা মুক্ত করতে পারবো। সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারবো।’

    দেশ গঠনে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা তো আমাদের সকলের। আমরা সকলে মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে আমরা বড় কিছু করতে সক্ষম হব। প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের কাছে আজকে এই সহযোগিতাটা আমি চাইছি।’

  • জঞ্জালভরা পুকুর এখন স্বপ্নের খামার

    জঞ্জালভরা পুকুর এখন স্বপ্নের খামার

    একসময় কচুরিপানা আর আগাছায় ভরা ছিল পুকুরগুলো। বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা সেই জলাশয়গুলো আজ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলের প্রধান অবলম্বন। বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন শতাধিক পরিবার। তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়ছে নারীদের আয়, আর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন মাছ কিনতে আসছেন পাইকাররা।


    পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের পূর্ব গজালিয়া, উত্তর গড়ের আবাদ, দক্ষিণ গড়ের আবাদ, কালুয়া ও বাদুড়িয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সকাল ও বিকেলে নির্দিষ্ট সময়ে পুকুরপাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চাষিরা। তেলাপিয়া ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছ কেটে শোল মাছের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করা হয়। খাবার পানিতে ছড়িয়ে দিতেই শত শত শোল মাছ একসঙ্গে ভেসে ওঠে।
    স্থানীয়রা জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগেও এসব পুকুরের অধিকাংশই কচুরিপানায় ভরা ছিল। এখন প্রায় প্রতিটি পুকুরেই বাণিজ্যিকভাবে শোল মাছ চাষ হচ্ছে।


    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রমেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আগে পুকুরগুলো কোনো কাজে লাগত না। এখন সেই পুকুরই গ্রামের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।’
    চাকরির পেছনে ছুটে ব্যর্থ হয়ে অনেক তরুণ এখন মাছ চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ রায় বলেন, ‘চাকরি না পেয়ে ছোট একটি পুকুর লিজ নিয়ে শোল মাছ চাষ শুরু করি। শুরুতে ভয় ছিল, কিন্তু এখন এই চাষ থেকেই পরিবারের সব খরচ চলছে।’


    শুধু পুরুষ নন, শোল মাছ চাষে যুক্ত হয়েছেন গ্রামের অনেক নারীও। মাছের খাদ্য প্রস্তুত, পরিচর্যা ও অন্যান্য কাজে অংশ নিয়ে পরিবারের আয় বাড়াচ্ছেন তারা।
    গৃহিণী পম্পা রানী বলেন, ‘প্রতিদিন মাছের খাবার তৈরির কাজ করি। এই আয় দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি। পরিবারের আয় বাড়াতে পারছি, এটিই সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
    চাষিদের মতে, তুলনামূলক কম জায়গায় এবং স্বল্প সময়ে লাভজনকভাবে শোল মাছ চাষ করা সম্ভব।


    সফল চাষি সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল জানান, মাত্র ছয় শতক আয়তনের একটি পুকুরে ২ হাজার ৬০০টি শোল মাছের পোনা ছেড়েছিলেন। সাত থেকে আট মাসের মধ্যে মাছগুলোর ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি হয়। সব খরচ বাদ দিয়েও তিনি প্রায় দ্বিগুণ লাভ পেয়েছেন।
    শোল মাছ চাষকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। মাছের খাদ্য প্রস্তুতকারী, পরিবহন শ্রমিক, পোনা সরবরাহকারী ও পাইকারদের অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বাজারব্যবস্থা।


    স্থানীয় পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী অনিল কুমার দাস বলেন, ‘খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা এখানে মাছ কিনতে আসেন।’
    উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক বলেন, ‘চাঁদখালী এলাকায় শোল মাছ চাষ দেশের অন্যতম সফল ও টেকসই মডেল হিসেবে গড়ে উঠছে। পরিকল্পিতভাবে এ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে পাইকগাছা দেশের অন্যতম শোল মাছ উৎপাদন এলাকায় পরিণত হতে পারে।’


    তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলে শোল মাছের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে।
    স্থানীয়দের মতে, অব্যবহৃত পুকুরকে কাজে লাগিয়ে শোল মাছ চাষ শুধু কৃষকদের আয় বাড়ায়নি, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন গতি এনেছে। একসময় অবহেলিত জলাশয়গুলো এখন কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং স্বাবলম্বিতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। চাঁদখালীর এই অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মৎস্য চাষের মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

  • জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের জালানি সংকট মোকাবিলায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোসহ তিন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুৎসংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এসব নির্দেশনা আসার কথা জানান তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপুল।

    তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে; সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    সভায় আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।

    এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

    চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

    যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবরটি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

    তিনি বলেন, ‘রোববার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই। আজ বিকেল পাঁচটায় তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।’

    ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তার চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেনি। পরে চিকিৎসক জানান, তার ব্রেন ক্যানসারের কথা।

    পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

    লিটন এরশাদ বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে ওঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তার মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাকে দেশে আনা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’

    কতদিন দেশে থাকবেন—এ প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সম্ববত ৭ থেকে ১০ দিন দেশে অবস্থান করবেন। এরপর আবার যুক্তরাজ্যে যাবেন।’

  • সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হল-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলেও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুত বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এছাড়া বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি ঘোষণা

    ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি ঘোষণা

    আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির মর্মানুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

  • হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    হামে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় শেষ ৬১% ; জরিপ

    দেশে হামের প্রকোপের মধ্যে সন্তান হারানোর বেদনার পাশাপাশি পরিবারগুলোকে কী পরিমাণ আর্থিক ভার বইতে হচ্ছে, তার একটি চিত্র উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।

    পৌনে তিন হাজার পরিবারের ওপর পরিচালিত এই মূল্যায়ন জরিপে দেখা গেছে, হামের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে।

    পাশাপাশি প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ছয়টিকেই (প্রায় ৬১ শতাংশ) চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজেদের জমানো সঞ্চয় ভাঙতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) যৌথভাবে এই জরিপ চালিয়েছে।

    সোমবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

    জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ৪ বছরের নিচে। এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী রয়েছে ৬ শতাংশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রতিটি পরিবার গড়ে ১৬ হাজার টাকা করে ব্যয় করেছে। এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবার নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই বলেছে, ধকল সামলে উঠতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

    এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে ওষুধের কথা বলেছে। এরপর রয়েছে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা (৩৩ শতাংশ) এবং খাদ্য সহায়তা (২২ শতাংশ)।

    পেশাগত তথ্য দেওয়া পরিবারগুলোর ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

    অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকার কারণে অনেকে আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরি হারানোর ঘটনাও ঘটেছে।

    রংপুরের হাজেরা খাতুন গত জুন মাসে তার ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। মেয়ের হামের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তাদের ৭০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

    হাজেরা খাতুন বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও এর বাইরে অনেক খরচ থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

    প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে, সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।

    “আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে,” বলেন হাজেরা।

    জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০টি পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা (প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা) দেওয়ার জন্য নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, “এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে।

    “আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।”

    বাংলাদেশে আইএফআরসি এর হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, “হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে।

    “এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা–দুটোই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।”

    আইএফআরসি ও অংশীজনদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে বিডিআরসিএস।

    পাশাপাশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করতে ১ হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

  • রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজনীতিকে সংসদের বাইরে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

    রাজিনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য।

    আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ৫৫ বছর পরও ভোটাধিকারের জন্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জা ও আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে জনগণ ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই বর্তমান সংসদ পরিচালিত হচ্ছে।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, এত রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনো রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অপপ্রচার, অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদদের রক্ত জড়িয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সংসদকে আরও কার্যকর করা, বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে যেভাবে বিএনপি সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে, এখন ক্ষমতায় থেকেও সরকার একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যের মাধ্যমে দেশে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হল-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলেও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুত বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এছাড়া বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ আওয়ামী লীগের নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি ঘিরে তৎপরতা চালানোর মুরোদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দলটি একদিকে নিষিদ্ধঘোষিত (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), আবার মাফিয়া শক্তি। তারা মাঝেমধ্যে বিদেশ থেকে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে। এর বেশি কিছু দেখা যায় না।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছিল। ৫ আগস্টের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘিরে আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বৈঠকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। সেই শক্তিও এই দলটির এখন আর নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনের খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়োজিত ল ফার্মকে (আইনজীবী প্রতিষ্ঠান) অনুরোধ করা হয়েছে, দ্রুত বেনজীরের জামিন বাতিলের ব্যবস্থা করার জন্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীরকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তা এখনই তিনি বলতে পারছেন না। বেনজীরের কাছে অন্য দেশের পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

    সম্প্রতি মেট্রোস্টেশনে ‘বোমাসদৃশ বস্তু’ পাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চেয়েছিল। এর পেছনে কারা আছে, সেটি খুঁজতে তদন্ত চলছে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের তুলনায় উগ্রবাদী তৎপরতা বর্তমানে অনেক কম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশে উগ্রবাদী তৎপরতা বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোনোভাবেই যেন উগ্রবাদী ও মৌলবাদীরা মাথা চাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, তাঁর বাংলাদেশ সফর তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি নিজেই বলে গেছেন, তারেক রহমান সরকারকে সব ধরনের সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৫৮০

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৮০ জন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়– গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২৫ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৯ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৮ জন, খুলনা বিভাগে ৬৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ জন, রংপুর বিভাগে ৩১ জন এবং সিলেট বিভাগে দুজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ হাজার ৬৮৪ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    আর চলতি বছরে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৫ হাজার ৩৪৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে।

  • সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    সাদিক অ্যাগ্রোর সেই ইমরান গ্রেফতার

    ‘ছাগল কাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক এক হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    গত ৩১ জুলাই সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে ইমরানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক রানা রায়। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

    ওই আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ইমরান হোসেন এ মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে মর্মে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমতবস্থায় আসামিকে এ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

    শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানাধীন বছিলা বেড়িবাঁধ, বছিলা ব্রিজ, বছিলা চেকপোস্ট ও সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালান। হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে বহু মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার ঘটনায় ভিকটিম মো. ছালেমানের পায়ের রানে গুলিবিদ্ধ হন।

    ওই ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম মো. ছালেমান।

    উল্লেখ্য, সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরানকে ২০২৫ সালে ৩ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরদিন ১৩৩ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকে কারাগারে আটক আছেন আলোচিত এ ব্যবসায়ী।

  • বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করেছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। একই সঙ্গে নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজও আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পোলিশ ব্র্যান্ডটি এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

    দেশের সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, রুশ ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের প্রায় চার কোটি মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপির নিশ্চয়তায় করা বিক্রয় চুক্তির আওতায় তাঁরা রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটির জন্য পণ্য সরবরাহ করেছিলেন।

    জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় জটিলতায় পড়ে এলপিপি। তখন তাদের ঢাকা কার্যালয় রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেয় এলপিপি। শুরুতে অর্থ পরিশোধে সমস্যা না হলেও গত বছর থেকে এফইএস রিটেইলের কাছে পণ্য সরবরাহের পরও অর্থ পাচ্ছে না বাংলাদেশের কারখানা ও বায়িং হাউসগুলো। এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে এলপিপিও অস্বীকৃতি জানায়।

    বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পাওনা অর্থ না পেয়ে কয়েকজন তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের মালিক আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর গত মাসে অনলাইনে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও গার্মেন্ট বায়িং হাউস মালিকদের সংগঠন বিজিবিএর সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। তবে সমঝোতার আগে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত দিলে বিকেএমইএ ও বিজিবিএর নেতারা তাতে রাজি হননি। ফলে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।

    এরপর গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিজিবিএকে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, কয়েক মাস ধরে কিছু বাংলাদেশি কারখানার অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এসব অর্থ পরিশোধের জন্য তারা চুক্তিভিত্তিক দায়ী পক্ষ নয়। যদিও তারা বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ কমানো হবে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিতও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

    ৩০ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ সোর্সিং কৌশল পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে। এ সময়ে তারা অন্যান্য দেশের সোর্সিংয়ের সুযোগ ও উৎপাদন সক্ষমতাও মূল্যায়ন করবে।

    বিজিবিএর সভাপতি আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের সংগঠনের ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় চার কোটি ডলার। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ে এলপিপি সহযোগী হিসেবে এফইএস রিটেইলকে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ও করিয়ে দেন এলপিপির কর্মকর্তারা। এলপিপির কার্যালয় থেকেই এফইএস রিটেইলের নামে ক্রয়াদেশ দেওয়া হতো এবং অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন এলপিপি দাবি করছে, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আবদুল হামিদ আরও বলেন, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কেনে। তারা ব্যবসা করুক, সেটিই চান তাঁরা। তবে বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের বকেয়া পরিশোধ না করতে প্রতিষ্ঠানটি একধরনের ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছে।

    বিজিবিএর সভাপতি আরও বলেন, এলপিপি এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ছাড়ে বকেয়া পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় হলেও আলোচনা হতে পারত। কারণ, ব্যাংকেই তো দেনা রয়েছে ৭৫ শতাংশ অর্থ।

    এনসা ক্লোথিং নামের একটি বায়িং হাউস গত বছরের এপ্রিলে এফইএস রিটেইলের ক্রয়াদেশের বিপরীতে ৫২ হাজার মার্কিন ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করে। দুই মাস পর পণ্যটি রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু এফইএস রিটেইল অর্থ পরিশোধ করে পণ্য ছাড় না করায় সেটি এখনো বন্দরে পড়ে আছে। এলপিপির সঙ্গে দেনদরবার করেও বকেয়া না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত মাসে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করেছে।

    এনসা ক্লোথিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনামুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি দাবি করছে, গত বছরের এপ্রিলের পর থেকে এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এফইএস রিটেইলের জন্য রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের অর্থ পরিশোধ করেছে এলপিপি। তিনি আরও বলেন, যে কারখানাটি এনসা ক্লোথিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক সরবরাহ করেছে, সেটি এখন বিপদে আছে। দ্রুত অর্থ না পেলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    গত শনিবার বিকেএমইএর বোর্ড সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এলপিপি বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পরিশোধ না করলে ব্র্যান্ডটিকে কালোতালিকাভুক্ত করা হবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে একধরনের হুমকি দিয়েছে। তারা যদি বকেয়া পরিশোধ না করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অন্যান্য সব ফোরামে তাদের এই অনৈতিক চর্চার বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে। শুধু এফইএস রিটেইল নয়, এলপিপিও সরাসরি পণ্য নিয়ে অর্থ দিচ্ছে না—এমন অভিযোগও আছে।

  • বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট এলাকায় বজ্রপাত ও পানিতে ডুবে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার ধুমঘাট এলাকার মটেরচক ও শীলতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ধুমঘাট এলাকার মটেরচক গ্রামে বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে খায়রুন্নেছা (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ গাজীর স্ত্রী।

    নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম জানান, বাড়ির পাশের ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই খায়রুন্নেছার মৃত্যু হয়।

    অন্যদিকে, একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ধুমঘাট এলাকার শীলতলা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে কৃষ্ণপদ বৈদ্য (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত নারায়ণ বৈদ্যের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে চাষাবাদের কাজে মাঠে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রাস্তার পাশের একটি পুকুরে পড়ে যান কৃষ্ণপদ বৈদ্য। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    শ্যামনগর থানার ওসি মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

    পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের মতোই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

    তিনি বলেন, এবারও একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় তেমন পরিবর্তন আসছে না। গতবারের মতো ফল বা নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম রেখে আমরা নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। প্রথমে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবেন।

    উচ্চমাধ্যমিক কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চললেও নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের মতো চার্চ পরিচালিত কলেজগুলোতে বেশ কয়েক বছর আগে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    সারা দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। ফলে বরাবরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে।

  • অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

    তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

    এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

    সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

  • টিসিবিতে ভুট্টার তেল বেচে বিপাকে পড়েছে ময়মনসিংহের এমআরটি অ্যাগ্রো, ভ্যাট নিয়ে জটিলতা

    টিসিবিতে ভুট্টার তেল বেচে বিপাকে পড়েছে ময়মনসিংহের এমআরটি অ্যাগ্রো, ভ্যাট নিয়ে জটিলতা

    ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন করছে ময়মনসিংহের প্রতিষ্ঠান এমআরটি অ্যাগ্রো। দেশে ভুট্টার মতো নতুন উৎস থেকে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কাছে তেল সরবরাহের কাজ পেয়েছে।

    টিসিবিতে ২০ লাখ লিটার তেল বিক্রি করবে তারা। কিন্তু ১০ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। লিটারে সাড়ে ১৭ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। এতে লোকসানে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি। দুই মাস ধরে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ। পুরোপুরি বন্ধের উপক্রম হয়েছে, তাই ভ্যাট প্রত্যাহার চায় এমআরটি অ্যাগ্রো।

    প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, তেলের উৎপাদন খরচ ১৭০ টাকা। এখন সব খরচ মিলিয়ে লিটারে ২০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এভাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে মোট চুক্তির প্রায় ১৫ শতাংশ বা ৩ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    জানতে চাইলে এমআরটি অ্যাগ্রোর পরিচালক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে ভুট্টার তেলের দাম লিটারে ১৯০ টাকা। সেখানে এখন প্রতি লিটারে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যার সমাধান না হলে দুই মাস পর প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। স্থানীয় উৎপাদনকারী হিসেবে ভ্যাট দেওয়ার কথা নয়, এমনটাই বলছেন তিনি। কিন্তু এসআরওতে এ তেলের নাম উল্লেখ নেই, তাই ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ

    শুধু এমআরটি অ্যাগ্রো নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির পক্ষ থেকেও ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) গত ২০ জুলাই (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয় গত ৯ জুন।

    চিঠিতে বলা হয়, তেল সরবরাহে প্রতি লিটারের মূল্য ধরা হয়েছে ১৭৫ টাকা। সে হিসাবে ১৫ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু বিল তুলতে গেলে জানা যায়, প্রতি লিটারে ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট কাটা হবে। এতে প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৭ টাকা। কিন্তু এতে লোকসানে পড়বে হবে।

    প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, পামওয়েলের দাম লিটারে ১৮৫ টাকা। সেখানে ভুট্টার তেল ১৫৭ টাকায় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই রাইস ব্রান ও শর্ষে তেলের মতো ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এতে দেশি প্রতিষ্ঠানের তেল উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমবে বলেও দাবি করছে এমআরটি অ্যাগ্রো। অনেক নতুন প্রতিষ্ঠানও ভুট্টার তেল উৎপাদনে এগিয়ে আসবে বলে মনে করছে তারা।

    কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারাও ভুট্টার তেলের সম্ভাবনা দেখছেন। দেশে ভুট্টার উৎপাদন বাড়তে থাকায় এ উপাদান থেকে উৎপাদিত তেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে বলছেন তাঁরা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বলেন, ভুট্টার তেলের পুষ্টিগুণ অন্যান্য তেলের মতোই। ভুট্টা তেলের সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সমপরিমাণ। এটার বিপণন ব্যবস্থা ঠিক করা গেলে, পণ্যটির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

    টিসিবি-মন্ত্রণালয়ও ভ্যাট প্রত্যাহার চায়

    এমআরটি অ্যাগ্রো ছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করে এনবিআরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    টিসিবির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দেশি শিল্পের বিকাশে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টিতে ভ্যাট প্রত্যাহার করা যায়। এতে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং অনেকের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া ভ্যাট না থাকলে ভুট্টার তেল রাইস ব্রান তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী হবে। তবে এ বিষয়ে টিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে উৎপাদিত তেলের উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। প্রতি মাসে টিসিবির প্রায় ১২ কোটি লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ২০ লাখ লিটার ভুট্টার তেল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়।

    তবে বাজেট শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন এমন ছাড় দেওয়া কঠিন বলছে এনবিআর। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বাজেটের সময় এমন অনেক সুপারিশ আমলা নেওয়া হয়। কিন্তু এখন এমন প্রস্তাব গ্রহণ করা কঠিন। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

  • আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

    আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআর)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    একই অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটগুলোর ভিত্তিপ্রস্তরও উন্মোচন করেন।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটিতে ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়।

    বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট শিক্ষা, আদর্শ এবং ধর্মীয়-নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানকার শিক্ষার্থীরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ আদর্শ নাগরিক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ এনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব মো. বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী। ঘোষিত সময়ের মধ্যে পুলিশ কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে থানার সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে শ্রীপুর থানা-পুলিশের আয়োজনে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভায় গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীনের উপস্থিতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব।

    বক্তব্যে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি আমার একটি ছবির সঙ্গে টেবিলে রাখা কয়েকটি মদের বোতল এবং আরও দুই ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত করে সম্পাদিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই আমি শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

    পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বিল্লাল হোসেন ব্যাপারী বলেন, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করতে না পারলে আমি থানার সামনে এসে আত্মহত্যা করব।

    তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন পৌর বিএনপি নেতার অভিযোগেরও যদি কার্যকর প্রতিকার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে পুলিশের সেবা পাবে?

    শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন। সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    গাজীপুরের পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর এমন বক্তব্যে আমি সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বস্ত করেছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি নাগরিকের পাশে যেভাবে থাকে তার পাশেও সেভাবে থাকবে এবং ন্যায়বিচার পাবেন বলে নিশ্চিত করেছি।

  • ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা সরকার টু থার্ড মেজরিটি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো প্রতিনিধি নেই। দ্বীপেন দেওয়ানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে আমার জানা নেই।

    তিনি বলেন, এটা করতে পারছে কারণ, সরকার কোনো জবাবদিহির আওতায় নেই। ফলে আমরা মনে করি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে পাহাড় থেকেও আওয়াজ আসা উচিত। ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে।

    রোববার (২ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে ‘পাহাড়ে জুলাই: সমমর্যাদা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    পাহাড়ের সংকট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সবার সমান নাগরিক অধিকারের পক্ষে। একই সঙ্গে আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা আপসহীন। সবাই মিলে আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করব। পাহাড়ের বঞ্চনার অবসান করতে হবে। আমরা পাহাড়ে ভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির কথা শুনতে পাই। আলাদা ধরনের সন্ত্রাস আছে। এসবের সমাধান লাগবে। পাহাড় থেকে সমতল- সর্বত্র জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, ৭২-এর সংবিধান শুরু থেকেই দেশকে বিভাজিত করে রেখেছে। সাম্প্রদায়িকতার নামে, ধর্মের নামে, সমাজের নামে দেশকে বিভাজিত করে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি- এসব বিভাজন দূর করে, জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। পাহাড়ের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতি জটিল। এটার একরৈখিক সমাধান নেই। পাহাড়ের নৃগোষ্ঠীগুলো বিভিন্নভাবে বঞ্চিত, সমান মর্যাদা পায় না। আবার বাঙালিরাও নানা বঞ্চনার শিকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ের বিভাজন, দ্বন্দ্বের কথা শুনি। এটার সুযোগ নেয় বিদেশি শক্তি। আমাদের কাজ হচ্ছে, আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশকে উন্নত করলে, সুষম বণ্টন হলে সবাই উপকৃত হবেন। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, নিপীড়নের রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

    এনসিপি চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সুজা উদ্দিনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার, আলী আহসান জুনায়েদ প্রমুখ।

  • বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পোশাক খাত

    বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পোশাক খাত

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক। বিকেএমইএর নেতৃত্বে থাকাকালে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প, বিশেষ করে নিটওয়্যার খাতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই উদ্যোক্তা। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্ব ও পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানি সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন মো. ফজলুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল রহমান।

    আমার দেশ : এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে আপনার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ফজলুল হক : ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

    আমার দেশ : আপনি যখন বিকেএমইএর সভাপতি ছিলেন, তখনকার পোশাক খাতের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কী পার্থক্য দেখছেন?

    ফজলুল হক : প্রায় ১৬ বছর আগে দায়িত্ব ছাড়ার সময় দেশের মোট পোশাক রপ্তানি ছিল ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার, এখন তা কয়েকগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিটওয়্যার খাতে। শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের কারণে অধিকাংশ ফেব্রিক দেশে তৈরি হয়। ফলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ এবং ওভেনের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লিড টাইম সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে রানা প্লাজার পর কমপ্লায়েন্স, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের মান উন্নত হওয়ায় উদ্যোক্তাদের ব্যয়ও বেড়েছে।

    আমার দেশ : বর্তমানে পোশাকশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?

    ফজলুল হক : এটিকে শুধু সংকট নয়, বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ বলতে হবে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। উন্নত দেশের ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা কমছে। দেশের ভেতরে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ সুদ, ডলার সংকট ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সম্মিলিত প্রভাবেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে।

    আমার দেশ : বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে করণীয় কী?

    ফজলুল হক : শুধু শুল্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে হবে না। ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো মূল্য, বিপণন ও সেবায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উৎপাদনশীলতা, মান ও দ্রুত সরবরাহে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নতুন বাজার তৈরিতেও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিকেএমইএর সভাপতি থাকাকালে জাপানকে লক্ষ্য করে প্রায় এক বছর সেমিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক ও প্রতিনিধি দল বিনিময়ের পর ৬৩ জন জাপানি ক্রেতাকে বাংলাদেশে এনে বিজনেস ম্যাচমেকিং করা হয়েছিল। এর ফলে ওই বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। তাই একসঙ্গে অনেক দেশে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নিয়ে প্রতি বছর একটি বা দুটি সম্ভাবনাময় বাজারকে লক্ষ্য করে নিয়মিত কাজ করা উচিত।

    আমার দেশ : উচ্চ সুদ, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব?

    ফজলুল হক : প্রতিযোগী দেশগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠান ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পেলেও বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের প্রায় ১৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে সময়মতো উৎপাদন ও সরবরাহ করা কঠিন হয়, যা ক্রেতাদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত, সুদের হার কমানো, বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হবে।

    আমার দেশ : পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কতটা?

    ফজলুল হক : সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। তবে সরকার ও উদ্যোক্তা—দুই পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যে যেতে হবে। এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কসুবিধা কমে আসতে পারে। তাই মুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি এখন থেকেই শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভবিষ্যতে আরো শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।

  • রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও,  সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    রাস্তা খুড়ে ঠিকাদার উধাও, সড়কে ধান লাগিয়ে প্রতিবাদ

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে সড়কের ওপর ধানগাছ রোপণ করেছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে এই প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়কে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। অধিকাংশ যানবাহনের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে নয়নপুর বাজারের প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানি। বৃষ্টি হলেই পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে প্রতিদিনই মোটরসাইকেল, রিকশা ও পথচারীরা ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শ্রীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

    পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, ‘মাত্র ২৬০ মিটার রাস্তার জন্য পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও এই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হয়।’

    কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়েই কাজে যাই। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী আর গর্তের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে।’

    অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে আর গাড়ি চালানো যায় না। আয়-রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্প কিছু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও এখন কাজ পুরোপুরি বন্ধ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।

    শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রায় চার কোটি নয় লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।

    এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।’

  • বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিরোধী দল শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয় নেতারা কথা বলছেন, ‘৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেব না।’ ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনা।

    সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেব না। ঠিক সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বর্তমান বিরোধীদলের নেতারা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, এমনটা বলে ভুল বোঝানো হচ্ছে। গণভোটের একটি প্রশ্ন ঐকমত্য কমিশন চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপি যেখানে একমত নয়, সেটা বলেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ পালন করবে বিএনপি।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিরোধীদলের নেতারা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেটা ঠিক নয়। রাজপথে আন্দোলন তাদের অধিকার। কিন্তু, সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত জনগণের কল্যাণে কাজ করছেন। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে শুধু নেতিবাচক প্রচারণা চালালে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। দেশের স্বার্থে সংঘাত নয়, সহনশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। পাশাপাশি বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাস এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঙ্ক বেশি। তবে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

    যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্য উৎসগুলো আশানুরূপ অবস্থানে নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৮৩ কোটি ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সার আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার বেশি। এ ছাড়া সার আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯ কোটি ডলার।

    অবশ্য ভোগ্যপণ্য, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

  • নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি শিশু শিক্ষার্থী মারুফ আলমের (১৩)।

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (কোনারবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আছির আলম ও সামিয়া বেগম দম্পতির ছেলে মারুফ চন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মারুফের বাবা জানান, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকালে তার বাবার দোকান খুলে কিছুক্ষণ দোকানে থাকে। এরপর তার বাবা দোকানে আসলে মারুফকে জুম্মার নামাজের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুপর ২টার দিকে তার নতুন বাড়ি থেকে পার্শবর্তী চন্দ্রপুর স্কুলে একটি খেলা দেখতে যায় মারুফ। স্কুলের খেলা শেষ হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি।

    গত ৩১ জুলাই শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

    পরিবারসূত্রে জানা যায়, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি, নিখোঁজের দিন গায়ে ছিল গোলাপী রংয়ের শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। মারুফ আলমের সন্ধান পেলে, শান্তিগঞ্জ থানায় ও তার পিতার ০১৭৮০৭৯৫০৭১ অথবা ভাই এর ০১৪০৮-০৭৩৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপরে জানতে চেয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলিউল্লাহকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’

  • কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    কাউখালীতে চায়না জাল উদ্ধার, পুড়িয়ে ধ্বংস

    পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কঁচা নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকারে ব্যবহৃত বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করেছে কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

    রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাঙ্গাশীয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন।

    অভিযান চলাকালে কঁচা নদী থেকে দুটি অবৈধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৭ হাজার মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। পরে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে জনসম্মুখে উদ্ধারকৃত জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

    এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেহুন্দি জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহার করলে মাছের রেণু, ডিম ও বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। জেলেদেরও আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    কাউখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো: আরমান হোসেন বলেন, ‘নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার, নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার এবং মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঙ্গাশীয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি বেহুন্দি জাল উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    স্থানীয়রা জানান, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ জালের ব্যবহার কমবে এবং নদীর দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

  • নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    নিখোঁজের ১০ দিন পর কাস্টমস কর্মীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরের সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় তার বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    মরদেহের খণ্ডিত অংশগেুলো একটি বড় ট্রাভেল ব্যাগের মধ্যে আলাদা তিনটি পলিব্যাগে রাখা ছিল।

    নিহত আবু রায়হান তালুকদার একই গ্রামের মৃত আবু বকর সিদ্দিক তালুকদার ও রাহেলা খাতুনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ কাস্টম হাউস কমলাপুরে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে আবু রায়হান নিজ বাড়িতে আসেন। রাতে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুও ওই বাড়িতে ছিল। পরদিন শুক্রবার কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে রাজু তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর কর্মস্থলে পৌঁছাননি।

    দুই দিন পর আবু রায়হানের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন প্রভাষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে ফোন করে জানান, তিনি অফিসে যোগ দেননি এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

    খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৭ জুলাই রাতে আবু রায়হানের বড় ভাই মো. নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারা দু’জনই মাদকাসক্ত বলে দাবি স্থানীয়দের।

    ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, পুকুর থেকে ট্রাভেল ব্যাগবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রী–মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বৈঠক, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

    বাণিজ্যমন্ত্রী–মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বৈঠক, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, সরাসরি নৌপরিবহন যোগাযোগ, এলএনজি আমদানি ও পারস্পরিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগ–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রয়োজনীয় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালুর পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

    বৈঠকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ (বি-টু-বি) বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে এবং টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেন। বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে জোর দিচ্ছে।

    জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

    এ ছাড়া দুই দেশ আরও কিছু বিষয়ে একমত হয়। সেগুলো হলো—নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন, পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে করা ও সরাসরি নৌ ও জাহাজ যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করা।

    উভয় পক্ষের মতে, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে। সেই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

    বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার ও মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

  • এতিমখানায় সরকারি সহায়তার দাবি

    এতিমখানায় সরকারি সহায়তার দাবি

    বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরে ঝুঁকি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পুরোনো টিনের চালা, ভাঙাচোরা কাঠের বেড়া ও সীমানা প্রাচীর না থাকায় ৪৫ জন এতিম ও দরিদ্র শিশুকে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণসহ সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

    জানা গেছে, ১৯৯১ সালে ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজীর উদ্যোগে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবনে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট সুবিধার আওতায় আসে। তবে বর্তমানে ৪৫ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরকারি এই সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ১৮ জন। বাকি ২৭ জনের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, এতিমখানার টিনের বেড়ার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং বহু জায়গায় ছিদ্র তৈরি হয়েছে। নড়বড়ে খুঁটি, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা-জানালা ও ছিদ্রযুক্ত টিনের চালার কারণে ভবনটি যে কোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই কক্ষে গাদাগাদি করে বসে শিশুদের কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করতে হচ্ছে।

    শিক্ষার্থী হানজেলা, আলী হাছান ও সাইফুল জানায়, রাতে টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে সাপ, ব্যাঙসহ বিষাক্ত পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় চালা দিয়ে পানি পড়ে, ফলে নিরাপদে ঘুমানোও সম্ভব হয় না। তারা দ্রুত একটি পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।

    স্থানীয় সমাজসেবক গুলজার হোসেন, পিন্টু মিয়া ও আবুল হোসেন বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিশুরা। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

    এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য আলী হোসেন ও শিক্ষকরা জানান, মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একজন অতিরিক্ত শিক্ষক, একটি একাডেমিক ভবন এবং সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও একটি পাকা ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি ভবন নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর এবং সুবিধাবঞ্চিত ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাপিটেশন অ্যান্ড গ্রান্ট বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

    রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। জরাজীর্ণ ঘরের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি পাকা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রয়োজন।

  • সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    সিরাজদিখানে ভিমরুলের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ভিমরুলের কামড়ে রাফসান (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু রাফসান ইছাপুরা ইউনিয়নের উত্তর কুসুমপুর গ্রামের চৌকিদার পাড়া এলাকার আরশাদ আলীর ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরে বাড়ির পাশের উঠানে খেলার সময় রাফসান একটি পাতাযুক্ত ডাল টান দেয়। এতে ঝোপের ভেতরে থাকা ভিমরুলের চাক থেকে অসংখ্য ভিমরুল বের হয়ে তাকে একযোগে আক্রমণ করে। এতে শিশুটির চোখ-মুখ ফুলে লাল হয়ে যায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

    পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। পরে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা: সাবিনা জানান, শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

    সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিমরুলের কামড়ে রাফসান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।

  • আজ বন্ধু দিবস

    আজ বন্ধু দিবস

    জন্মের পর থেকেই মানুষ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও রক্তের সম্পর্কের এক চিরচেনা ভূগোলে বেড়ে ওঠে। কিন্তু জীবনযাত্রার কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই এমন একজন মানুষের আগমন ঘটে, যার সঙ্গে রক্তের কোনো টান নেই। অথচ জীবনের সবচেয়ে গোপন কথা, আনন্দ আর বেদনার মুহূর্তগুলো তার কাছেই অবলীলায় প্রকাশ করা যায়।

    সামাজিক কোনো বাধ্যবাধকতা বা জন্মসনদ ছাড়াই গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের নামই বন্ধুত্ব। মানুষের তৈরি যাবতীয় সম্পর্কের মধ্যে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে স্বাধীন এবং গভীর।

    আজ আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে দিনটি পালিত হচ্ছে ‘বন্ধু দিবস’ হিসেবে। যদিও এমন একটি সম্পর্ককে নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখে বেঁধে রাখা যায় না। তারপরও এই দিনটি পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া, স্মৃতি রোমন্থন কিংবা সম্পর্ককে নতুন করে ঝালিয়ে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

    ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।

    কীভাবে এলো বন্ধু দিবস?

    বন্ধু দিবসের ইতিহাস নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩০ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে বন্ধু দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা হাওয়ার্ড হল ২ আগস্টকে বন্ধু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে বন্ধুদের শুভেচ্ছা কার্ড, ফুল ও উপহার বিনিময়ের প্রচার চালান। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকায় সেই উদ্যোগ খুব বেশি সফল হয়নি।

    পরবর্তীকালে ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস আগস্ট মাসের প্রথম রবিবারকে ‘জাতীয় বন্ধু দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ধীরে ধীরে দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

    আরেকটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি ঘটনার প্রতিবাদে এক ব্যক্তি তার বন্ধুর মৃত্যুর পরদিন আত্মহত্যা করেন। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে আগস্টের প্রথম রবিবারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

    দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়েও বন্ধু দিবস জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৫৮ সালে সেখানে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বন্ধু দিবস পালনের প্রস্তাবও আসে প্যারাগুয়ে থেকেই।

    ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতি বছরের ৩০ জুলাইকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এখনও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে আগস্টের প্রথম রবিবারই বন্ধু দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

    বন্ধুত্বের এই গভীরতা ও মাহাত্ম্য যুগে যুগে উঠে এসেছে বিখ্যাত সব মনীষীদের কথায়। বিখ্যাত গল্পকার মারিও পুজো যেমন বন্ধুত্বকে প্রতিভার চেয়ে বড় এবং পরিবারের প্রায় সমতুল্য মনে করেছেন, তেমনি আইনস্টাইনের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন দুর্লভ, খাঁটি বন্ধুত্ব তার চেয়েও বিরল। রবার্ট লুইস স্টিভেনসন বা আলবেয়ার কামুর মতো চিন্তাবিদরা মনে করেন, কোনো শর্ত বা নেতৃত্ব ছাড়া পাশাপাশি হাঁটার নামই বন্ধুত্ব। অন্যদিকে আলবার্ট কামু একে ভালোবাসারই একটি রূপ বলেছেন এবং এরিস্টটলের দৃষ্টিতে বন্ধু হলো নিজেরই আরেক সত্তা।

    বদলে গেছে উদযাপনের ধরন

    একসময় বন্ধু দিবসে শুভেচ্ছা কার্ড, চকলেট কিংবা ছোট উপহার বিনিময়ের প্রচলন ছিল। এখন সেই জায়গা অনেকটাই দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পুরোনো ছবির কোলাজ, স্মৃতিচারণ, বন্ধুদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তা কিংবা আড্ডার ছবি শেয়ার করেই দিনটি উদযাপন করেন অনেকেই।

    কেন প্রয়োজন বন্ধুত্ব?

    মনোবিশ্লেষকদের মতে, বন্ধুত্ব শুধু বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; জীবনের প্রায় সব সম্পর্কেই বন্ধুত্বের প্রয়োজন রয়েছে। বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্ক কিংবা দাম্পত্য সম্পর্কেও বন্ধুত্ব থাকলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম বলেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা মানুষকে ধীরে ধীরে একাকী করে তুলছে। এই বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে আন্তরিক বন্ধুত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    তিনি বলেন, বন্ধুহীন মানুষ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে। মানুষের জীবনে এমন একজন প্রয়োজন, যার কাছে নিজের কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, যে অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখবে। এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানুষকে একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।

    জীবনে মানুষের আনাগোনা চলতেই থাকে। সময়ের নিয়মে অনেক সম্পর্ক ফিকে হয়ে যায়, অনেকে হারিয়ে যায় স্মৃতির অতলে। কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুরা রয়ে যায় জীবনের শেষ অবধি- কখনো পাশাপাশি থেকে, কখনো দূরে অবস্থান করে আবার কখনো নিছক একবুক মিষ্টি স্মৃতি হয়ে। জীবনে নিজের সত্তাকে উন্মুক্ত করার এবং পৃথিবীকে নতুন আলোয় দেখার অনুপ্রেরণা যোগায় এই বন্ধন। আগস্টের প্রথম রবিবার বা জাতিসংঘের ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস যাই হোক না কেন, বন্ধুত্ব প্রতিদিনের, বন্ধুত্ব চিরকালের।

    বিশ্ব বন্ধু দিবস শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি দিন নয়, বরং প্রিয় বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি উপলক্ষ। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক, ছোট ছোট কোন উদ্যোগে দীর্ঘদিনের এই সুন্দর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় রাখা যায়।

    মন খুলে কথা বলুন, যোগাযোগ রাখুন

    বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত যোগাযোগ। ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন কথা বলা সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে খোঁজ নেয়া, বন্ধুর কথা মন দিয়ে শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। অনেক সময় একটি ছোট্ট বার্তা বা হঠাৎ করা একটি ফোনকলও বন্ধুকে বুঝিয়ে দেয় যে আপনি তাকে এখনও আগের মতোই গুরুত্ব দেন।

    বিশেষ দিন ও মুহূর্ত মনে রাখুন

    বন্ধুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো মনে রাখা সম্পর্ককে আরও গভীর করে। জন্মদিন, নতুন কোনো অর্জন কিংবা জীবনের বিশেষ কোনো দিনে শুভেচ্ছা জানানো বন্ধুত্বে বাড়তি উষ্ণতা যোগ করে। পুরোনো ছবি, স্মৃতি কিংবা একসঙ্গে কাটানো সময়ের গল্প ভাগ করে নেওয়াও বন্ধুত্বকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

    সুখ-দুঃখে পাশে থাকুন

    সত্যিকারের বন্ধুত্ব শুধু আনন্দের সময় একসঙ্গে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনের কঠিন সময়ে একজন বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোই বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। বন্ধুর সমস্যা সমাধান করতে না পারলেও তার কথা মন দিয়ে শোনা, সাহস দেয়া এবং মানসিকভাবে পাশে থাকাই অনেক বড় সমর্থন হয়ে ওঠে।

    ছোট ছোট যত্নে প্রকাশ করুন ভালোবাসা

    বন্ধুত্ব ধরে রাখতে সব সময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। হঠাৎ বন্ধুর খোঁজ নেয়া, তার পছন্দের কোনো জিনিস মনে রাখা, ছোট কোনো উপহার দেয়া কিংবা একসঙ্গে কিছু সময় কাটানো এসব ছোট ছোট উদ্যোগই সম্পর্ককে দীর্ঘদিন সতেজ রাখে।

    একে অপরের পার্থক্যকে সম্মান করুন

    প্রত্যেক মানুষের চিন্তা, পছন্দ, মতামত ও জীবনযাপনের ধরন আলাদা। বন্ধুত্বের সৌন্দর্য হলো এই ভিন্নতাকে গ্রহণ করা। মতের অমিল হলেও বন্ধুর প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং তার অবস্থান বোঝার চেষ্টা করাই একটি পরিণত বন্ধুত্বের পরিচয়।

    শুধু অনলাইনে নয়, বাস্তবেও সময় দিন

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দূরে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এখন সহজ হয়েছে। তবে শুধু লাইক, কমেন্ট বা মেসেজের মধ্যেই বন্ধুত্ব সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সুযোগ পেলেই একসঙ্গে সময় কাটানো, সরাসরি কথা বলা এবং বাস্তব মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

    বিশ্বাস ও গোপনীয়তা বজায় রাখুন

    একজন ভালো বন্ধুর সবচেয়ে বড় গুণ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বন্ধুর ব্যক্তিগত কথা গোপন রাখা, তার দুর্বলতাকে সম্মান করা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা বন্ধুত্বের ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।

    বন্ধুত্ব কোনো একদিনের উদ্‌যাপন নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নে তৈরি হওয়া এক সুন্দর সম্পর্ক। বিশ্বাস, সম্মান ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এই বন্ধন আজীবন ধরে রাখা সম্ভব।

  • আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ বন্ধ

    আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ বন্ধ

    বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাপুয়া নিউগিনির জন্যেও কার্যত বন্ধ আন্তর্জাতিক এই জোটে যোগদানের পথ। আসিয়ানের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন না আসলে এ দুই দেশকে সদস্য করা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন জোটের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

    সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে এ কথা জানান হোর্ন। গত ৩১ জুলাই ইন্দোনেশীয় সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি (পিএনজি) আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা পূরণ করে না। মিডিয়া ফোরামে কাও কিম হোর্ন বলেন, তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ কার্যত শেষ হয়েছে।

    তিনি বলেন, আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ১১টি দেশই এ জোটের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি এই ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।

    সনদে কী বলা আছে

    আসিয়ান সনদই এই জোটের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করে। সেখানে নতুন সদস্য হওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে।

    কিন্তু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অংশ। অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

    কাও কিম হোর্ন বলেন, বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে চাইলে প্রথমে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে।

    এ জন্য জোটের সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সনদে ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি দেশই আসিয়ানের সদস্য হিসেবে থাকবে বলে জানান তিনি।

  • চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাইস কুকারে ভাত রান্না করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহারন খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার আসাননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শাহারন খাতুন ওই গ্রামের মাসুদ হোসেনের স্ত্রী।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের জন্য রাইস কুকারে ভাত রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শাহারন খাতুন। রাইস কুকারের সুইচ বোর্ডে প্লাগ যুক্ত করার সময় হঠাৎ বোর্ডটি ভেঙে তার হাতের ওপর খুলে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তার হাতে বিদ্যুতের তার জড়ানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। জামায়াত একটা রাজনৈতিক দল। দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক এতে রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি কৃষ্ণ নন্দিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    আমার দেশ অনলাইনে ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    রোববার আমার দেশকে মুফতি উসামা বলেন, ‘আকিদা যার যার, দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না, আমরা মওদুদির আকিদা পোষণ করি। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়; বরং রাজনৈতিক। তারা এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করে।’

    তিনি বলেন, ‘কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।’

    মুফতি উসামা বলেন, ‘সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে?’

    উসামা আরো বলেন, ‘দেওবান্দিয়াত কোনো দলের নাম নয়। তাওহিদ, সুন্নাহ ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর নাম দেওবান্দিয়াত। আমি দেওবন্দি ছিলাম, আছি এবং চিরকাল থাকব ইনশাআল্লাহ। আমি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলাম। সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছি। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে। যার কারণে কেউ জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এই ঠিকাদারিও কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা কওমির নাম বেচে ঠিকাদার সেজে বিএনপিকে বাংলাদেশের কংগ্রেস ভেবে পদলেহন করে এবং এর মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের ধান্ধা করে, বর্তমান সচেতন তরুণ প্রজন্ম তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’

    আমার দেশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কওমি ঘরানার কয়েকজন সুপরিচিত আলেম এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শোনা যাচ্ছে, একই পথে হাঁটছেন বিভিন্ন কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।’

    ‘বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে স্বীকার করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আমাদের বৈঠকের এজেন্ডায় এটা ছিল না। কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের সাথে আমাদের আলেমদের জোট থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। এ জন্যই হেফাজতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কেননা অনেক আলেম এখনো জামায়াতে ইসলামীকে হকপন্থিদের ইসলামী দল মনে করেন না।’

    ‘তিনি আরো বলেন, কওমি তরুণদের একটা অংশ বিএনপির দিকেও ঝুঁকে পড়ছেন। সেই দলে যোগও দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই বিষয়ে অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।’

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, বিজ্ঞানের ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

    সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

    রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, ‘চারুকলা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০:০০টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কেন্দ্রসমূহ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে ২০ নম্বর।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

    ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

    ভারতের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ‘ফরেনার সেল’ পরিচালিত ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন)-এর অধীনে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) ডাবল-এন্ট্রি ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাদের আটক করা হয় বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কর্মকর্তারা জানান, আটককৃত এই ৬ বিদেশি নাগরিক তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় প্রতি সফরে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত এক বিশেষ যাচাইকরণ অভিযানের সময় এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ভ্রমণের নথিপত্র যাচাই শেষে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়। এফআরআরও তাদের বিরুদ্ধে ‘রেস্ট্রিকশন অর্ডার’ বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেছে। এরপর ওই ৬ জনকেই সেবা ধামের ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবেন।

    যেভাবে আটক হলেন তারা

    বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বিধিমালা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান প্রয়োগ অভিযানের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ফরেনার সেল এই ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ শুরু করে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

    সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ইনচার্জ পরিদর্শক সন্দীপ যাদবের নেতৃত্বে এবং এসিপি (অপারেশনস) পদম সিং রানার তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান চলাকালে ফরেনার সেলের একটি দল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। নবি করিমের আরাকাশান রোডের একটি হোটেলে পরিদর্শনের সময় ওই ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে পাওয়া যায়।

    জিজ্ঞাসাবাদে ওই ৬ জন জানান, তারা বৈধ ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং মধ্য দিল্লির ‘সার্থক প্লেস’ হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভিসার শর্ত অনুযায়ী প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু তারা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বৈধ অনুমোদন বা মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন।

    সবশেষে নথিপত্র ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাইয়ের পর এফআরআরও ভিসা লঙ্ঘন এবং ভারতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধানগুলোর অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের দিল্লির সরাই রোহিল্লার শাহজাদা বাগের সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তাদের ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক

    বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে জ্বালানি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে দেওয়া হয়েছে।

    রবিবার (২ আগস্ট) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রশাসন-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা আফরিন মুস্তাফা সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিপিসির দাফতরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

  • ডিএসইতে সূচকের মিশ্র প্রবণতা, লেনদেন ১২৫৭ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচকের মিশ্র প্রবণতা, লেনদেন ১২৫৭ কোটি টাকা

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়েছে, তবে ডিএস-৩০ এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক কমেছে। একই সাথে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়।

    ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, এদিন ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ৫১ কোটি ৪৩ লাখ ৩২ হাজার ২১৭টি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে।

    দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮৯৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। অন্যদিকে, ডিএস-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে ২২১৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ১১৯২ দশমিক ৬১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

    লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৪৯টির কমেছে এবং ৪৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো মালেক স্পিনিং, এসিআই ফর্মুলেশনস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বেক্সিমকো, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আইটিসি, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, কুইন্স সাউথ টেক্সটাইল, আইসিবি সোনালী ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, গোল্ডেন জুবিলী মিউচুয়াল ফান্ড, ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড-১ (স্কিম-১), এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি তৃতীয় এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষে ছিল এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, বিআইএফসি, সেনা ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, জিকিউ বলপেন, এপেক্স স্পিনিং, সোনারগাঁও টেক্সটাইলস এবং আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং।

    এদিন লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট বাজার মূলধন দাঁড়ায় সাত লাখ ছয় হাজার ১১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৮ টাকা।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা মানবণ্টন প্রকাশ

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা মানবণ্টন প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

    রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, বিজ্ঞানের ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

    আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

    সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।