সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা

    ২০ জেলার ৩০ স্থানকে হামের ‘হটস্পট‘ ঘোষণা

    দেশে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরিভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগামী ২১ মে তথা পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে দেশের ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    হামের হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে- বরগুনা জেলা পৌরসভা ও সদর, পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা, চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামু উপজেলা। গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা। এ ছাড়াও রয়েছে, নেত্রকোণা জেলার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা, নওগাঁর পোরশা। যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা, মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক।

  • কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার

    কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জনের লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ লাশ উদ্ধার করেন।

    এর আগে গ্যাস লাইটার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। পরে যোগ দেয় আরও ৪ ইউনিট। দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

  • নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

    নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

    ডেস্ক নিউজঃ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

    এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।

    আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

    নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

  • মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    মারা যাওয়ার ২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে একজনের পরীক্ষার পর হাম শনাক্ত করা গেছে। বাকি ২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়নি।

    সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৭০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ৩০ শিশু মারা গেছে। এদের মধ্যে পজিটিভ আছে একজন। বাকি ২৯ জনের নমুনা টেস্ট করে হাম পজিটিভ পাওয়া যায়নি।

    অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিন বলেন, আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত কর্নার এবং সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডের কর্নারে আলাদা করে আইসোলেশন করে রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে রোগী বাড়লে আমার সেটি দেখব।

    আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ছয় মাসের নিচে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটি চিকিৎসকদের জন্য উদ্বেগজনক। তবে এক বছরের ওপরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।

    রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ-উল-ইসলাম জানান, ১ হাজার ২শ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • লে. কর্নেল আফজাল নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

    লে. কর্নেল আফজাল নাছের ৬ দিনের রিমান্ডে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (বরখাস্তকৃত) মো. আফজাল নাছেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

    রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। আদালতে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে রাখেন দিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা। সেখানে এই আসামি নাছের হসপিটালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা থাকায় চিকিৎসা নিতে দেননি। এরকম অনেকভাবে এ আসামি ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে সাহায্য করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেওয়া হোক। আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে রিমান্ডে নেয়ার ওই আদেশ দেন আদালত।

    আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বিকাল ৩ টা ২০ মিনিটে জুলাই আন্দোলনে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করেন। এসময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫শত থেকে ৭শত জন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার সন্ধিগ্ধ আসামি মো. আফজাল নাছেরের নিদের্শে নির্বিচারে এলোপাথারী গুলি চালায়। এর ফলে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে ভিকটিমের অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন মৃত্যু বরণ করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার মামলাটি দায়ের করেন।

    রিমান্ড আবেদনে আর হয়, সন্দিগ্ধ আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি আফজাল নাছেরকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

    এর আগে সোমবার ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

  • সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তার সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে স্বাগত জানান।

    আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।

    বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা নামাজ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা। জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলী নেতা। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন।

  • দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার; নিখোঁজ ৪৫

    দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার; নিখোঁজ ৪৫

    রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩নম্বর ফেরি ঘাটে পদ্মা নদীতে পরে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের ৪৫ যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছে এবং দুই নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছেছে। কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস সহ অন্যান্যরা।

    ফেরিতে উঠতে গিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায় । বাসে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিল। তবে এখনো ৪৫ যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

    বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দৌলতদিয়া ৩নম্বর ফেরি ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহাদ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বাসে অর্ধ শতাধিক যাত্রী ছিল। কয়েকজন যাত্রী সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠলেও বেশির ভাগ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি।

    স্থানীয় সোহেল মিয়া বলেন, সৌহাদ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে উঠতে গেলে হঠাৎ করেই পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ৫-৬জন যাত্রী সাঁতরিয়ে নদীর কুলে আসলেও অন্যান্যদের পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে

    এখন পর্যন্ত দুইজন নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শরিফুল ইসলাম।

  • চৌগাছায় মামলা ছাড়াই দিনমজুর আটক

    চৌগাছায় মামলা ছাড়াই দিনমজুর আটক

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোরের চৌগাছায় কোনো মামলা ছাড়াই মহিদুল ইসলাম নামের এক কৃষককে আটক করেছে চৌগাছা থানার পুলিশ।

    মুহিদুল উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর গ্রামের মৃত খায়ের মন্ডলের ছেলে।

    ২৪ মার্চ রাতে চৌগাছা থানার এস আই মিজানুর রহমান মহিদুলের বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসে। পরে একটি পেন্ডিং মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।

    মহিদুল ইসলামের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা ও জামায় মোস্তাকসহ স্বজনরা জানান, মহিদুল একজন দিন মজুর। অন্যের খেতে দিন হাজিরায় কাজ করে কোনোরকম সংসার পরিচালনা করেন। তারা বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেননা। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। পুলিশ কি কারনে তাকে আটক করেছে তাও জানেননা।

    ছয় সদস্যের সংসারে মহিদুল একাই উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি। মহিদুল আটক হওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা হতাশায় ভেঙে পড়েছে।

    ইউনিয়নের প্রবীণ শিক্ষক আমিন খান বলেন, মহিদুল অপরাজনীতির শিকার। পুলিশ কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অন্যায় ভাবে তাকে আটক করেছে।

    আটককারি কর্মকর্তা চৌগাছা থানার সাব ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, উনি আওয়ামীলীগ করতো এইটাই উনার অপরাধ।

    চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। থানায় পৌঁছে বলতে পারবো।

    যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা থেকে পুলিশকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • চৌগাছায় গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা

    চৌগাছায় গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা

    যশোরের চৌগাছায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ মার্চ (বুধবার) সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাও. নুরুল ইসলাম, সেক্রেটারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারী কামাল আহমেদ, সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সেলিম রেজা আওলিয়ার, প্রেসক্লাব চৌগাছার সিনিয়র সহ-সভাপতি রহিদুল ইসলাম খান, সাংবাদিক এম এ রহিম প্রমুখ।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    আলোচনা শেষে দিবসটি উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন, উপস্থিত বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

  • চৌগাছায় মাদক সেবন করায় চারজনের জেল-জরিমানা

    চৌগাছায় মাদক সেবন করায় চারজনের জেল-জরিমানা

    যশোরের চৌগাছায় মাদক সেবনের অপরাধে চারজনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে প্রত্যেককে ১শ’ টাকা করে জরিমানা করে আদায় করা হয় এবং ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

    বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইসলামের নেতৃত্বে শহরের চাঁদপুর বটতলা মোড়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চৌগাছা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড চাঁদপুর গ্রামের মুনতাজ আলীর ছেলে মোমিনুর রহমান, দাউদ আলীর ছেলে ইজাজুল ইসলাম, ইউসুফ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এবং সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কামরুল ইসলাম।

    নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম জানান, গাঁজা সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮/ ৩৬(১) এর ৫ উপধারা মোতাবেক ৪ জনকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই অপরাধে তাদের কাছ থেকে ১শ’ টাকা করে ৪শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

  • বোনের বাসায় সেমাই নেওয়া হলো না নুরের

    বোনের বাসায় সেমাই নেওয়া হলো না নুরের

    ঈদ উপলক্ষে বোনের বাসায় সেমাই নিয়ে যাওয়ার পথে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. নুর ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. রয়েল ইসলাম (৩৫) নামে আরেকজন।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে দিনাজপুর–ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নুর ইসলাম জেলার বিরল উপজেলার দক্ষিণ জগতপুর গ্রামের ঠাঠাড়িপাড়া এলাকার মো. রজব আলীর ছেলে। আহত মো. রয়েল ইসলাম একই এলাকার মির্জাপুর গ্রামের মো. মোমিনুল ইসলামের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেল যোগে বিরল থেকে ডোমার বোনের বাড়িতে ঈদের সেমাই ও চিনি দিতে যাচ্ছিলেন নুর ইসলাম ও তার বন্ধু মো. রয়েল ইসলাম। বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুর ইসলামের মৃত্যু হয় এবং রয়েল ইসলাম আহত হন।

    বীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা হারুনর রশীদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আহতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা জানান, রয়েল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার আঘাত গুরুতর নয়।

  • তরুণীর প্রেমের টানে দিনাজপুরে চীনা যুবক, চলছে বিয়ের প্রস্তুতি

    তরুণীর প্রেমের টানে দিনাজপুরে চীনা যুবক, চলছে বিয়ের প্রস্তুতি

    প্রেম মানে না জাতি-কুল বা কোনো বাধা। এমনই আরও একটি ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশি প্রেমিকা তরুণীর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন সুদূর চীন থেকে আসা প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং (২৬)।

    চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রাণীপুকুর ইউপির কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামে।

    খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেমিক চীনা যুবককে এক নজর দেখার জন্য প্রেমিকার বাড়িতে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।

    জানা গেছে, প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং (২৬) পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার (নির্মাণ)। তার বাড়ি চীনের জিয়াংসু প্রদেশে। তার বাবা মৃত ইউয়ান সিকি এবং মা লিউ ফেনহং।

    প্রায় ১ বছর আগে ভার্চুয়াল হ্যালো ট্যাক অ্যাপসের মাধ্যমে বাংলাদেশি তরুণী প্রেমিকা সুরভী আক্তারের (১৯) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সুরভী আক্তার বিরল উপজেলার রাণীপুকুর ইউপির কাজিপাড়া শিমুলতলা গ্রামের অটোচালক নুর হোসেন বাবু ও গৃহিণী সাথী আক্তারের মেয়ে। সুরভীরা দুই বোন।

    সুরভী আক্তার ও চীনা যুবক ইয়ং সং সং জানান, তাদের দুজনের পরিচয় হবার পর ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে ফ্রেন্ডশিপ থেকে রিলেশনশিপ গড়ে উঠে। একপর্যায়ে প্রেমিক যুবক ইয়ং সং সং প্রেমিকা সুরভী আক্তারের টানে গত ৪ আগস্ট সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসেন। ১০ আগস্ট রোববার সন্ধ্যায় সুরভী আক্তারের বাড়িতে পৌঁছান ইয়ং সং সং ।

    সুরভীর পরিবারের লোকজন এবং স্থানীয়রা জানান, চীন থেকে আসা যুবকের পরিচয় ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে সুরভীর সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হবে।

  • জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রার্থীই বাদ

    জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় নিয়োগ পরীক্ষায় সকল প্রার্থীই বাদ

    পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে না পারায় ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে না পারায় সবাইকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই নিয়োগ ও বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

    উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মোট ৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সকল প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেয়া হয়। এ জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেনি। ফলে অংশ নেয়া প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি নিয়োগ বাছাই কমিটি। প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তীতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানা যায়।

    নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

    এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের মেধা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই আমাদের জাতীয় সংগীতটি সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক।

  • আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    আটোয়ারীর শাহী জামে মসজিদ শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন

    শিল্প সৌন্দর্যের অপূর্ব নিদর্শন পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত প্রায় আড়াই শ বছরের পুরোনো মির্জাপুর শাহী মসজিদ। মির্জাপুর শাহী মসজিদের সর্বত্র ইসলামি টেরাকাটা ফুল ও লতাপাতার নকশায় পরিপূর্ণ। মসজিদে ব্যবহৃত ইটগুলো চিকন, রক্তবর্ণ ও অলংকৃত।

    তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। আয়তাকার এক সারিতে তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ সাধারণত মোগল স্থাপত্যরীতির বৈশিষ্ট্য। গম্বুজের শীর্ষবিন্দু ক্রমহ্রাসমান বেল্টযুক্ত। চার কোণে রয়েছে স্তরযুক্ত ও নকশাখচিত বেল্ট করা চারটি সুচিকন মিনার।

    এছাড়া সম্মুখবর্তী দেওয়ালের মধ্য দরজার দুই পাশে মধ্য গম্বুজের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্মিত হয়েছে আরও দুটি ক্ষুদ্র মিনার। এই মিনারের দেওয়াল সংযুক্ত অংশ বর্গাকার। অনুরূপ সমমানের ক্ষুদ্রাকৃতির দুটি মিনার রয়েছে পশ্চিম দেওয়ালেও।

    এ মসজিদে সামনের দেওয়ালে রয়েছে সুশোভন লতাপাতা ও ইসলামি টেরাকাটা নকশাখচিত মাঝারি আকৃতির তিনটি দরজা। দরজার কিছুটা দূরবর্তী উভয় পাশে রয়েছে অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল। তিনটি দরজায়ই ছাদ ও দরজার উপরিভাগের মাঝামাঝি স্থানে বাইরের দিকে উভয় পাশে ঢালু তোরণ আকৃতির একটি স্ফীত অংশ সংযুক্ত হওয়ায় অলংকরণ বিন্যাসে সৃষ্টি হয়েছে নতুনত্ব।

    সামনের তিনটি দরজার অনুরূপ আরও তিনটি দরজার নকশা ও অন্তঃপ্রবিষ্ট প্যানেল স্থাপিত হয়েছে পশ্চিম দিকের দেওয়ালেও। তবে এই দরজা সম্ভবত স্থাপত্যকৌশল হিসাবেই নির্মিত পশ্চিমের মাঝের দরজা। সুস্পষ্ট কোনো মেহরাব নেই। উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালও নকশাখচিত। তবে এই দরজা দুটির উপরিভাগের স্ফীত অংশটি সমান্তরাল নয়। গ্রামবাংলার চিরায়ত রীতি অনুযায়ী দোচালা আকৃতির। কথিত আছে, সামনের ইটগুলো নাকি ঘিয়ে ভেজে তৈরি করা হয়েছে।

    দেওয়ালের অলংকরণে ফুল ও পাতার পাশাপাশি পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর চিত্র রয়েছে। সম্ভবত নির্মাণকারী কারিগরদের মধ্যে হিন্দু স্থপতিও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অথবা এমনও হতে পারে যে প্রতিবেশী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খচিত হয়েছে জীবজন্তুর চিত্র। অবশ্য বর্তমানে জীবজন্তুর চিত্রগুলো অপসৃত হয়েছে।

    মধ্যবর্তী দরজার উপরিভাগে ফারসিলিপিখচিত একটি ক্ষুদ্র কালো ফলকের ভাষা ও লিপি অনুযায়ী এই মসজিদটি মোগল সম্রাট শাহ আলমের রাজত্বকালে নির্মিত হয় বলে জানা যায়। উল্লিখিত লিপি ফলকটিতে মুদ্রিত সন পারস্য বছর।

    লক্ষণীয় বিষয়, সমসাময়িককালে বাংলাদেশের অন্যান্য মসজিদ বা ইমারতের সন তারিখ হিজরি অথবা খ্রিষ্টাব্দ অনুযায়ী লেখা ছিল। কিন্তু এই মসজিদে পারস্য বছরের উল্লেখ থাকায় অনুমিত হয় যে, যেসব কারিগর ও স্থপতি এই মসজিদের নির্মাণ মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন, তারা ছিলেন পারস্য অথবা ইরানের অধিবাসী। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ ধরনের কারুকার্য সমসাময়িককালে ইরানের মসজিদ ও অন্যান্য অট্টালিকায় বিদ্যমান ছিল।

    মির্জাপুর মসজিদের মূল ভবনের সামনে রয়েছে একটি আয়তকার পাকা অঙ্গন। অঙ্গনের উপরিভাগ উন্মুক্ত। অঙ্গনের বাইরে রয়েছে একটি সুদৃশ্য তোরণ। তোরণটির নির্মাণশৈলী অপূর্ব। এতে রয়েছে খিলান করা অন্তঃপ্রবিষ্ট দরজা। উভয় পাশে খাঁজ করা স্তম্ভ এবং ঢাল ও অর্ধ বৃত্তাকার, চ্যাপ্টা নাতিদীর্ঘ একটি গম্বুজ। গম্বুজের উপরিভাগে রয়েছে কোরক আকৃতির একটি ক্ষুদ্র চূড়া

    মির্জাপুর মসজিদের নির্মাণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও এই গ্রামের মির্জা বংশীয় উত্তরসূরিদের অভিমত অনুযায়ী মির্জাপুর গ্রামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পূর্ব পুরুষরা মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। অতঃপর ফুল মোহাম্মদের ভাই দোস্ত মোহাম্মদ সম্ভবত এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রায় দুই শ বছর আগে মুলুকউদ্দীন বা মালেকউদ্দীন মির্জাপুর মসজিদের মেরামত বা সৌন্দর্যের কাজ শেষ করেন। তিনি হুগলি মসজিদের ইমামের মাধ্যমে ইরান থেকে কারিগর এনেছিলেন।

    মির্জাপুর মসজিদের স্থাপত্য নিদর্শনের সঙ্গে ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে নির্মিত মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় অনুমিত হয় যে উভয় মসজিদ সমসাময়িককালে নির্মিত হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত মসজিদের নির্মাণকাল ১৬৭৯ খ্রি.। সেদিক থেকে মির্জাপুর মসজিদের বয়স আড়াই শ বছরের কম নয়। বস্তুত বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে একমাত্র মির্জাপুর শাহী মসজিদটিই প্রাপ্ত মোগল আমলে নির্মিত অন্যান্য মসজিদের তুলনায় সবচেয়ে সুষমমণ্ডিত, উৎকৃষ্ট শিল্পনিদর্শন ও সর্বাপেক্ষা মজবুত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করছে।

  • জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি: সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জুলাই সনদ ভঙ্গের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শুরু করেছে বিএনপি।

    তিনি বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি যদি মনে করে, তারা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে এবং সংসদ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করবে- তা সম্ভব নয়। কোনো একটা দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়, স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে চায়, তাহলে জনগণ এবং আমরা বিরোধী দল একসঙ্গে প্রতিরোধ করব।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি, কারণ এ রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন সরকার চলতে পারে না।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরের মুক্তমঞ্চে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি ভালো বার্তা দিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থিত এমপি ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে।

  • চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
    যশোরের চৌগাছায় জামায়াতের আয়োজনে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
    এতে সভাপতিত্ব করেন ৫ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মাওলানা আজাদ হুসাইন। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোর্শেদ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র মাস্টার কামাল আহমেদ বিশ্বাস, মাস্টার আইনাল হক, মাওলানা আব্দুল আলিম, মাস্টার মনিনুর রহমান, মাস্টার আনিচুর রহমান প্রমুখ।

    এ আর ১২/০৩/২০২৬

  • শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

    শেরপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী

    জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে বাতিল হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

    এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন আমিনুল ইসলাম বাদশা। এতে শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের একক প্রার্থীসহ মোট ৪ জন বৈধ প্রার্থী রইলেন।

    বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান। আগামী ১৫ মার্চ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর হতে প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।

    এর আগে বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে ৯ মার্চ আমিনুল ইসলাম বাদশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

    জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১৫ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

  • রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করতে হবে; ডা. ফরিদ এমপি

    চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
    রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করার আহŸান জানিয়ে যশোর-২ আসনের সংসদসদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ কর নেয়া হয়, যা তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে। সেই করের অর্থ দেশের উন্নয়নের জন্যই সরকার বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ প্রদান করেন। কিন্তু সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার ফলে উন্নয়ন প্রতিনিয়তই বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বিপুল পরিমাণ অপচয় হয়। এই অবচয় রোধ করতে হবে।


    ৯ মার্চ সোমবার সকালে যশোরের চৌগাছা-পুড়াপাড়া রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলতে আমরা সচরাচর যেটা বুঝি তা হলো সরকার কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত এবং মালিকানাধীন সম্পদ। যেমন বিভিন্ন সরকারি অফিস, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রীজ, নদী, খাল, জলাশয়, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষাবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, কোর্ট-কাচারীসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এবং তাদের স্থাপনাসমূহ। প্রতিটি দেশ ও জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর। তাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। কেননা এটি মানুষের কাছে আমানত স্বরূপ। প্রতিটি নাগরিকের এ আমানত রক্ষা করা উচিৎ।
    তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেশি অপচয় হয় দূনীতির কারনে। দুর্নীতি, সমাজ ও অর্থনীতির বড় অন্তরায়। দুর্নীতি আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জড়িয়ে গিয়েছে। এই দুর্নীতি নির্মূল না করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও খারাপ অবস্থা হতে পারে। এজন্য আমারা দূর্নীতি করবোনা কাউকে দূর্নীতি করতেও দেবেনা।
    কর্মকর্তা কর্মচারীসহ সকলের উদ্দেশশ্যে বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা বা নষ্ট করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাষ্ট্র যেমন নাগরিক হিসেবে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়, তেমনি নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব রাষ্ট্রের সম্পদের সুরক্ষা করা। সরকারের একার পক্ষে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় সম্পদ ব্যবহারে প্রত্যেকের সচেতন হওয়ার আহŸান করেন তিনি।
    উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার বলেন, চৌগাছা-পুড়াপাড়া রোডের টেঙ্গরপুর মোড় থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চার কিলোমিটার পিচ রাস্তা সংস্কার করতে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
    এছাড়া এ দিন তিনি হাসপাতালের মাসিক মিটিংসহ সরকারি ও দলীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
    এসকল অনুষ্ঠানে অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ইসলাম, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেশমা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসান কবির রুমি, আদ্ব-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. ইমদাদুল হক, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারী অধ্যাপক নুরুজ্জামান, সহকারি সেক্রেটারী মাষ্টার কামাল আহমেদ, রহিদুল ইসলাম খান, উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার সহ স্থানীয় সংবাদকর্মী ও গণ্যমান্যরা।

  • ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির সরকারি নির্দেশনা

    ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রির সরকারি নির্দেশনা

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এতে জ্বালানি সংকটের আতঙ্ক দূর করতে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলো ডিপো থেকে কী পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করে।

    নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপরিহার্য হলেও ব্যবহৃত তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে কখনও কখনও আমদানি কার্যক্রম বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তা ও ডিলারের মধ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    বিপিসি জানায়, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অনেক ডিলার ডিপো থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

    এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১০ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কন্টেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা যাবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ফিলিং স্টেশনগুলোকে জ্বালানি বিক্রির সময় পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে নগদ স্মারক দিতে হবে এবং পুনরায় জ্বালানি নেওয়ার আগে আগের ক্রয়ের বিলের কপি জমা দিতে হবে। ডিলারদেরও নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে এবং ডিপোতে মজুদ ও বিক্রির তথ্য জমা দিতে হবে।

    বিপিসি জানায়, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তেলের চালান দেশে আসছে। প্রধান স্থাপনা থেকে রেল ওয়াগন ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সারা দেশের ডিপোগুলোতেও নিয়মিত জ্বালানি পাঠানো হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই পর্যাপ্ত বাফার মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সংস্থাটি আরো জানায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে বিপিসি।

  • যশোরে শপিংমলে থাকবে না আলোকসজ্জা রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ

    যশোরে শপিংমলে থাকবে না আলোকসজ্জা রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ

    বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয়ে যশোরের ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহার করবেন না। শপিংমলগুলোতে থাকবে না আলোকসজ্জা। রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে পোশাক ও জুতা ব্যবসায়ীরা ঈদের পর রাত ৮টার পর তাদের দোকান বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
    বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে যশোর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয়ে করণীয় শির্যক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির গুরুত্বারোপ করেন।

  • ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

    ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

    দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    তারেক রহমান শপথ অনুষ্ঠানে ৩টা ৫৫ মিনিটে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর পর পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৪ জন। তারা হলেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম।

    অপরদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৪ জন। তারা হলেন— এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম।

  • রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত ) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীত। এটি শুধু অর্থনীতির ক্ষতিই করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর হতে ক্ষয় করে দেয়। সেই সঙ্গে জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। ঠিক তেমনভাবেই কোনো কারাসদস্য যদি নিজ স্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হিসেবে কাজ করে তবে শুধু আইন ভাঙে না। সে রাষ্ট্র ও আইনের ভিত্তি দুর্বল করে দেয়।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে কাশিমপুর কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে এসব বলেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী রক্ষক নয়। তারা রাষ্ট্রের জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী, জনগণের কল্যাণই তার একমাত্র বৃত। আপনারা কারও বেতনভুক্ত কর্মচারী নয়, আপনারা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী। জনকল্যাণ আপনাদের একমাত্র কাজ। ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সম্পূর্ণকারী সবার ভবিষ্যত জীবনের সাফল্য কামনা করি৷

    এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহল আলম সেলিম, জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতান, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার, উপ-কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এর আগে সকালে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশিক্ষণার্থীদের সশস্ত্র সালাম ও অভিবাদন গ্রহণের মাধ্যমে সমাপনী কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় নবীন কারারক্ষীগণ সুসজ্জিত বাদক দলের বাদ্যের তালে তালে ঘীর ও দ্রুতলয়ে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মাঠ প্রদক্ষিণ এবং শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও দলগত সমন্বয়ের দক্ষতায় বিভিন্ন শারীরিক কসরত, অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষা কৌশলের চমকপ্রদ পরিবেশনা ফুটিয়ে তোলেন। কুচকাওয়াজ শেষে প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পিটি, ড্রিল, ফায়ারিং, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ, লিখিত পরীক্ষা ও সর্ববিষয়ে চৌকস এই ছয়টি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়।

  • শিবচরে ভারসাম্যহীন কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

    শিবচরে ভারসাম্যহীন কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

    মাদারীপুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে শিবচর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    নিহত কিশোরীর নাম হালিমা খাতুন (১২)। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। হালিমা তার মা কাকলি বেগমের সঙ্গে শিবচর পৌর এলাকার লিটন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি শিবচর উপজেলার সাড়ে এগারো রশি এলাকায়।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিমার বাবা হানিফ খান প্রায় পাঁচ বছর আগে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকেই হালিমার মা কাকলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। তিন বোনের মধ্যে হালিমা ছিল সবার বড়।

    স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২টার দিকে কয়েকজন শিশু হালিমা ঘরের বাইরে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।এ বিষয়ে মাদারীপুরের শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনা রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।

  • মাদারীপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    মাদারীপুরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

    মাদারীপুরের যাত্রীবাহী বাসে ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

    সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাসার উপজেলার পাথুরিয়ারপাড় এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মো. রণি (২৫) ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের কর্ণপাড়া এলাকার মিজানুর রহমান তালুকদারের ছেলে।

    আহতরা হলেন, পান্তাপাড়া এলাকার সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রফিকুল ফকির (২৪) ও ভাঙ্গাব্রীজ এলাকার মো. এনামুলের ছেলে মাহফুজ (২৭)। পেশায় হতাহতরা রাজমিস্ত্রি।

    হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কালকিনি উপজেলার গোপালপুর থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রনি ও তার দুই সহযোগী। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাসার উপজেলার পাথুরিয়াপাড় এলাকায় আসলে পেছন থেকে আসা সার্বিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক রনির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রফিকুল ও মাহফুজকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করে চিকিৎসক।

    মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অখিল সরকার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও দুজন। আহতদের অবস্থা শঙ্কামুক্ত নয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে।

    মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, নিয়তের লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

  • যশোর-২ ধানের শীষের প্রার্থীকে শোকজ

    যশোর-২ ধানের শীষের প্রার্থীকে শোকজ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নীকে পৃথক দুটি শোকজ করেছেন নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

    মঙ্গলবার (২৭জানুয়ারী) কমিটির প্রধান গোলাম রসুল স্বাক্ষরিত শোকজে আগামী ২৯ জানুয়ারী স্বশরীরে অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

    চৌগাছা ও ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রার্থীকে কারন দর্শানোর নোটিশ সত্বর জারিপূর্বক জারির প্রতিবেদন কমিটির কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    নির্বাচনি অভিযোগ নং- ০১/২০২৬ এ বলা হয়েছে, যশোর-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ-এর প্রেস সেক্রেটারি জনাব তারিকুল ইসলাম তারেক কর্তৃক দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখে দুপুরের দিকে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে সাধারণ নারী ভোটারদের নিকট ভোট প্রার্থনার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনপূর্বক নারী ভোট কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা নারী কর্মীদের শরীরে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, তাদের লাঞ্ছিত করে এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর করে। ভাঙচুরকৃত মোবাইল ফোনসমূহ হামলাকারীরা সঙ্গে করে নিয়ে যায়। এছাড়াও নারী কর্মীদের সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাই করা হয়, যেখানে নগদ অর্থ, কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিল। এ সময় তাদের অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং পরবর্তীতে পুনরায় ভোট চাইতে এলে প্রাণনাশের হমকি প্রদান করা হয়। উক্ত ঘটনায় আহত নারী নেতা-কর্মীরা হলেন-রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস, জোসনা প্রমুখসহ মোট ১০ (দশ) জন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে, হামলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোল, সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১০-১৫ জনের একটি দল জড়িত ছিল। লিখিত অভিযোগে বর্ণিত উক্ত ঘটনাসমূহ “সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫” এর বিধি ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায়, উপরোক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মোছাঃ সাবিরা সুলতানা-এর বিরুদ্ধে কেন সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি ১৫(গ) ও ১৫(ঘ) লঙ্ঘনের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না-সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ বিষয়ে আগামী ২৯/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকাল ৩.০০ ঘটিকায় নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে (যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত অভয়নগর সিভিল জজ আদালত) স্বয়ং অথবা আপনার মনোনীত উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় অত্র কমিটি আপনাকে শুনানী ব্যতিরেকে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ সত্বর জারিপূর্বক জারির প্রতিবেদন নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য অফিসার ইনচার্জ, ঝিকরগাছা থানা, যশোরকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

    নির্বাচনি অভিযোগ নং- ০২/২০২৬ এ বলা হয়েছে, আপনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলাধীন নির্বাচনি এলাকা নং-৮৬, যশোর-২ থেকে রাজনৈতিক দল “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল” কর্তৃক মনোনীত একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী। আমি সরজমিনে চৌগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন কালে বহু স্থানে আপনার নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত রঙ্গিন ফেসটুন, ব্যানার ও পোস্টার দেয়ালে সাথে সাঁটানো অবস্থায় দেখতে পাই (নমুনা ছবি সংযুক্ত) যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর ৭(গ) (ঙ) বিধির লঙ্ঘন।

    এমতাবস্থায়, উপরোক্ত আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মোছাঃ সাবিরা সুলতানা-এর বিরুদ্ধে কেন সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি ৭(গ) (ঙ) লঙ্ঘনের দায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না-সে বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ বিষয়ে আগামী ২৯/০১/২০২৬ খ্রি. তারিখ বিকাল ৩.৩০ ঘটিকায় নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে (যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত অভয়নগর সিভিল জজ আদালত) স্বয়ং অথবা আপনার মনোনীত উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় অত্র কমিটি আপনাকে শুনানী ব্যতিরেকে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ সত্বর জারিপূর্বক জারির প্রতিবেদন নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য অফিসার ইনচার্জ, চৌগাছা থানা, যশোরকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

  • শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচারণা শুরু বিএনপি নেতার

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের ভেতরে ঢুকে কবর জিয়ারত করতে পারেননি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। পরে সমাধিসৌধের গেটে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করেন। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন এই প্রার্থী।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শেখ মুজিবের সমাধিসৌধের ৩ নম্বর গেটে এমন ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই তার নির্বাচনি প্রতীক ফুটবল মার্কার প্রচার শুরু করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিব। পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদ ও পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডে গণসংযোগ এবং প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও সমর্থন চান।

    এর আগে গওহরডাঙ্গা খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরীর কবর জিয়ারত করেন হাবিব।

    স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘গোপালগঞ্জ-৩ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনের মাটিতেই শায়িত আছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আলেম সমাজের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী। এই দুই মহামানবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই আমি আমার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছি। আর প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ভেতরে গিয়ে তার কবর জিয়ারত করতে পারিনি। তাই গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করেছি।’

    হাবিব বলেন, ‘একসময় আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। টুঙ্গিপাড়া ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি এবং জেলা বিএনপির সদস্যও ছিলাম। তবে আমি অনেক আগেই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।’

    দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে হাবিব বলেন, ‘আমাকে এখন বহিষ্কার করার বিষয়টি হাস্যকর, কারণ আমি দলে নেই। ৫ আগস্টের পর থেকে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ মামলা ও গ্রেফতারের আতঙ্কে রয়েছেন। হয়রানির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষের কথা ভাবেন না। কেবল নিজের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেন। আমি এলাকার মানুষের জন্য রাজনীতি করতে চাই, তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চাই।’

  • মায়ের কোল থেকে ছিটকে সড়কে প্রাণ গেল শিশুর

    মায়ের কোল থেকে ছিটকে সড়কে প্রাণ গেল শিশুর

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা) ও মাহেন্দ্র অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে তিন মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে সাতজন।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের চাপরাইল ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী।

    নিহত শিশু ঋষি মজুমদার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের জোয়ারিয়া গ্রামের রায়মোহন মজুমদারের ছেলে।

    ওসি আইয়ুব আলী বলেন, যাত্রীবাহী একটি মাহেন্দ্র কোটালীপাড়া থেকে টুঙ্গিপাড়া আসছিল। অন্যদিকে যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইক জোয়ারিয়া থেকে কোটালীপাড়ার মাঝবাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ি দুটি গোপালপুরের চাপড়াইল ব্রিজ-সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তখন ইজিবাইকে থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তিন মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাতজন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে নেয়।

    এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।

    এম কে

  • একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় : মির্জা ফখরুল

    একটি দল পাকিস্তানপন্থি হয়ে এখন বাংলাদেশ গড়তে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা বিএনপির বিরুদ্ধে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা কি ভোট পাবে? তাদের কি জনগন ভোট দিবে?

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষের প্রথম জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। আমাদের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে আমরা একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এ যাত্রা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা। এ কাজে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।

    তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে একটি বিশেষ দলের ব্যাপারে। যারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, যারা স্বাধীনতার বিরোধী ছিল। তারা আমাদের নামে কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমান সম্পর্কেও কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

  • চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    চোর সন্দেহে ২ জনকে পিটিয়ে হত্যা

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরু চুরি করতে এসে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে দুই চোর নিহত হয়েছেন।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন—পার্শ্ববর্তী দশানী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (২৭) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্ধু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম (২২)।

    স্থানীয়রা জানান, রাতে পাশের ইমামনগর গ্রামের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে তালা ভাঙার চেষ্টা করে পাঁচজনের একটি চোরচক্র। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাঁচজন চোরের মধ্যে দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহত মজনু ও দীন ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। তারা দুজনই পুলিশের তালিকাভুক্ত চোর ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    এলাকাবাসীর দাবি, গত তিন বছর ধরে এই চক্র এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগেও কয়েকবার তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও জানান, ধরা পড়ার পর নিহত দুই চোর তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

  • ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ঢাকা জেলায় ২৭ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একই দিন অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ঢাকার ২০টি আসন থেকে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সম্ভাব্য ১৬২ প্রার্থী। তাদের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ২৭ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। সে হিসেবে ঢাকার এই আসনগুলোতে ভোটের মাঠ লড়বেন ১৩৫ প্রার্থী।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সারাদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা তিনটি কার্যালয়ে পৃথক পৃথকভাবে এসব মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন প্রার্থীরা।

    জানা যায়, সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় মিলে মোট ২৭ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।

    এদের মধ্যে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত বিলকিস নাসিমা রহমান। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের তথ্য প্রধানকারী কর্মকর্তা তাহজীব হাসান হৃদম এ তথ্য জানান।

    এছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের মধ্যে আছেন, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এস এম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী।

    ঢাকা-৬ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির, ঢাকা-৭ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তারেক আহম্মেদ আদেল, ঢাকা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ।

    এছাড়া ঢাকা-১০ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা-১৬ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক, ঢাকা-১৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)।

    ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন ও ঢাকা-১৫ আসনে গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    ঢাকা জেলা প্রশাসক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিশের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে খেলাফত মজলিশের এ কে এম এনামুল হক, জামায়েতে ইসলামীর আফজাল হোসাইন, ঢাকা-২০ আসনে জামায়েত ইসলামীর আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

    উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পেরোনোর পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রার্থীরা। এর ফলে তারা পরদিন থেকে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।

    এদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সই যুক্ত কোনও লিখিত নোটিসের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

    কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল একটি আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকলে ওই দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা অনুরূপ পদধারী ব্যক্তিকে লিখিত পত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এদিনের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

    প্রসঙ্গত, সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

  • একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    একের পর এক খুন করেছে সবুজ

    মশিউর রহমান সম্রাটের ছদ্মনামে সবুজ শেখ যেন হয়ে ওঠেছিলেন অপরাধের সম্রাট। একের পর এক ঘটিয়েছেন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তার ভাষায় ‘থার্টি ফোর বা সানডে মানডে ক্লোজড’ মানেই হত্যা করা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ছয় হত্যার দায় স্বীকার করেন সবুজ শেখ।

    মশিউর রহমান সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে সাভার মডেল মসজিদে থাকতেন তিনি। এরপর সাভার থানার আশপাশে ভবঘুরেদের মতো থাকতেন।

    সর্বশেষ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তার নাম তানিয়া আক্তার সোনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরা এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।

    সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাটের প্রকৃত পরিচয় জানা গেছে। মূলত তার নাম সবুজ শেখ। সে গতকাল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে ভবঘুরেদের মতো চলাফেরা করতো। ছদ্মনাম ব্যবহার করে অপরাধ করেছে। তার পরিবারের সদস্যরা মুন্সিগঞ্জে থাকেন। তবে তার বিস্তারিত আর কিছু পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের কাছ থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে ২৯ আগস্ট রাতে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে নিহত ওই যুবকের এখনো পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পরে ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরে ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড়ে মহল্লার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। তবে তিন খুনের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

  • হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    হারলেও ফুলের তোড়া নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় যাব : শিশির মনির

    সুনামগঞ্জ–২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় একটি বড় ফুলের তোড়া নিয়ে যাবেন। একইভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হারলে যেন তার বাড়িতেও ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে শিশির মনির বলেন, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে যিনি বিজয়ী হবেন, তাকেই তিনি অভিনন্দন জানাবেন। বর্তমান বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে পুরোনো পথেই হাঁটা হবে, এতে কোনো উপকার হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, আমি হেরে গেলেও বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আবার আমি জিতলেও অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আমার কোনো আপত্তি নেই। জনগণ যে রায় দেবে, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করবো।

    নির্বাচনে গালিগালাজ ও বকাবকির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিশির মনির বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মার শান্তির জন্যও একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি জরুরি।

    এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সুনামগঞ্জের সম্মেলন কক্ষে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। পাঁচটি আসনে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ঈগল, হাতপাখাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের সময় আচরণবিধি প্রতিপালন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ তুললেও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে সমান সুযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।

  • বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনায় জামায়াতসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার

    বরগুনার দুটি আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিসের দুই প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন তারা। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন: বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহিব্বুল্যাহ এবং বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম।

    মনোনয়ন প্রত্যাহার করা বরগুনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর মো. মহিব্বুল্যাহ বলেন, ‘১০ দলীয় জোট হওয়ায় এ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনে অংশ নিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। এ কারণে দল আমাকে প্রত্যাহার করে তাকে এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আগামীর ইনসাফ পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’

    বরগুনা-২ আসনের খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জোটের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসকে বরগুনা-১ আসন দেয়া হয়েছে। এবং বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। এ কারণেই ১০ দলীয় জেটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরগুনা-২ আসন থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছি।’


    এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মুখপাত্র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘বরগুনা ১ ও ২ আসন থেকে দু’জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছে। বরগুনার এ দুটি আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। এখন মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর বরগুনা-১ আস থেকে ৪ জন এবং বরগুনা-২ আসন থেকে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’

  • বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর জুয়েলী

    বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক বেতাগীর জুয়েলী

    জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বরগুনার ‘বেতাগী গা‍র্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর সহকারী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার মনিকা।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকায় জাতীয় প‍‍র্যায়ে দেশ সেরা বিভিন্ন বিভাগের শ্রেণি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন বেতাগী উপজেলার ওই শিক্ষক।

    এর আগে, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কা‍র্যালয়ে (সম্মেলন কক্ষে) বিভাগের সকল জেলা প‍‍র্যায়ে বিজয়ী শ্রেণি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণ করা শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, শিক্ষাগত একাডেমিক অ‍‍র্জন, প্রাতিষ্ঠানিক মনোভাব ও মূল্যায়ন পারদ‍‍র্শিতাসহ ১২টি গুণাবলি বিবেচনায় সৈয়দা জুয়েলীকে বিভাগের ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ ক্যাটাগরিতে প্রথম হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

    শ্রেণি শিক্ষক ক্যাটাগরিতে বিজয়ী শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষে ২০১৩ সালে বরগুনা জেলার ‘বেতাগী গা‍র্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে’ সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার এমন অর্জনে সহক‍‍র্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী আকতার বলেন, একজন শিক্ষকের অ‍‍র্জিত সাফল্যের মূল্যায়ন তার ক‍‍র্মযজ্ঞকে গতিশীল করে, যার সুফল ক‍‍র্মস্থলসহ দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে বলে আমি মনে করি। এছাড়াও সরকারের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-এর মতো আয়োজনকে ‘গতিশীল উদ্যোগ’ হিসেবেও বলেন তিনি।

  • ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    ভোলার উপকূলে অস্তিত্ব সংকটে অতিথি পাখি

    শীতের চিরচেনা রূপ পাল্টে যাচ্ছে ভোলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে। এক সময় দিগন্তজোড়া জলরাশিতে হাজার হাজার অতিথি পাখির জলকেলি আর কিচিরমিচির শব্দে মুখর থাকত যে চরগুলো, সেখানে এখন যান্ত্রিক নৌযানের শব্দ আর মানুষের কোলাহল।

    বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ভোলার উপকূলীয় বিচরণভূমিগুলো এখন পরিযায়ী পাখিদের জন্য হয়ে উঠেছে চরম অনিরাপদ। মানুষের সৃষ্ট এসব বহুমুখী সমস্যার কারণে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে এবং পাখিরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করছে তাদের আবাসস্থল। এতে একদিকে যেমন শীতকালীন উপকূলীয় পরিবেশ তার সহজাত সৌন্দর্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকৃতির ভারসাম্য হারাচ্ছে।

    ভোলার চর কুকরী মুকরী, ঢালচর ও মনপুরাসহ উপকূলের বিভিন্ন ডুবোচরগুলোতে হাজার হাজার অতিথি পাখির ডানা মেলে উড়ে চলা, দলবেঁধে খাবার সংগ্রহের প্রতিযোগিতা আর জলকেলি ছিল শীত মৌসুমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বর্তমানে সেসব চরের দৃশ্যপটে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


    স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, চর কুকরী মুকরী, চর শাহজালাল, চর শাজাহান, চর পিয়াল, আইলউদ্দিন চর, চরনিজাম, দমার চর, ডেগরারচরসহ মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যবর্তী প্রায় অর্ধশত নতুন চর একসময় পাখিদের

    নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র ছিল। তীব্র শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবারের সন্ধানে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয় অঞ্চল থেকে আসা এসব অতিথিদের কলতানে মুখর থাকত সাগরকূলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে মানুষের বসতি স্থাপন, কৃষি আবাদ বৃদ্ধি, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত ঘোরাঘুরি এবং চরাঞ্চলগুলোকে গোচারণভূমি হিসেবে ব্যবহারের ফলে সেই মুখর পরিবেশ এখন স্তব্ধপ্রায়।

    চর কুকরী মুকরির নারিকেল বাগানের বাসিন্দা নিয়ামুল মাঝি ও তাড়ুয়ার ব্যবসায়ী মিজান খানসহ স্থানীয়রা জানান, দিনরাত যান্ত্রিক নৌযানের শব্দদূষণ এবং মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে পাখিরা এখন আর আগের মতো এসব চরে ভিড়ছে না।


    সম্প্রতি বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিসার্চ কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ১১ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা আট দিন উপকূলীয় এলাকায় পাখি শুমারি পরিচালনা করেছেন। এই দলটির সদস্যরা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর প্রায় ৫৩টি চরে পাখি গণনার কাজ করেন।


    ড. সায়ামের দেওয়া তথ্য অনুসারে, এবারের জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির মোট ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ইউরেশিয়ান উইজিয়ন প্রজাতির পাখি, যার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১২টি। এছাড়া ব্ল্যাক-টেইলড গডউইট ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভার ৩ হাজার ৯৬২টি শনাক্ত করা হয়েছে।

    এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব বজায় ছিল। এর মধ্যে চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি রেকর্ড করা হয়েছে। শুমারি দলটি বর্তমানে ঢাকায় ফিরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে এবং শীঘ্রই পাখি কমে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

    পাখি শুমারি দলের সদস্য ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী এম এ মুহিত উপকূলের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এক সময় ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে বার-হেডেড গুজ বা রাজহাঁস জাতীয় পাখি হাজারেরও বেশি দেখা যেত, অথচ এ বছর সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। একইভাবে খয়রা চখাচখি ও গাঙচষা পাখির সংখ্যাও আগে হাজারের ঘরে থাকলেও এখন তা মাত্র শতকের ঘরে ঠেকেছে। সংখ্যায় কমে যাওয়া পাখিদের তালিকার মধ্যে আরও রয়েছে উত্তরে খুন্তেহাঁস, লেনজা হাঁস, ইউরেশিয়ান টিল, গ্যাডওয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির সৈকত পাখি। এমনকি হাড়গিলা নামের পরিযায়ী পাখি যা আগে শত শত দেখা যেত, এ বছর শুমারি চলাকালে সেটির একটিরও দেখা মেলেনি। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, উপকূলীয় বাস্তুসংস্থান পাখিদের বসবাসের উপযোগীতা হারাচ্ছে।


    বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শুমারিতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স। তিনি বলেন, ভোলার পার্শ্ববর্তী চরগুলোতে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাওয়ার পেছনে পাখি শিকারিদের উপদ্রব যেমন দায়ী, তেমনি নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ। এই কৃষিকাজের ফলে পাখিদের বিচরণভূমি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

    শুমারি দলের আরেক সদস্য মো. ফয়সাল জানান, তাদের এই কার্যক্রম মূলত জলচর ও পরিযায়ী পাখি কেন্দ্রিক ছিল এবং প্রতিবছরই তারা আবাসস্থল নষ্ট হওয়া ও পাখি শিকারের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছেন।


    শুমারি দলের সঙ্গে পুরো সময় চরের অভয়াশ্রমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন বন অধিদফতরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা। তিনি বলেন, পরিযায়ী পাখিদের আশ্রয়ের জন্য জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত কাদাজলের চরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এসব এলাকায় মানুষের আনাগোনা ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা ভীত হয়ে এলাকা ছাড়ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এই চরগুলোতে মানুষের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করার জন্য বন অধিদফতরের পক্ষ থেকে শীঘ্রই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • লালমোহনে ভাঙারি গুদামে আগুন ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

    লালমোহনে ভাঙারি গুদামে আগুন ৭ লাখ টাকার ক্ষতি

    ভোলার লালমোহন উপজেলায় ভাঙারি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে লালমোহন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারকাচারি মিয়ার হাট সড়ক সংলগ্ন এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে গুদামের সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    ক্ষতিগ্রস্ত গুদামের স্বত্বাধিকারী মো. রুবেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রতন ও দুলাল পরিকল্পিতভাবে তার ভাঙারি গুদামে আগুন দিয়েছে। আগুনে গুদামে থাকা সব মালামাল সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। এতে করে আমার প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রতন ও দুলাল বলেন, শত্রুতা থাকতেই পারে। তাই বলে কারো দোকানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কাজ আমরা করিনি। তারা অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।

    লালমোহন ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার খোরশেদ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে।

  • পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করায় দলের আহ্বায়ককে অব্যাহতি

    পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপির দলীয় প্রার্থী সহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।জেলা বিএনপির সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ আয়োজন করেন আব্দুল জব্বার মৃধা। এসব সভায় তিনি মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা একাধিক লিখিত অভিযোগও করেন। পরে এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটন।

  • সরকার আসে সরকার যায়, নদী ভাঙন রোধে নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ’

    সরকার আসে সরকার যায়, নদী ভাঙন রোধে নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ’

    সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু নদী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।

    শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নে সরই সুগন্ধা নদী তীরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সরই ও বারইকরনের স্থানীয় বাসিন্দারা।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙনের কারণে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকা হারাচ্ছে সাধারন মানুষ। অনেকেই একাধিকবার বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।এসময় বক্তব্য রাখেন, বারইকরন ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য খোকন হাওলাদার, সরই এলাকার বাসিন্দা শাহিন তালুকদার, আব্দুল কুদ্দুস, শাহজাহান তালুকদার, সোহরাব হোসেন, আব্দুল রশিদ মোল্লা, জালাল উদ্দীন খান শাহিন প্রমুখ।

  • বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

    বরিশালে জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশালে জামায়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো ছেড়ে দিতে হচ্ছে জোটকে। এমনকি দলটির ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত বরিশাল-৫ (সদর) আসনটিও ছাড়তে হচ্ছে। বিজয়ের ক্ষেত্রে দলটির এ গ্রেডের তালিকায় ছিল আসনটি। পাশাপাশি বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় ছিল। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে আসনটি আগেই ছেড়ে দিয়েছিল দলটি, যে কারণে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বরিশাল মহানগর দলের আমির জহির উদ্দীন বাবর প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

    এদিকে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনটিও জামায়াতের এ গ্রেডের তালিকায় রয়েছে। এ দুটি আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত করে জানা যায়নি।এদিকে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে বরিশাল-৫ আসন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তার দেনদরবার চলছে। এ আসনে তার মনোনয়ন নিশ্চিত হলে জামায়াতকে ৬ আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।

    সূত্র জানায়, সদর আসনটিতে প্রার্থী হয়েছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এখানে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে আসছেন।

    জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়ায়-মহল্লায় তাদের হাজার হাজার সক্রিয় কর্মী-সমর্থক রয়েছে। ইতোমধ্যেই দলের নির্বাচনি কেন্দ্র পাহারা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের কারণে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছেড়ে দিতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে।

    এদিকে সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গত রোববার সকাল থেকেই নগরীতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর আসনটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারির আগেই জামায়াত তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    জানা যায়, সমঝোতার অংশ হিসেবেই জামায়াত সম্প্রতি তাদের সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এতে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুমকে আহ্বায়ক এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলালকে।

    দলীয় সূত্র জানায়, সাধারণত সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নির্বাচনে প্রার্থী থাকেন না। সে বিবেচনায় বরিশাল-৫ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পক্ষে জায়গা ছেড়ে দিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবর আমার দেশকে বলেন, জোটের স্বার্থে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। শুনেছি এ বিষয়ে দলীয় ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখনও নিশ্চিত কিছু বলতে পারছি না।

    প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি হওয়ায় শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

  • ‘হিজাবি নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে’, ওয়াইসির বক্তব্যে বিতর্ক

    ‘হিজাবি নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে’, ওয়াইসির বক্তব্যে বিতর্ক

    ভবিষ্যতে কোনো একদিন হিজাব পরা এক মেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি।

    ওয়াইসি মনে করেন, মুসলিমদের ওপর দমন নিপীড়ন চালাচ্ছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। কট্টর হিন্দুত্ববাদী দলটি মুসলিম নারীদের হিজাব পরতে বাধা দিচ্ছে বলেও হায়দ্রাবাদের সাংসদের অভিযোগ। এরপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ওয়াইসি এসব কথা বলেন।

    মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ভোটপ্রচারে গিয়ে ওয়াইসি বলেন, এটা পাকিস্তান নয়, এখানে ঘৃণার কোনও জায়গা নেই। তার আশা, বিজেপির এই ঘৃণার রাজনীতি বেশিদিন টিকবে না।

    ওয়াইসি অভিযোগ করে বলেছেন, বিজেপির বর্তমান সরকার মুসলিম মহিলাদের হিজাব পরতে দেয় না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মহিলাদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন। বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও-এর প্রচার করেন। তিন তালাক নিষিদ্ধ করেন। অথচ মুসলিম মহিলাদের সম্ভ্রম রক্ষার বিরোধী।

    ওয়াইসি বলেন, যে হিজাবকে বিজেপি ঘৃণা করে সেই হিজাব পরা মহিলাই একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভারতের সংবিধান সেটার অনুমোদন দেয়। এ দেশে বাবাসাহেবের (ভীমরাও রামজি আম্বেদকর) সংবিধান একজন হিজাব পরা মহিলাকে মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনুমতি দেয়। আমার আশা একদিন হিজাব পরা মহিলাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। ভবিষ্যতে সেই দিন আসবে।’

    তবে ওয়াইসির এই কথাগুলো নিয়ে সতর্ক অবস্থানে বিজেপি। যদিও দলটির একাংশের দাবি এটি স্রেফ ভোট টানার জন্য বলছেন ওয়াইসি। তবে এটিকে ‘গাজাওয়াতুল হিন্দ’ এর অঙ্কুর রূপ হিসেবে দেখছে বিজেপি।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • জামায়াতের রূপকল্পে অগ্রাধিকার তরুণ ও নারীদের প্রত্যাশা

    জামায়াতের রূপকল্পে অগ্রাধিকার তরুণ ও নারীদের প্রত্যাশা

    আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় ইশতেহার প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জনতার ইশতেহার’ শিরোনামে এ ইশতেহারে থাকছে জনগুরুত্বপূর্ণ ২৫ বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। এতে শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিবিরোধী পরিকল্পনার পাশাপাশি তরুণ ও নারীসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রস্তুত করা ইশতেহারটি ম্যানুয়ালি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এটি ভোটারদের মাঝে চমকপ্রদভাবে উপস্থাপনের জন্য অত্যাধুনিক ডিজাইনের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন নির্দেশিত সময়ে অথবা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ জানুয়ারির পর এটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

    দলীয় সূত্রমতে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশনা এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের তত্ত্বাবধানে গঠিত দলীয় কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে নির্বাচনি ইশতেহার। একই সঙ্গে ‘জনতার ইশতেহার’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়। এসব মাধ্যমে অডিও-ভিডিওসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার মতামত আসে। এসব মতামতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইশতেহারে তুলে ধরা হচ্ছে। অন্যান্য মতামত সংশ্লিষ্ট আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকবে। যে কেউ সেটা দেখতে পারবেন।

    নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল জামায়াত। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়েছে। তাই এবারের ইশতেহার হবে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে। বিভিন্ন চমকে ভরা ইশতেহারে তরুণ ও নারীদের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

    তিনি বলেন, তিনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে ‘জনতার ইশতেহার’। জনসাধারণের সহজে বোঝার সুবিধার্থে প্রথম পর্যায়ে থাকবে বুলেট পয়েন্ট। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০-৫০ পৃষ্ঠার বই থাকবে। বিস্তারিত তথ্য থাকবে ডিজিটাল আর্কাইভে। পরে যে কেউ সেসব তথ্য দেখতে পারবেন। ইশতেহারে উপস্থাপন করা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন দেওয়া হবে। এতে প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচি, ছয় মাস, এক বছর—ইত্যাদি পর্যায় উল্লেখ করা হবে।

    এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরো বলেন, আমরা ইশতেহারটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। সব দলের ইশতেহার একই দিনে ঘোষণার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া আছে। তাদের সিদ্ধান্ত পেলে সেভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। অন্যথায় নিজেদের মতো করে তা প্রকাশ করা হবে।

    সূত্রমতে, নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি করতে দলীয় গণ্ডির বাইরে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হয়েছে। তাদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতেই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অতীতের যেকোনো ইশতেহারের চেয়ে এটি ভিন্ন প্যাটার্নের। সব মতের লোকদের নিয়ে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানানো হবে ইশতেহারে।

    দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হলেও এর সঙ্গে সব আসনের প্রার্থীর পক্ষ থেকে আলাদাভাবে আঞ্চলিক ও তৃণমূলের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনাগুলো চূড়ান্ত করেছেন প্রার্থীরা।

    এ বিষয়ে কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যার আলোকে উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যেমন আমার এলাকায় ফায়ার সার্ভিস নেই। উপজেলা পর্যায়ে ১০টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নে যেসব বরাদ্দ হবে, তার সব হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এভাবে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছি।

    তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—এ এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। তাই প্রবাসে কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সামাজিক বিচারব্যবস্থা এবং মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করব।

    ইশতেহারের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, এতে মৌলিক কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে নৈতিক ও কর্মমুখী শিক্ষার কথা বলা হবে। সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতের বিষয় তুলে ধরা হবে। নারীদের সম্মান ও মর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। জুলাই বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে ইশতেহারে। সর্বোপরি এতে বিভাজনের রাজনীতিমুক্ত হয়ে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার অঙ্গীকার থাকবে।

  • দখলদারদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়-মিয়া গোলাম পরওয়ার

    দখলদারদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়-মিয়া গোলাম পরওয়ার

    শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, সরদার আবদুল ওয়াদুদ, উপজেলা হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মণ্ডল, আটলিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা মতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফেজ মঈন উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, ডুমুরিয়া পশ্চিম ছাত্রশিবিরের সভাপতি হামিদুল হাসান লিমন, শোভনা ইউনিয়ন সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, মাগুরখালী ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আব্দুস সোবাহান, মাগুরখালী ইউনিয়ন সেক্রেটারি সোহরাব হোসেন, মাগুরখালী হিন্দু কমিটির সেক্রেটারি বিকানন্দ বৈরাগী, ইউনিয়ন আমীর শেখ আবুল হোসেন, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মজিবুর রহমান, আটলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন আলা, মাওলানা বাহারুল ইসলাম, মাওলানা বেলাল হোসেন, হাফেজ বেলাল হোসেন প্রমুখ।

    তিনি বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া খর্ণিয়া ইউনিয়নের আঙ্গারদহা গ্রামের কৃষ্ণ কুন্ডু, রাজু কুন্ডু ও গপি কুন্ডুর বসতবাড়িতে যান। এ সময় তিনি তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন।

    সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ—সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কোনো দলের কোনো নেতা বা সরকার প্রধান বুক চিতিয়ে বলতে পারেননি যে, তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছেন। প্রত্যেক আমলেই এ দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।

    নিজের সংসদ সদস্য থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার সময় ডুমুরিয়াকে ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত এলাকা হিসেবে পেয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত। প্রতিদিন লাশ, গুম, হাত-পা কাটার আতঙ্কে মানুষ রাত কাটাত। আল-হামদুলিল্লাহ আমার ৫ বছরে সন্ত্রাসকবলিত সেই ডুমুরিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পেরেছিলাম। নির্বাচনের আগে দেওয়া দুটি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একটি ছিল সন্ত্রাস দমন, অন্যটি ছিল শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়ন।

    তিনি দাবি করেন, এমপি থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছেন এবং কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেননি। এক কাপ চাও নয়—এ দাবি করে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজের পূর্ণ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা, বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল, শ্মশান—সব কাজেই স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে তিনি অভিযোগ করেন, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানানো হবে একজনকে, কিন্তু তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। আর এলাকায় তার সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও ঘের দখল চালাবে—বলেন তিনি। এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতে ১৩ বছরের সাজা এবং হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    সন্ত্রাস দমনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যৌথ বাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে; কেউ পালিয়েছে, কেউ এলাকা ছেড়েছে। এ সময় কিছু নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের রক্ষায় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও তিনি জানান।

    তিনি বলেন, সাড়ে সাত বছর কারাবন্দি থাকার কারণে তিনি একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, এমনকি ভোট দেওয়ার সুযোগও পাননি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    শেষে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিবেক দিয়ে বিচার করুন—কে দুর্নীতিমুক্ত, কে মানুষের ক্ষতি করেনি, কে সন্ত্রাস দমন করেছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে আর ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। ভোটের আমানত সৎ মানুষের হাতেই তুলে দিন।

  • পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    পাবনার দুই আসনে নির্বাচন স্থগিত

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আজ শনিবার নির্বাচন কমিশন এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে স্বাক্ষর করেন সংস্থার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।

    ইসি জানায়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকা ৬৮ (পাবনা-১) ও ৬৯ (পাবনা-২)-এর সীমানা সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দুই নির্বাচনি এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

    সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস করে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেখানে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলার সমন্বয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়।

    ইসির ওই গেজেটের এই দুটি আসন-সংক্রান্ত অংশের বৈধতা নিয়ে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবু সাঈদ হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ১৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করে।

    তাতে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত ইসির গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর পাবনার আসন দুটি নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ইসি। তাতে আগের মতোই পুরো সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন (হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন) নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠিত হয়। এছাড়া পাবনা-২ আসনও বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়।

    অন্যদিকে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও নির্বাচন কমিশন পৃথক আবেদন করে। আবেদন দুটি গত ২৩ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদন দুটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে।

    গত ৫ জানুয়ারি এই দুই আসনের আগের সীমানা পুনর্বহাল করে ইসির ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির অংশটুকু স্থগিত করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
    সুত্র আমারদেশ

  • যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে আমাদের শান্ত থাকতে হবে

    যেকোনো উসকানির বিরুদ্ধে আমাদের শান্ত থাকতে হবে

    দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের মাটিতে পা রাখার পর যোগ দেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। বেলা ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। শুরুতেই বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ।’

    তারপর দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে শুরু করেন বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া— আপনাদের দোয়ায় প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে দেশবাসীর উদ্দেশে দিলেন ‘ইনসাফের শাসনের বার্তা’।

    তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেশের শান্তি চাই। মার্টিন লুথার কিং—নাম তো শুনেছেন না আপনারা? তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে, আই হ্যাভ আ ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই, আই হ্যাভ আ প্ল্যান, পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে।’

    সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাইবোনেরা এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন, এই সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন ইনশা আল্লাহ আমরা আই হ্যাভ আ প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’

    বিএনপি একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি। হে রাব্বুল আলামিন, হে একমাত্র মালিক, হে একমাত্র পরওয়ারদিগার, হে একমাত্র রহমত দানকারী, হে একমাত্র সাহায্যকারী—আজ আপনি যদি আমাদেরকে রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ এবং এই দেশের মানুষের পক্ষে থাকে; আল্লাহর সাহায্য, আল্লাহর দয়া এই দেশের মানুষের উপরে থাকে– ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি যে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে আমরা সবাই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

  • চৌগাছায় একদিনে তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

    চৌগাছায় একদিনে তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

    যশোরের চৌগাছায় আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে ও আত্মহত্যায় একদিনে তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

    ২৪ ডিসেম্বর বুধবার এসব মৃত্যুর ঘঠনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া গ্রামের মৃত কার্তিক পরামানিক বিশ্বাসের বিধবা স্ত্রী ফেকসি বালা (৮০) বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথে শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাচ্ছিল। এ সময় অসাবধানতাবশত তার শাড়িতে আগুন লেগে যায়। তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় যশোর আড়াইশো শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার দুপুরবেলা তিনি মৃত্যবরণ করেন।

    অপরদিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের ওমর গাজীর পুকুরে ডুবে ঢাকার উত্তরার তানজিমুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র হাফেজ আব্দুল্লাহ (১৬) মৃত্যবরণ করেছে। আব্দুল্লাহ নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল গনির ছেলে। তার পিতার চাকুরী সুবাদে তারা ঢাকার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। ওমর গাজী জানান, আব্দুল্লাহ নারায়ণগঞ্জ থেকে গত দুই দিন পূর্বে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। বুধবার দুপুরে সে আমাদের পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসল করার এক পর্যায়ে সে পুকুরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পুকুর থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের সলেমান আলীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৩০) স্বামীর সাথে গোলমাল করে বুধবার সকাল ১০ টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম তিনটি মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন এসব বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

  • নওগাঁয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    নওগাঁয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা

    নওগাঁয় বাদলগাছিতে দুদিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের। সকাল পেরিয়ে দুপুরে হয়েছে। তবুও দেখা নেই আলোর। ফলে ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিক। ঝরছে বৃষ্টির মতো কুয়াশা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঠান্ডা হিমেল বাতাস। এ অবস্থাতে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এর আগে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    পৌষের শুরুতেই উত্তরের এ জেলায় হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শীতের দাপট বেড়েছে। আকাশে হালকা কুয়াশা ও মেঘের কারণে গতকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শ্রমজীবী এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের মানুষকে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন থেকে নওগাঁর বাদলগাছিতে হিমেল হাওয়া শুরু হয়েছে। সেই হিমেল হাওয়া দিন-রাত বইছে। এ কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।

    নওগাঁর বরুণকান্দি এলাকার ভ্যানচালক জয়নাল আবেদীন ও রাণীনগর উপজেলা থেকে আসা অটোরিকশা চালক তপন বলেন, দুদিন থেকে শীত অনেক বেশি। ভ্যান চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাত কাঁপাকাঁপি করে, রিকশার চালাতে কষ্ট হয়। লোকজনও সেভাবে বাইরে বের হচ্ছে না। পেটের দায়ে ঠান্ডা লাগলেও বাইরে আসতে হচ্ছে।

    এদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা জানান, তীব্র শীত উপেক্ষা করে তাদের দৈনন্দিন কাজে বের হতে হয়। গরম মোটা কাপড়ের অভাবে তাদের শীতকে উপেক্ষা করে কাজে যেতে হয়। আজ সকাল থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে ঝরছে ফোঁটা ফোঁটা পানি। হাজারও শীতকে উপেক্ষা করে তাদের পেটের তাগিদে কাজে যেতে হবে বলে জানান তারা।

    বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, জেলায় আজকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল থেকে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় আজকে শীত কিছুটা বেশি। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা এরকম থাকতে পারে।

    বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আকাশে মেঘের প্রাদুর্ভাব থাকায় সূর্যের তাপ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে জেলায়। তবে আজ সকালে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা। এর ফলে বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। এর ফলে যুক্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত নানান রোগবালাই। খুব প্রয়োজন ছাড়া সকালে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর    মতবিনিময় 

    সাংবাদিকদের সাথে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থীর   মতবিনিময় 

    চুয়াডাঙ্গা:

    চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গায় ২ আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের জন্য সঠিক নেতৃত্ব উঠে আসবে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারলে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের দীর্ঘদিনের অবহেলিত জনপদের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, কৃষি ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা নেয়া হবে।

    মতবিনিময় সভায় দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

    সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তেই চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত হলে তিনি এ আসনকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ সংসদীয় আসনে পরিণত করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।

    মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব হাসান কচি, সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সরদার আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

  • যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    যশোর-২ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ


    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াত মনোনিত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    ২২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা মোছা: রনি খাতুনের দপ্তর থেকে প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

    এসময় প্রার্থী মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আরশাদুল আলম, চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম।

    মনোনয়নপত্র প্রদানকালে সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা জামায়াত নেতৃবৃন্দকে সকল ধরনের নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ করেন।

    মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতের দলীয় আসন পরিচালক অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের বলেন, ‌‌”আমরা প্রথমেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে ঝিকরগাছা-চৌগাছা আসনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পেরেছি। তিনি বলেন এই আসনে আমরা অতীতে কয়েকবার বিজয়ী হয়েছি। সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা এখানে আবারো বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো ইনশায়াল্লাহ।

    চৌগাছা উপজেলা আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, চৌগাছায় দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমরা বিজয়ী করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

  • বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    বরের জুতা লুকানো নিয়ে সংঘর্ষ, ভেঙে গেলো বিয়ে

    সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিয়েবাড়িতে বরের জুতা লুকিয়ে রাখা নিয়ে সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বরপক্ষ বউ না নিয়েই ফেরত চলে গেছে।

    শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের গুলিয়াখালীর চর গ্রামের কনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি সমঝোতা না হওয়ায় একদিন পর জানাজানি হয়।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ওই ইউনিয়নের গুলিয়াখালী গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ৬০-৭০ জন বরযাত্রী নিয়ে গুলিয়াখালীর চরে কনের বাড়িতে আসে। বিয়ে উপলক্ষে ওই বাড়িতে সেদিন প্রায় ২০০ লোকের আয়োজন ছিল। কিন্তু জুতা লুকানোকে কেন্দ্র করে বর পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বিয়ে সম্পন্ন না করে কনের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে চলে যায়।

    কনের মা খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বরকে স্মার্টফোন ও ১০ আনা সোনার চেইন দিয়ে আমরা বরণ করেছিলাম। শুধু তাই নয় বাড়িতে ২০০ লোকের আয়োজন করতে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু ও পাঁচ মণ দই কেনা হয়েছিল। সবাই খাবার খাওয়া শেষ করেছে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও লুটপাট হওয়ায় বিয়ে ভেঙে গেছে।শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    দেশি মাছের সংকটে শুঁটকি উৎপাদন কমেছে

    শুঁটকির গ্রাম হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভর তেঁতুলিয়া গ্রাম। এখানকার উৎপাদিত দেশীয় ছোট মাছের শুঁটকি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ায় কদর রয়েছে দেশজুড়ে। শুধু দেশেই নয়, ভারতে রয়েছে এখানকার শুঁটকির কদর। তবে এখন ভরা মৌসুম হলেও মাছের অভাবে ভাটা পড়েছে শুঁটকি উৎপাদনে। অল্পস্বল্প যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে।

    আত্রাই উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এখানকার উৎপাদিত শুঁটকির বাজার মূলত দেশের রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও ঢাকা। রপ্তানি হয় ভারতেও। এ উপজেলায় একসময় ৪০ জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত থাকলেও বর্তমানে আছেন ১৫-১৮ জন।

    সম্প্রতি দেখা গেছে, আত্রাই রেলস্টেশনের দুই পাশে রয়েছে শুঁটকি মাছ শুকানোর চাতাল। নারী-পুরুষেরা মাছ কাটা, ধোয়া, লবণ লাগিয়ে চাতালে শুকাতে দিচ্ছেন। সকালে রোদে দেওয়া ভেজা মাছগুলোও কেউ কেউ এপিঠ-ওপিঠ উল্টে রাখছেন। মাছের অভাবে অনেক চাতাল ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আত্রাই উপজেলা একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। পাশাপাশি ছোট যমুনা নদী ও আরও রয়েছে শতাধিক খাল-বিল। এসব নদী ও খাল-বিলের পানি কমতে শুরু করলে বাজারে উঠতে শুরু করে দেশীয় প্রজাতির ট্যাংরা, পুঁটি, খলসে, টাকি, শোল, চাঁদাসহ নানা জাতের মাছ। কিন্তু চায়না দুয়ারি, সুতি, কারেন্ট ও ভাদাই জালের অবাধ ব্যবহারে পানি কমলেও এ বছর দেখা নেই মাছের। মাছের অভাবে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বন্ধ ছিল অধিকাংশ চাতাল। এতে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছেন না। এ ছাড়া শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

    শুঁটকি ব্যবসায়ী ভর তেঁতুলিয়া গ্রামের রামপদ শীল বলেন, ‘এ বছর মাছের খুব অভাব। বাজারে যেটুকু মাছ পাওয়া যাচ্ছে তাও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি ১০০-২২০ টাকা কেজিতে মাছ কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২০-২৫ মণ মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাজার ও মৎস্য আড়ত ঘুরে ৭-১০ মণের বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদন করতে পারছি না।’

    ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এই সময় শুঁটকিপল্লি মুখর থাকত। কিন্তু এখন বর্ষার শুরুতেই সুতি, দুয়ারি ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরায় বাজারে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ পাওয়া গেলে এত দিন দুই-আড়াই মাস ব্যবসা করা যেত। মাছের অভাবে অনেক চাতাল বন্ধ আছে। এ অবস্থায় চাতালের কাজে জড়িত নারী-পুরুষ শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়ছেন।’ নারী শ্রমিক আনজুমান বেগম বলেন, ‘মাছের অভাবে কাজ কমে গেছে। এই শুঁটকি মাছের চাতালে কাজ করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই সংসার চলে। কাজ না পেয়ে অনেকে বসে থাকে।’

    এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘শুঁটকির সঙ্গে জড়িতদের নিরাপদ ও মানসম্মতভাবে শুঁটকি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অসাধু উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

  • নওগাঁয় মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, আটক

    নওগাঁয় মাদকের বিরুদ্ধে চলছে সাঁড়াশি অভিযান, আটক

    নওগাঁ, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বাসস):জেলা জুড়ে চলছে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান।চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক বড় বড় অভিযান পরিচালনা করে আসছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। শুধু মাদকের বিরুদ্ধেই নয় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন ডেভিলদের বিরুদ্ধেও। প্রতিদিন জেলার কোন না কোন উপজেলাতে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলমান রাখা হয়েছে।

    মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজ রোববার সকালে শহরের মাদকের আখড়া নামে পরিচিত সুইপার কলোনি এলাকায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে ৪৫কেজি গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে গাঁজা ছাড়াও বাংলা মদসহ বিপুল পরিমাণ মাদক বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

    অভিযান চলাকালে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    এ সময় যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কদমতলা বারোপুতা গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২৪) কে আটক করা হয়। তাকে সহায়তা করার অপরাধে জেলার বদলগাছী উপজেলার লক্ষিকুল গ্রামের মৃত আব্বাস মন্ডলের ছেলে জলিল মন্ডল (৫০) কে আটক করা হয়।

    পুলিশ সুপার জানান, নওগাঁ জেলা ভারতীয় সীমান্তঘেষা হওয়ার কারণে মাদককারবারীরা নওগাঁকে মাদক চালানের জন্য উত্তম পথ হিসেবে ব্যবহার করে। বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে মাদকের কারবার কিছুটা বেশি হয়েছে। আগের চেয়ে বর্তমান সময়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে সর্বদা সজাগ রয়েছে।

    জেলা জুড়ে এই ধরনের অভিযান আগামীতে আরো বেশি পরিচালনা করার কথা জানান তিনি।

  • সিরাজগঞ্জে সাবেক এমপির সম্পদের খোঁজে দুদক

    সিরাজগঞ্জে সাবেক এমপির সম্পদের খোঁজে দুদক

    সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল (৪৫) ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তাজ উদ্দিনের (৫৫) বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন পাবনার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শহিদুল আলম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।দুদক সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল ও তার পিএস চৌহালী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তাদের নিজ নাম ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। যা নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করছে তারা।

    আব্দুল মমিন মণ্ডল ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।

  • অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা, ছেলে জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার

    অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা, ছেলে জীবিত নাকি মৃত—জানে না পরিবার

    সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এক যুবক অবৈধ পথে ইতালি যাত্রাকালে সাগরে ট্রলার দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। ছেলেকে ইতালি পাঠাতে জমি বন্ধক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ২৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বাবা।

    নিখোঁজ যুবকের নাম রাকিবুল ইসলাম স্বাধীন (২২)। তিনি উল্লাপাড়া উপজেলার ভুতগাছা গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বাড়ি ছাড়েন। তবে তিনি মারা গেছেন নাকি বেচেঁ আছেন, জানে না পরিবার৷

    এ ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে উল্লাপাড়া মডেল থানা-পুলিশ।

    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে আবুল কালাম নামের সেই ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা গেছে, নিখোঁজ রাকিবুল ইসলামকে তিনিই বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    উল্লাপাড়া মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, আবুল কালাম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তিনি বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাকিবুল ইসলাম স্বাধীনকে তিনি পাঠিয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে নিখোঁজ। তার বাবা এসে বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।

    পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরে ভাগ্য বদলের আশায় শতাধিক মানুষের সঙ্গে ট্রলারে করে ইতালির উদ্দেশে রওনা দেন স্বাধীন। পথে দুর্ঘটনায় অনেকেই সাগরে পড়ে যান। সেই ঘটনার পর থেকেই স্বাধীন নিখোঁজ, তার কোনো খোঁজ মিলছে না।

    নিখোঁজ রাকিবুলের বাবা ফিরোজ আহমেদ বলেন, আবুল কালামের ছেলে সাদ্দাম ইতালিতে থাকে। সেই সূত্র ধরে আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ছেলেকে পাঠাতে জমি বন্ধক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মোট ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মার্চের শেষ দিকে আবুল কালাম প্রথমে স্বাধীনকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যায়। সেখান থেকে দুবাই, মিশর, শ্রীলঙ্কা হয়ে সর্বশেষ লিবিয়ায় নেয়।স্বাধীনের সঙ্গে যাওয়া আরেক ব্যক্তি ফজলুল হক সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন। সে পরিবারের কাছে জানিয়েছেন, যাত্রার অল্প কিছুদিন পরই তাদের ট্রলারটি ডুবে যায় এবং স্বাধীন আর ফিরে আসেননি।নিখোঁজ যুবকের মা নার্গিস খাতুন ছেলের খোঁজ পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্ত দালালের কঠোর শাস্তিও দাবি করেছেন।

  • সরাইলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালন

    সরাইলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও জাতীয় প্রবাসী দিবস পালন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হয়েছে।

    ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ১১ টায় সরাইল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনাড়ম্বর পরিবেশে দিবসটি পালন কর হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় যোগ দেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমীন আক্তার।

    (বিস্তারিত…)

  • বাঞ্চারামপুরে সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    বাঞ্চারামপুরে সুন্নী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত দক্ষিণ কান্দাপাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘৬ষ্ঠ ঐতিহাসিক সুন্নী মহা সম্মেলন’।

    বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দরিয়াদৌলতের বালুর মাঠে এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, “বিগত ১৫-১৬ বছর দেশে ধর্মীয় আলোচনা বা ইসলামী সম্মেলন করার ক্ষেত্রে নানা বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়েছে। আজ আমরা উন্মুক্ত পরিবেশে যে ধর্মীয় আলোচনা শুনতে পারছি, তা সম্ভব হয়েছে আলেম-ওলামাদের চোখের পানি ও ত্যাগের বিনিময়ে।”

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার দেশের প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে আলেমদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে আলেমরা কী খুতবা দেবেন, তা লিখিত আকারে ধরিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু আজ আলেমরা স্বাধীনভাবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কথা বলতে পারছেন।”

    যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলে তিনি তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি ও নসিহত পেশ করেন। তিনি বলেন, “ওয়াজ মাহফিল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। আমাদের শপথ নিতে হবে—আমরা মাদকমুক্ত থাকব, মাদককে প্রশ্রয় দেব না, নিজেও খাব না এবং কাউকে বিক্রি করতেও দেব না। যেখানেই মাদক, সেখানেই যুব সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

    সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আইন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মহসিন এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এইচ জেড শুকরী সেলিম চিসতি। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবুল কালাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান নাসির এবং এ,বি,এম আলী কাউসার (জামান)।

  • দেশ কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    দেশ কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে তার পক্ষে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মাহমুদুল হাসানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন স্থানীয় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। নেতাকর্মীরা জানান, জনসম্পৃক্ততা ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস এই আসনে একজন শক্তিশালী প্রার্থী।

    কাজী নাজমুল হোসেন তাপস সাবেক ৪ বারের এমপি আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের ছেলে। কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, আমি আশাবাদী দলের জন্য যেই শ্রম দিয়েছি ইনশাআল্লাহ দল আমাকে বিবেচনা করবে।

    উল্লেখ্য: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আইনজীবী এম এ মান্নানকে।

  • নাসিরনগরে তালাবদ্ধ গুদামে আগুন, মালামাল পুড়ে ছাই

    নাসিরনগরে তালাবদ্ধ গুদামে আগুন, মালামাল পুড়ে ছাই

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরের গার্লস স্কুল রোডে অবস্থিত নাজিফা এন্টারপ্রাইজ নামের পারটেক্স স্টার গ্রুপের একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাতে তালাবদ্ধ ওই গুদামে আগুনের ঘটনা ঘটে।

    এতে গুদামে থাকা সব মালপত্র, আসবাবপত্র ও অটোরিকশাসহ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানান নাজিফা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক। খবর পেয়ে নাসিরনগর ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    নাজিফা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক শেখ সাইফুর ইসলাম জানান, আনুমানিক ভোররাত সাড়ে ৪টার সময় প্রতিবেশী এক দোকানি ফোন দিয়ে জানান, প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে। আগুনে ড‍্যানিশ কনডেন্সড মিল্ক, নুডুলস, পারটেক্স টিস্যু, জুসসহ এই গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যের প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের টিম লিডার মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

  • দেশ কসবায় বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    দেশ কসবায় বিজিবির উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও শীতবস্ত্র বিতরণ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকার খেটে খাওয়া ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর তত্ত্বাবধানে কসবা উপজেলার বায়েক শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ ক্যাম্পে নারী-পুরুষসহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

    মেডিকেল ক্যাম্পে আগত রোগীদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শীতের তীব্রতা বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পরিচালক খালেদ ইমাম, মাদলা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার জাকির হোসেন, খাদলা ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার শফিউর রহমান, সালদা নদী ক্যাম্প কমান্ডার আলী হোসেন, গাজীসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

  • আখাউড়া সীমান্তে বিএসএফের হাতে যুবক আটক

    আখাউড়া সীমান্তে বিএসএফের হাতে যুবক আটক

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় মুন্না (১৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে আটক হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোরে ঘটলেও বিষয়টি রাতেই জানা যায়।

    আটক যুবক মোগড়া ইউনিয়নের বাউতলা গ্রামের অটো চালক মো. শাহআলম মিয়ারের ছেলে।

    আটক মুন্নার পরিবার জানায়, বুধবার ভোর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, বিএসএফ তাকে আটক করেছে। বিষয়টি তারা আগরতলায় থাকা আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন।

    ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, আটক যুবক মুন্না একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। বুধবার ভোরে মুন্না অবৈধভাবে আখাউড়ার বাউতলা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারতের অন্তত ৩০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করার সময় বিএসএফ তাকে মাদকসহ আটক করে।

    বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগে জানা যায়, তাকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মুন্নাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • আশুগঞ্জ-সরাইল মহাসড়ক নির্মাণব্যয় বাড়ল ১৬৩ কোটি টাকা

    আশুগঞ্জ-সরাইল মহাসড়ক নির্মাণব্যয় বাড়ল ১৬৩ কোটি টাকা

    আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল গোলচত্বর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণে নির্মাণকাজের ব্যয় ১৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৭০৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকে জানানো হয়, আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল গোলচত্বর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। সড়কটির নির্মাণকাজের ব্যয় ১৬৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার ৭০৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জানা গেছে, আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পটি ৫ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়।

    ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউপি-০১ (পার্ট-১)-এর আওতায় নির্মাণকাজের ভেরিয়েশন অর্ডার-১-এর সংশোধিত চুক্তিমূল্য ৭১৭ কোটি ২৭ লাখ ১৫ হাজার ১৯৭ টাকার প্রস্তাব করে।

    সওজ কর্তৃক গঠিত অভ্যন্তরীণ ভেরিয়েশন/অ্যাডেনডাম প্রস্তাব পর্যালোচনা কমিটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ভেরিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা ও আইটেমগুলোর পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করে।