বিনোদন

  • চমক দিতে তার খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না

    চমক দিতে তার খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না

    বিয়ন্সে, পুরো নাম বিয়ন্সে গিসেল নোলস-কার্টার। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, চমক দিতে তাঁর খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’। তাতেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। তবে এটি কেবল একটি নতুন গান নয়; এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল অ্যালবাম ‘বি-ডে’র ২০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন।

    ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আলোড়ন তৈরির পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শ্রোতার সামনে হাজির হলেন এই গান নিয়ে। মুক্তির পর থেকেই ‘মর্নিং ডিউ’ স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ভক্তদের কাছে এটি যেন একই সঙ্গে নতুন গান ও পুরোনো স্মৃতির এক আবেগঘন ফিরে দেখা।

    ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল ‘বি-ডে’ শিরোনামে বিয়ন্সের অ্যালবাম। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় একক স্টুডিও অ্যালবাম। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। ‘ডেজা ভু’, ‘ইররিপ্লেসেবল’, ‘বিউটিফুল লায়ার’ কিংবা ‘গেট মি বডিড’-এর মতো একের পর এক জনপ্রিয় গান এই অ্যালবামকে পপসংগীতের ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা করে দেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অ্যালবামটির ২০ বছর পূর্ণ হবে। পাশাপাশি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, বিয়ন্সের ৪৬তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হবে ‘বি-ডে’র বিশেষ সংস্করণ। সেই বিশেষ সংস্করণেই যুক্ত হয়েছে ‘মর্নিং ডিউ’।

    নতুন এই গানের গল্পও বেশ ব্যতিক্রমী। গানটি নতুন হলেও এর জন্ম হয়েছিল ২০১৩ সালে প্রকাশিত স্বনামের ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামের জন্য। শেষ পর্যন্ত গানটি অ্যালবামে স্থান পায়নি। এরপর দীর্ঘ নীরবতা। ২০২৩ সালে গানটির একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি টিকটকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার ব্যবহারকারী সেই ডেমো ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন। ভক্তদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও অনুরোধের পর অবশেষে বিয়ন্সের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ গানটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

    গানটির গীতরচনায় বিয়ন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন ফারেল উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলা শেরি উডস, ড্যারিয়াস ডিকসন এবং দ্য ড্রিম। সংগীত প্রযোজনার দায়িত্বও ভাগাভাগি করেছেন বিয়ন্সে ও ফারেল উইলিয়ামস। ফারেলের সঙ্গে বিয়ন্সের রসায়ন নতুন নয়। অতীতেও তাঁদের একাধিক সফল সহযোগিতা শ্রোতার প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘মর্নিং ডিউ’-এ সেই পরিচিত ঘরানার সঙ্গে আধুনিক আরঅ্যান্ডবি ও পপের মিশেল তৈরি হয়েছে, যা গানটিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। গানের পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে একটি সাদাকালো ভিজ্যুয়াল ভিডিও, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস।

    ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০৭ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ ইস্যুর ফটোশুট চলাকালীন ধারণ করা বিয়ন্সের অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ। নতুন গানের সঙ্গে পুরোনো সেই মুহূর্তগুলোর সংমিশ্রণ দর্শককে যেন এক লহমায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় দুই দশক আগের বিয়ন্সের সোনালি সময়ে। ভিডিওটি শুধুই একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং তাঁর ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ।
    পপসংগীতের ইতিহাসে বিয়ন্সে এমন একজন শিল্পী, যিনি প্রতিটি অ্যালবামের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’ থেকে ‘লেমনেড’, ‘রেনেসাঁ’ কিংবা ‘কাউবয় কার্টার’ প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি ভেঙেছেন প্রচলিত ধারা। ‘মর্নিং ডিউ’ সেই ধারাবাহিকতায় এক ভিন্ন সংযোজন। এটি যেমন অতীতের অপ্রকাশিত একটি গানকে নতুন জীবন দিয়েছে, তেমনি ‘বি-ডে’র বিশ বছর পূর্তিকে ঘিরে ভক্তদের আবেগও নতুন করে দিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আছেন সেপ্টেম্বরের বিশেষ সংস্করণের জন্য। কারণ, ‘মর্নিং ডিউ’ শুধু একটি নতুন সিঙ্গেল নয়; এটি বিয়ন্সের দীর্ঘ সংগীতযাত্রার এক নস্টালজিক অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের সাফল্য এক হয়ে তৈরি করেছে নতুন এক উদযাপনের গল্প।

  • বোরকা পরে আদালতে ববি

    বোরকা পরে আদালতে ববি

    প্রতারণার মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। এ সময় ববিকে দেখা যায় বোরকা ও সানগ্লাস পরে হাজির হতে, সঙ্গে অনেকেই ছিলেন।

    শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ববির পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোক্তার।

    এর আগে, ১২ জুলাই রাজধানীর গুলশান থানায় ইটুই সলিউশনস লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মেহেদি আলম প্রিন্স ববিসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মির্জা আবুল বাশার, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল আহাদ মিয়া এবং অ্যাডমিন সোহেল রানা।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১২ নভেম্বর আবুল বাশার তার প্রতিষ্ঠানের জন্য লিথিয়াম আয়রন ব্যাটারি সরবরাহের অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর গুলশানে বিটিএলের কার্যালয়ে পাঁচটি ৬৪ ভোল্টের ১৭০ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়, যার মোট মূল্য ছিল ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্যাটারির মূল্য পরিশোধ না করে আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে মেহেদি আলম প্রিন্সকে অর্থ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যাটারির ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৫৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা।

  • তৃতীয় বিয়ের পর ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ের পর ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া ‘লাভ জিহাদ’ বিতর্কের জবাব দিয়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার কোনো স্ত্রী বা বর্তমান সঙ্গী কখনো ধর্ম পরিবর্তন করেননি। তাদের বিয়ে হয়েছে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে, যেখানে ধর্মান্তরের কোনো প্রশ্নই ছিল না।

    সম্প্রতি রেডিফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেন, ‘গৌরী, কিরণ রাও কিংবা রিনা দত্ত—কেউ তাদের ধর্ম পরিবর্তন করেনি। আমাদের সিভিল ম্যারেজ হয়েছে। গৌরী হিন্দুও নন, তিনি খ্রিস্টান। তবে তিনি নিয়মিত ধর্মচর্চাও করেন না। সময়ের সঙ্গে জীবন যেন আরও হাস্যকর হয়ে উঠছে।’

    দীর্ঘদিন ধরেই ভিন্ন ধর্মের নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ের কারণে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে আমির খানকে। বিশেষ করে সম্প্রতি গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করার পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিনেতা। তিনি বলেন, তার পরিবার বরাবরই বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিকে সম্মান করে এসেছে।

    আমিরের ভাষায়, ‘আমাদের পরিবার খুবই অন্তর্ভুক্তিমূলক। আমার দুই বোন হিন্দু পরিবারে বিয়ে করেছেন। আমার মেয়ে ইরা খানের স্বামীও হিন্দু। আমার চাচাতো ভাই মনসুর খান একজন খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করেছেন।’

    আমির বলেন, তার সব সম্পর্কই পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, ধর্মের ওপর নয়। তাই তার ব্যক্তিগত জীবনকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    গত ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন আমির খান। তার বর্তমান স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাট।

    এর আগে রিনা দত্ত ও কিরণ রাও–এর সঙ্গে তার দুটি বিয়ে হয়েছিল। বিচ্ছেদের পরও দুই সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে বিভিন্ন সময় জানিয়েছেন এই অভিনেতা। সহ-অভিভাবকত্ব (কো-প্যারেন্টিং) এবং পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখার বিষয়েও তিনি বরাবরই ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। সূত্র: ইন ইন্ডিয়া

  • রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন পিছিয়ে গেল

    রুনা লায়লাকে সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন পিছিয়ে গেল

    দীর্ঘ ৬২ বছরের ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক সংগীত পরিবেশন করবেন কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। আগামী ১৮ জুলাই একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের মূল মঞ্চে গান গাওয়ার কথা ছিল তার। পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে কিংবদন্তি শিল্পীকে সম্মাননাও জানানো হবে। তবে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে আপাতত অনুষ্ঠানটি স্থগিত করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

    রুনা লায়লা জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিল্পকলা একাডেমি নতুন তারিখ ঘোষণা করবে।

    শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মাসেই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ জুলাই সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ভাবা হচ্ছে, তবে সেটিও নির্ভর করবে বন্যা পরিস্থিতির ওপর।’

    এ মাসের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি কনসার্টে অংশ নিতে যাচ্ছেন রুনা লায়লা। আগামী ১ আগস্ট সিডনি এবং ৮ আগস্ট মেলবোর্নে তার পরিবেশনার কথা রয়েছে। প্রায় এক দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে গান গাইবেন তিনি। এজন্য ২৯ জুলাই যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

    শিল্পকলা একাডেমি চায়- বিদেশ সফরের আগেই সম্মাননা অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে। অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা তার জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন। পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা তার দীর্ঘ ছয় দশকের সংগীতজীবনের নানা স্মৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরবেন।

    রুনা লায়লা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে সংগীতের ইতিহাস ও স্মৃতি পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পকলা একাডেমিতে এটিই হবে আমার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান।’

    সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় গত বছর থেকে দেশবরেণ্য শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়ার আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এর আগে, এই আয়োজনে সম্মাননা পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন ও সৈয়দ আব্দুল হাদী।

  • ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোনার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার অভিনীত তেমনই একটি সিনেমা ‘মাস্তুল’। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে এটি। সেই উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

    সিনেমায় বাবুর কোনো সংলাপ নেই, তবে নিখুঁত অভিনয় আর ভাব-অভিব্যক্তিতে পর্দায় চরিত্রটি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন এই অভিনেতা।

    সিনেমাটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের সমীকরণে পর্দায় উঠে এসেছে নদী বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বেঁচে থাকার লড়াই।

    ‘মকবুল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমাদের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা স্ক্রিপ্ট পেলে কয়টা সংলাপ আছে তা মার্ক করে। কিন্তু থিয়েটার থেকে আমরা যারা এসেছি, আমরা কখনও এটা করিনি। অভিনয় আসলে শুধু সংলাপ না, এটি অ্যাকশন ও রিঅ্যাকশন। আমার চরিত্রটির জার্নি বা গ্রাফটা কেমন, সেটাই মূল বিষয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার।’

    ‘মাস্তুল’ দেখার আহ্বান জানিয়ে বাবু বলেন, ‘আপনারা সিনেমাটি দেখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখার। সিনেমাটি দেখে একটা গল্প নিয়ে ফিরবেন।’

    এ সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।

    সিনেমার জন্য অভিনেতা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাস্টিং ফিলোসফি খুবই সিম্পল। আমার কল্পনার চরিত্রটির সাথে সামনে থাকা একজন রক্ত-মাংসের মানুষের অবয়ব যখন মিলে যায়, তখন তাকেই কাস্ট করি। এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অডিশন দিতে হয়েছে “সুকানি” চরিত্রটির জন্য। অনেক নামী অভিনেতা এই চরিত্রের দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা দীপক সুমনকে বেছে নিয়েছি, তার কাজের কোনো তুলনা নেই।’

    নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মতো একটি দর্শকশ্রেণী বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।’

    বিশেষ এই প্রদর্শনীতে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে ‘মাস্তুল’র মেকিং ও থিমের প্রশংসা করেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’খ্যাত পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের। তিনি বলেন, ‘পুরো সিনেমাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটি দেখতে অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো মনে হলেও ভেতরে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় যে জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই বেশ অচেনা। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও সুন্দর থিম নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।’

    উল্লেখ্য, গত বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার পায় মাস্তুল। এরপর একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

  • মুখ্যমন্ত্রী বাবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, পেছাল ছেলের সিনেমা

    মুখ্যমন্ত্রী বাবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়, পেছাল ছেলের সিনেমা

    তামিল সিনেমার সুপারস্টার ও মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় অভিনীত শেষ সিনেমা ‘জনা নায়াগান’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৪ জুলাই। এই সিনেমার সঙ্গে বক্স অফিসে সংঘর্ষ এড়াতে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’ মুক্তির তারিখ।

    আগে সিনেমাটি ৩১ জুলাই মুক্তির কথা থাকলেও এখন এটি আগস্টে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। পরিচালনায় অভিষেকের পাশাপাশি জেসন সঞ্জয় অভিনয়েও নাম লেখাতে চলেছেন।

    এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেসন সঞ্জয়ের প্রথম অভিনীত সিনেমা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রযোজক জিকেএম তামিল কুমারান নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে সিনেমাটি নির্মাণের বিষয়ে জেসনের সঙ্গে আলোচনা করছেন।

    ‘সিগমা’ প্রযোজনা করছে লাইকা প্রোডাকশন্স। এটি ট্রেজার হান্ট, হাইস্ট ও কমেডির মিশেলে নির্মিত একটি অ্যাকশনধর্মী সিনেমা।

    সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুন্দীপ কিশান। আরও রয়েছেন ফারিয়া আবদুল্লাহ, রাজু সুন্দরম, সম্পথ রাজ, শিব পণ্ডিত, আনবু থাসান, যোগ জাপি, মহালক্ষ্মী, শীলা রাজকুমার, কমলেশ ও কিরণ কোন্ডা।

    তামিলনাড়ু ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে। সংগীত পরিচালনা করেছেন এস থামান।

    এক বিবৃতিতে জেসন সঞ্জয় বলেন, ‘সিগমা এমন এক গল্পের সিনেমা, যে সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার বাইরে নিজের পথ নিজেই বেছে নেয়। ট্রেজার হান্ট, হাইস্ট আর কমেডির সমন্বয়ে এটি দর্শকদের জন্য দারুণ এক বিনোদনের অভিজ্ঞতা হবে।’

    এখন দর্শকদের অপেক্ষা—২৪ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে বিজয়ের বিদায়ী সিনেমা ‘জনা নায়াগান’, আর তার পরেই আগস্টে বড় পর্দায় আসবে জেসন সঞ্জয়ের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা ‘সিগমা’। সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া

  • আবারও রাজের নাটকে জাহিদ হাসান

    আবারও রাজের নাটকে জাহিদ হাসান

    দীর্ঘদিন পর নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। তাঁদের নতুন এই নাটকের নাম ‘পথহারা মন’। প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত এ নাটকে আরও অভিনয় করছেন খাইরুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, দীপা খন্দকার, ডা. এজাজুল ইসলাম ও মনিরা মিঠু।

    নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা রাজ জানান, ‘পথহারা মন’ মূলত ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের চিরায়ত আবেগের গল্প। দর্শক যেন খুব সহজে নিজেদের জীবনের কিছু মুহূর্ত এই নাটকে খুঁজে পান, সেভাবেই গল্পটি পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

    জাহিদ হাসানকে নিয়ে সবশেষ ২০১৮ সালে ‘ছেলেমানুষি’ নামে সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেছিলেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, যা বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল।

    দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে রাজ বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। তাঁর সহজাত অভিনয় দক্ষতা নাটকটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রজন্মের একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পীর সমন্বয়ে দারুণ একটি টিম পেয়েছি।’

    অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘রাজের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা সব সময়ই চমৎকার। অনেক দিন পর আবারও তাঁর নির্দেশনায় কাজ করছি, এটা সত্যি আনন্দের। নাটকের গল্প খুব ভালো। শুটিংয়ের পরিবেশও দারুণ উপভোগ করছি।’

    ঢাকার উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে ১০ জুলাই থেকে পথহারা মন নাটকের শুটিং চলছে। আজ মঙ্গলবার এর চিত্রায়ণ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। নাটকটির গল্প লিখেছেন জাকিয়া হোসেন তৃষা, যৌথভাবে পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন আসাদ জামান ও নির্মাতা রাজ। সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

  • মিষ্টি মেয়ের ইমেজ ভেঙে পর্দায় ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা

    মিষ্টি মেয়ের ইমেজ ভেঙে পর্দায় ভিলেন হতে চান পূর্ণিমা

    ঢালিউডে প্রায় তিন দশকের ক্যারিয়ার চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমার। নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে, ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজুর ‘এ জীবন তোমার আমার’ দিয়ে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক। প্রথম সিনেমাতেই তিনি হাজির হন রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে; দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা।

    ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সিনেমাতেই পূর্ণিমাকে দেখা গেছে ‘মিষ্টি মেয়ে’র চরিত্রে। দর্শক এই চেনা রূপে তাঁকে লুফে নেওয়ায় নির্মাতারাও কখনো ভিন্নধর্মী কোনো চরিত্রে তাঁকে নিয়ে ভাবেননি। ক্যামেরার সামনে দীর্ঘ ২৮ বছর পার করার পর, এবার পর্দায় ‘ভিলেন’ বা খলনায়িকা হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এই অভিনেত্রী।

    ১১ জুলাই ছিল পূর্ণিমার জন্মদিন। এ উপলক্ষে একটি টিভি চ্যানেলের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের এই ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিনেত্রী জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানামাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করলেও কখনো খলচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি। ভবিষ্যতে এমন একটি জাঁদরেল চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে এবং অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দেবে।

    নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছা খলনায়িকা বা ভিলেন টাইপ চরিত্রে অভিনয় করার। পর্দায় এমন একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই, যার প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃণা তৈরি হবে।’

    পূর্ণিমার ধারণা, তাঁর চেহারার কোমলতার কারণেই নির্মাতারা তাঁকে কখনো নেতিবাচক চরিত্রে ভাবেননি। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, ‘এখন পর্যন্ত খলচরিত্রে অভিনয় করা হয়নি আমার। আমাকে নিয়ে হয়তো কেউ তেমনটা চিন্তাই করেননি। সবাই ভাবেন আমার চেহারার সঙ্গে নেতিবাচক চরিত্র ঠিক জমবে না। দর্শকেরা আমাকে রোমান্টিক ও পরিপাটি লুকে দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এবার এর বিপরীতে কিছু হলে খুব ভালো হতো।’

    কয়েক বছর ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত পূর্ণিমা। মাঝে মাঝে টেলিভিশনের পর্দায় সঞ্চালক কিংবা রিয়েলিটি শোর বিচারক হিসেবে পাওয়া গেলেও, অভিনেত্রী হিসেবে তিনি অনেকটাই আড়ালে। সবশেষ ২০২৪ সালের রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া ছটকু আহমেদের ‘আহারে জীবন’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এর আগে ২০২৩ সালে কাজল আরেফিন অমির ‘হোটেল রিলাক্স’ ওয়েব সিরিজ দিয়ে ওটিটি মাধ্যমে নাম লেখালেও, এরপর আর ওটিটিতেও দেখা মেলেনি তাঁর।

  • আমির খানের বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, বিজেপির পর কটাক্ষ শিবসেনা মন্ত্রীর

    আমির খানের বিয়ে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক, বিজেপির পর কটাক্ষ শিবসেনা মন্ত্রীর

    বলিউড সুপারস্টার আমির খান ৫ জুলাই দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাঁদের বিয়ে। এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে, তবে ব্যক্তিগত এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে এবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রথমে বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রাণে আমিরের বিয়ে নিয়ে মন্তব্য করেন। এরপর একই ইস্যুতে কটাক্ষ করেছেন শিবসেনা নেতা ও মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট।

    গতকাল সোমবার সম্ভাজীনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সঞ্জয় শিরসাট বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও সমাজে প্রভাব ফেলে। এ সময় তিনি নীতেশ রাণের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘নীতেশ রাণে কিছুটা হলেও ঠিক বলেছেন। মানুষ যখন একজন অভিনেতাকে অনুসরণ করেন, তখন তাঁকে শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, একজন আদর্শ হিসেবেও দেখেন।’

    এরপর আমিরের তৃতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো তারকা যদি এমন কাজ করেন এবং একবার নয়, তিনবার বিয়ে করেন, তাহলে মানুষ তাঁর কাছ থেকে কী শিক্ষা নেবেন? তিনি “লাভ জিহাদ”-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে পারেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারবেন না।’

    দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেছেন ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানএক্স থেকে

    এর আগে বিজেপি নেতা ও মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী নীতেশ রাণেও আমির খানের বিয়ে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের এমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সমাজ কীভাবে দেখবে।

    একই সঙ্গে তিনি আমিরের সাম্প্রতিক বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’-এর উদাহরণ হিসেবে দেখা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এ ধরনের বিষয় নিয়ে হিন্দু সমাজের ভাবা প্রয়োজন।

    নীতেশ রাণের ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরসাটের মন্তব্যে সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

    ৫ জুলাই মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজের বাসভবনে একান্ত ব্যক্তিগত আয়োজনে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন আমির খান। পরিবারের সদস্য, সন্তান ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আমির বলেন, ‘দিনটি আমাদের জন্য খুবই বিশেষ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা সুখে থাকতে পারি এবং জীবনের নতুন পথচলা সুন্দর হয়।’

    এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেন তিনি। সেই সংসারে তাঁদের দুই সন্তান—জুনায়েদ খান ও ইরা খান। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। তাঁদের একমাত্র ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে আমির ও কিরণ বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেও সন্তানের সহ–অভিভাবক হিসেবে এখনো একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
    তবে নীতেশ রাণে ও সঞ্জয় শিরসাটের মন্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি আমির খান বা তাঁর টিম।

  • কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। পাঞ্জাবের অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরা। এরপর তাঁকে আর কখনো জীবিত বা মৃত—কোনো অবস্থাতেই দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, জনমতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। তবু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও ঘটনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসলে কী হয়েছিল খালরার? তিনি কি হঠাৎ করেই পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি পুলিশের দাবি অনুযায়ী ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় দিনমজুরের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন? নাকি তিনিও সেই হাজারো তরুণের একজন, যাঁদের ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছিল—যাঁদের ন্যায়বিচারের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খালরা?

    একনজরে
    সিনেমা: ‘সাতলুজ’
    ধরন: ড্রামা
    পরিচালনা: হানি ত্রেহান
    অভিনয়: দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুবিন্দর ভিকি, গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান, কানওয়ালজিৎ সিং, জগজিৎ সান্ধু, এস এম জহির
    ভাষা: হিন্দি ও পাঞ্জাবি
    স্ট্রিমিং: জি৫
    দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট

    খালরার আত্মা যে অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল, হানি ত্রেহানের ছবির যাত্রাপথও যেন তেমনই। প্রথমে ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। ২০২৩ সালে এটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডে (সিবিএফসি) টানা তিন বছর আটকে থাকে ছবিটি। কারণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিক আন্দোলনের মূল্য নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে বোর্ড প্রায় ১২০টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল। কাস্টিং পরিচালক হানি ত্রেহান এ সময় ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, সাক্ষাৎকার দেন এবং সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

    সন্ধ্যা সুরির ‘সন্তোষ’ ছবির মতোই—যেখানে উত্তর ভারতের পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে—নতুন নাম পাওয়া ‘সাতলুজ’ও ভারতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সুযোগ পায়নি। বরং নীরবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো এটিই সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি নয়। বরং জি৫–এর ‘বার্লিন’, ‘কেনেডি’ এবং ‘সাতলুজ’—তিনটি ছবিই উদ্বিগ্ন নাগরিকদের জন্য একসঙ্গে দেখার মতো অসাধারণ একটি ত্রয়ী। কিন্তু মুক্তির পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৪ জুলাই মুক্তির ৪৮ ঘণ্টা পরেই সরকারি চাপে সিনেমাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্ল্যাটফর্মটি। এত আলোচিত, প্রশংসিত আর নিষিদ্ধ এই সিনেমায় কী আছে?

    ‘সাতলুজ’ এমন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা কোনো ধরনের আপস করে না। রাষ্ট্র এবং তার পুলিশ বাহিনী যখন জনগণের অধিকার রক্ষার বদলে সেই অধিকারই পদদলিত করে, তখন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়—ছবিটি নির্ভীকভাবে সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। ফলাফল, এটি হয়ে ওঠে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেওয়া এক সিনেমা। এটি সহজে দেখার মতো ছবি নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের হলেও ‘সাতলুজ’ কখনো দর্শককে চোখ ফেরানোর সুযোগ দেয় না। ছবিটি দর্শকের পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে এবং নির্মাতার বক্তব্যের ভার বহন করতেও যে প্রস্তুত থাকতে বলে, সে কথা বলাই বাহুল্য। হানি ত্রেহান আমাদের নিয়ে যান আশি ও নব্বইয়ের দশকের সেই পাঞ্জাবে, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায় সমাজকে গ্রাস করেছিল। রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পুলিশের লাগামহীন ক্ষমতার যে নির্মম চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং শিহরণ জাগানো।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিব

    যদিও গল্পটি ভারতের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সময়কে ঘিরে, ‘সাতলুজ’ আসলে সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন এক সর্বজনীন দলিল, যা যেকোনো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। আইনহীনতা যখন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করে, তখন তার পরিণতি কেমন হয়—ছবিটি সেটিই দেখায়। ছবির শুরুতে একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা জানিয়ে দেওয়া হয়—এটি তথ্যচিত্র নয়; মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ঘটনাগুলো অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়া মানুষ, বিচারবহির্ভূত আটক এবং গণদাহের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে জসওয়ন্ত সিং খালরাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, ছবিটি সেই ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত। আরএসভিপি এবং ম্যাকগাফিন পিকচার্স প্রযোজিত এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন হানি ত্রেহান, নিরেন ভাট ও উৎসব মৈত্র। বাস্তব ঘটনা থেকে ছবির বিচ্যুতি বলতে মূলত কয়েকটি চরিত্রের নাম পরিবর্তন করা।

    ডিজিপি আইপিএস বিট্টা (কানওয়ালজিৎ সিং) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী অনন্ত সিং—যিনি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন, তার এক সপ্তাহ পর অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন জসওয়ন্ত সিং—এসব চরিত্রের বাস্তব প্রেরণা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা জসওয়ন্ত সিং খালরা (দিলজিৎ দোসাঞ্জ) প্রথম সন্দেহ করেন, যখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বন্ধুর মা নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে পদোন্নতির চিন্তায় ব্যস্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা (বংশ ভরদ্বাজ) অভিযোগ নিতেই অস্বীকৃতি জানান।

    ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হয়ে বিয়ে করার স্বপ্নেই তিনি মশগুল। এরপর খালরা মর্গে যান। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক (গীতা আগরওয়াল শর্মা) তাঁকে এমন তথ্য দেন, যা তাঁকে স্তম্ভিত করে। কিন্তু আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল শ্মশানে। সেখানে তিনি এমন একটি রেজিস্টার খুঁজে পান, যেখানে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের তালিকা সংরক্ষিত। এরপর গল্প ক্রমে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

    হুমকি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে খালরা সত্য অনুসন্ধান চালিয়ে যান। স্থানীয় এক বিধায়ক তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য তিরস্কার করেন। কিন্তু তিনি দমে যান না। স্ত্রী পরমজিৎ (গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান) জানেন, এই পথ তাঁদের দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পুরো পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলছে। তবু তিনি স্বামীর পাশে থাকেন। স্থানীয় থানায় জসওয়ন্তের শৈশবের বন্ধু কনস্টেবল সতনাম সিং (সৌরভ সচদেবা) কর্মরত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই জসওয়ন্তকে জানাতে থাকেন তিনি। এই সাহসের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সতনাম একসময় বলেন, ‘কালো পাতায় লেখা কালো সত্য, যা দেখা যায় না, পড়াও যায় না।’ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি খালরাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।
    ছবির প্রায় এক ঘণ্টা পর সতনামের বাড়িতে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য পুরো চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এই দৃশ্যে সুবিন্দর ভিকি (এসএসপি সুরজিৎ সিং সুগ্গা) এবং সৌরভ সচদেবা অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। ক্ষমতা ও অহংকারে উন্মত্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি পরিবারকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। অন্যদিকে নিচের সারির এক অসহায় পুলিশ সদস্য অপরাধবোধ আর ভয়ে কাঁপতে থাকেন। ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে এবং সেই ক্ষমতার সামনে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে—কে ইউ মোহাননের ক্যামেরা আর এ শ্রীকর প্রসাদের সম্পাদনা মিলিয়ে দৃশ্যটি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

    ‘সাতলুজ’ মূলত পুলিশ ও জঙ্গিদের সংঘাতের গল্প হলেও ছবিটি দেখায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশই কীভাবে সবচেয়ে ভয়ংকর সহিংস শক্তিতে পরিণত হয় এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে আইন ভঙ্গ করতে থাকে। এটি গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নির্মিত এক সতর্কবার্তা।

    খালরা নিখোঁজ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পাঞ্জাবে আসেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পরিচালক সমুদ্র সিং (অর্জুন রামপাল)। চরিত্রটি ছবির বর্ণনাকারীর ভূমিকাও পালন করে। অন্যদিকে একজন আইনজীবী (বরুণ বাদোলা) অবৈধভাবে হত্যা করা নারী-পুরুষদের পরিবারের পক্ষে আদালতে মামলা করেন। ছবির কিছু অংশ হয়তো একটু দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব এবং গল্প বলার ধারালো ভঙ্গির কারণে ‘সাতলুজ’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখে। এটি একই সঙ্গে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্বস্তিতে ফেলে।

    অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি অসাধারণ। সবার আগে বলতে হয় দিলজিৎ দোসাঞ্জের কথা। অতিরঞ্জন ছাড়াই তিনি ক্ষোভ, দৃঢ়তা এবং অদৃশ্য বিপদের আশঙ্কা দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন। চরিত্রটির গুরুত্ব এবং ছবির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি যে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন, তা অভিনয়ের প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তারকাসুলভ উপস্থিতিকে সামনে না এনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চরিত্র ও সময়ের ভেতর মিশিয়ে দিয়েছেন।

    ছবিতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত খালরা চরিত্রটিকে প্রথমে দেখা যায় একেবারেই সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে। তিনি একটি ব্যাংকের কর্মী, শান্ত স্বভাবের পারিবারিক মানুষ। ছয় মাস আগে তাঁর বন্ধু কিরপালকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় মৃত পাওয়া গিয়েছিল। এবার নিখোঁজ হয়ে যান শোকে পাগল হয়ে যাওয়া কিরপালের মা। তাঁকে খুঁজতে জসওয়ন্ত ছুটে বেড়ান হাসপাতাল, মর্গ ও শ্মশানে। ব্যাংকার হিসেবে সংখ্যার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কই হয়তো তাঁকে একটি অসংগতি ধরতে সাহায্য করে। সরকারি নথিতে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে নিবন্ধিত মৃতদেহগুলোর তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

    মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া ‘সাতলুজ’। কোলাজ

    হানি ত্রেহান দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশিব্যবস্থার নৃশংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে কখনোই ক্যামেরা সরিয়ে নেন না। তবে তিনি এটাও দেখান, এই পচন পুরো ব্যবস্থার নয়; বরং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ত্রেহান এই ভয়াবহ গল্পটি বলেছেন অসাধারণ সংযম ও স্থিরতার সঙ্গে। খালরা কোনো আবেগপ্রবণ বিপ্লবী নন। তিনি এই মাটিরই মানুষ। নিজের সমাজকে রক্ষা করার দায় থেকেই তিনি সত্যের খোঁজে নামেন।

    শুরু থেকেই কে ইউ মোহাননের রাতের দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ দৃষ্টিনন্দন ও পরিশীলিত। মাঝেমধ্যে কিছু নান্দনিক দৃশ্য—যেমন ওপর থেকে ধারণ করা সাদা-কালো মুদ্রা ছোড়ার দৃশ্য—পাঞ্জাব নোয়ার ঘরানার বাস্তবতাকে ভেঙে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ছবির মাঝামাঝি এসে এটি রহস্য–থ্রিলারে রূপ নেয়। আর সেখানে অর্জুন রামপালকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ সুবিন্দর ভিকির চরিত্রের কাছে যিনি কার্যত হার মেনেছিলেন, এখানে যেন তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সুবিন্দর ভিকি অভিনয় করেছেন এসএসপি সুগ্গা চরিত্রে। দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘৃণ্য ও নির্মম এই পুলিশ কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ দীর্ঘায়িত করে মানসিক নির্যাতন চালাতে ভালোবাসে। চরিত্রটি অনেকটা ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’–এর হান্স লান্ডার কথা মনে করিয়ে দেয়।

    ‘সাতলুজ’ দেখিয়ে দেয়, বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সত্য উদ্‌ঘাটনকারীদের অপদস্থ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে। এটি শুধু ভুলে যাওয়া মানুষদের স্মৃতির দলিল নয়; এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে ধরা এক জরুরি আয়না। তাই ছবিটি শুধু সিনেমা হিসেবে নয়, সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।

    সিনেমার কিছু সংলাপ শেষ হওয়ার পরও মনে থাকে। খালরা বলেন, ‘আমরা পুলিশবিরোধী নই, সরকারবিরোধীও নই।’ ছবির শেষ হয় খালরার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, ‘আমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাই।’ তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে খালরার বলা সবচেয়ে সহজ কথাটিই—‘কাউকে না কাউকে তো সামনে আসতেই হবে।’

  • তাদের ‘পথহারা মন’

    তাদের ‘পথহারা মন’

    দীর্ঘদিন পর নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় কাজ করলেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। তাদের নতুন নাটকটির নাম ‘পথহারা মন’। প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মাণাধীন এই নাটকে আরও অভিনয় করছেন খায়রুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী ও দীপা খন্দকার। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন ডা. এজাজুল ইসলাম ও মনিরা আক্তার মিঠু।

    নির্মাতা রাজ জানান, ‘পথহারা মন’ মূলত ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মানুষের আবেগের গল্প। দর্শক যেন নিজেদের জীবনের কিছু মুহূর্ত এই নাটকে খুঁজে পান, সেভাবেই গল্পটি লেখা।

    জাহিদ হাসানকে নিয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালে ‘ছেলেমানুষি’ নামে সাত পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এটি প্রচার হয়েছে বৈশাখী টিভিতে।

    রাজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। তার অভিনয় দক্ষতা নাটকটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও তরুণ শিল্পীদের সমন্বয়ে দারুণ একটি টিম পেয়েছি।’

    জাহিদ হাসান বলেন, ‘রাজের সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা সবসময়ই ভালো। অনেকদিন পর আবারও তার পরিচালনায় কাজ করছি, এটা আমার জন্য আনন্দের। গল্পটি খুব আন্তরিক। আমার অভিনীত চরিত্রটিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। শুটিংয়ের পরিবেশও দারুণ।’

    ঢাকার উত্তরায় গত ১০ জুলাই থেকে ‘পথহারা মন’র শুটিং চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এর কাজ সম্পন্ন হবে। গল্পটি লিখেছেন জাকিয়া হোসেন তৃষা। পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন আসাদ জামান ও নির্মাতা রাজ। শিগগিরই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে মুক্তি পাবে নাটকটি।

  • নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নাচের ছন্দে ও তালে বর্ষা উদ্‌যাপন করবে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। ১৭ জুলাই ঢাকার চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করা হবে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’। অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির সঙ্গে অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নির্দেশনা দিচ্ছেন নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। এ বছর একুশে পদক পাওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে অর্থী আহমেদ নির্দেশিত প্রথম প্রযোজনা।

    গত বছর একই স্থানে ‘ঘনঘটা’ আয়োজন করেছিল অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। অর্থী আহমেদের নির্দেশনায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১১০ শিল্পী। বছর ঘুরে এবারও একই স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’।

    ১৭ জুলাই বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হবে আয়োজন। খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই পরিবেশনায় অংশ নেবেন ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০০ জনের বেশি শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজকর্মী, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার, নানা শ্রেণির মানুষ।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘনঘটা শুধু একটি নৃত্য প্রযোজনা নয়, বরং এটি নতুন করে শুরু করার উৎসব; যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আর মনের ভেতরে চেপে রাখা স্বপ্নকে ডানা মেলতে দেওয়া হয়। বর্ষার দিনটিকে বরণ করে নিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। ছাতাটি ঘরে রেখেই আসুন, তার বদলে সিক্ত হোন বৃষ্টির গান, নাচ ও কবিতায়।

    আয়োজকেরা আরও জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা পরিস্থিতি মাথায় রেখে অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে জাগো ফাউন্ডেশনের ডোনেশন বুথ। যেখানে আগত অতিথিরা বন্যার্তদের সহায়তায় সরাসরি ডোনেশন দিতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দর্শকদের সাদা, নীল বা সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজকেরা।

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।

  • দোয়া চাইলেন সংগীতশিল্পী ইবরার টিপু

    দোয়া চাইলেন সংগীতশিল্পী ইবরার টিপু

    সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী ইবরার টিপুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি নানা আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তাকে দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন তার স্ত্রী, সংগীতশিল্পী বিন্দু কণা।

    ইবরার টিপুর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বিন্দু কণা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তার স্বামীর কিডনিতে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসার পাশাপাশি একটি জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

    বিন্দু কণা বলেন, ‘ইবরার টিপুর বড় একটি সার্জারি হয়েছে। তাই এখনো কথা বলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ধীরে ধীরে সেরে উঠবে। সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখার পর অনেকেই চিন্তিত হয়েছেন, ফোন করেছেন, জানতে চেয়েছেন কী হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সবার সঙ্গে কথা বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আরেকটু সুস্থ হলে টিপু সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে ইবরার টিপুর কিডনি ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের একটি কঠিন যাত্রা পার করতে হয়েছে। এখন সুস্থতার দিকেই এগোচ্ছেন। আমরা আসলে বিষয়টি কাউকে জানাতে চাইনি। কিন্তু সম্প্রতি ফেসবুকে টিপুর বর্তমান চেহারা দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তাই বিষয়টি জানানো প্রয়োজন মনে করেছি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

    এর আগে, এক সাক্ষাৎকারেও নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন ইবরার টিপু। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে নিজেকে সংগীতচর্চায় ব্যস্ত রেখেছেন। নতুন গান তৈরির কাজই কঠিন সময় পেরিয়ে আসতে তাকে সবচেয়ে বেশি শক্তি জুগিয়েছে।

    তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে কাজ করে আসছেন ইবরার টিপু। তার সুর ও সংগীতে দেশের অসংখ্য জনপ্রিয় শিল্পী গান গেয়েছেন। বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর শিরোনাম সংগীত নির্মাণের পাশাপাশি ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রকাশিত বহুল জনপ্রিয় স্বাগত সংগীত ‘ও পৃথিবী এবার এসে বাংলাদেশ নাও চিনে’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।

    বর্তমানে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ইবরার টিপু। সফল অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।

  • স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    স্মার্টফোন থাকলে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম: ক্রিস্টোফার নোলান

    জুলাইয়ের এক মেঘলা সকাল। চরম বৈরী স্কটল্যান্ডের উপকূলের আবহাওয়া। চারদিকে সিসা রঙের আকাশ, উত্তাল সমুদ্র আর আনুভূমিকভাবে পড়তে থাকা বৃষ্টি। ঝড়ের মধ্যেই নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলান তাঁর উপদেষ্টার খোঁজে জেটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মনে মনে ভাবছিলেন, তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’-র ছয় মাসের শুটিং শিডিউলের প্রথম দিনটি হয়তো আজ বাতিল করতে হবে।

    কিন্তু ১১৫ ফুট দীর্ঘ যে জাহাজটিতে তাঁরা শুটিং করছিলেন, সেটি ঠিক এই ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছিল। উপদেষ্টা নোলানকে আশ্বস্ত করলেন, অভিজ্ঞতা কিছুটা ভয়ানক হলেও কাজ করা পুরোপুরি নিরাপদ হবে। এক ঘণ্টার মধ্যে পরিচালক, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা উত্তাল ঢেউয়ের বুকে ভেসে পড়লেন। ঢেউয়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বেশ কয়েকজন সহ-অভিনেতা জাহাজের রেলিং ধরে বমি করতে শুরু করেন।

    ঝড়ের গর্জনকে ছাপিয়ে নোলান চিৎকার করে তাঁর চিত্রগ্রাহক হোয়াইটে ভ্যান হোয়াইটেমাকে ডেকে বললেন, ‘কিছু মনে না করলে বমি করার এই দৃশ্যগুলো কি আমরা ক্যামেরায় ধারণ করতে পারি?’ দীর্ঘ এক বছর পর, লন্ডনের করিন্থিয়া হোটেলের শান্ত পরিবেশে বসে ৫৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-আমেরিকান পরিচালক সেই দিনের স্মৃতিচারণ করছিলেন।

    নোলান হাসিমুখে বলেন, ‘অভিনেতাদের কৃতিত্ব দিতেই হয়, তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে রাজি হয়ে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করেছিলেন। দিনটি একই সঙ্গে যেমন কষ্টের ছিল, তেমনি দারুণ কিছু শট এনে দিয়েছিল। সেগুলোই পরবর্তীতে এই সিনেমায় আমার অন্যতম প্রিয় দৃশ্য হয়ে ওঠে।’

    হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্যের ওপর ভিত্তি করে নোলানের এই নতুন সিনেমাটিকে (দ্য ওডিসি) ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সিনেমার প্রিমিয়ারের ঠিক আগের রাতে ফুটবল ম্যাচ দেখার কারণে ভোর ৪টা পর্যন্ত জেগে থাকা নোলান চা পান করছিলেন আর তাঁর সিনেমা নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতা শোনাচ্ছিলেন।

    ১৯৭০ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া এবং যুক্তরাজ্য ও শিকাগোয় বেড়ে ওঠা নোলান ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর প্রথম স্বল্প বাজেটের ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট ক্রাইম থ্রিলার ‘ফলোয়িং’ দিয়ে বাজিমাত করেন। এরপর ভাই জোনাথনের ছোটগল্প অবলম্বনে তৈরি করেন ‘মেমেন্টো’। মাত্র ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সেই সাইকোলজিক্যাল মিস্ট্রি সিনেমাটি তাঁকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর একে একে ইনসোমনিয়া, ব্যাটম্যান ট্রিলজি, ইনসেপশন, ইন্টারস্টেলার এবং ২০২৩ সালে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যবসা করা ও সাতটি অস্কার জেতা ওপেনহাইমার-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেন তিনি।

    হলিউডের স্টুডিও ও নির্মাতারা তাঁর ওপর চোখ বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে, কারণ দর্শনের জটিল মনস্তত্ত্ব বা সময়কে উল্টো করে দেখানোর মতো দুরূহ বিষয়কেও নোলান অবলীলায় বক্স অফিস হিটে রূপান্তর করতে পারেন। নোলান জানান, অনেকে ভাবছেন ‘দ্য ওডিসি’ তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১২ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’ এখনো তাঁর সবচেয়ে বেশি বাজেটের ছবি।

    এই সিনেমাটি মুক্তির আগেই ইন্টারনেটে তীব্র সংস্কৃতি যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। গত মে মাসে যখন জানা যায়, জিউসের পৌরাণিক কন্যা ‘হেলেন অব ট্রয়’ চরিত্রে অভিনয় করবেন কেনিয়ান-মেক্সিকান কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংও, তখন ইলন মাস্কসহ একদল ইউটিউবার নোলানকে হলিউডের ‘ওক এজেন্ডা’-র কাছে আত্মসমর্পণ করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া ট্রিলজির অন্য একটি চরিত্রে ট্রান্সজেন্ডার অভিনেতা এলিয়ট পেজের কাস্টিং নিয়েও অনেকে আপত্তি তোলেন, যার ফলে ইউটিউবে সিনেমার ট্রেইলারে প্রায় ৬ লাখ ডিসলাইক পড়ে।

    এই বিষয়ে জানতে চাইলে নোলান শান্তভাবে চায়ে চুমুক দিয়ে হেসে বলেন, ‘এগুলো আসলে এই পেশারই অংশ। মানুষ সিনেমাটি দেখার আগেই যেসব বিতর্ক করে তা পুরোপুরি অর্থহীন। কারণ তারা জানেই না পর্দায় আসলে কী আসতে চলেছে। আমি ব্যাটম্যান নির্মাণের সময় ১০ বছর এই ধরনের ভক্তদের উন্মাদনা সামলেছি। হিথ লেজারকে যখন জোকার চরিত্রে নেওয়া হয়েছিল, তখনো অনেকে আকাশ থেকে পড়েছিলেন। আমার কাজ হলো মূল টেক্সটের প্রতি সৎ থেকে নিজের সেরা কাজটা পর্দায় ফুটিয়ে তোলা।’

    বর্তমান যুগের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মধ্যেও নোলান প্রথাগত প্র্যাক্টিক্যাল ইফেক্টস এবং অ্যানিমেট্রনিক্সের ওপর ভরসা করেন। সিনেমার দৃশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যত্রতত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তিনি তাঁর নিজের চার সন্তানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম এআইয়ের তৈরি কৃত্রিম জিনিসগুলো খুব দ্রুত ধরে ফেলে এবং তা প্রত্যাখ্যান করে। চলচ্চিত্রে এখন আবার বাস্তব ও স্পর্শকাতর গল্প বলার ধারা ফিরে আসছে।’

    নোলানের নিজের প্রযুক্তিবিমুখতাও চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ কিংবদন্তিতুল্য। তিনি আজ পর্যন্ত কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না। এ বিষয়ে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাই এখন পড পিপল বা ফোনের দাস হয়ে গেছেন। আমি যদি একটা স্মার্টফোন কিনতাম, তবে আমি খুব বাজেভাবে এতে আসক্ত হয়ে পড়তাম এবং সারাক্ষণ ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজতাম। আমি আমার সিনেমার নতুন নতুন আইডিয়াগুলো মূলত সেই সময়গুলোতেই মাথায় আনি যখন সাধারণ মানুষ পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনে ডুবে যায়—যেমন ট্রেনে বা এয়ারপোর্টে অপেক্ষার সময় কিংবা রেস্তোরাঁয় কারও জন্য বসে থাকার মুহূর্তগুলোতেই আমি আমার পরবর্তী কাজের রূপরেখা তৈরি করি।’

    স্মার্টফোন না থাকার কারণে তিনি ইন্টারনেটের কোনো গুজবে কান দেন না এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল থেকেও দূরে থাকেন। কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর মতো ‘১০টি সিনেমা বানিয়ে অবসরে যাওয়া’-র নিয়মে তিনি বিশ্বাসী নন। নোলান মনে করেন, প্রতিটি সিনেমাই এমনভাবে বানানো উচিত যেন এটিই তাঁর জীবনের শেষ কাজ। সিনেমা হলের ভেতরে ফোন ব্যবহারেরও বিরোধী নোলান। আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার থেকে বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে তাঁর নতুন সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’ উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দর্শকদের।

  • মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    মরক্কোর বিদায়ে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি

    চলছে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। এর মধ্যেই ফ্রান্স ও স্পেন সেমিফাইনালে চলে গেছে। এ লড়াইয়ে ফ্রান্সের কাছে হেরেছে আশরাফ হাকিমির দল মরক্কো। আর সেই পরাজয়ে ভীষণ মন খারাপ করেছেন বলিউড মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি।

    এমনকি মাঠেই অঝোরে কেঁদে ফেলেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর বিদায়ের পর নিজের আবেগকে ধরে রাখতে পারেননি। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কান্না শুরু করে দেন নোরা ফাতেহি।

    এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা গেছে, ‘চোখের পানি মুছছেন অভিনেত্রী। পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।’

    ফুটবল মাঠে আফ্রিকান দেশটির প্রতিটি ম্যাচেই স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন নোরা ফাতেহি। স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেও তাকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বোস্টনের পথে তীব্র যানজটে আটকে গেলে শেষ পর্যন্ত গাড়ি থেকে নেমে বেশ কিছুটা পথ হেঁটেই স্টেডিয়ামে পৌঁছান। তবু খেলা শুরুর আগেই গ্যালারিতে নিজের আসনে বসতে সক্ষম হন। মরক্কোর প্রতিটি ম্যাচ জয়ে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছেন তিনি। কিন্তু ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর পরাজয়ে ভীষণ কষ্ট পান অভিনেত্রী।

    শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের বিপক্ষে আর চমক দেখাতে পারেনি। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে হেরে শেষ হয় তাদের স্বপ্নযাত্রা।

    এ পরাজয়ের পরও মরক্কো দলের প্রতি নিজের গর্বের কথা প্রকাশ করেন নোরা ফাতেহি। বিশেষ করে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিসহ পুরো দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটির পরাজয়ে ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি কেন কাঁদলেন? কারণ একটাই— নোরা ফাতেহির কথিত প্রেমিক মরক্কো দলের অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। আর গত এক বছর ধরে আশরাফ হাকিমি ও নোরা ফাতেহির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে গুঞ্জন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ-ই প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

  • জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জুলাই নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ফান্ড না দেয়, তাহলে আমি নিজের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই ফান্ডে টাকা দেব।’ যোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফান্ডের জন্য প্রয়োজনে আমার রক্ত বিক্রি করতেও দ্বিধা করব না।’

    শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বা ‘সিডিআই’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে সঠিক ইতিহাসের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই জরুরি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

    জুলাই বিপ্লবকে একটি মহাকাব্যিক বিপ্লব এবং অসম মহাযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একপক্ষ অস্ত্র এবং অন্যপক্ষ বুককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ তিনি হাসপাতালে আহতদের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, যার ফলে আহতদের অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং ড্রেসিংয়ের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

  • ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    সুমাইয়া দশম শ্রেণীতে পড়ে। উজিরপুর হাই স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে সে। বেশ চঞ্চল ও স্পষ্টভাষী। তবে পড়াশোনায় মনোযোগ কম। কত ছেলে যে তার প্রেমে হাবুডুবু খায় তার হিসেব নেই। প্রতিদিনই প্রেমের প্রস্তাব আসে তার কাছে। কিন্তু সুমাইয়া এখনও পর্যন্ত কোন প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

    এরমধ্যে স্কুলে অয়ন নামে নতুন একজন অংকের শিক্ষক এসেছে। ক্লাসে সুমাইয়া পুরো সময় তার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। মনে মনে যেরকম ছেলে পছন্দ তার, এই শিক্ষক ঠিক সেরকম। প্রথম দেখাতেই সুমাইয়া তার প্রেমে পড়ে যায়। তরুণ শিক্ষক অয়ন শুরুতেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বন্ধুর মতো করে নেয়। সুমাইয়া ক্লাস শেষে তার সঙ্গে দেখা করে। ক্লাসে ঠিকমতো অংক বুঝতে পারেনি বলে তাকে আবার বুঝিয়ে দিতে বলে।

    প্রায়ই কাজটি করে সে। আসল উদ্দেশ্য অয়নের কাছে যাওয়া। মনের কথাটা বেশিদিন চেপে রাখতে না পেরে একদিন সুমাইয়া সরাসরি অয়নকে বলে দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে। অয়ন কিছুটা অবাক হয় এবং সুমাইয়াকে জানিয়ে দেয়- এরকম কিছু যেন না ভাবে। সুমাইয়া কোন কিছুই মানতে রাজি না। অগত্যা তার পাগলামি থামানোর জন্য অয়ন বলে যদি সে ভালোভাবে পড়াশোনা করে এবং ভালো রেজাল্ট করে তাহলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

    এর আগে, অয়ন তার সাথে কথা বলবে না। সুমাইয়া এতে রাজি হয় এবং মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর খুশির খবর জানাতে ছুটে যায় অয়নের কাছে। কিন্তু অয়নকে খুঁজে পায় না। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প। নাটক নাম ‘শালিক বালিকা’।

    মাহমুদ মাহিনের রচনা ও পরিচালনায় এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও তটিনী। আগামীকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় নাটকটি প্রচার হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে।

  • বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন উঠে আসছে বড় পর্দায়। এখন পুরোদমে চলছে সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’-এর শুটিং। গতকাল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় সিনেমার ফার্স্ট লুক পোস্টার। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মুক্তির তারিখ। ২০২৭ সালের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত সিনেমাটি।

    ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি উড়িয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর সেই উদ্‌যাপন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। পোস্টারে লর্ডসের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার রাও। সেই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজকুমার রাওকে উদ্দেশ করে সৌরভ গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘জন্মদিনের সেরা উপহার। পর্দায় তোমাকে আমার রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

    নিজের বায়োপিকের ফার্স্ট লুক দেখে সৌরভ উচ্ছ্বসিত হলেও, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক ও মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পোস্টার দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারকে একেবারে মানায়নি বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এর আগে শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পরেও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন রাজকুমার। সে সময় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন পর্দায় মহেন্দ্র সিং ধোনি চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত সিংয়ের কথা।

    সৌরভের ভাষ্য, ‘রাজকুমার দারুণ অভিনেতা। কিন্তু একই রকম দেখতে লোক তো আর পাওয়া যাবে না। ও অভিনয় করছে। আমার জীবনকে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানেই মানুষ ভুল করে ফেলে যে, একই দেখতে হবে! কীভাবে হবে? সুশান্ত সিং রাজপুত কি এম এস ধোনির মতো দেখতে? কিন্তু ধোনির চরিত্রে ও চমৎকার কাজ করেছে।’

    টি-সিরিজ এবং লাভ ফিল্মসের ব্যানারে তৈরি এই সিনেমায় শুধু সৌরভের ক্রিকেটিং ক্যারিয়ার বা লড়াকু অধিনায়কত্বই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্ব পাবে। সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য।

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।

    মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।

    অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।

    এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।

    বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

    গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।

    মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী

    সেপ্টেম্বরে শুটিংয়ে ফিরছেন বুবলী

    দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বকালীন বিরতিতে আছেন চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী। গত ১১ মে কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন তিনি। লোকচক্ষুর আড়ালে আছেন তারও কয়েক মাস আগে থেকে। রোজার ঈদে বুবলী অভিনীত ‘প্রেশার কুকার’ মুক্তির সময়ও পাওয়া যায়নি তাঁর দেখা। অবশেষে বুবলীর কাজে ফেরার খবর পাওয়া গেল। আগামী সেপ্টেম্বরে জাহিদ হোসেনের ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমা দিয়ে আবার লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনে ফিরছেন তিনি।

    বিরতি কাটিয়ে বুবলীর কাজে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার পরিচালক জাহিদ হোসেন। আজকের পত্রিকাকে নির্মাতা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে ঢাকাইয়া দেবদাসের শুটিংয়ে অংশ নেবেন বুবলী।

    জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বুবলীর সঙ্গে শুটিং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে এখন নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরে ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেবে।’

    পুরান ঢাকার মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত হচ্ছে ঢাকাইয়া দেবদাস। গত জানুয়ারিতে সাকরাইন উৎসবের সময় শুরু হয় সিনেমার শুটিং। বুবলীর বিরতিতে শুটিংয়ে কোনো প্রভাব পড়েছিল কি না জানতে চাইলে নির্মাতা জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ঢাকাইয়া দেবদাস একটি ঢাকাইয়া শিল্প-সংস্কৃতির চলচ্চিত্র। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য উৎসবের সময়ে রিয়েল লোকেশনে শুটিং করছি আমরা। তাই প্রথম থেকেই পরিকল্পনা ছিল সময় নিয়ে চলবে শুটিং। বছরব্যাপী ঢাকাইয়াদের যেসব রিচুয়াল কালচার রয়েছে, তা তুলে ধরা হবে। সেপ্টেম্বরে বুবলী শুটিং করবেন, এটা আগে থেকে ঠিক করা ছিল। মাঝে বুবলী না থাকলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু অংশের শুটিং হয়েছে। সবশেষ আশুরার সময়েও রিয়েল লোকেশনে আমরা দৃশ্যধারণের কাজ করেছি। আশা করছি সেপ্টেম্বর থেকে আবার ক্যামেরা ওপেন হবে।’

    ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমায় বুবলীর বিপরীতে আছেন আদর আজাদ। নির্মাতা জানান, ঢাকাইয়া দেবদাস মূলত প্রেমের গল্পের সিনেমা। দুজন মানুষের গল্পের মধ্যেই তুলে ধরা হবে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য। এতে আরও অভিনয় করছেন তারিক আনাম খান, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, রোজী সিদ্দিকী প্রমুখ।

    নির্মাতা আরও জানান, আগামী বছর রোজার ঈদের মিছিলের দৃশ্যধারণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ঢাকাইয়া দেবদাস সিনেমার শুটিং। এরপর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষে কোরবানির ঈদের পর মুক্তি পাবে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। সিনেমাটির প্রযোজনা ও পরিবেশনায় রয়েছে এক্সেল ফিল্মস ও রেভল্যুশন মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল।

  • আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েও মিশরের জয় চান বর্ষা

    ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। ম্যাচটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সমর্থকদের পাশাপাশি এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বর্ষাও।

    দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা ও তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত বর্ষা। তবে এবারের ম্যাচকে সামনে রেখে তিনি প্রতিপক্ষ মিশরের জয় কামনা করেছেন।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা একটি ছবি প্রকাশ করেন ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আজ আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হারলেও কষ্ট পাব না। কারণ, মন থেকে চাই দুনিয়ার বুকে মুসলিমদের জয় হোক। আমিন।’

    বর্ষার এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে সম্মান জানিয়ে সমর্থন প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, খেলাধুলাকে ধর্মের সঙ্গে না জড়ানোই উচিত। তবে এসব ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য করতে দেখা যায়নি অভিনেত্রী বর্ষাকে।

  • গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাবের বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার পর তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। জশবন্ত সিং খালরা নামক এক শিখ মানবাধিকারকর্মীর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

    ছবিটি আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছেন স্বয়ং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ দোসাঞ্জ এই ছবিটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্থবহ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই জশবন্ত সিং খালরা জির আত্মত্যাগ এবং মানবতার প্রতি তাঁর অবদানই ছিল এই চলচ্চিত্রে আমার যুক্ত হওয়ার মূল কারণ। আমি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

    ছবিটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা দোসাঞ্জ আগেই করেছিলেন। গত শনিবার এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সোমবারের মধ্যে ছবিটি নামিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো চিন্তা নেই, আপনারা এটি ডাউনলোড করে নিন।’

    সোমবার রাজস্থানে খোলা আকাশের নিচে প্রজেক্টরে ছবিটির একটি গণপ্রদর্শনীর ভিডিও ক্লিপ এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে দোসাঞ্জ পাঞ্জাবিতে লেখেন, ‘হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা।’ (অর্থাৎ, এই ছবি আর থামানো যাবে না। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না)।

    কী বলছে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ?

    হানি ত্রেহানের পরিচালনায় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবিটিতে মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের বাইরে ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’ প্ল্যাটফর্মে ছবিটি এখনো দেখা গেলেও, ভারতের ক্যাটালগ থেকে এটি তুলে নেওয়া হয়েছে। জি-ফাইভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ‘মুক্তির পর থেকে “সতলুজ” ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা ছবিটির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি… তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ থাকবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ উপায়ে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

    রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

    ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।

    শিরোমনি আকালি দল (এসএডি) দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এক পোস্টে বলেন, ‘এটি আমাদের যৌথ স্মৃতি, সত্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক নির্লজ্জ আঘাত। পাঞ্জাবকে তার অতীতের অপ্রীতিকর ইতিহাসের মুখোমুখি হতে দেওয়া উচিত, তা চাপা দেওয়া কোনো সমাধান নয়।’

    কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা অবিলম্বে ছবিটি পুনরায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ছবিতে প্রদর্শিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আদালতের রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    আম আদমি পার্টির (এএপি) সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই ছবিটি ব্লক করে বিজেপি তাদের আসল মুখ উন্মোচন করেছে। পাঞ্জাবের সত্য প্রকাশে তাদের ঐতিহাসিক ভয় আবারও স্পষ্ট হলো।’

    শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির (এসজিপিসি) প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, পাঞ্জাবের চরমপন্থী সময়কালের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত এই ছবি দেখার এবং সে সম্পর্কে নিজস্ব মতামত তৈরি করার অধিকার জনগণের রয়েছে।

    তিন বছরের সেন্সরশিপ জটিলতা

    চলচ্চিত্রটির এই ওটিটি মুক্তি সহজ ছিল না। মূলত ‘ঘাল্লুঘারা’ (শিখদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক গণহত্যা নির্দেশক শব্দ) নামে ২০২২ সালে ছবিটি প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সে সময় বোর্ড ছবিটির ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দেয় এবং ছবির নাম বদলে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার কথা বলে।

    প্রযোজকেরা প্রথমে বম্বে হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। তিন বছর ধরে জটিলতা চলার পর এবং ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার থেকে ছবিটিকে সরিয়ে নেওয়ার পর, অবশেষে গত ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি ভারতের জি-ফাইভে মুক্তি পায়।

    পরিচালক হানি ত্রেহান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, থিয়েটার রিলিজ পাওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ বিলম্বের পর, ছবির প্রযোজকেরা সেন্সর সার্টিফিকেট ছাড়াই সরাসরি ওটিটি মুক্তির পথ বেছে নেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জও দাবি করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

    কেন জশবন্ত সিং খালরা ও এই চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    পাঞ্জাবের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাব পুলিশের দ্বারা বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন। তাঁর এই তদন্তের ফলে শত শত পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

    ১৯৯৫ সালে জশবন্ত সিং খালরাকে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্তের পর ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

    চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের বিতর্ক নতুন করে উসকে গেছে।

    সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে উগ্র ডানপন্থী ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছবি যেমন—‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫) কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে প্রদর্শিত ও স্ট্রিম হচ্ছে, সেখানে পাঞ্জাবের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্রকে কেন সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকে ভারতের দর্শকদের থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

  • নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের কাছে জয়া আহসান শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মুখ। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা। আমাগী ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। সিনেমার মুক্তির আগে নতুন রূপে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী।

    মঙ্গলবার নতুন ফটোশুটের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন জয়া। ছবিটিতে জয়া আহসানকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস লুকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: ফেসবুক

    সাদা রঙের ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার ও গলায় একাধিক স্তরের সোনালি-সবুজ পাথর বসানো স্টেটমেন্ট নেকলেস। ডান হাতের অনামিকায় বড় সবুজ রত্নখচিত আংটি, যা নেকলেসের সঙ্গে মানানসই। গয়নাগুলো ছবির প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি। ছবি: ফেসবুক

    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন তার ভক্তরা। প্রতিক্রিয়া এসেছে এক হাজারের বেশি। ভক্তদের অনেকে জয়ার পোস্ট করা এসব স্থিরচিত্র নিজের ফেসবুক ওয়ালেও শেয়ার করেছেন।ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার প্রচারণার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন জয়া। ছবি: ফেসবুক

    ক’দিন আগে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমা নিয়ে জয়া বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর বাইরে আমি একজন দর্শকও। তাই আমিও অপেক্ষা করছি সিনেমাটি দেখার জন্য। এই সিনেমার প্রথম পর্বে যে সম্পর্কের সমীকরণ আমরা দেখেছিলাম, এবার সেটি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখবে দর্শক।’ ছবি: ফেসবুক

    ‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই এগোবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ফলে আগের ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রের সম্পর্ক এবার কোন নতুন দিকে মোড় নেয়, সেটিই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছেন জয়া আহসান। ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় জয়া আহসান ছাড়াও অভিয়ন করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য প্রমুখ। ছবি: ফেসবুক

    জয়াকে সবশেষ পর্দায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ওসিডি’ সিনেমায়। এটি পরিচালনা-রচনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। এই সিনেমাটি শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চাপ নিয়ে তৈরি। ছবি: ফেসবুক

    চলতি বছরের শুরুতে সুমন মুখার্জি পরিচালিত ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) বিভাগে ‘জি ২৪ ঘণ্টা’ আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ছবি: ফেসবুক

  • সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    সম্মতি ছাড়াই চুম্বনের দৃশ্য, সেদিন কেঁদেছিলেন রেখা

    অভিনেত্রী রেখার জীবনের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হলো তাঁর কৈশোরে শুটিং করা একটি চুম্বনদৃশ্য। প্রায় ছয় দশক পর সেই ঘটনার প্রসঙ্গ আবার সামনে এনেছেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির মেয়ে পল্লবী চ্যাটার্জি।

    পল্লবী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বাবা যদি সত্যিই ওই দৃশ্যে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে আগে রেখার সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘এটা অবশ্যই ভুল ছিল। যে-ই করুক না কেন, আগে সম্মতি নেওয়া উচিত ছিল।’ এ মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলিউডের সেই বহুল বিতর্কিত ঘটনাকে, যা প্রথমবার বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছিল লেখক ইয়াসের উসমানের লেখা জীবনীগ্রন্থ ‘রেখা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে।

    যে দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না রেখা
    ঘটনাটি ১৯৬৯ সালের দিকে। তখন মাত্র ১৫ বছর বয়সী রেখা হিন্দি সিনেমায় নিজের জায়গা তৈরির জন্য সংগ্রাম করছেন। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগৎ থেকে আসা এই কিশোরী তখনো বলিউডের নিয়মকানুন ভালোভাবে জানতেন না।

    সেই সময় নির্মিত হচ্ছিল ‘আনজানা সফর’ নামের একটি ছবি। ছবিটি পরিচালনা করছিলেন রাজা নওয়াথে। ছবিতে রেখার বিপরীতে ছিলেন বিশ্বজিৎ।

    জীবনীগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং চলছিল। কিন্তু দৃশ্যটির প্রকৃত পরিকল্পনা সম্পর্কে নাকি আগে থেকে কিছুই জানতেন না রেখা। ক্যামেরা চালু হওয়ার পর বিশ্বজিৎ হঠাৎই তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বইটির দাবি, পরিচালক ‘কাট’ বলেননি আর চুম্বনদৃশ্যটি কয়েক মিনিট ধরে চলতে থাকে। সেটে উপস্থিত অনেকেই তখন হাততালি, শিস কিংবা উল্লাস প্রকাশ করছিলেন।

    বইয়ে বলা হয়েছে, হতভম্ব হয়ে যান কিশোরী রেখা। তিনি চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর তাঁর চোখ বেয়ে নেমে আসছিল জল। এ বর্ণনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি ছিল—রেখার সম্মতি আদৌ ছিল কি না।

    রেখা। এএফপি

    ‘যেকোনো মেয়ের জন্যই এটা ট্রমাটিক’
    পল্লবী চ্যাটার্জি মনে করেন, ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকলে তা যেকোনো কিশোরীর জন্যই মানসিকভাবে আঘাতকর হতে পারে।

    পল্লবীর মতে, সে সময়ের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পুরো দৃশ্য না জানিয়ে অভিনয় করাতেন, যাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, কারও সম্মতি ছাড়া এমন কিছু করা ঠিক নয়।

    পল্লবী বলেন, ‘তখন রেখা খুবই ছোট ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন তরুণী কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? অনেক সময় অস্বস্তিকর কিছু ঘটলেও প্রতিবাদ করার সাহস হয় না।’

    আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুই পরিবারের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল। পল্লবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রেখা প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন এবং দুই পরিবার ছিল ঘনিষ্ঠ। ফলে ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে সেটি রেখার কাছে আরও বেশি বিশ্বাসভঙ্গের মতো মনে হওয়াই স্বাভাবিক।

    বিশ্বজিতের ব্যাখ্যা
    এ বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বিশ্বজিৎ এ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি ছিল, এটি ছিল পরিচালকের নির্দেশ। পরিচালক নাকি চেয়েছিলেন, রেখার মুখে প্রকৃত বিস্ময়ের অভিব্যক্তি ফুটে উঠুক। সে কারণেই আগে থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।
    বিশ্বজিৎ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য ছিল না। ছবির প্রয়োজনে করা হয়েছিল। কিন্তু রেখা নিজেকে প্রতারিত মনে করেছিলেন এবং ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন।’

    বিশ্বজিতের এ বক্তব্য বিতর্ক কমানোর বদলে আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ, অনেকের মতে, কোনো দৃশ্যের শিল্পগত প্রয়োজন থাকলেও একজন অভিনেত্রীর সম্মতি ছাড়া তা করা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

    ষাট ও সত্তরের দশকের বলিউডে আজকের মতো ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’, লিখিত সম্মতি বা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্পষ্ট নীতিমালা ছিল না। অনেক সময় পরিচালক বা প্রযোজকের সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। বিশেষ করে নতুন অভিনেত্রীদের পক্ষে আপত্তি তোলা কঠিন ছিল।

    বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের আগে বিস্তারিত আলোচনা, লিখিত সম্মতি এবং পেশাদার তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হলিউডের পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পেও ধীরে ধীরে এ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

    গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’

    নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

    বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’

    সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’

  • সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি: তুষি

    সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি: তুষি

    সিনেমাটি সম্প্রতি ভিয়েতনামের চতুর্থ ডানাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে এশিয়ার সেরা ছবি হিসেবে ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।

    নাজিফা তুষি বলেন, ‘ক্রিটিকস চয়েজ অ্যাওয়ার্ড কিন্তু সব সময় আলাদা একটি গুরুত্ব বহন করে। সেখানে এশিয়ার সেরা সিনেমা হিসেবে ক্রিটিকস চয়েজ পুরস্কার পেয়েছে “রইদ”। দেশ ও দেশের বাইরে দর্শক সিনেমাটি গ্রহণ করেছে। সেটাই মনে করিয়ে দেয় এই পুরস্কার। একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটি আমার জন্য খুবই সম্মানের। একই সঙ্গে টিমের জন্য যেমন অর্জন, তেমনি সম্মানের। সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে আমি অনেক বেশি খুশি।’

    ‘রইদ’–এ মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে

    ২০২৫ সালের শেষ দিকে ‘রইদ’-এর ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। পরে ঈদে মুক্তির পরে দর্শক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা পায় ‘রইদ’। একই সঙ্গে দেশের বাইরেও সিনেমাটি মুক্তি পায়।

    আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার দিয়েই সিনেমাটির যাত্রা শুরু হয়। মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ এটি অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়। ‘রইদ’ নির্মিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। এক সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রামকে ঘিরে। নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ছাড়াও সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ অনেকে।

  • তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    বলিউড অভিনেতা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, আজ মুম্বাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টার পর স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছেন আমির-গৌরী।

    সকাল থেকেই তাদের বিয়ে ঘিরে উৎসবের আমেজ। একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামছে অভিনেতার বাড়ির গেটে। ঘরোয়া পরিসরে আয়োজিত হলেও আমিরের মতো সুপারস্টারের বিয়ে অন্যতম আকর্ষণ তা বলাই বাহুল্য। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক নারীর সঙ্গে আমির খানের নাম জড়িয়েছে।

    তবে রিনা দত্তকে ভালোবেসে প্রথম বিয়ে করেন তিনি। এ সংসারে জুনায়েদ ও ইরা খান নামে দুটো সন্তান রয়েছে। রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। এ সংসারে আজাদ খান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে তার দুটো সংসারই ভেঙে গেছে।

  • মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    মা হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ, জানালেন দ্বিতীয় বিয়ের খবর

    গত মার্চে মৌসুমী হামিদের সংসার ভাঙার খবর শুনে অনেকেরই মন ভেঙেছিল। সেই দুঃসংবাদের চার মাসের মাথায় জোড়া সুখবর দিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিয়ের সঙ্গে দিলেন মা হওয়ার খবরও। গতকাল শুক্রবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সহকর্মীদের চমকে দেন মৌসুমী হামিদ।

    মৌসুমী হামিদের স্বামীর নাম আবদুল ওয়াদুদ সজীব। তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। স্বামীকে নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরোনো বেস্ট ফ্রেন্ড। আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে মিল ছিল। যে কারণেই বিয়ে সিদ্ধান্ত নিই। সবকিছুর জন্য দোয়া চাই।’

    মৌসুমী হামিদের দ্বিতীয় বিয়ে ও সন্তানসম্ভবা হওয়ার খবর অনেকেরই অজানা ছিল। চরকির অনুষ্ঠানে তাই তাঁকে দেখে সহকর্মীরা জড়িয়ে ধরেন, শুভকামনা জানান।

    সংবাদমাধ্যমে মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য প্রথম বাইরে এসেছি। জানতাম এখানে অনেকেই থাকবে। সবার সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য স্বামীসহ এসেছি মা হওয়া খবর দিতে।’

    এত দিন দ্বিতীয় বিয়ের খবর গোপন রাখার কারণও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। মৌসুমী হামিদ বলেন, ‘অনেকেই ভুলভাবে খবর প্রকাশ করবে। এই জন্য আমি এত দিন কাউকে কিছু বলিনি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সঠিকভাবেই মা হওয়ার খবরটা জানবে সবাই। আমি এবং আমার অনাগত সন্তান ভালো আছি, নতুন একটা অনুভূতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।’

    এর আগে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানাকে বিয়ে করেন মৌসুমী হামিদ। দুই বছরের মাথায় ফাটল ধরে তাঁদের ভালোবাসার সংসারে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সেপারেশনে চলে যান। এরপর গত মার্চে মৌসুমী জানান বিচ্ছেদের খবর।

    লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে যাত্রা শুরু মৌসুমী হামিদের। টিভি নাটক, ওয়েব কনটেন্ট ও সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। সবশেষ মৌসুমীকে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান পরিচালিত ‘জ্বীনের বাচ্চা’ নামের ওয়েব ফিল্মে।

  • শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    ফন্ট সাইজ:

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব ২৬৯ ও ইলিয়াস কোবরা ২১৬, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত ২৬৬, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু ৩২৩, আলি রাজ ২৯৬, নাসরিন ২৮৯, জেসমিন আক্তার ২৮০, শিপন মিত্র ২৪৮, সুশান্ত ২৩২, রাকা আলম ২২৭, শিরিন শিলা ২২৫, চিকন আলী ২২৪, কাবিলা ২২১ এবং ফরহাদ ২১৬।

    নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কায়েস আরজু, আলি রাজ, জেসমিন আক্তার, শিপন মিত্র, কাবিলা, শিরিন শিলা ও ফরহাদ শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে এবং নাসরিন, সুশান্ত, রাকা আলম ও চিকন আলী আরমান–মুক্তি পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশান।

  • পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

    পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

    ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. গোলাম সাকলায়েন, ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাবেক এডিসি ডিবি গুলশান বিভাগে কর্মকালীন বাংলাদেশ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

    এতে আরও বলা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী প্রেরণ করে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়।

    ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব প্রদানপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন সাকলায়েন এবং একই মাসের ২৮ তারিখে তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে, এডিসি সাকলায়েনের ওপর গুরুদণ্ড আরোপের পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা বিধি মোতাবেক ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয় এবং এডিসি সাকলায়েন ২০২৪ সালের ১০ মার্চ দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    সে পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনশ মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় বলে পরামর্শ প্রদান করে।

    এরপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন সানুগ্রহ অনুমোদন করেন।

    এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর দায়ে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (খ) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

  • নারীর মতো প্রকৃতিকেও পণ্য বানিয়েছে পুরুষতন্ত্র: দিয়া মির্জা

    নারীর মতো প্রকৃতিকেও পণ্য বানিয়েছে পুরুষতন্ত্র: দিয়া মির্জা

    পুরুষতন্ত্রের জন্যই পরিবেশের অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, পরিবেশ খারাপ হওয়ার নেপথ্যেও রয়েছে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আলোচনাসভায় গিয়ে এমন মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। এর পরেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনার ঝড়। কেউ কেউ সমর্থন করেছেন অভিনেত্রীকে। আবার কেউ কেউ নিন্দা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, পুরুষেরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং তারাই পৃথিবীতে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন।

    কোনো নির্দিষ্ট পুরুষকে দায়ী করার জন্য নয়; বরং পিতৃতান্ত্রিক ক্ষমতার কাঠামো যেভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছে, তা বোঝানোর জন্যই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন দিয়া মির্জা।

    অভিনেত্রী বলেন, পুরুষরাই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এবং তারাই পৃথিবীতে বর্তমানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। তিনি বলেন, যেহেতু অনেকেই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন, তাই বিষয়টি যতটা সহজভাবে বলা যায়, ততটাই বলছি। আমি আমার বক্তব্যে অনড়। পিতৃতন্ত্রই জলবায়ু সংকটের প্রধান কারণ।

    দিয়া মির্জা বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কিছু মানুষের হাতেই থেকেছে ক্ষমতা। যত্ন নেওয়ার বদলে তারা কেবল সম্পদ শোষণ করেছে। এমনকি প্রকৃতিকে রক্ষা করার পরিবর্তে ব্যবহারের বস্তু হিসাবেই শুধু দেখেছে।

    তিনি বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীদের সঙ্গে যেমন আচরণ করা হয়, অনেকটা সেভাবেই বন, জঙ্গল, নদী, সমুদ্র এবং পরিবেশের অন্যান্য অংশকেও পণ্য হিসাবে দেখা হয়। এ চিন্তাভাবনার ফল এখন আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

    নিজের মন্তব্যের যুক্তিতে অনড় থেকে দিয়া মির্জা আরও বলেন, প্রকৃতি রক্ষা এবং নারীর অধিকারের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করার কাজও এই পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থারই অংশ।

    কেন পুরুষতন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন, তা আরও বিশদে জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, বিশেষ করে প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে আগে অনুভব করেন। পানি সংকট, খাদ্যের অভাব, ঘরছাড়া হওয়া এবং জীবিকার ক্ষতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। কিন্তু পরিবেশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গাগুলোতে তাদের উপস্থিতি এখনো খুব কম।

    অভিনেত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হলে এই আধিপত্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে সমতা, সহানুভূতিসহত জীবনের প্রতি সম্মান করতে হবে।

  • একের পর এক সিনেমা ফ্লপ, রাভিনার ‘অপয়া’ অপবাদ ঘুচে যে সিনেমায়

    একের পর এক সিনেমা ফ্লপ, রাভিনার ‘অপয়া’ অপবাদ ঘুচে যে সিনেমায়

    ১৯৯১ সালে বলিউডের ভাইজানখ্যাত অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ‘পাত্থর কে ফুল’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন। তবে এ সিনেমার পর বেশ কয়েক বছর তার ক্যারিয়ারে একাধিক সিনেমা ফ্লপ হয়। সেই সময়ে অভিনেত্রীকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকা হতো। জিংকস বলতে এমন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, যা দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়।

    সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাভিনা ট্যান্ডন তার পথচলা এবং কীভাবে পরিস্থিতি বদলে গিয়ে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হয়ে উঠেছিলেন, সেই সম্পর্কে কথা বলেন। ‘মোহরা’ সিনেমাটি তার ক্যারিয়ারে একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল বলেও জানান তিনি।

    রাভিনা ট্যান্ডন বলেন, তখনকার মিডিয়াও খুবই নিষ্ঠুর ছিল আমার প্রতি। তারা আমাকে ‘লিটল মিস জিংকস রাভিনা’ বলে ডাকত।’ সমালোচনা সত্ত্বেও অভিনেত্রী বিশ্বাস করতেন একটি সিনেমার সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনো একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। তিনি বলেন, আপনি আপনার ১০০ শতাংশ দেন, কখনো তা কাজে দেয়, কখনো দেয় না। এটা কোনো একজনের দোষ নয়।

    ১৯৯৪ সালে ‘মোহরা’ মুক্তির পর সব কিছু বদলে যায় বলে জানিয়েছেন রাভিনা ট্যান্ডন। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী— কীভাবে প্রযোজক গুলশান রাই প্রকাশ্যে তাকে ‘ভাগ্যবতী’ বলে আখ্যা দিয়ে তার প্রতি সিনেমা জগতের মনোভাব পুরোপুরি বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তারপর হঠাৎ করেই আমি খুব ভাগ্যবতী হয়ে উঠলাম। তখন প্রযোজকরা বলতে শুরু করলেন— তাদের যাতে একটা সুযোগ দেওয়া হয়। তবে কিছু সিনেমা নির্মাতা বিশ্বাস করতেন যে, রাভিনা ট্যান্ডন অভিনীত যে কোনো সিনেমাই ফ্লপ হবে।

    কিন্তু ১৯৯৯ সালে ‘শূল’ মুক্তির পর অভিনেত্রী হিসেবে তার ভাবমূর্তি বদলে যায়। এ সিনেমার মাধ্যমে গ্ল্যামারস ইমেজ ভেঙে একেবারে অন্য রাভিনা ট্যান্ডনকে তুলে ধরেছিল।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন বর্তমানে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন। যে সিনেমায় প্রায় ২২ বছর পর অক্ষয় কুমারের বিপরীতে দেখা যাবে।

  • কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    কবে থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত জানালেন পারশা

    এ মুহূর্তে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফুটবল উন্মাদনায় সারা বিশ্ব। থেমে নেই বাংলাদেশের বিনোদন জগতের তারকারাও। নিজেদের প্রিয় দল নিয়ে মেতে উঠেছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। প্রিয় দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

    ফুটবল নিয়ে সেই চিরচেনা ভালোবাসার কথা এবার অকপটে স্বীকার করলেন জেন-জির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি। ছোটবেলা থেকেই লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক তিনি। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের ফুটবল প্রেমের কথা শোনালেন এ সংগীতশিল্পী।

    আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল মাঠ এবং মাঠের বাইরের এই চিরচেনা ফুটবল বৈরিতা বা দ্বৈরথ বেশ আনন্দ দেয় বলে জানান এ সংগীতশিল্পী। পারশার মাহজাবীন পূণি বলেন, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ম্যাচ মানেই মাঠের বাইরে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে কথার লড়াই, আবার কখনো তা হাতাহাতিতেও রূপ নেয়।

    তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোলাগা প্রসঙ্গে পারশা মাহজাবীন পূর্ণি বলেন, আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করি ছোটবেলা থেকে। আমার বড় ভাই দেখতাম যে পতাকা নিয়ে আসত অনেক বড় বড়। তো বাসায় যে রকম পতাকা লাগাত, ওই জায়গা থেকে আর্জেন্টিনার প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা।

  • তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ

    তিন মামলায় জামিন পেলেন মমতাজ

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে তিন মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

    তিনি জানান, শিল্পী মমতাজকে দুটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    এর মধ্যে আছে আশুলিয়ায় মনিরুজ্জামান হত্যা, মিরপুরের সাগর হত্যা ও আশুলিয়ায় আরেকটি হত্যাচেষ্টা মামলা।

    গত বছরের ১২ মে রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনে একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হন মমতাজ

    সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ- ২ আসন থেকে লড়েন। আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। তবে মমতাজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর শেষ হাসি হাসতে পারেননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান জাহিদ আহমেদের (টুলু) কাছে হেরে যান মমতাজ বেগম।

  • ‘তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়’

    ‘তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়’

    হালের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণিও সবার মতো ফুটবল বিশ্বকাপের আনন্দে মেতে উঠেছেন। প্রিয় দলকে ঘিরে নায়িকার আনন্দ-উল্লাসের যেন কমতি নেই বিন্দুমাত্রও। ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসির একজন ‘ডাইহার্ড ফ্যান’।

    সম্প্রতি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন পরী। সেখানে দেখা যায়, তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা সমস্বরে ‘আর্জেন্টিনা’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। সেই উচ্ছ্বসিত মুহূর্তে সেলফি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তদের উদ্দেশে ‘উড়ন্ত চুমু’ ছুড়ে দেন এই চিত্রনায়িকা। ভিডিওটি অল্প সময়েই নেটদুনিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

    অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রতি পরীর ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

    নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে পরী বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা। আমি আজীবনের আর্জেন্টিনা। আই লাভ মেসি।’

    মেসির খেলা দেখার সময় নিজের আবেগও কখনো লুকাননি এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘মেসির পায়ে যখন বল থাকে, তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়।’

  • কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার জন্মদিন আজ

    কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার জন্মদিন আজ

    বাংলা সিনেমার সোনালি অধ্যায়ের অন্যতম এক উজ্জ্বল নাম শাবানা। যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। সেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী জন্মদিন আজ ১৫ জুন (সোমবার)। ৭৫-এ পা রাখলেন গুণী এই অভিনেত্রী।

    ১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। পরে নির্মাতা এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর হাত ধরে সিনেমায় অভিনয় শুরু করার সময় তার নাম রাখা হয় ‘শাবানা’। এরপর এই নামেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

    শিশু বয়সেই অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন শাবানা। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। এরপর ১৯৬৭ সালে ‘চকোরী’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। আর প্রথম সিনেমাতেই তিনি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন।

    জুটি হিসেবে আলমগীরের সঙ্গেই তিনি ১৩০টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এ ছাড়া রাজ্জাক, ওয়াসিম, উজ্জ্বলের সঙ্গেও অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানি নায়ক নাদিমের সঙ্গেও দর্শক তাকে পছন্দ করেছিল।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৩ সালে শাবানা বিয়ে করেছেন পরিচালক ওয়াহিদ সাদিককে। দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তানের জননী তিনি। অভিনয়জীবনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ২০০০ সালে হুট করেই সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান শাবানা। শুরুর দিকে নিউইয়র্কে থাকলেও এখন স্বামী, সন্তান, নাতি-নাতনি নিয়ে নিউ জার্সিতে থাকছেন।

    দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছরের অভিনয়জীবনে শাবানা অভিনয় করেছেন ২৯৯টি সিনেমায়। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হলো- ‘চকোরী’, ‘মধু মিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘চান্দ সুরজ’, ‘একই অঙ্গে এত রূপ’, ‘ছদ্মবেশী’, ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, ‘চৌধুরী বাড়ি’, ‘সমাধান’, ‘স্বীকৃতি’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘অতিথি’, ‘ঝড়ের পাখি’, ‘জননী’, ‘মাটির ঘর’, ‘সখী তুমি কার’, ‘শেষ উত্তর’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘নাজমা’, ‘ভাত দে’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘লালু ভুলু’, ‘মা ও ছেলে’, ‘লাল কাজল’, ‘নালিশ’, ‘ঘরের বউ’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘নতুন পৃথিবী’, ‘হিম্মতওয়ালী’, ‘বাসেরা’, ‘হালচাল’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘অশান্তি’, ‘বিরোধ’ ও ‘স্বামী স্ত্রী’ ইত্যাদি।

  • সিলনের সৌজন্যে ঢাকায় গানে গানে মাতাবেন অনুপম রায়

    সিলনের সৌজন্যে ঢাকায় গানে গানে মাতাবেন অনুপম রায়

    উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার অনুপম রায় আসছেন ঢাকায়। আগামী ২৬ জুন রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে সংগীত পরিবেশন করবেন দি অনুপম রায় ব্যান্ড। সংগীতপ্রেমী দর্শকদের জন্য এই আয়োজন হতে যাচ্ছে এক স্মরণীয় সংগীত সন্ধ্যা।

    বাংলাদেশের জনপ্রিয় টি ব্র্যান্ড সিলন দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংগীত, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল আয়োজনের প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বখ্যাত জাল ব্যান্ড ও ওয়ারফেজের লাইভ কনসার্টে টি পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল সিলন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তিন দিনব্যাপী রিকশা ফেস্টিভ্যালের মুখ্য পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও সিলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ঢাকা ফ্যাশন ফেস্টিভালসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে সিলনের সহযোগিতা দেশের সৃজনশীল অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    সোনালী যুগের হারানো সুরকে ফিরিয়ে আনা এবং কালজয়ী গানগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে সিলন মিউজিক লাউঞ্জ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সিলন। ইতোমধ্যে সিলন মিউজিক লাউঞ্জ রুচিশীল দর্শক-শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

    সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনুপম রায়ের বিশেষ কনসার্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে সিলন।

    আয়োজকরা আশা করছেন, সংগীতপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই সন্ধ্যা পরিণত হবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

  • স্কুলে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি

    স্কুলে সংগীত শিক্ষক নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদের অসম্মতি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম জানতে চান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেই বিতর্ক সহকারী শিক্ষক সংগীত পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে; তার বর্তমান অবস্থা কী?

    রোববার, ১৪ই জুন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন লিখিত উত্তরে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ের শিক্ষক পদটি সৃজনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অসম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দল ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও অবস্থান জানিয়ে আসছে।

  • যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল

    ফ্যাশন দুনিয়া সব সময়ই ফুটবলের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা ধার করেছে। তবে ২০২৬ সালের চিত্রটা একটু ভিন্ন—এবার নিয়ন্ত্রণটা চলে গেছে ফুটবলের হাতেই। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে দেখা যাচ্,ছে এই মেগা ইভেন্টটি কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন ট্রেন্ড তৈরি করছে না, বরং ফ্যাশন দুনিয়ার গতিপথই বদলে দিচ্ছে।

    অভিজাত লাক্সারি ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে স্ট্রিটওয়্যার এবং বৈশ্বিক স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট—সবার ডিজাইনের মূল অনুপ্রেরণা এখন ফুটবল। পোশাকের ডিজাইন, স্টাইলিং ও বিপণন—সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।

    এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক ‘জার্সি’। এক সময় যা কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে ফ্যাশন শো, ইনফ্লুয়েন্সারদের সোশ্যাল মিডিয়া ফিড এবং বড় বড় ফ্যাশন কোলাবোরেশনে।

    ব্রাজিল, ফ্রান্স ও নাইজেরিয়ার মতো দলগুলোর জন্য নাইকির আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জার্সি ডিজাইনেও এই বিবর্তনের ছোঁয়া স্পষ্ট। অ্যারো-ফিট কুলিং সিস্টেমের মতো প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি জার্সিগুলো মাঠের বাইরে সাধারণ পোশাকে কেমন দেখাবে, সেই নান্দনিকতার দিকেও সমান নজর দেওয়া হয়েছে।

    পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোও। স্প্যানিশ জাতীয় দলের অফিশিয়াল ওয়ার্ডরোব পার্টনার হয়েছে বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘লোয়েভে’ (Loewe)। তারা নিজস্ব কারুশিল্পের সঙ্গে স্পোর্টস আইডেন্টিটির এক দারুণ মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, ফিফার অফিশিয়াল ফরমাল ওয়্যার পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘বোগি মিলানো’ (Boggi Milano), যা ফুটবলের প্রাতিষ্ঠানিক রূপটিতে নিয়ে এসেছে ক্ল্যাসিক টেইলরিংয়ের ছোঁয়া।

    ফ্যাশন ডিজাইনারদের যৌথ উদ্যোগ বা কোলাবোরেশন এই ধারাকে আরও বেগবান করেছে। যেমন ফরাসি জাতীয় দলের জন্য ‘জ্যাকমুস’ (Jacquemus) এবং নাইকির যৌথ প্রয়াস। তারা ফুটবলের জুতো ও পোশাককে র‍্যাম্প মডেলদের উপযোগী করে মিনিমালিস্টিক ও আকর্ষণীয় রূপে ফুটিয়ে তুলেছে।

    একই সময়ে ফুটবলের এই ফ্যাশন এখন সাধারণ মানুষের আরও হাতের নাগালে চলে এসেছে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাপ’ (Gap) নিয়ে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপ কালেকশন। অন্যদিকে ‘আর্বান আউটফিটার্স’-এর মতো রিটেইলাররা ফুটবলের অনুষঙ্গগুলোকে ক্যাপ, ওভারসাইজড টি-শার্ট ও ক্যাজুয়াল লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ফ্যাশনে রূপান্তর করছে।

    স্ট্রিটওয়্যারের দুনিয়াও এই ধারাকে লুফে নিয়েছে। ‘অ্যাডিডাস’-এর সঙ্গে মিলে ‘কিথ’ (Kith) ফুটবলকে ফ্যাশনের এমন এক সংগ্রহযোগ্য আইটেমে পরিণত করেছে, যা প্রায়শই লিওনেল মেসির মতো মহাতারকাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে।

    পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নাইকি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে এই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে জার্সিগুলোকে কেবল খেলার পোশাক নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি নিজস্ব পরিচিতি বা ‘আইডেন্টিটি সিস্টেম’ হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে।

    স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবলের এই নান্দনিক রূপ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছেন সঙ্গীতশিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

    জনপ্রিয় মার্কিন গায়িকা অলিভিয়া রদ্রিগোকে সম্প্রতি এফসি বার্সেলোনার জার্সিতে দেখা গেছে। এটি প্রমাণ করে কীভাবে ক্লাবের নিজস্ব পরিচিতি এখন তরুণ প্রজন্ম ও সেলিব্রিটি স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

    এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের অন্যতম সেরা উদাহরণ হলো ‘অ্যাডিডাস অরিজিনালস’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হংকংভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্লটের (Clot) ‘মুন্ডিয়াল কালেকশন’। এটি এশিয়ান স্ট্রিটওয়্যারের সঙ্গে ফুটবলের বৈশ্বিক ঐতিহ্যের এক চমৎকার মিশ্রণ।

    একইভাবে, বিখ্যাত ডিজাইনার প্রিয়া আহলুওয়ালিয়া স্পোর্টস ব্র্যান্ড পুমা (Puma)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাঁর ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পারিবারিক পটভূমিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ফুটবলের পোশাকের নকশায়, যা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক গল্প বলা।

    এমনকি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানীকেও সম্প্রতি ফিফা কাপের জার্সি পরে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই সাথে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আবহ নিয়ে তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে বিশ্বকাপের নতুন জার্সি বাজারে আনার ঘোষণাও দিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে এই পরিবর্তনগুলো একটি বড় বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করে।ফুটবল ফ্যাশন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়। এটি এখন ক্রীড়াবিদ, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল সংস্কৃতির যৌথ সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বিশাল বৈশ্বিক সিস্টেম।

  • যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    যে চুম্বন বদলে দিয়েছিল স্পেনের ফুটবলকে

    নারী ফুটবলের ইতিহাসে ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ছিল স্পেনের জন্য স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দেশটি। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জয়কে ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে একটি চুম্বন—যে চুম্বন শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করেনি, বরং স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে এক অভূতপূর্ব সামাজিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল।

    সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় তথ্যচিত্র ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’। কী আছে এই তথ্যচিত্রে

    বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ থেকে বিতর্কের ঝড়
    ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের গলায় পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের তৎকালীন সভাপতি লুইস রুবিয়ালেস। সেই সময় তিনি স্পেনের তারকা ফুটবলার হেনি হেরমোসোকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনাটি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই সারা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইনস্টাগ্রাম লাইভে হেনি হেরমোসো জানান, ওই চুম্বন তাঁর অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তিনি সেটি পছন্দ করেননি। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, প্রতিবাদ এবং জবাবদিহির দাবি।

    ‘সে আকাবো’—এক আন্দোলনের জন্ম
    স্প্যানিশ ভাষায় ‘সে আকাবো’ অর্থ—‘এবার শেষ’ বা ‘আর নয়’। স্পেন দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। তিনি এবং তাঁর সতীর্থরা ঘোষণা দেন, ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে তাঁরা জাতীয় দলে ফিরবেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ‘সে আকাবো’ হ্যাশট্যাগ। কেবল ফুটবলার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদ, জাতিসংঘ, স্পেন সরকার এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

    একটি চুম্বনের ঘটনা ধীরে ধীরে নারীদের প্রতি বৈষম্য, হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

    ‘ইটস অল ওভার: দ্য কিস দ্যাট চেঞ্জড স্প্যানিশ ফুটবল’–এর পোস্টার। আইএমডিবি

    কী দেখায় তথ্যচিত্রটি?
    তথ্যচিত্রটিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মুখ খুলেছেন স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেনি হেরমোসো, অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস, আইতানা বোনমাতি, ওলগা কারমোনা, ইভানা আন্দ্রেস প্রমুখ। তথ্যচিত্রে শুধু বিতর্ক নয়, বিশ্বকাপ জয়ের আগের অস্থির সময়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব, বিশ্বকাপ অভিযানের সংগ্রাম এবং পরবর্তী আন্দোলনের নেপথ্যের গল্পও উঠে এসেছে। তথ্যচিত্রে ফুটবলারদের অনেকেই বলেছেন, তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের আনন্দ শেষ পর্যন্ত অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছিল।
    দলের অধিনায়ক ইভানা আন্দ্রেস বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট করেছি, এত ত্যাগ স্বীকার করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের সাফল্যের গল্পটা অন্য কেউ দখল করে নিল।’

    পরিচালকের ভাষ্য
    তথ্যচিত্রটির পরিচালক হোন্না পারডোস বলেছেন, খেলোয়াড়েরা এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে বলেননি। তাঁর মতে, এটি শুধু ফুটবলের গল্প নয় বরং এমন এক সময়ের দলিল, যা স্পেনের ক্রীড়া ও সামাজিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।

    রুবিয়ালেসের পতন
    চুম্বন-কাণ্ডের পর রুবিয়ালেস প্রথমে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। বরং তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
    ঘটনাকে ঘিরে আরও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন তাঁর মা স্থানীয় একটি গির্জায় অবস্থান নিয়ে অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাপক চাপের মুখে রুবিয়ালেস তাঁর পদ হারান এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকেও নিষিদ্ধ হন।

    শুধু ফুটবল নয়, সমাজের গল্প
    তথ্যচিত্রটি মূলত একটি ফুটবল নিয়ে হলেও এর পরিধি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
    এটি এমন এক ঘটনার গল্প, যেখানে বিশ্বকাপজয়ী নারীরা নিজেদের সাফল্যের জন্য নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার জন্যও লড়াই করেছিলেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চুম্বন কীভাবে গোটা দেশের ক্ষমতার কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল, সেই ইতিহাসই তুলে ধরবে নেটফ্লিক্সের এই তথ্যচিত্র।

  • আর্জেন্টিনা সমর্থক তানজিকার স্বামী বধ!

    আর্জেন্টিনা সমর্থক তানজিকার স্বামী বধ!

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যরাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে চলতি আসরের। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ’ খ্যাত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

    বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও মেতে উঠেছেন আনন্দ-উৎসবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনার প্রকাশও চোখে পড়ছে।

    বিশ্বকাপের ফুটবল উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিকা আমিনও। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্ট ভক্তদের নজর কাড়ে। পোস্টে তিনি স্বামী সাইফ বাসুনিয়ার সঙ্গে চারটি ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে দুটিতে তাদের আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা জার্সি পরে হাস্যোজ্জ্বল ও রোমান্টিক ভঙ্গিতে দেখা গেছে।

    তবে ধারণা করা হচ্ছে, জার্সি পরা ছবিগুলো এআই-জেনারেটেড। একই সঙ্গে পোস্টে থাকা বাকি দুটি ছবিতে তাদের সাধারণ পোশাকে একই ধরনের পোজে দেখা গেছে।

    সবচেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে তানজিকার দেওয়া ক্যাপশন, যা নেটিজেনদের মধ্যে হাসির রসদ জুগিয়েছে। কারণ, বাস্তবে তার স্বামী আর্জেন্টিনার সমর্থক নন, তিনি ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

    ছবির ক্যাপশনে তানজিকা আমিন নিজেই এই জার্সিবদলের মজার রহস্যের খোলাসা করেছেন। রসাত্মক ভঙ্গিতে ইংরেজিতে তিনি লিখেছেন, ‘সংসারে শান্তি বজায় রাখার জন্য আমার স্বামীর এটি অত্যন্ত চতুর একটি পদক্ষেপ। সে একজন পাক্কা ব্রাজিলের সমর্থক, কিন্তু আগামীতে আরও অনেক বছর সে সুস্থ ও শান্তিতে বেঁচে থাকতে চায় বলেই তার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস!’

    স্বামীর এমন কাণ্ড যে বেশ উপভোগ করেছেন তানজিকা, তিনি লেখেন, ‘আই লাইকড ইট। চিয়ার্স টু সাইফ বাসুনিয়া এবং তার চিরকালের প্রিয় স্লোগান— হ্যাপি ওয়াইফ, হ্যাপি লাইফ।’

    ক্যাপশনের শেষে আর্জেন্টিনার পতাকার ইমোজি দিয়ে তিনি লিখেছেন ‘ভ্যামোস’।

    শোবিজ অঙ্গনে বরাবরের মতোই আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দলের সমর্থকদের আধিক্য দেখা যায়। বিশ্বকাপ সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক তারকাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী ও তার বোন মালাইকা চৌধুরী।

    অন্যদিকে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দেশের বিনোদন অঙ্গনের একাধিক জনপ্রিয় তারকা ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ তালিকায় আছেন মোশাররফ করিম, জয়া আহসান, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর মতো তারকারা।

    অপরদিকে আর্জেন্টিনার কড়া ভক্তদের তালিকায় আছেন জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, নুসরাত ইমরোজ তিশা, পরীমণি ও পূজা চেরির মতো প্রথম সারির তারকারা।

  • বর আর্জেন্টিনার ভক্ত, কনে ব্রাজিল— বিয়ে পন্ড!

    বর আর্জেন্টিনার ভক্ত, কনে ব্রাজিল— বিয়ে পন্ড!

    বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই হাওয়া এসে লেগেছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের গায়েও। ফুটবলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে মজার খুনসুঁটি। হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশেও দুদলের সমর্থকদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের।

    আর এসব কিছু নিয়েই তৈরি হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘পাড়ার বিশ্বকাপ’। ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পাড়ার মানুষের সম্পর্ক, প্রেম, দ্বন্দ্ব ও সামাজিক বাস্তবতাকে হাস্যরস ও আবেগের মিশেলে এতে তুলে ধরা হয়েছে।

    নাটকটি রচনা করেছেন আহসান আলমগীর এবং পরিচালনা করেছেন আল হাজেন।

    নাটকটিতে দেখা যাবে, মহল্লার তরুণ আজিজ ও মানজিলের বিয়ের কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত। তবে তাদের সম্পর্ক ও বিয়ে ভেঙে যায় ফুটবল নিয়ে মতবিরোধে। আজিজ আর্জেন্টিনার সমর্থক, আর মানজিল ব্রাজিলের ভক্ত। এই দ্বন্দ্বই ধীরে ধীরে পুরো পাড়াকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলে।

    এরপর শুরু হয় পাড়াভিত্তিক ‘বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট’। সেখানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও পর্তুগাল টিম গঠন করে মহল্লার যুবকরা। খেলা ছাড়িয়ে এতে জড়িয়ে পড়ে প্রেম, প্রতিশোধ, কুসংস্কার এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন।

    নাটকের গল্পে আরও দেখা যাবে পতাকা বানানো, সেলুনে জার্সি নিয়ে মারামারি, রেফারির দুর্নীতি, এমনকি ফুটবল উন্মাদনায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভুলে সবাই একত্রিত হয় এবং ফুটবলকে আনন্দের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার বার্তা দেয়।

    ধারাবাহিকটি প্রচারিত হবে প্রতিদিন রাত ৯টায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে।

    এতে অভিনয় করেছেন অহনা রহমান, রাশেদ সীমান্ত, সাব্বির অর্ণব, শারমিন শর্মী, আব্দুল্লাহ রানা, সাদ্দাম মাল, আশরাফুল আলম সোহাগ, মুসকান শিকদার, জাভেদ গাজী, শায়লা, তানভীর মাসুদ, ফাতেমা হীরা প্রমুখ।

  • ইনজুরিতে বিপর্যস্ত মরক্কো, ব্রাজিল

    ইনজুরিতে বিপর্যস্ত মরক্কো, ব্রাজিল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো। ইনজুরির কারণে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ দলে দুটি পরিবর্তন করেছে মরক্কো। উইঙ্গার আবদে এজালজুলি ও ডিফেন্ডার নায়েফ অগার্ড বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই দল থেকে ছিটকে গেছেন।

    রিয়াল বেটিসের ফরোয়ার্ড এজালজুলি গত সপ্তাহে নরওয়ের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন। ফিফার আপডেট তালিকা অনুযায়ী তার পরিবর্তে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের আমিনে সাবাই।

    অন্যদিকে মার্সেইর সেন্টার-ব্যাক অগার্ড ঊরুর অস্ত্রোপচারের কারণে মার্চের পর থেকে আর মাঠে নামতে পারেননি। তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কো। যে কারণে টুর্নামেন্টের আগেই অগার্ডের পরিবর্তে মারওয়ানে সাদানেকে দলে ডাকা হয়েছে।

    যদিও এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। পিএসজি তারকা হাকিমি লিখেছেন, ‘ফুটবল অনেক সময় নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তুমি দলকে যা দিয়েছো তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করবো। আমরা তোমাদের ভালোবাসি।’

    শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে গ্রুপ-সি’র প্রথম ম্যাচে নিউ জার্সিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মরক্কো।

    বি. এ

  • অবসরের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার

    অবসরের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন অক্ষয় কুমার

    ‘খিলাড়ি কুমার’ খ্যাত বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের অভিনয় থেকে বিদায় নেওয়ার একটি গুঞ্জন সম্প্রতি বলিপাড়ায় বেশ চাউর হয়েছে। এই গুঞ্জনের সূত্রপাত মূলত তার সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘ভূত বাংলা’ সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে, যা বক্স অফিসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের ক্যারিয়ারে দেড় শতাধিক সিনেমার এ তারকাকে নিয়ে আগে কখনো এমনটা শোনা যায়নি। ক্যারিয়ারের মন্দাভাবেও বেশ দৃঢ় দেখা গেছে তাকে।

    তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, এখনই অবসরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবির ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে অবসর প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে অক্ষয় বলেন, ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠলে মাঝে মাঝে অবসরের কথা মাথায় আসে। তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মনে পড়ে যায় শুটিং আছে এবং সেটে তার জন্য প্রায় ৩০০ মানুষ অপেক্ষা করছেন। ‘পাঁচ সেকেন্ডের জন্য মনে হয় অবসর নেব। তারপর আবার কাজের কথা মনে পড়ে যায়। এভাবেই ৩৬ বছর কেটে গেছে’।

    মজার ছলে অভিনেতা আরও বলেন, অবসর নিলে বাড়িতে বসে ইলেকট্রিশিয়ান, কুকুর হাঁটানো বা বাগান করার মতো কাজ করতে হতে পারে। তাই কাজ চালিয়ে যাওয়াই তার কাছে ভালো মনে হয়। ‘আমি অবসর নেব না, সেটাই ভালো,’ যোগ করেন তিনি।

    পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অক্ষয় জানান, বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু একদিন পরই পরিবার নাকি তাকে কাজে ফেরার কথা জিজ্ঞেস করেছিল। তাই ‘কাজ করাই ভালো।’

    অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষের অবসর নেওয়া উচিত তখনই, যখন জীবনে আর পাঁচ সেকেন্ড বাকি। মৃত্যুর সময় বলবে—আমি অবসর নিচ্ছি। তার আগে কাজ করে যাওয়া উচিত।’

    প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে ‘সৌগন্ধ’ চলচ্চিত্র দিয়ে প্রধান চরিত্রে অভিষেক হয় অক্ষয় কুমারের। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ১৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘খিলাড়ি’, ‘হেরা ফেরি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘রাউডি রাঠোর’, ‘এয়ারলিফট’ ও ‘কেশরী’সহ একাধিক বাণিজ্যিক সাফল্য রয়েছে তার ঝুলিতে। সাম্প্রতিক সময়ে তার অভিনীত ‘স্কাই ফোর্স’, ‘হাউসফুল ৫’, ‘জলি এলএলবি ৩’ ও ‘ভূত বাংলা’ মুক্তি পেয়েছে।

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ম্যাচের প্রথমার্ধে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শক্ত অবস্থায় থেকে শেষ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে লিড নেয় চেক। কিন্তু পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ায় এশিয়ার দেশটি। দুই গোল দিয়ে চেকিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ কোরিয়া।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল করে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে কোরিয়া।

    বি. এ

  • ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

    ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে মৌরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা। আর তাতে ৯৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুদল। সবশেষ ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল মার্কিনিরা। একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে দুদলের জন্যই ইতিবাচক শুরু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিন আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। বাছাইপর্ব খেলতে না হওয়ায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য প্রায় দুই বছর সময় পেয়েছেন কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনো। তবে প্রস্তুতির সময় শেষ, এখন প্রতিটি ম্যাচই পরীক্ষার। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারলেও তার আগে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৬ নম্বরে থাকা দলটি এবার খেলছে নিজেদের ১২তম বিশ্বকাপ। ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য, যদিও সর্বশেষ তিন আসরেই তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে তারা। কনমেবল বাছাইপর্বে ষষ্ঠ হয়ে টিকিট নিশ্চিত করে গুস্তাভো আলফারোর দল। বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ও রয়েছে। আলফারোর অধীনে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারানোও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইতিহাস প্যারাগুয়ের পক্ষে নয়। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আটবারের মধ্যে মাত্র একবার জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। এছাড়া আয়োজক দেশের বিপক্ষে খেলা আগের দুই ম্যাচের কোনোটিতেই জয় পায়নি লা আলবিরোজারা।দলীয় শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগুন, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও টাইলার অ্যাডামসদের ওপর। প্রথম ম্যাচে তিন ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগ নিয়ে মাঠে নামতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র কোচ পোচেত্তিনো। অভিজ্ঞ অধিনায়ক টিম রিম থাকবেন রক্ষণভাগের নেতৃত্বে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে সদ্য অনুশীলনে ফেরা ক্রিস রিচার্ডসের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে মাইলস রবিনসন কিংবা মার্ক ম্যাকেঞ্জির একজন শুরুর একাদশে থাকতে পারেন। মাঝমাঠে টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও মালিক টিলম্যানের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব। আক্রমণে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে সহায়তা করবেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। গত মৌসুমে মোনাকোর হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ গোল করেছেন বালোগুন।অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের প্রধান অস্ত্র হতে পারেন মিগেল আলমিরন, হুলিও এনসিসো ও টনি সানাব্রিয়া। বিশেষ করে বাছাইপর্বে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন সানাব্রিয়া। সান্ডারল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক ওমর আলদেরেতে এবং অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের নেতৃত্বে শক্তিশালী ব্যাকফোর নিয়ে মাঠে নামবে তারা। দলের সেরা ফুটবলার হুলিও এনসিসো নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হালকা চোট পেলেও এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে মিগেল আলমিরন ও দিয়েগো গোমেজের সঙ্গে একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন টনি সানাব্রিয়া। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সেট-পিস নির্ভর ফুটবলের জন্য পরিচিত প্যারাগুয়ে স্বাগতিকদের চমকে দিতে চাইবে। আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে নিজেদের সমর্থকদের সামনে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের শুভ সূচনা করতে।
    সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ধারার ফুটবল দর্শনের লড়াই, যেখানে প্রথম ম্যাচের তিন পয়েন্টই দুদলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়

    দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়

    চার বছর পরপর যখন বিশ্বের সেরা দলগুলো মাঠে নামে, তখন শুধু অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নয়, ফুটবলপ্রেমী পুরো পৃথিবীই যেন এক উৎসবে মেতে ওঠে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বরং অনেক সময় মনে হয়, বিশ্বকাপে অংশ না নিয়েও ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের বড় বড় দেশের সঙ্গে পাল্লা দেয় বাংলাদেশ। খেলার এ সময়টায় দেশের শহর থেকে গ্রাম– সবখানেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ছাদে ছাদে উড়ে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেন কিংবা ফ্রান্সের পতাকা। চায়ের দোকানের আড্ডা জমে ওঠে প্রিয় দল ও প্রিয় খেলোয়াড়কে ঘিরে।

    সামাজিক মাধ্যমে চলে তর্ক-বিতর্ক, হাসি-ঠাট্টা আর ভবিষ্যদ্বাণী। এই উন্মাদনা থেকে দূরে থাকেন না দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও। অভিনয়, গান কিংবা চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিশ্বকাপের সময় তাদের মনও পড়ে থাকে ফুটবল মাঠে।

    দেশের শোবিজ জগতের এই সময়ের শীর্ষ তারকা শাকিব খান। সবচেয়ে বেশি ফ্যানবেজ তাঁরই। তাই বিশ্বকাপের মাঠে শাকিব খান কোন দলের তা জানতে উদগ্রীব ভক্তরা। কিন্তু নায়ক তো কাউকে কষ্ট দিতে চান না। তাই নিজের সমর্থন নিয়ে কিছুটা রহস্যই রেখেছেন তিনি। অতীতে তাকালে দেখা যায় শাকিব খানের ২০১৪ সালের বক্তব্যে ব্রাজিল, ২০১৮ সালের বক্তব্যে আর্জেন্টিনা, ২০২১ সালের বক্তব্য ছিল আর্জেন্টিনার দিকে। ২০২২ সালের বক্তব্যে কিছুটা রহস্য ছিল। সে রহস্য রয়েছে এখনও। তাই ২০২৬-এর বিশ্বকাপে শাকিব খান কোন দলের সমর্থন দেন– তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে অবশ্য বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা ও চলচ্চিত্র তারকা সিয়াম আহমেদ বেশ খোলামেলা। তাঁর পছন্দের দল স্পেন। বাংলাদেশে যেখানে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক সংখ্যাই বেশি, সেখানে সিয়াম ব্যতিক্রম। স্প্যানিশ ফুটবলের নিখুঁত পাসিং, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ছন্দময় আক্রমণভাগ তাঁকে টানে। সিয়ামের মতে, স্পেনের খেলার মধ্যে এক ধরনের নান্দনিকতা রয়েছে, যা অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা।

    তরুণ তারকার বাইরে শোবিজের বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয় দল সম্পর্কে জানতে। তিনি একবাক্যে বলেন– তাঁর পছন্দের দল ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকে ব্রাজিলের খেলা দেখে বড় হওয়া এ অভিনেতার কাছে ফুটবলশিল্পের এক অনন্য প্রতীক হচ্ছে ব্রাজিল। তিনি মনে করেন, ব্রাজিলের খেলার মধ্যে এমন এক সৌন্দর্য রয়েছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের সহজেই মুগ্ধ করে। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর প্রত্যাশা থাকে প্রিয় দলকে ঘিরে। আর্জেন্টিনার খেলাও ভালো লাগে তাঁর, কিন্তু হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের দল ব্রাজিলই।

    অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর কাছে ব্রাজিল মানেই ছন্দ, সৌন্দর্য আর সৃজনশীলতা। তিনি মনে করেন, ব্রাজিলের খেলার ধরন অন্য অনেক দলের চেয়ে আলাদা। সাম্বা ফুটবলের সেই ঐতিহ্য এখনও তাঁকে মুগ্ধ করে। তাই বিশ্বকাপ এলেই তাঁর সমর্থন থাকে ব্রাজিলের জন্য।

    বিশ্বকাপে বরাবরই আর্জেন্টিনার সমর্থন করেন মেহজাবীন চৌধুরী। অন্য দলের সমর্থকের প্রতিও রয়েছে তাঁর সম্মান। মেহজাবীন বলেন, ‘খেলা সবসময় সুন্দর কিছু বয়ে আনে। খেলা উপভোগ করতে হয়। আমিও তাই করেছি। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। মেসির জন্যই আর্জেন্টিনা সমর্থন করি। গত বিশ্বকাপেও এই দলই সমর্থন করেছি। আমার একটাই কথা, একেকজন একেক দল সমর্থন করতেই পারেন। খেলা নিয়ে একজন অপরজনকে আঘাত করে কিছু বলা ঠিক নয়।’

    দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর হৃদয়েও জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ছোটবেলা থেকেই দলটির প্রতি তাঁর ভালোবাসা। সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসা কমেনি, বরং আরও গভীর হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তাঁর ছেলেও বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার সমর্থক। ফলে বিশ্বকাপের সময় তাদের পরিবারে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলাদা এক উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

    অভিনেতা আজিজুল হাকিমের গল্পটা একটু ভিন্ন। কারণ তিনি শুধু দর্শক নন, একসময় মাঠের খেলোয়াড়ও ছিলেন। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জার্মান ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। জার্মানির শৃঙ্খলা, কৌশল ও দলগত সমন্বয় তাঁকে বরাবরই মুগ্ধ করেছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানিকে দেখার জন্য এখনও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন এ অভিনেতা।

    সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের সমর্থন ব্রাজিলের প্রতি। অন্যদিকে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা আর্জেন্টিনার সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় প্রিয় দলের জয় দেখতে চান তিনি। ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনার সাফল্য তাঁকে আনন্দ দেয় বলেই জানান।

    আর্জেন্টিনার সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন অভিনেত্রী রাফিয়াত রশীদ মিথিলা। আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর ভালোবাসার পেছনে রয়েছে ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির প্রভাব। মিথিলা মনে করেন, আর্জেন্টিনা শুধু ফলাফলের জন্য নয়, তাদের খেলাধুলার সৌন্দর্যের কারণেও সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।

    অভিনেত্রী তানজিকা আমিনের কাছেও আর্জেন্টিনা মানে আবেগের নাম। ফুটবল নিয়ে আলোচনা বা তর্ক-বিতর্কে অংশ নিতে ভালোবাসেন তিনি। তবে দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কখনও দ্বিধায় ভোগেননি। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক তিনি। বিশ্বকাপ এলেই তাঁর প্রত্যাশা থাকে, প্রিয় দল যেন নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে পারে।

    অভিনেতা সজলও ফুটবলের বড় ভক্ত। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলও নিয়মিত অনুসরণ করেন তিনি। তাঁর প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। ছোটবেলায় ম্যারাডোনার খেলা দেখে যে ভালোবাসার শুরু, তা এখনও অটুট রয়েছে। বিশ্বকাপের সময় পুরোনো স্মৃতিগুলো আরও বেশি মনে পড়ে বলে জানান তিনি।

    অভিনেত্রী নাজনীন নীহাও আর্জেন্টিনার ভক্ত। ফুটবল বিশ্লেষণ না করলেও মেসির খেলা তাঁকে মুগ্ধ করে। সেই ভালো লাগা থেকেই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থন। বিশ্বকাপের আবহ শুরু হলেই প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য অপেক্ষা করেন তিনি।

    চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম সমর্থন করেন ব্রাজিলকে। ফুটবলের কিংবদন্তি পেলের দেশ হিসেবে ব্রাজিলের প্রতি তাঁর আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা উপভোগ করেন। বিশ্বকাপে দলটি ভালো করলে তাঁর আনন্দও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

    এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরি নিজেকে লিওনেল মেসির একজন বড় ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। তার ভাষায়, তিনি মেসির ‘ক্রাশ’। তাই আর্জেন্টিনার প্রতি তাঁর সমর্থনও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। বিশ্বকাপের সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেলা দেখার পরিকল্পনা থাকে তাঁর। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আরও একটি স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করবে– এমন প্রত্যাশাই তাঁর।

    শুধু এ কয়েকজন নন, দেশের শোবিজ অঙ্গনের আরও অনেক তারকা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে থাকেন। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের তালিকায় রয়েছেন– মাহিয়া মাহি, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, নাদিয়া আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সালমা খানম নাদিয়া, নিরব, ইমন, কচি খন্দকার, কিশোর, কর্ণিয়া এবং ঝিলিক।

    অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে আছেন– অপু বিশ্বাস, বাপ্পি চৌধুরী, মিশা সওদাগর, আনিসুর রহমান মিলন, বাপ্পা মজুমদার, কোনাল, পড়শী এবং সামিরা খান মাহির মতো জনপ্রিয় তারকারা।

  • প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নাট্যকলা

    প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে সংগীত ও নাট্যকলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলাকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দে নতুন কারিকুলামের আওতায় বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত করা হবে। ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু করা হবে।

    আজ বুধবার (১০ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা একদিকে বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিকশিত হতে পারে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করে।

    শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • মমতাকে ত্যাগ করে শতাব্দী বললেন, ‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে

    মমতাকে ত্যাগ করে শতাব্দী বললেন, ‘দিদি’র পাশে না থাকায় অপরাধবোধ হচ্ছে

    তৃণমূল কংগ্রেস থেকে জিতে লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে তৃণমূল হারার পর দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনিসহ কয়েকজন তৃণমূল এমপির নেতৃত্বে আলাদা বলয় তৈরি হয়েছে। তবে এসব নিয়ে কোনো অপরাধবোধ নেই শতাব্দীর, তবে খারাপ সময়ে দিদির (তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়) পাশে না থাকায় তার অপরাবোধ হচ্ছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় বলেন,‘আমার একটাই অপরাধবোধ কাজ করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খারাপ সময়ে তাকে ছাড়তে হচ্ছে। কিন্তু দিদিই সেই জায়গায় নিয়ে গেল আমাদের!’

    ভারতের এ এমপি বলেন. তিনি এখনও মমতার সঙ্গে মানসিকভাবে জড়িয়ে আছেন। এই মুহূর্তে তিনি মমতার পাশে নেই, তাতে তার কষ্টও হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখটা যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে কেয়ার করতেন, তা হলে এটা হতো না।’

    কোন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত, তাও জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফলের পরে যখন কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক ডাকা হলো, আমরা গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও হার নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ নেই। দিদির মনে হচ্ছে, উনি হারেননি, কিন্তু দলের ভেতরে হার নিয়ে কথা বলতেই হবে, সেখানে তো উনি জিজ্ঞেস করবেন, ‘‘তোমার এলাকার কেন এ রকম ফল হলো?’’ সে রকম কোনো আলোচনা নেই। শুধু বলছেন, ‘‘চিঠি লেখ’’। দু-একজন বলতে গেল। থামিয়ে দেওয়া হলো। চ্যানেলে-ইন্টারভিউতে দিদি যা বলছেন, সেগুলোই ওখানে বলা হচ্ছে। এভাবে দল চলতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই দলের সঙ্গে আর থাকা যায় না।’

    মমতাকে নিয়ে শতাব্দী বলেন, ‘দিদি অনেক দিন ধরেই কথা শোনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে শেষ দিনেও দিদিকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলাম। বীরভূমে কোথায় কী ভুল হচ্ছে প্রার্থীচয়নে, জানিয়েছিলাম। তখনও এক লাইনে উত্তর এসেছিল। কোনো এক ব্যক্তির নাম করে বলছেন, ওর বদমায়েশি। মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমার নেই। কিন্তু একটা এলাকায় ১৭ বছর ধরে রয়েছি। এলাকার কোন লোকটা ভালো, কে খারাপ-দুর্নীতিবাজ, এটা বোঝার তো ক্ষমতা ছিল। কিন্তু উনি শোনেননি।’

    তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতার ভাতিজা অভিষেকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভিষেক তার কথা শুনেছেন। তার থেকে নানা সময়ে মতামতও নিয়েছেন। শতাব্দী বলেন, ‘অভিষেক কিন্তু শুনত। অন্যের কথা বলতে পারব না। আমার ক্ষেত্রে শুনেছে। অনেকেরই মতামত জানতে চাইত। এই গুণটা ছিল। স্টেপও নিয়েছে।’

    সংসদে বিদ্রোহীরা মিলে যে নতুন ‘ব্লক’ তৈরি করেছেন, তা আদতে তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই জানিয়েছেন শতাব্দী। তিনি বলেন, ‘আমরা এই দলের সঙ্গে থাকতে চাইছি না। যেভাবে দলের অহঙ্কার-ঔদ্ধত্য বেড়ে গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। যত দিন মুকুল রায় ছিলেন, তত দিন উনি শুনতেন। দলে বলার জায়গায় ছিল। সব সমাধান হতো না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উনি শুনতেন। উনি চলে যাওয়ার পর থেকে আর শোনার কেউ ছিলেন না। দলে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। অভিষেকপন্থী আর মমতাপন্থী। কর্মীরা আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।’

    তবে তৃণমূলের এ এমপি বলেন. তাদের এই মুহূর্তে বিজেপিতে যোগদানের কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর কথায়, ‘আমরা আলাদা ব্লক। আলাদা বসব। আলাদা আলোচনা করব।’

  • সাবেক স্ত্রীকে ফের বিয়ের গুঞ্জন, নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেতা

    সাবেক স্ত্রীকে ফের বিয়ের গুঞ্জন, নিজের অবস্থান জানালেন অভিনেতা

    অভিনেত্রী ও সাবেক স্ত্রী দালজিত কৌরকে ফের বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভারতের টেলিভিশন অভিনেতা শালিন ভানোট—সোমবার থেকে সামাজিক মাধ্যমে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। গুঞ্জন সামনে আসতেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শালিন। অভিনেতার দাবি, দালজিতকে নিয়ে খবরটি সত্য নয়। সেই সঙ্গে ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি মুম্বাইয়ে পরিচালক ইমতিয়াজ আলির নতুন প্রকল্প ‘ম্যা ওয়াপাস আউঙ্গা’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন শালিন। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে দাবি করে, সাবেক স্ত্রী দালজিত কৌরের সঙ্গে নাকি আবার সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন অভিনেতা।

    ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শালিন নিজেই মন্তব্য করে বিষয়টির প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন, ‘এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মনগড়া খবর।’


    শালিন বলেন, ‘একটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব। শুধুমাত্র ভিউ বাড়ানোর জন্য কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন ভিত্তিহীন খবর ছড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।’

    এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট পেজকে অবিলম্বে পোস্টটি মুছে ফেলার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন অভিনেতা।

    শালিন ভানোট ও দালজিত কৌরের পরিচয় হয়েছিল জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘কুলভাড্ডু’-এর সেটে। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০০৯ সালে বিয়ে করেন তারা।

    দাম্পত্য জীবনের পাঁচ বছর পর, ২০১৪ সালে তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে জেডন। তবে সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

    দালজিত কৌর পরবর্তীতে শালিনের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং পরকীয়ার অভিযোগ আনেন। তিনি পুলিশের কাছে এফআইআরও দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হয় এই তারকা দম্পতির।

    এরপর ২০২৩ সালে কেনিয়াভিত্তিক ব্যবসায়ী নিখিলে প্যাটেলকে বিয়ে করেন দালজিত। সেই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। ২০২৪ সালে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন অভিনেত্রী।

  • ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    ফুটবল বিশ্বকাপের পর আসছে ‘শেকড়’

    গত বছরের অক্টোবরে কানাডার টরন্টোতে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ায় প্রিমিয়ার হয় ‘শেকড়’ সিনেমার। সে সময় নির্মাতা প্রসূন রহমান জানিয়েছিলেন, কোনো এক ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। এই কোরবানির ঈদে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। শুরু করেছিলেন প্রচার। দুটি গান ও ট্রেলার প্রকাশ করেও সরে আসেন প্রসূন রহমান।

    শিগগির শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলবে এ উন্মাদনা। এ সময়টিকেও সিনেমা মুক্তির জন্য ভালো সময় মনে করছেন না প্রসূন। তাই এই নির্মাতা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেবেন তিনি। প্রসূন রহমান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল, এই ঈদে শেকড় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার। কিন্তু একসঙ্গে অনেক সিনেমার সমারোহ দেখে নিজেই এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। সুস্থ প্রতিযোগিতায় আমার অস্বস্তি নেই, কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ে আমার অস্বস্তি হয়। পাশাপাশি মনে হয়েছে, শেকড়ের মতো পারিবারিক আবেগনির্ভর চলচ্চিত্রের জন্য একটু নিরিবিলি সময়ই বেশি উপযুক্ত। আমরা চাই, দর্শক তাড়াহুড়া বা কোলাহলের মধ্যে নয়, একটু স্থির হয়ে সিনেমাটি দেখবেন।’

    নির্মাতা প্রসূন আরও বলেন, ‘ঈদে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর আবেদন শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে যাচ্ছে।‌ ঈদের আমেজ এবং বিশ্বকাপ ফুটবলের এই দারুণ মৌসুমটি শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আমরা শেকড় নিয়ে আসব।’

    শেকড় সিনেমায় উঠে এসেছে মানুষ ও মাটির চিরন্তন সম্পর্কের গল্প। অভিবাসী মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট, জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও আবার সেই শেকড়ের সন্ধান, পেছনে ফেলে আসা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ স্থাপনের প্রাণান্তকর চেষ্টার গল্প থাকছে এই সিনেমায়।

    শেকড় সিনেমায় প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম ও আইশা খান। আরও আছেন দিলারা জামান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা, শিশুশিল্পী মুনতাহা এমিলিয়াসহ অনেকে।

  • দীঘির ইচ্ছা

    দীঘির ইচ্ছা

    শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পথচলা শুরু করেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে ফিরেছেন নায়িকা হয়ে। ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নায়ক শান্ত খান। সবশেষে তাকে দেখা গেছে এম রাহিমের ‘জংলি’ সিনেমায়।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দীঘি তার মনের ইচ্ছার কথা জানালেন। উপস্থাপিকা শান্তা জাহানের প্রশ্ন- কখনো সুযোগ পেলে কার বায়োপিকে অভিনয় করতে চান তিনি।

    উত্তরে দীঘি বলেন, ‘আমি পরীমণি আপুর বায়োপিকে অভিনয় করতে চাই। আপুর একটি সাক্ষাৎকারে তাকে বলতে শুনেছিলাম, তিনি তার বায়োপিকে নিজেই অভিনয় করতে চান। আমি মনে করি পরীর বায়োপিক হবে, সবচেয়ে ফাইনেস্ট এন্টারটেইনিং ও আলোচিত বায়োপিক। যা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে। এজন্য যদি কারও বায়োপিকে অভিনয় করি তাহলে পরী আপুর জীবনের গল্পেই অভিনয় করতে চাই।’

    সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে দীঘির পথচলা শিশুশিল্পী হিসেবে। ছোট বেলাতেই তিনি পেয়ে যান আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। সিনেমায় অভিনয় করে তিনি পেয়েছেন তিন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

  • ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান’

    ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান’

    বর্তমানে সময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন সাবিলা নূর। টানা তিন ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত তিনটি সিনেমা। এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে চলছে সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমাটি। আজমান রুশোর পরিচালনায় এতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি।

    আজ বুধবার (৩ জুন) এক সাক্ষাৎকারে ‘রকস্টার’ সিনেমাসহ অভিনয় ও ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাবিলা নূর। তার ভাষ্য, ‘শাকিব খান তো প্রতিটি সিনেমাতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ও স্টাইলে হাজির হন। এই সিনেমায় তার ট্রান্সফরমেশনটা আরও বেশি পরিমাণ হয়েছে। এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে অনেক অনেক গুণে বেশি। এটার পেছনে অবশ্য সিনেমার গল্পই মুখ্য। কারণ সিনেমার জনরাও অন্যরকম। এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়নটাও ভিন্ন টাইপ। এ ছাড়া এখানে আলাদা কিছু বিষয় আছে, যা এর আগে দর্শক কখনও দেখেনি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের। “তাণ্ডব” দিয়ে সিনেমায় আমার অভিষেক হয়। এরপর দুই ঈদেই সিনেমাতে অভিনয় করার সৌভাগ্য হলো। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এরমধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে আর এক ঈদ শরিফুল রাজের সঙ্গে। সিনেমাগুলো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণও করেছেন। আমার চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হলো। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তিরও।’

    সাবিলা বলেন, ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি মীরা চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা দারুণ কেমিস্ট্রি! সিনেমাটি যারা দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। রকস্টার মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও এটা নিটোল একটা প্রেমের ছবিও। সেই ছবির মীরা আমি হতে পেরেছি।’

    ‘আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শেকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছে। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা- এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিতে হয়। তাই নাটক, ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। তার মানে এই না যে, আমি একেবারে নাটক ছেড়ে দিয়েছি। মূলকথা হলো অভিনয়। এটাই করে যেতে চাই।’ বললেন সাবিলা।

    ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’- কোন সিনেমাটাকে এগিয়ে রাখবেন জানতে চাইলে সাবিলা বলেন, ‘তিনটিই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন “তাণ্ডব” বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে “লিচুর বাগানে” ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল থ্রিলারও ছিল। আবার “বনলতা এক্সপ্রেস” পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তাণ্ডবের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকেই মেলানো যাবে না। “বনলতা এক্সপ্রেস”র চিত্রার চেয়ে “রকস্টার”র মীরা একেবারেই আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। আর তিনটি ছবিই তো আমার। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। সবগুলোকেই আমি এগিয়ে রাখব।’

  • হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    হজ শেষে পাকিস্তানি অভিনেত্রীর আবেগঘন বার্তা

    পবিত্র হজ পালন শেষে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী দুরেফিশান সেলিম। এই পবিত্র সফর তার মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিকতা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা ও অবিচল বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে ‘ইশক মুর্শেদ’ খ্যাত এই তারকা বলেন, এই পবিত্র সফর তাকে আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং ‘সব ধরনের জাগতিক আবেগ থেকে মুক্ত হতে’ সাহায্য করেছে।

    বাবা-মায়ের সঙ্গে হজ পালন করতে পারায় গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুরেফিশান। তিনি জানান, হজের প্রথম দিন ‘রমি’ (শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ) করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, তবে বাবা-মায়ের উপস্থিতি তাকে শক্তি জুগিয়েছিল।

    এই সফরকে ‘সবর, শুকর ও তাওয়াক্কুলের গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, এটি কেবল তার ভেতরেই গভীর পরিবর্তন আনেনি বরং অন্যান্য নারী হাজিদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার সুযোগও করে দিয়েছে।

    সহযাত্রীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত ও ভক্তির কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘আমরা একসঙ্গে নামাজ পড়েছি, কেঁদেছি, হেসেছি এবং ক্যাম্পের সব ধরনের খাবার খেয়েছি’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা তাকওয়ার (আল্লাহভীতি) অসাধারণ সব গল্প শুনেছি এবং কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে ধর্মকে আরও গভীরভাবে জেনেছি’।

    এই পুণ্যময় সফরে অর্জিত অসংখ্য নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘জানি না আমি নিজের সঙ্গে কী নিয়ে যাচ্ছি, কারণ প্রাপ্তি এত বেশি যে তা এই মুহূর্তে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবে আমি এটা জানি যে, পেছনে কী ফেলে যাচ্ছি—এতদিন ধরে বয়ে বেড়ানো সব জাগতিক চিন্তা ও আবেগের গুরুভার’।

    ‘সব ধরনের আবেগ থেকে মুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়া—এটাই হজ আমাকে শিখিয়েছে। সম্ভবত এই একটি কথাই আমি নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দেব। আমার শরীরজুড়ে তীব্র ব্যথা, কিন্তু আমার মন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত ও পরিপূর্ণ’।

    বার্তার শেষে দুরেফিশান বিশ্বের সব মুসলিমকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। সেই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন সবাইকে এই পবিত্র হজব্রত পালনের তৌফিক দান করেন।

  • হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    হিজাব পরে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল বলিউড অভিনেত্রী অঙ্কিতা

    ভারতের টিভি ও রুপালি পর্দার অভিনেত্রী অঙ্কিতা লোখান্ডে। সম্প্রতি স্বামী ভিকি জৈনের সঙ্গে দুবাই ও আবুধাবিতে ছুটি কাটানোর কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলোতে তাকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা যায়।

    মূলত আবুধাবির একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ পরিদর্শনের সময় তিনি হিজাব পরেন বলে জানা যায়। ছবিগুলো পোস্ট করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন অঙ্কিতা। নেটিজেনদের অনেকেই একে ধর্মীয় রীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেত্রীকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।

    তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে। নেটিজেনদের একটি অংশ অভিনেত্রীর কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন অঙ্কিতা। যার মধ্যে আবুধাবির একটি বিখ্যাত মসজিদে যাওয়ার ছবিও ছিল। মসজিদের দর্শনার্থী নির্দেশিকা ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে অঙ্কিতা সেখানে প্রথাগত স্কার্ফ দিয়ে নিজের মাথা ঢেকেছিলেন।

    ছবিগুলো সামনে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ অঙ্কিতাকে ট্রল করা শুরু করে। নেটিজেনদের অনেকেই তার এই পোশাকের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিষয়টিকে কদিন আগেই তার সনাতন ধর্মীয় আচার পালনের সঙ্গে তুলনা করেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, ‘এখন ওই মুসলিম নারীদের গিয়ে শাড়ি পরতে বলুন।’

    আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘কিছু হিন্দু সবসময় ধর্মনিরপেক্ষ সাজে, কিন্তু কোনো মুসলিম সেক্যুলার হয় না! এটাই তিক্ত সত্য… কেন হিজাব পরতে হবে?’ অন্য একজন জৈন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘আপনি একজন জৈন, আর আপনি কী পোশাক পরেছেন একটু তো ভাবুন।’

    তবে তীব্র সমালোচনার বিপরীতে বহু ভক্ত ও সাধারণ মানুষ অভিনেত্রীর পাশেও দাঁড়িয়েছেন। তারা যুক্তি দেখিয়েছেন, যেকোনো ধর্মের মানুষই হোক না কেন, মসজিদে প্রবেশ করতে হলে মাথা ঢেকে রাখা সেখানকার একটি সাধারণ ও বাধ্যতামূলক নিয়ম। তারা আরও উল্লেখ করেন, অঙ্কিতা শুধু মসজিদের ভেতরেই নিয়ম মেনে স্কার্ফ পরেছিলেন, কারণ মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পর তার বাকি ছবিগুলোতে হিজাব ছিল না।

    উল্লেখ্য, হিজাব বা মুসলিম সংস্কৃতি সংক্রান্ত পোশাক পরায় অঙ্কিতা এবারই প্রথম সমালোচনার মুখে পড়েছেন তা নয়। এর আগে ২০২৫ সালেও মুম্বাই বিমানবন্দরে হিজাব পরা এবং ফটো সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ‘আদাব’ বলে অভিবাদন জানানোর কারণে তিনি নেটদুনিয়ায় তীব্র ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন।

    একতা কাপুরের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পবিত্র রিশতা’র মাধ্যমে প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বিপরীতে অভিনয় করে অঙ্কিতা লোখান্ডে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে ওটিটি ও বড় পর্দায় কাজ শুরু করে তিনি ‘মণিকর্ণিকা: দ্য কুইন অব ঝাঁসি’, ‘বাঘি ৩’ এবং ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ এর মতো চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।

  • বিশ্বকাপের আগে চোটাক্রান্ত আর্জেন্টিনার তারকা

    বিশ্বকাপের আগে চোটাক্রান্ত আর্জেন্টিনার তারকা

    বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির সময় চোট পেয়েছেন আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

    যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার আগে পারেদেসের চোটের খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগামী ৬ জুন হন্ডুরাস এবং ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে এই দুই ম্যাচে পারেদেসের খেলার সম্ভাবনা নেই।

    ম্যাচ শেষে বোকা জুনিয়র্স অধিনায়ক বলেন, ‘পুরো সপ্তাহজুড়েই আমি হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছিলাম। কিন্তু কোনোভাবেই এই ম্যাচটি মিস করতে চাইনি। মাঠ ছেড়ে আসার প্রশ্নই ছিল না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কোচ আমাকে সত্যিটা বলতে বলেছিলেন এবং নিজের যত্ন নিতে বলেছেন। কারণ সামনে আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ম্যাচ রয়েছে। তারপরও এই ম্যাচে না খেলে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।’

    বিশ্বকাপের আগে পারেদেসের চোট কতটা গুরুতর এবং তিনি কবে মাঠে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি আর্জেন্টিনা দল বা বোকা জুনিয়র্স।

  • শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান বাপ্পারাজের

    শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান বাপ্পারাজের

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে শিল্পীদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র অঙ্গনে দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরার প্রবণতা নিয়েও খোলামেলা মন্তব্য করেছেন তিনি।

    সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বাপ্পারাজ বলেন, ‘শিল্পীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে কখনোই তেমন কিছু ছিল না। বিগত কিছু সময়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অতীতে নিজেদের শক্তিমত্তা জাহির করার জন্য হয়তো নিরাপত্তা বাহিনীকে আনা হয়েছিল। আমাদের শিল্পীদের কিন্তু নিরাপত্তার দরকার নেই। আমরা তো কোনো দিন বডিগার্ড নিয়ে ঘুরি না। কিন্তু যারা কোনো ছবি করেনি, পাঁচটি সিনেমা করেনি, যাদের কোনো ক্রেজ নেই তারা দুই-তিনটা বডিগার্ড নিয়ে ঘোরে! আমরা বডিগার্ড নিয়ে ঘুরি না, এর দরকারও হয় না।’

    এ সময় শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিল্পীরা সবাই এক। আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই একটি পরিবারের মতো। ইউনাইটেড থাকতে চাই। কিছুদিন আগেও আমরা বসেছিলাম। আমার প্যানেলের ও আমার বিপরীতে যারা ছিলেন তাদের বলেছি, কোনো বিভেদের মধ্যে আমরা যাব না। কেউ কারো বিরুদ্ধে কথা বলব না। কাউকে আঘাত দিয়ে কটু কথা বলব না। আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে নির্বাচন হবে এটাই চাই।’

  • গ্রামপুলিশে নিয়োগ: পরীক্ষা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ পরীক্ষার্থীর সবাই বাদ

    গ্রামপুলিশে নিয়োগ: পরীক্ষা জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ পরীক্ষার্থীর সবাই বাদ

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রামপুলিশের (মহল্লাদার) শূন্য পদে নিয়োগ দিতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এতে অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় প্রার্থীদের সবাই বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে নিয়োগে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা প্রশাসন জানায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া সদর, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদে পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রামপুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাস যোগ্যতার ওই পদে নিয়োগ পেতে আগ্রহী ৩৮ জন আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এজন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি। শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় তাদের সবাইকে বাদ দেওয়া হয়।

    নিয়োগ বাছাই কমিটিতে তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

    তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো প্রার্থীই আমাদের জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে প্রার্থীদের এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের হতবাক করেছে। দ্রুততম সময়ে পুনরায় ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।