সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • মহেশপুরে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

    মহেশপুরে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু

    ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাথানগাছি গ্রামে বাড়ির পেছনে কাজ করার সময় বজ্রপাতে রোজিনা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাথানগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোজিনা খাতুন গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

    স্বজনরা জানান, দুপুরে নিজের বাড়ির রান্নাঘরের পাশে কাজ করছিলেন রোজিনা খাতুন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি করা হয়েছে।

  • শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    শিবিরের দুই নেতাকে গুলি, ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের আদেশ

    যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২০শে এপ্রিল দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

    আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এ মামলায় যশোরের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ আটজন আসামি। এর মধ্যে তিনজন গ্রেফতার আছেন। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।

    পলাতকরা হলেন- যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

    প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। পরে গুলি করা ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে তাদের পায়ে পচন ধরে। একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

  • চৌগাছায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চৌগাছায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু


    যশোরের চৌগাছায় বজ্রপাতে আবু তাহের (৪২) নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের মাঠের একটি ধানক্ষেত থেকে তার ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আবু তাহের আন্দুলিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    নিহতের চাচা ও মাদ্রাসা শিক্ষক বিল্লাল হুসাইন জানান, দুপুরে ঝড়-বৃষ্টির পর তাহের ধানক্ষেত দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর আবারও বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় ধানক্ষেতের আইল থেকে তার ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হবিবুর রহমান হবি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ স্থগিত

    মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ স্থগিত

    বিডি নিউজ:

    সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনের আইন পেশার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সেই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    মাসদার হোসেন মামলার জন্য খ্যাত এই সাবেক বিচারকের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে আসে। প্রকাশিত ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী মাসদার হোসেন টাকা আত্মসাতের এই বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকারও করে নিয়েছেন। ‘পেশাগত অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনের’ এই অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্নটি’ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল জরুরি সভায় বসে। সভায় অভিযোগের প্রাথমিক উপাদান ও প্রামাণিক ভিত্তি বিদ্যমান থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে মাসদার হোসেনের সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাসদার হোসেন এক লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। তিনি এবং তার সহকর্মী বিচারকরা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার বিষয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যা ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। বিচার বিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর আইন পেশায় ফেরেন মাসদার হোসেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

  • ৬ কোটি রুপি: ইরানের জন্য কাশ্মীরিরা কেন স্বর্ণ, জমানো অর্থ দান করছে

    ৬ কোটি রুপি: ইরানের জন্য কাশ্মীরিরা কেন স্বর্ণ, জমানো অর্থ দান করছে

    নিজের জন্মদিনে বাবার কাছে থেকে স্বর্ণের দুল উপহার পেয়েছিলেন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দা মাসরাত মুখতার (৫৫)। গত মাসে ঈদুল ফিতরের দিনে তিনি সেটি ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। উদ্দেশ্য- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    মাসরাতের মতো কাশ্মীরের অনেক বাসিন্দাই তাদের নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছেন হাজার মাইল দূরের একটি দেশে বসবাসকারীদের জন্য। অনেক পরিবার তাদের তামার বাসনপত্র, গবাদি পশু, বাইসাইকেল এবং সঞ্চিত অর্থের বড় একটি অংশ দান করেছে। এমনকি শিশুরাও তাদের মাটির ব্যাংক ভেঙে জমানো অর্থ দান করছে। দোকানদার ও ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। তারা দান করেছেন উপার্জনের একটি অংশ।

    কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার বাসিন্দা মাসরাত মুখতার বলেন, ‘আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তাই দান করি। এটি আমাদেরকে তাদের (ইরানিদের) কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরের ‘লিটল ইরান’ পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মাসরাত বলেন, ‘এই পরিচিতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যা করার তাই করা হচ্ছে। এই বন্ধন সময় আর সংঘাতের ঊর্ধ্বে।’

    ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন বর্তমান যুদ্ধের সময় আরও বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে এটি ইরানি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহের কিছু পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    কয়েক কোটির অনুদান
    কাশ্মীরে ওঠা এই অনুদানের পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গয়না, গৃহস্থালি সামগ্রী, গবাদি পশু এবং যানবাহন মিলিয়ে সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি বা ৬৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    শ্রীনগর, বুদগাম, বারামুল্লা এবং কাশ্মীরের উত্তরের জেলাগুলোতে তহবিল সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত কাজ করছেন। অনুদানের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান। যেমন- খুচরা পয়সা, শিশুদের মাটির ব্যাংক এবং সাধারণ থালাবাসন। শ্রীনগরের একটি সংগ্রহ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সৈয়দ আসিফি জানান, অতি সাধারণ আয়ের মানুষও সাধ্যমতো যা পেরেছেন তাই দান করেছেন।

    নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় কাশ্মীরিদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। লিখেছে, ‘এই মহানুভবতা চিরকাল মনে রাখা হবে।’

    তবে অনুদানের ব্যাপকতা নিয়ে ভিন্ন এক আশঙ্কায় আছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ) জানিয়েছে, কিছু লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেসব অর্থ সংগ্রহ করছে তার একটি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে যেতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সংগৃহীত তহবিল যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে না পারলে তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

  • যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত তিন বছরের যুদ্ধংদেহী নীতির কারণে ইসরাইল এখন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইসরাইলের অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বাজেট মূলত ইরানের সাথে সম্ভাব্য পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি এবং বিগত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যয় করা হবে।

    ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত এই আগ্রাসীযুদ্ধ অভিযানে শুধু সামরিক খাতই নয়, বরং দেশটির বেসামরিক অর্থনীতিও পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

    ইসরাইলের কর প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবিনামা জমা পড়েছে। এসব দাবিনামার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

    ইহুদিবাদী ইসরাইলের অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ক্যালক্লিস্ট’ বলছে, সব বেসামরিক খরচ মেলালে এই অঙ্ক ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা তেল আবিবের বর্তমান বাজেটের ওপর এক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

    ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তেল আবিবের অর্থনীতিকে অসহনীয় দশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ঋণের বোঝা জিডিপির ৭২ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে, ধারণা করছে সংবাদ ইহুদিবাদী মাধ্যম ‘মাআরিভ’।

    তেল আবিকের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের সামরিক ও বেসামরিক খরচ অন্তত ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরেও ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে ইসরাইলের দৈনিক খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

    এমন এক সঙ্কটময় মুহূর্তেও সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত ৪৮০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দের দাবি তুলেছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভাকে হয় সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাতে হবে, নয়তো মেট্রোরেল ও নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো স্থগিত করতে হবে।

    ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ করের পরিমাণ ব্যাপকভাবে না বাড়ালে এই বিপুল ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধের খেসারত হিসেবে আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলিদের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সেবা খাতের বাজেট কমানোর মতো ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

  • চৌগাছায় পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার

    চৌগাছায় পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার

    • উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল। তবে বহুকাল মাটির মধ্যে থাকায় সেটি জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’

      যশোরের চৌগাছায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার করেছে চৌগাছা থানা পুলিশ।

      ধবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরের কপোতাক্ষ ব্রিজঘাট এলাকা থেকে থেকে পরিত্যক্ত মর্টারশেলটি উদ্ধার করা হয়
    • পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমে কয়েকজন ব্রিজের নিচে গাছের ছায়ায় বসেছিলেন। এ সময় লোহার একটি বস্তু তাদের চোখে পড়ে। পরে তারা সেটি মাটির ভেতর থেকে বের করেন। বস্তুটি মর্টারশেল বুঝতে পেরে তারা থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মর্টারশেলটি উদ্ধার করে এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

      স্থানীয় ব্যবসায়ী কান্ত সরকার বলেন, ‘আমি ব্রিজঘাট এলাকায় পারবাজারে মাটির হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করি। দুপুরের দিকে আমরা কয়েকজন বসে কথা বলছিলাম। হঠাৎ লোহার এই জিনিসটি আমাদের চোখে পড়ে। আমরা সেটি মাটির ভেতর থেকে বের করি। পুলিশ খবর পেয়ে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’

    • উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল। তবে বহুকাল মাটির মধ্যে থাকায় সেটি জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।’

      চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আমিন শিকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সেটি উদ্ধার করেছে। এটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুদের ব্যবহার করা একটি শক্তিশালী মর্টারশেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাটির ভেতরে থাকায় সেটি নষ্ট হয়ে গেছে।

  • ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে চিঠি ইরানের

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ তুলে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া এবং বেআইনি আগ্রাসনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার এবং জর্ডান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে এই পত্র পাঠানো হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    আমির সাঈদ ইরাভানি তার চিঠিতে বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

    চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    চিঠিতে জানানো হয়, ওই পাঁচটি দেশ আগ্রাসনকারীদের সামরিক সুবিধা দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত হয়েছে। ১৯৭৪ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সাধারণ পরিষদের ৩৩১৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী এই ধরনের পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সশস্ত্র হামলায় ইন্ধন যুগিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে বলে জানান ইরানের এই কর্মকর্তা। এর ফলে ইরানের যে ব্যাপক বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার তাদের নিতে হবে।

    একইসঙ্গে এই ধরনের অন্যায় তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জোরালো আহ্বানও জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

  • আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    আবারও বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন আশা দেখা যাচ্ছে। আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আর সেটি বৃহস্পতিবারের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এক্ষেত্রে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।

    সূত্র বলছে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিকল্প স্থান নির্ধারণের কথা ভাবা হচ্ছে। নয়তো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেই ফের বৈঠক হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পরবর্তী সংলাপ হবে কি না, তা এখন পুরোপুরি তেহরানের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘বল এখন ইরানের কোর্টে।’

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি চায়।

    তিনি বলেন, ইরান যদি এ বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে দুই দেশের জন্যই একটি ভালো চুক্তি সম্ভব।

  • ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    ইসরাইলের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি

    ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেই একটি ব্রেকিং নিউজ জানাচ্ছে ইতালির সংবাদ মাধ্যমগুলো।

    সেখানে বলা হয়েছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইসরাইলের সাথে দেশটির প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার ভেরোনায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালী আবার চালু করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো উচিত।

    ইসরাইলের সাথে ইতালির চুক্তিটি ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ইতালির রাজনৈতিক সরকারগুলো প্রতি পাঁচ বছর পরপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন করে আসছিল

  • চৌগাছায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি

    চৌগাছায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি

    যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।

    এক হাজার ৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে এবং বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩০টি হাট-বাজারে নির্ধারিত নতুন দামের চেয়েও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।

    রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার সলুয়া, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, চৌগাছা, পাতিবিলিা, হাকিমপুর, নারায়নপুর, পুড়াপাড়া, মাশিলা ও চাদপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে এর দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছিল ৩৮৭ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা ছিল।

    তবে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলিন্ডারের কৃত্রিম সঙ্কটের অজুহাতে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।

    রোববার বিকেলে উপজেলার চৌগাছা বাজারে খুচরা এক বিক্রেতা বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমি প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি।’

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে ডিলাররা ১০ থেকে ১২টি করে সিলিন্ডার দিতেন। এখন তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার দেন। দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেন। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী অল্প লাভে ব্যবসা করি।’

    চৌগাছা বাজারের আম্রকানন পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে এই গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।’

    যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তাদের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন:  ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ২০ বছর বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ২০ বছর পর্যন্ত স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান এ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে, ৫ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখার পাল্টা প্রস্তাব দেয়। এ নিয়ে ইসলামাবাদের আলোচনার একপর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র বাক্য বিনিময়ও চলে বলে জানা গেছে।

    ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে একে অপরের কাছে প্রস্তাব বিনিময় করেছে, কিন্তু কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।

    তবে আলোচনার ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে, একটি শান্তি চুক্তির পথ এখনো খোলা থাকতে পারে এবং সম্ভবত দ্বিতীয় দফায় সরাসরি আলোচনার সুযোগ রয়েছে।জানা গেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এই সংঘাতের একটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়।

    এ বিষয়ে সতর্ক করে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে—যেন ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মূল বাধাই ছিল তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ।

    ওয়াশিংটন তাদের প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর ২০ বছরের স্থগিতাদেশের কথা বললেও, নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী—তেহরান জানিয়েছিল, তারা কেবল ৫ বছরের জন্য এটি করতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদ বৈঠকে দুই দেশ পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়ে প্রস্তাব বিনিময় করলেও চুক্তির মেয়াদের ব্যাপারে তারা অনেক দূরে অবস্থান করছে।

    দুজন ইরানি ও একজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তেহরান ৫ বছরের প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন ২০ বছরের জন্য জেদ ধরে ছিল।

    এই প্রস্তাব ইঙ্গিত দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। এর আগে তারা দাবি করে আসছিল, তেহরানকে স্থায়ীভাবে তাদের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমারের মতে, মতবিরোধের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হয়তো শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে।

    গত দশকের মধ্যে এটিই ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।

    তবে পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে অচলাবস্থার কারণে ইসলামাবাদ বৈঠক শেষ হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, সংলাপ এখনো চলমান রয়েছে। এমনকি সোমবার থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করা সত্ত্বেও একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনার ভেতরের চিত্র

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল সেরেনা হোটেলের দুটি আলাদা কক্ষ এবং একটি কমনরুমে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মূল কক্ষে ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। ফলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে বিরতির সময় বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিজ দেশে বার্তা পাঠাতে দেখা যায়।

    পাকিস্তানি সরকারের একটি সূত্র জানায়, ‘আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় অগ্রগতির জোরালো আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়।’

    প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনায় যখন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার প্রসঙ্গ আসে—বিশেষ করে হামলা না চালানো এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়—তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বেশ কড়া ভাষায় কথা বলেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করতে পারি যখন গত জেনেভা বৈঠকেও আপনারা বলেছিলেন— কূটনীতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করবে না?’

    উল্লেখ্য, জেনেভা আলোচনার দুই দিন পরেই ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ ছিল। ওয়াশিংটন শুধু পারমাণবিক ফাইল ও হরমুজ প্রণালির ওপর গুরুত্ব দিলেও তেহরান আরও বিস্তৃত একটি সমঝোতা চেয়েছিল।

    একপর্যায়ে আলোচনা কক্ষে উচ্চকণ্ঠ শোনা গেলে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানি কর্মকর্তারা টি-ব্রেকের কথা বলে দুই পক্ষকে আলাদা ঘরে নিয়ে যান।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনা প্রায় ‘৮০ শতাংশ’ সফল হয়েছিল, কিন্তু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় এমন কিছু বিষয়ে আটকে গিয়ে তা থমকে দাঁড়ায়।

    এদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সকালে ফোন করেছিল এবং ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত—ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না, এবং ট্রাম্পের দল এই ‘রেড লাইনের’ ব্যাপারে অনড় রয়েছে। তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  • হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    হরমুজ প্রণালী অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো

    কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে না সামরিক জোট ন্যাটো।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) জোটভুক্ত দেশগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়।

    ন্যাটো সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে জড়াতে চায় না সদস্য রাষ্ট্রগুলো। তারা পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার পক্ষে মত দিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ন্যাটোর এমন অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হতে পারেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের উদ্যোগে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে।যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা এই অবরোধকে সমর্থন করছি না। যত চাপই আসুক, আমরা সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াব না।”

    জার্মানি, স্পেন, ইতালি, পোল্যান্ড ও গ্রিসসহ ন্যাটোর আরো কয়েকটি দেশও হরমুজ প্রণালীতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিষয়টি নাকচ করেছে।

    অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি আন্তর্জাতিক মিশন গঠনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ন্যাটোর এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার ট্রাক খাদে পড়ে প্রাণ গেল ৭ জনের

    কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকের উল্টে খাদে পড়ে ৭ জন নিহত এবং অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার হাসানপুর এলাকায় তাসফিন পাম্পের উল্টো পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার খালিবপুর এলাকার মো. আজাদের ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫), একই এলাকার আলমের ছেলে সোহরাব হোসেন (৪০), ফজলুর রহমানের ছেলে সালেক (৪৫), বিরাপুর উপজেলার ভাইঘর উপজেলার উপজেলার পলাশের ছেলে সুমন (২১), একই গ্রামের বিষ্ণু (৩৫), মজিরুল ইসলামের ছেলে আবু হোসেন (৩০) ও রাকিবুল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ (৫৫)

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর থেকে চট্টগ্রামগামী চাল বোঝাই একটি ট্রাক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের উপর অবস্থানরত ১৩ যাত্রী ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।

    দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৬ জন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলো থানায় রাখা আছে। স্বজনরা এলে তাদের কাছ লাশ বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের কারণে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

    ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

    একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা কাটছে না, ঠিক তখনই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্ব এখন জ্বালানি, খাদ্য এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি- এই তিন ধাক্কার মুখোমুখি।

    দারিদ্র্য বিমোচনে নিয়োজিত এই সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পথে অর্জিত সাফল্যগুলোকে উল্টো দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অনুভূত হবে। বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, যুদ্ধ থামলেও (যুদ্ধবিরতি) ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

    ইউএনডিপির এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় ওয়াশিংটনে আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। সংস্থাটি বলছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয় সামাল দিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।

    সংস্থাটি যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখেছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অর্থাৎ, যদি তেল ও গ্যাস উৎপাদনে ছয় সপ্তাহ বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং পরের আট মাস ধরে উচ্চমূল্যের প্রভাব বজায় থাকে- তাহলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়বেন।

    প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত ‘আপার-মিডল-ইনকাম’ বা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা অনুসরণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের দৈনিক আয় ৮ দশমিক ৩০ ডলারের কম, তাদের এই সীমায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই হারের অর্ধেকই দেখা যাবে জ্বালানি আমদানিকারক ৩৭টি দেশে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে

  • নেতানিয়াহুর এক ফোনকলেই ভেস্তে যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

    নেতানিয়াহুর এক ফোনকলেই ভেস্তে যায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক ফোনকলেই ভেস্তে গেছে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি এ দাবি করেছেন। খবর এনডিটিভির।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে ফোন করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরপরই ব্যাহত হয় আলোচনা।

    আরাগচি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর ফোনের পরই বৈঠকের গতিপথ বদলে যায়। ওই ফোনকল আলোচনার মনোযোগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে সরিয়ে ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে নিয়ে যায়।

    দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই ফিরে গেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    ইরানের দাবি, তারা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তবে আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দেয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং বিদ্যমান ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করা। ইরানের পক্ষ থেকে এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের ৭ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতির বাকি আছে ৯ দিন। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি শেষ হলে আবারও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি তিন অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জোটেও ফাটল ধরিয়েছে এ কূটনৈতিক ব্যর্থতা। স্পেন ও ইতালি জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এছাড়াও, ন্যাটোর অনেক দেশও এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেয়নি।

  • মার্কিন নৌ-অবরোধও দমাতে পারছে না ইরানের তেল রফতানি:  মুখ থুবড়ে পড়ার পথে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা

    মার্কিন নৌ-অবরোধও দমাতে পারছে না ইরানের তেল রফতানি: মুখ থুবড়ে পড়ার পথে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা

    মার্কিন নৌ-অবরোধের তোয়াক্কা না করেই তরতরিয়ে বাড়ছে ইরানের তেল রফতানি। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর সমুদ্রে কড়া নজরদারি যেন এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। সমুদ্রপথে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন সংস্থা জানাচ্ছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখেও ইরান তাদের তেল রফতানির গতি আগের চেয়ে তিনগুণ বাড়িয়েছে।

    মূলত অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে বিশাল এক ‘ভুতুড়ে জাহাজ বহর’ বা ঘোস্ট ফ্লিট ব্যবহার করে চীনসহ বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছে দিচ্ছে তেহরান।

    ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এবং সাগরপথে জাহাজের আনাগোনা নজরদারি করে এমন তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা বা ডাটা ট্র্যাকিং সাইটগুলোর অন্যতম ড্রপসাইট-এর বরাতে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ইরানের প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলই হলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল।

    সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও এই বিশাল পরিমাণ তেলের চালান আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাদের তথ্যমতে, ইরানের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই যাচ্ছে চীনের বাজারে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এমন সব ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে, যেগুলো নিজেদের রেডিও এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে রাখে। বর্তমানে এমন ১২৯টি ট্যাঙ্কার শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো কোনো ধরনের সিগন্যাল ছাড়াই সমুদ্র চষে বেড়াচ্ছে।

    ইরানের পারমাণবিক এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নজরদারির কাজে নিয়োজিত মার্কিন শক্তিশালী তদারকি সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান বা ইউএএনআই স্যাটেলাইট ছবির সূত্র ধরে জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে অন্তত ১৫টি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার দেখা গেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার জোহোর উপকূলের কাছে প্রায় ৯৬টি ট্যাঙ্কার নোঙর করে আছে, যেগুলোকে মূলত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা ভুতুড়ে বহর বলা হয়। সেখানে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল সরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে সেগুলো চীনের বন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

    একই চিত্র দেখা যাচ্ছে মালাক্কা প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরেও। অন্যদিকে ওমান সাগরেও ইরানের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী চাপ আর অবরোধের মুখেও ইরান তাদের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রফতানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

  • পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

    ‘বিশ্ব আজ নানা সঙ্কট ও সঙ্ঘাতে বিপর্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

    আগামীকাল ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেয়া এক বাণীতে তিনি পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে স্বাগত জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সাথে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তার ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

    তিনি বলেন, বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

    তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হলো কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এ কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

    তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সঙ্কট ও সঙ্ঘাতে বিপর্যস্ত। এ প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরো জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি-এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারো আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

  • টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

    টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

    একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।

    শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।

    এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।

    অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়।

    সরকারি টিকা

    সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

    • বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।
    • পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।
    • ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়।
    • পিসিভি (নিউমোকক্কাস কনজুগেট ভ্যাকসিন): এই টিকা মূলত নিউমোকক্কাস নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) এবং রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে সুরক্ষা দেয়
    • এমআর (মিজেলস রুবেলা): এটি এমন একটি টিকা, যা শিশুকে হাম ও রুবেলা- এই দুটি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। হাম হলে শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি ও কাশি হয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের রুবেলা হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু টিকা নেয়া থাকলে মায়ের এই ঝুঁকি থাকে না।
    • ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস)/টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া)/ টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)/ ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস): শরীরের কাটা বা আঘাত থেকে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে এই টিকা দেয়া হয়।
    • র‍্যাবিস: কুকুর, বিড়াল, বানর ইত্যাদি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক প্রতিকারে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের খরচেই টিকা কিনতে দেখা গিয়েছে।

    এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সরকারিভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে।

    সরকারি এসব টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র , কমিউনিটি ক্লিনিক বা টিকা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার সময় গ্রহণ করলে সরকার এর খরচ বহন করবে।

    এর বাইরে নিজের সুবিধামতো সময়ে টিকা নিতে গেলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে একটা খরচ দিতে হতে পারে।

    বেসরকারি টিকা

    বেসরকারি টিকা হলো সেই সব টিকা, যা দেয়া বাধ্যতামূলক নয়, এগুলো মূলত শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

    সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসব টিকা কিনে প্রয়োগ করতে হয়। বেসরকারি টিকার মধ্যে রয়েছে।

    • রোটাভাইরাস: ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া যেতে পারে।
    • ভারিসেলা: চিকেনপক্স বা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা পেতে এই টিকা ব্যবহার হয়।
    • হেপাটাইটিস এ: এই টিকা শিশুকে জন্ডিস বা লিভার সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর টিকা।
    • টিসিভি (টাইফয়েড কনজুগেট): শিশুকে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইফয়েড মূলত বদহজম, খাবার বা নোংরা পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
    • ইনফ্লুয়েঞ্জা: এই টিকা শিশুকে সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথা ব্যথা থেকে রক্ষা করে। আবার যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশ জরুরি টিকা, এতে তার হাঁপানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
    • এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা): হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়।
    • এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস): এই টিকা মেয়ে শিশু, কিশোরী ও নারীদের গর্ভাশয়ের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
    • মেনিনোকোক্কাল: মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।
    • ইটিইসি: কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া হয়।

    টিকা ভেদে বেসরকারি টিকার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ডোজ আনুমানিক এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। হাসপাতাল ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।

    কখন কোন টিকা দিতে হবে

    শিশুর পূর্ণ সুরক্ষার জন্য অনেক পরিবার শুধু সরকারি টিকাগুলো দিয়ে থাকে আবার অনেকে সরকারি বেসরকারি দুই ধরনের টিকাই দেয়।

    অনেকেই প্রশ্ন করেন, সব টিকা কি নেওয়া জরুরি, নাকি সরকারি টিকাই যথেষ্ট?।

    এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ জানান, “সরকারি টিকা কিছু রোগ থেকে শিশুর জীবন রক্ষার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি আর বেসরকারি টিকা আরো অন্যান্য কিছু রোগের ব্যাপারে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে”।

    তবে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সময়সূচি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

    জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস

    বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

    ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

    বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

    সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পর পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারি বিসিজির এক ডোজ টিকা নিতে হয়। এটার আর কোন বাড়তি ডোজ নেই।

    শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি টিকার একটি করে মোট তিনটি ডোজ দেয়া হয়। পোলিওর ওপিভি দু’ফোঁটা করে মুখে এবং বাকি দুই ডোজ আইপিভি টিকা শিশুর উরুর মাংসপেশিতে দেয়া হয়।

    এর চার সপ্তাহ পর অর্থাৎ শিশুর ১০ সপ্তাহ বয়সে তিনটি টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। আরো চার সপ্তাহ পর শিশুর ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পোলিওর তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়। ১৮তম সপ্তাহে দেয়া হয় পিসিভির তৃতীয় ডোজ।

    মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ পরে বেসরকারি মেনিনজোকোক্কাল টিকা দেয়া যেতে পারে। এর তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হবে।

    শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি রোটা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা দেয়া যেতে পারে। দুটি ডোজের মাঝখানে চার সপ্তাহের ব্যবধান রাখতে হবে।

    শিশুর ছয় মাস বয়সে বেসরকারি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার প্রথম ডোজ। এর চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ। তারপর প্রতি বছর ফ্লু এর মৌসুমের আগে এক ডোজ করে টিকা দেয়া যেতে পারে।

    নয় মাস থেকে দুই বছর

    শিশুর জন্মের নয় মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে সরকারি এমআর টিকা দিতে হয় সেইসাথে পোলিওর চতুর্থ ডোজের বুস্টার টিকা নিতে হবে। এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয় ১৫ মাস বয়সে।

    যদি সরকারি এমআর টিকা দেয়া না যায়, তাহলে শিশুর এক বছর বয়সে চাইলে বেসরকারি এমএমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এর চার থেকে ছয় বছর পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ।

    এমএমআর টিকা প্রাপ্ত বয়স্করাও নিতে পারেন।

    শিশুর এক বছর বয়সের পর বেসরকারি হেপাটাইটিস এ টিকার প্রথম ডোজ এবং এর ছয় মাস পর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়া যেতে পারে।

    শিশুর ১৫ মাস বয়সে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে সরকারি টিটি টিকা এবং সরকারি এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয়। এই ডোজটি প্রথম টিকার কার্যকারিতা আরও বাড়ায়।

    শিশুর এক থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে যেকোন সময় জলবসন্ত প্রতিরোধে দুই ডোজ বেসরকারি ভারিসেলা টিকা নেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজ নেয়ার চার থেকে আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে শিশুর যদি ইতিমধ্যেই জলবসন্ত হয়ে যায় তাহলে টিকার দরকার নেই।

    শিশুর ১৮ মাস বয়সে দেয়া হয় সরকারি ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস) বুস্টার ডোজ এবং সরকারি ওপিভি (পোলিও) বুস্টার ডোজ।

    মূলত প্যান্টাভেলেন্ট ও পোলিওর তিন ডোজ নেওয়ার পরে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই দুটো বুস্টার ডোজ দেয়া হয়।

    শিশুর দুই বছর বয়সের পর কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বেসরকারি ইটিইসি টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এরপর এক সপ্তাহ অন্তর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।

    শিশুর দুই বছর বয়সের পর বেসরকারি টাইফয়েডের প্রথম ডোজ টিকা। এরপর প্রতি তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হয়।

    পাঁচ থেকে ১৬ বছর

    পাঁচ বছর বয়সে শিশু স্কুলে যাওয়ার আগে তাকে ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস) টিকা দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ে শিশুর সামাজিক মেলামেশা বাড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

    ১০ বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুদের তিন ডোজে বেসরকারি এইচপিভি টিকা দেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজের পর এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ, এরও ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।

    পরে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের সরকারি টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া) টিকা দেয়া হয়। কিশোরীদের এই টিকা দেয়া হলে সে এবং তার ভবিষ্যত প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকতে পারে।

    অন্যদিকে শিশুর বয়স ১৫ বছর হওয়ার পর এবং মা হওয়ার আগে পাঁচ ডোজ সরকারি টিটি টিকা নিতে হয়। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, এর ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এক বছর পর চতুর্থ ডোজ, আরো এক বছর পর পঞ্চম ডোজ টিকা।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদের মতে, প্রতিটি টিকা সময়সূচি মেনে পূর্ণ ডোজ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমে আসতে পারে।এজন্য বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। বুস্টার ডোজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনরায় সক্রিয় বা শক্তিশালী করে।

    ডোজ মিস হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ তৈরি হয় না, ফলে যেকোনো সময় ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    তাই কোনো কারণে টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে দ্রুত কাছের টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকাটি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেনজির আহমেদ।

    তিনি বলেন, “টিকা দেয়ার একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এখানে জরুরি হলো কোন টিকা সময়ের আগে দেয়া যাবে না। কিন্তু কোন ডোজ দেয়ার সময় পেরিয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেরিতে হলেও দেয়া যাবে”।

    টিকা দেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও প্রচলিত ভুল ধারণা

    অনেক অভিভাবক এখনও টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভয় পোষণ করেন বিশেষ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। এসব নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।

    যেমন অনেকেই টিকা দিতে ভয় পান কারণ টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো টিকা নেয়ার পর শিশুর হালকা জ্বর বা ব্যথা হতে পারে, শিশু ছটফট করে কান্নাকাটি করতে পারে, টিকা দেওয়ার স্থানে সামান্য ফুলে বা লাল হয়ে যেতে পারে। যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    এসব লক্ষণ সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে অতিরিক্ত জ্বর বা খিঁচুনি হলে, শিশু শকে চলে গেলে, শরীরের কোন অঙ্গ অবশ হয়ে গেলে, টিকা দেয়ার স্থানে সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    আরেকটি ধারণা রয়েছে যে একসাথে এতো টিকা দিলে ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীর সময়সূচি মেনে সব টিকা সামলাতে সক্ষম।

    অনেকেই মনে করেন সরকারি টিকাই যথেষ্ট, বাকি দরকার নেই। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, চাইলে যে কেউ যথাযথ সময়সূচি মেনে বেসরকারি টিকা নিয়ে কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

    অনেকে আবার মনে করেন, আমার বাচ্চা বাসায় থাকে, টিকার দরকার নেই। তবে বাস্তবতা হলো সংক্রমণ শুধু বাইরে থেকে আসে না, পরিবার, অতিথি, এমনকি বাতাসেও ছড়াতে পারে।

    চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে হার্ড ইমিউনিটি অর্থাৎ, একটি সমাজের বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিলে পুরো সমাজই সুরক্ষিত থাকে।

    সেক্ষেত্রে শিশুর টিকাদান শুধু কোন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব।

    কারণ একটি শিশুকে টিকা দেওয়া মানে শুধু তার নিজের সুরক্ষা নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্ম এবং সমাজ সুরক্ষিত থাকে। তাই একটি শিশুর টিকা নেওয়া মানে অন্যদেরও রক্ষা করা।

  • লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম

    লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ল ফার্নেস অয়েলের দাম

    ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।

    এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য প্রতি লিটার ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ১ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্ল্যাটস রেটের গড় এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২(খ) ও ৩৪ এ প্রদত্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হয়েছে।

    জানা গেছে, ফার্নেস অয়েল মূলত বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি/বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে এবং শিল্প কারখানা এবং অন্যান্য গ্রাহক ব্যবহার করে।

  • নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু

    নদীতে কলাপতা করে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।

    আজ ভোরের দিকে শিশু থেকে নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে গঙ্গা মা-এর উদ্দেশ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৩ ভাষাভাষির ১৫টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাহাড়ি জাতিসত্তাদের বসবাস। এসব জাতি গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, পাতা। তবে এ উৎসবকে বিভিন্ন সম্প্রদায় নানান নামে অভিহিত করলেও এর নিবেদন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে। আজ ‘ফুল বিজু’র দিন ভোরে কলাপতায় ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে পাহাড়ের বসবাসরত জনগোষ্ঠীরা।

    সকালে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতার উদযাপন কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সকালে রাজ বন বিহার পুর্বঘাটে পানিতে ফুল নিবেদন করা হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া পৃথক পৃথকভাবে রাঙামাটি শহরে কোরানী পাহাড়, আসামবস্তি, গর্জনতলীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসব মুখর পরিবেশে পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোকজন। শহরের কোরানী পাহাড় এলাকায় ভোর থেকে শত শত নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী নিজস্ব পোশাকে কলাপাতায় করে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল নিবেদন করেছেন।

    শহরে কোরানী পাহাড়স্থ কাপ্তাই হ্রদে ফুল নিবেদনে আসা রিপা চাকমা, নন্দিতা চাকমা, রকি চাকমা জানান, উৎসবের প্রথম দিনে ‘ফুল বিজুতে’ পুরাতন বছরের সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, গ্লানি, বেদনা, ভয়, অন্তরায় উপদ্রবকে মুছে ফেলে দিয়ে নতুন বছর যাতে সুখ-শান্তি, অনাবিল শান্তি বয়ে আনে সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কলাপাতার মাধ্যমে পানিতে গঙ্গা মা এর উদ্দেশ্য ফুল নিবেদন করতে এসেছেন।

    তারা আরও জানান, এ উৎসবটি পাহাড়ি সম্প্রদায়ের এ সংস্কৃতির অংশের একটি ধাপ। ‘ফুল বিজু’র দিন বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মেলা বসে থাকে। এ দিনে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। এছাড়া বিশেষ করে বিগত বছরে অনেক ঝামেলা হয়েছে। তাই ভগবান বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে নতুন বছর যাতে শান্তিতে কেটে যায়। এছাড়া ফুল বিজুর দিনে ফুল দিয়ে বাড়ি ঘর সাজানো হয়। তরুণ-তরুণীরা পাড়ায় পাড়ায় বৃদ্ধদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্নান করায়। সন্ধ্যায় বৌদ্ধ মন্দির, নদীর ঘাটে, বাড়ীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করে থাকে। কাল সোমবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এ দিনে বাড়িতে বাড়িতে চলে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-পূর্তি। ৩০ থেকে ৪০ প্রকারের তরকারি দিয়ে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। পরদিন রয়েছে গজ্যাপজ্যা বিজু। এ দিনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে অর্থাৎ পহেলা বৈশাখকে চাকমারা গজ্যাপজ্যা বিজু, ত্রিপুরা-বিসিকাতাল, মারমা-সাংগ্রাই আপ্যাইনং বলে অভিহিত করে থাকেন। এদিনে পাহাড়িরা সারাদিন ঘরে বসে বিশ্রাম নিয়ে থাকে এবং বৌদ্ধ মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে যত্নসহকারে ভাত খাওয়ানোসহ আর্শীবাদ নিয়ে থাকেন।

    বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টু মনি তালুকদার বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিন পার্বত্য জেলায় বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান, পাতা-এর উৎসব খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করছি। এবার নতুন বছরের প্রত্যাশা হচ্ছে সকল গ্লানি মুছে ফেলে, অতীত সব কিছু ভুলে গিয়ে আমরা নতুনভাবে অগ্রসর হবো। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়কে নিয়ে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাবো এবং আমরা যাতে একিভূত হয়ে বিজুর দিনগুলো উপভোগ করতে পারি সে আহ্বান জানান।

  • গণআন্দোলন ছাড়া সরকার ‘সংস্কার’ বাস্তবায়ন করবে না: নাহিদ ইসলাম

    গণআন্দোলন ছাড়া সরকার ‘সংস্কার’ বাস্তবায়ন করবে না: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আমরা সবাই এক জায়গায় আছি। আমরা সেই ঐক্যের জায়গায় আছি যে বাংলাদেশকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। এবং এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।

    মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

    সরকার কখনো সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সংসদে সবকিছুর সমাধান হবে। কিন্তু সংসদকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। এবার আমাদের গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলন ছাড়া সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না। তবে এবার আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক রাজপথে নামতে হবে। এবার আর ব্যর্থ কিংবা অর্ধেক সফল হতে চাই না।

    তিনি বলেন, সংস্কার কোনো দলের না। এটা বাংলাদেশ রক্ষার দাবি। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এবার আমরা মঞ্চে যারা বসে আছি তারা সামনে দাঁড়াবো। গুলি আসলে আগে আমাদের বুকে লাগবে। আপনারা সহযোগিতা করবেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে। সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি বাধা দিলে তাদের পরাজিত করা হবে।

    শহীদ পরিবার নিয়ে সরকার ব্যবহার করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতরা এদেশের সম্পদ। তাদের নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের দাবি সমর্থন করলে আমাদের সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সরকার কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনও একাত্তরের নাম ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন কাজের বৈধতা দিচ্ছে। কিন্তু চব্বিশ এবং একাত্তর কোনোটিকেই ধারণ করে না তারা।

    বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ পেছনের দিকে হাঁটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এদেশের গণআন্দোলনের সুফল বিএনপি ভোগ করেছে। নব্বই এর গণঅভ্যুত্থানের সুফল তারা ভোগ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসে তিন জোটের রূপরেখাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখনও জুলাই সনদ এবং অধ্যাদেশ প্রত্যাখ্যান করছে।’

    এসময় অনুষ্ঠানে এগারো দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • > জাতীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিল সরকার

    > জাতীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিল সরকার

    সারা দেশে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

    দেশের সকল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক স্বল্পতা এবং এনটিআরসিএ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব হওয়ার কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গুণগত ও মানসম্পন্ন শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে সক্ষম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির অনুমোদনক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠনের বিষয়ে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

    উপজেলাভিত্তিক উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দিয়ে একটি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল গঠন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক (সকল)-কে অনুরোধ করা হলো।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও’র পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটি’র অনুমোদনক্রমে প্রয়োজনের নিরীখে সাময়িকভাবে পুল হতে শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের অত্যাবশ্যকীয় খাত থেকে এ সংক্রান্ত সম্মানী ব্যয় নির্বাহ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকাকে অনুরোধ করা হলো।

    এদিকে স্কুল, কলেজ, মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    আজ রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে একটা কমিশন করা যেতে পারে। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন করা যায়, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার আরো উন্নতি হবে। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি প্রক্রিয়াধীন। তবে করতে পারলে খুবই ভালো হবে। আমরা চেষ্টা করছি।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আহ্বান যুক্তরাজ্যের

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, কূটনৈতিক পথেই সমাধানের আহ্বান যুক্তরাজ্যের

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষকে ‘সমাধানের পথ খুঁজে বের করার’ আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ওমানের সুলতানের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন এবং বলেন, পরিস্থিতির আর কোনো উত্তেজনা যেন না বাড়ে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। স্টারমার মনে করেন, চলমান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর এখানে সব পক্ষই সংঘাত এঁড়িয়েছে।এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বিবিসির একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই ভেঙে পড়ায় তা হতাশাজনক।

    তবে তিনি যুক্তরাজ্যের অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, এই সংঘাতে সরাসরি যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

  • কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের আস্তানায়  জনতার হামলা নিহত -১

    কুষ্টিয়ায় কথিত পীরের আস্তানায় জনতার হামলা নিহত -১

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামিম নামের এক ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে আস্তানাটির প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) নিহত হন। আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত ওই পাকা স্থাপনায় হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। ধর্ম নিয়ে কটূক্তির জেরে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন, এমন অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁর আস্তানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে শামিমসহ কয়েকজন আহত হন।

    পরে পুলিশ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক জানান, শামিম মারা গেছেন। তিনি ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি।’

    পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান, তাঁরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

  • ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান

    ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর পেল ইরান

    ইসলামাবাদে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে জব্দ করে রাখা ইরানের অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর আন্তরিকতার লক্ষণ’ হিসেবে দেখছে তেহরান। খবর রয়টার্স।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    তিনি আরও জানান, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে এবং এই পদক্ষেপ সেই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    তবে কত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সে বিষয়ে প্রথম সূত্রটি নির্দিষ্ট কিছু জানায়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ইরানি তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে ওয়াশিংটন।

    এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    আট বছর ধরে জব্দ অর্থ

    উল্লেখিত ৬ বিলিয়ন ডলার ২০১৮ সালে জব্দ করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ার কথা ছিল। তবে ওই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামলার পর হামাসের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন আবারও এই অর্থ স্থগিত করে।

    সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণভাবে তা আটকে রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

    এই অর্থের উৎস মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিল। ২০১৮ সালে তার প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এই অর্থ জব্দ হয়ে যায় এবং তেহরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর পারমাণবিক চুক্তিও বাতিল করা হয়।

    বন্দি বিনিময় ও শর্তযুক্ত ব্যবহার

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দোহা’র মধ্যস্থতায় হওয়া বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তিতে ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিক মুক্তির বিনিময়ে অর্থ ছাড় এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়।

    তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের আলোচনায় এই অর্থ ছাড়ার বিষয়টি যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা কমাতে এবং বৃহত্তর সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।

  • যেভাবে নিরর্বাচিত হয় সংরক্ষিত নারী আসনে

    যেভাবে নিরর্বাচিত হয় সংরক্ষিত নারী আসনে

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত হয় ভোটের কয়েক দিন আগে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।

    এর মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাত জন, যার ছয়জনই বিএনপির এবং একজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।

    বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকেন আর এর বিপরীতে নির্বাচিত হতেন; কখনো কখনো বিরোধী দলের নারী প্রার্থীরা কয়েকটা আসনে।

    সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন ৩০০ আসনের মধ্যে আসনভিত্তিক আনুপাতিক হারে।

    জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন ২০০৪ অনুসারে, অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দলের ছয় জন যদি নির্বাচিত সাংসদ হন, তাহলে ওই দল থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হবেন।

    তখন ওই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ওই বিশেষ রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন এবং সেই দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারবেন ওই প্রার্থী। এই নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে থাকে নির্বাচন কমিশন। ভোটের জন্য একটি দিনও নির্ধারিত রাখা হয়।

    বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেও দলগুলো আসন সংখ্যা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার দিনই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো।

    এবার কোন দল কতটি আসন পাবে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। দলটি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। এর বাইরে বিএনপি জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদ একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি একটি আসনে জয় পায়।

    সেই হিসাবে বিএনপি জোট এই ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। আইন অনুযায়ী আসনসংখ্যার ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টন হবে এবারও।

    প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকায় অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাবে বিএনপি জোট। বাকি তিনটি আসনের ভোট ও ফলাফল চূড়ান্ত হলে বাড়তি আরো একটি আসন পেতে পারে।

    এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীও জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। দলটি এককভাবে ৬৮টি আসন, এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।

    সেই হিসাবে জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসনের বিপরীতে ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে জানাচ্ছেন নির্বাচন বিশ্লেষকেরা।

    এই নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয় পেয়েছে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একত্রে জোটবদ্ধ হলে তারা অন্তত একটি আসন পেতে পারেন।

    যেভাবে সংরক্ষিত আসন চালু

    এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩টি জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সংসদে নারী আসনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এবং ৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদে ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। তবে ১৯৮৮-৯০ মেয়াদে চতুর্থ সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না।

    ’৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ গণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই সংসদেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল।

    ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিএনপির একতরফা ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ৩০টি সংরক্ষিত আসন ছিল। ওই নির্বাচনটি বাতিল হলে ওই বছরের জুন মাসে সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখনও ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

    অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে সরক্ষিত নারী আসন বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। পরবর্তীতে নবম জাতীয় সংসদে নারী আসন বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়।

    ধাপে ধাপে জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হলেও এই নির্বাচন পরোক্ষভাবে হওয়ায় নারী ক্ষমতায়ণ কতখানি নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনে নির্দিষ্ট এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এলেই প্রকৃতভাবে নারীর ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করা সম্ভব। না হলে এই নারী আসন শুধু অলংকারিকভাবেই ক্ষমতায়িত হবে।

    যেভাবে বন্টন হয় সংরক্ষিত আসন

    আসনবণ্টন বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যদের জন্য কোনও নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকা নেই। তারা কেবল দলীয় বা জোটের সদস্য হিসেবে পরিচিত হবে। এক্ষেত্রে দল বা জোটের প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে মহিলা আসন বণ্টিত হবে। নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জোটবদ্ধ হয়ে তাদের অংশ হিসেবে মহিলা আসন বন্টনের সুবিধা নিতে পারবে।

    বর্তমানে সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৫০। এই ৫০ সংখ্যাকে ৩০০ (দেশের নির্বাচনি এলাকা) দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে সেটাকে কোনও দল বা জোটের যে সংখ্যক সদস্য শপথ নিয়েছেন তা দিয়ে গুণ করলে যে ফল পাওয়া যাবে, সেই সংখ্যক মহিলা সদস্য হবে ওই দল বা জোটের। গুণফল ভগ্নাংশ হলে সেক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ (০.৫) বা তার থেকে বেশি সংখ্যকের জন্য একটি আসন পাওয়া যাবে। অর্থ্যাৎ ০.৫ এর বেশি হলে এক এবং কম হলে শূণ্য গণনা হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে বণ্টিত আসন সংখ্যা মোট আসনের (৫০) থেকে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

    উহাদরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, এবার জামায়াতে ইসলামী সংসদে ৬৮টি আসন পেয়েছে। এই হিসাবে এ দলটির ১১টি সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পাওয়ার কথা। [৫০÷৩০০ = ০.১৬৬৭। এরপর ২২x০.১৬৬৭= ১১.৩৩৬] এখানে .৩৩৬ এর জন্য শূণ্য গণনা হবে।

  • যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    যেসব বিষয় প্রাধান্য পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায়

    পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

    উভয় পক্ষ যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো।

    তেহরান জোর দিয়ে বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

    ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি চায়, যেখানে মার্চ মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে এটি এর অংশ।

    ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের সম্পদ থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং বছরের পর বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞার উল্লেখযোগ্য শিথিলতার বিষয়ে আগ্রহী, তবে তা কেবল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের বিষয়ে ছাড় দেওয়ার বিনিময়েই।

    ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার কর্তৃত্বের স্বীকৃতি চায়, যেখানে তারা ট্রানজিট ফি আদায় এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এই প্রণালি তেলের ট্যাংকার এবং অন্যান্য জাহাজের জন্য কোনো রকম সীমাবদ্ধতা ছাড়াই খুলে দেওয়া হোক, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের ওপর টোলও অন্তর্ভুক্ত।

    ছয় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের সময়ে হওয়া সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান ক্ষতিপূরণ দাবি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হোক। তেহরান বলছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার নিয়ে কোনো আপস চলবে না।

    ইরান চায় এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার, সব রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি এবং অনাক্রমণনীতির প্রতি অঙ্গীকার। ট্রাম্প একটি শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরান শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে লড়াই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

  • রামুতে ইয়াবাসহ একজন আটক

    রামুতে ইয়াবাসহ একজন আটক

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে রামু থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। থানা সূত্রে জানা যায় বৃহঃস্পতিবার দিবাগত রাতে রামু থানার এসআই অনুপ কুমার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    অভিযানের সময় রামু থানার চাকমারকুল ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীমুরা পূর্বপাড়া এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান (৩৬) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ড্রাইভিং সিটের নিচ থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

    আটক জিয়াউর রহমান (৩৬) চাকমারকুল ইউনিয়নের শ্রীমুরার বাসিন্দা আবদুল হাসিমের ছেলে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া।

  • সোনারগাঁয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    সোনারগাঁয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

    সোনারগাঁয়ে পুকুর থেকে ফুটবল তুলতে গিয়ে শুক্রবার দুপুরে পানিতে ডুবে আদনান ও আব্রাহাম নামে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা কাচঁপুর ইউনিয়নের রায়েরটেক এলাকায়। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী জানায়, আদনান (১০) ও আব্রাহাম (৭) দুই ভাই সকাল ১২টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে বল নিয়ে খেলা করছিল। পরে তাদেরকে দেখতে নাপেয়ে খোঁজাখুজি করতে থাকে পরিবারের লোকজন। খোঁজাখুজির একপর্যায়ে পুকুর থেকে একে একে দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

    তাদেরকে হাসপাতালে নিলে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। স্থানীয়দের ধারণা, খেলতে গিয়ে পুকুর থেকে বল তুলতে গিয়েই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা কুষ্টিয়া জেলার পিরোজপুর গ্রামে জিয়াউর রহমানের ছেলে। কাঁচপুরের রায়েরটেক খাঁন বাড়ির নিজাম খাঁনের বাসার ভাড়াটিয়া। আদনান ও আব্রাহাম কাঁচপুর পুরান বাজার এলাকায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ।

    সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ে মৃত্যুর খবর শুনেছেন।

  • খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

    খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু

    খুলনার রূপসা উপজেলায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করলেও তাকে ছিনিয়ে নিতে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। নিহত নারী মিম্মি বেগম (৪৪) খান মোহাম্মাদপুর গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে নাদিম ইসলামকে পুলিশ আটক করেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে পারিবারিক কলহের জেরে নাদিম ইসলামের সঙ্গে তার মা মিম্মি বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাদিম বাড়ির পাশে থাকা গাছের একটি ডাল ভেঙে মায়ের মাথায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মিম্মি বেগম ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়।

    রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে অভিযুক্ত নাদিম ইসলামকে আটক করা হয়। তবে তাকে ক্যাম্পে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় কিছু লোকজন বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানান, নাদিম কিছুদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধিদল

    পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধিদল

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের। ইরানের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সে সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছিলেন, লেবাননও এ যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর লেবাননে একাধিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এসব হামলায় এখনো পর্যন্ত লেবাননের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। এ পরিস্থিতিতে ইরান শর্ত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে আলচনায় বসতে হলে আগে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখনো এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে দুই পক্ষের মধ্যে।

  • যুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট

    যুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট

    ইরানে যুদ্ধে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রধান পিরহোসেইন কলিভান্দ দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘সারাদেশে মোট এক লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক স্থাপনা, যেগুলোর কিছু অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের স্থান ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি সেবাকেন্দ্রসহ মোট ৩৯৯টি চিকিৎসা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ কলিভান্দ বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৮৭৫টি শিক্ষা কেন্দ্র ও স্কুল এবং ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় হামলার শিকার হয়েছে।’ এছাড়া, রেড ক্রিসেন্টের ২০টি কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রেড ক্রিসেন্টের শাখা, ঘাঁটি বা গুদামের মতো ২০টি কেন্দ্রকে সরাসরি টার্গেট করা হয়েছে।’

  • ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

    ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু

    ইরানে আগামীকাল থেকে সব ব্যাংকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ব্যাংক সমন্বয় কাউন্সিল। সংস্থাটি জানায়, শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ইরানের সব ব্যাংকের শাখাগুলোতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত নির্দেশের আওতায় রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ব্যাংকের সদর দফতরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দেশটিতে কয়েক ধাপে হামলা চালানো হয়েছে।

    প্রথমে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হারুফ শহরে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর একই অঞ্চলের আরেকটি শহর আল-দুওয়াইর (খেরবেত এল-দুওয়াইর নামেও পরিচিত)-এ নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ শহরেও হামলা চালানো হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বৈরুতসহ লেবাননের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে এই তণ্ডবলীলা চালানো হয়। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এই হামলায় ১,১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কাতার ভিত্তিক গণ্যমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরুদ্দিন এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরায়েল দেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। বৈরুতের আকাশ বর্তমানে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং শহরজুড়ে আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে।

    লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স নিরবচ্ছিন্নভাবে হতাহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করে সুপরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই অভিযানকে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে চালানো ‘সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত আঘাত’ হিসেবে দাবি করেছেন। তার মতে, ‘অপারেশন বিপার্স’-এর পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।

  • জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হলেন লে. জেনারেল মিনহাজ

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স কমান্ডার হলেন লে. জেনারেল মিনহাজ

    সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) নতুন ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম। তিনি এ পদে মঙ্গোলিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরদেনেবাত বাতসুরির স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বুধবার (৮ এপ্রিল) এ নিয়োগের ঘোষণা দেন।

    মিনহাজুল আলম তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সর্বশেষ তিনি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি ১০ম পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং কক্সবাজারে বিভিন্ন অপারেশন তদারকি করেছেন।

    তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সন্ত্রাস দমন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

    জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও এই প্রথম নয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজের। এর আগে তিনি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পূর্ব তিমুরেও কাজ করেছেন সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে।

    সামরিক দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রেও অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সি.-র ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর করেছেন। পাশাপাশি ডিফেন্স স্টাডিজে মাস্টার্স এবং এমবিএ ডিগ্রিও অর্জন করেছেন তিনি।

  • আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

    আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

    চব্বিশের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে। গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। এ মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

    বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মামলায় ৩০ জন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন– সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো: আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

  • ঢামেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

    ঢামেকে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, জরুরি সেবা বন্ধ

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ঢামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা উত্তেজনা ছড়িয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    এই ঘটনায় উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকরা জানান, বিকেলে ঢাবির এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে আসেন। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) লিখে দেন। তবে কাঙ্ক্ষিত ওষুধ সরকারিভাবে হাসপাতালে সরবারাহ না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে তা বাইরে থেকে কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    এর কিছুক্ষণ পর ওই শিক্ষার্থী তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসকের লিখে দেওয়া ওষুধ বাইরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দফায় দফায় ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতির ডাক দেন এবং নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন।

  • ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    ইরান: নতুন পরাশক্তি ?

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে, সবচেয়ে ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র সামাল দিয়েছে; রক্তাক্ত হয়েছে, হারিয়েছে বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বকে- তবু ভেঙে পড়েনি। দিনের পর দিন বীরের মতো মাথা উচু করে লড়েছে, শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষকে বাধ্য করেছে আলোচনার টেবিলে আসতে। ৪০ দিন আগেও যা পুরোপুরি অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অহং মাটিতে মিশিয়ে কার্যত যুদ্ধজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে?

    রাজনীতি, জোট বা প্রোপাগান্ডা—সব কিছু সরিয়ে রেখে যদি কেবল বাস্তবতার দিকে তাকানো হয়, তবে একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই: ইরান এমন একটি দেশ যা মাথা নত করতে রাজি নয়। একে কেউ হয়তো কৌশল বলবেন, কেউ বলবেন টিকে থাকার লড়াই, কিংবা একরোখা জেদ—তবে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব।

    ইরান কোনো ছোটোখাটো শক্তির বিরুদ্ধে লড়েনি, তারা সরাসরি টক্কর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অন্য যে কোনো দেশ পিছিয়ে আসতো বা চুপচাপ আপস করে নিতো। কিন্তু ইরান তা করেনি। তারা সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে।

    এরপর আসে ইসরায়েলের কথা—যাদের কাছে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থা। কিন্তু ইরান অনবরত তাদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে, চাপ সহ্য করছে এবং পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এটি কেবল লোকদেখানো প্রতিরোধ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম অশান্ত একটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় লড়াই।

    সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইরানের পেছনে শক্ত কোনো ‘নিরাপত্তা ঢাল’ নেই। এই মুহূর্তে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি সামরিক সহায়তা বা গ্যারান্টি ছাড়াই তারা এগিয়েছে। এটি কেবল একটি সুচিন্তিত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি নেওয়ার অসীম সাহস মাত্র।

    হামলা, ক্ষয়ক্ষতি বা শীর্ষ নেতাদের হারানো—এসব ইরানের জন্য কোনো কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা। ইরান বড় বড় ধাক্কা খেয়েছে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশটির প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। তারা প্রতিবার নিজেকে সামলে নিয়েছে এবং লড়াই চালিয়ে গেছে। এই ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সহজে আসে না।

    রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি একটু দূর থেকে নিরপেক্ষভাবে দেখে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম দেশই এত চাপের মুখে এমন অটুট মনোবল দেখাতে পেরেছে। ফলে, ইরান এখনই পরাশক্তি—এমন দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দেশটির ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে, এ বিষয়ে অনেকেই একমত।

  • সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস

    সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা আইন’ পাস

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। পরে তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়। সংসদে পাস হওয়া ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলের মাধ্যমে অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে এসব অভিযোগ বাতিল করা হবে। এ ছাড়া এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ আইনত বাধা (বারিত) হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে, জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলো। এই সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকেও সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবে সরকার।

  • পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    পাকিস্তানে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকছেন যারা

    শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী শুক্রবার এ আলোচনা হওয়ার কথা।

    পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দিতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফের।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এই তথ্য জানিয়েছে।

  • হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    হুমকির পর ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ভয়াবহ পরাজয়: রাশিয়া

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ পরাজয় হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একতরফা, আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক’ হামলার কৌশল চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

    রাষ্ট্র মালিকানাধীন স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, কিছুদিন আগে ‘আরও আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী এবং বিজয় খুব সন্নিকটের’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে এসব নিয়ে অনেক লেখালেখিও করেছিলেন। কিন্তু সেগুলোর সবই এখন ভয়াবহভাবে হেরে গেছে। একতরফা ও উসকানিমূলক হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায়ই হামলা জোরদার করার ব্যাপারে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিতেন। সবশেষ মঙ্গলবার ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দেন। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তিনি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ৩৯ দিনের যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

  • যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক শুক্রবার

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের নিয়ে শুক্রবার বৈঠক আয়োজন করবে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুধবার (৮ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি দুই দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতিও দেশটি সংবেদনশীল। একইসাথে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইসলামাবাদ। শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ একটি টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনে আরো ভালো খবর দিতে পারব।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান ধ্বংসের হুমকির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে, তারা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরাইলের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর, দেশটির সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবাননও। এর জবাবে ইসরাইল রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় ও দেশটির দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করে। শরিফ বলেন, যুদ্ধবিরতি ‘সব জায়গায়’ প্রযোজ্য, লেবাননও এর অন্তর্ভুক্ত। তবে পরে ইসরাইল জানায়, লেবাননে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং সেখানে তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আকাশ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতি এসেছে। তারা ট্রাম্পের ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি ঠেকাতে কাজ করে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যস্থতায় সহায়তা করেছে তুরস্ক ও মিসরও। আর চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে ভূমিকা রেখেছে বলে বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন ট্রাম্প। দুই বছর আগে ইরানের সাথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বিনিময় এবং ওয়াশিংটনের সাথে কখনো টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে দুই পক্ষের সাথেই উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা আরো জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও বেইজিংয়ের মতো প্রভাবশালী অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনসংখ্যার আবাসস্থল পাকিস্তান। ইরানের সাথে তাদের ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনো দূতাবাস না থাকায়, সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থও দেখভাল করে ইসলামাবাদ।

  • যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের হামলা

    লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরপরই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার ও নাবাতিয়েহ এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিরতির চুক্তি ইরান-সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে চলা সঙ্ঘাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে- এই দাবি অস্বীকার করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, চুক্তির মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল।সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহ যে কোনো চুক্তির মধ্যে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। অন্যদিকে ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরাইলি সৈন্যরা লেবাননে ঢুকেছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরাইলের দখলে চলে যেতে পারে।

  • কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    কুয়েত, কাতার ও লেবানন : ইরান যুদ্ধে দুর্বিষহ জীবন বাংলাদেশি শ্রমিকদের

    প্রবাসের যে শহরগুলো একদিন ছিল রুটি-রুজির নিশ্চিন্ত আশ্রয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সেগুলো আজ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। কুয়েত, কাতার কিংবা লেবানন—মানচিত্রভেদে নাম বদলালেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দুর্দশার চিত্র সবখানে একই। মাথার ওপর যুদ্ধের ড্রোন আর মিসাইলের গর্জন, পায়ের নিচে অনিশ্চিত কর্মসংস্থানের মাটিÑদুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন আমাদের রেমিট্যান্সযোদ্ধারা।

    ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে কাতার ও কুয়েতে কঠোর বিধিনিষেধ আর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় কাজ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত শ্রমিক। অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলি হামলার লেলিহান শিখা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আশ্রয়হীন প্রবাসীদের। আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া আর পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে ফেরার পথও আজ রুদ্ধ তাদের। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশছাড়া এই মানুষগুলো এখন অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরানো এই মানুষগুলোর জীবনের নিরাপত্তা দেবে কে?

    কাতার : নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক ধস

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান কাতারে। প্রতিদিন আকাশে সন্দেহভাজন ড্রোন প্রতিরোধের ঘটনা এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় জাহাজে হামলার খবর সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। রাজধানীর মুশরিব ভিআইপি এলাকা, যেখানে একাধিক আমেরিকান প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে, সেখান থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে কাতার কর্তৃপক্ষ ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ করাসহ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

    কাতার প্রবাসী রিফাত আলম হিরো জানান, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসায় এসে কাজের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তারা এখন কাজ ও আয় হারিয়ে দিশাহারা।

    তিনি বলেন, অনেকের কাজ নেই, আয় নেই। ঘর ভাড়া আর খাবারের খরচ চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। দেশে ফিরতেও পারছেন না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অথচ আয় শূন্যের কোঠায়।

    সংকট আরো বেড়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। বর্তমানে শুধু কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট চালু থাকায় টিকিটের দাম সাধারণ প্রবাসীর নাগালের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে পাসপোর্ট জটিলতা। প্রবাসীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট নবায়নের জন্য জমা দিয়েও তারা তা সময়মতো ফেরত পাচ্ছেন না; ফলে জরুরি প্রয়োজনেও দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংকটকালে পর্যাপ্ত সতর্কতা বা কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

    অন্যদিকে দোহার পুরোনো সমুদ্রবন্দরে একটি পর্যটকবাহী ক্রুজ জাহাজ আটকা পড়ে থাকায় সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খুললেও স্বাভাবিক পরিবেশ এখনো ফিরে আসেনি।

    কুয়েত ও লেবানন : আতঙ্কের জনপদ

    কুয়েত থেকে জাহিদ হাসান অভি নামের এক বাংলাদেশি জানান, সেখানে যুদ্ধ আতঙ্কে জনজীবন থমকে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় প্রবাসীরা চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু পর্যটক কুয়েতে এসে আটকা পড়েছেন; কারণ কোনো বিমান চলাচল করছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় স্থবিরতা নেমে এসেছে সর্বত্র।

    অন্যদিকে লেবানন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে; ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি বর্ডার এরিয়া, দাহিয়ে ও বৈরুতের বিভিন্ন স্থানে তীব্র হামলা চলছে।

    লেবানন প্রবাসী আলমগীর জানান, বর্তমানে ৫০০-৬০০ বাংলাদেশি বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ৭০ শতাংশই অবৈধ হওয়ায় সেখান থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার হার খুবই কম। বর্তমানে হুন্ডি বা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। কাজ হারিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ।

    সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকটে নিরাপত্তা শঙ্কা, অর্থনৈতিক চাপ এবং মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে ভারী বোঝাটি বইতে হচ্ছে প্রবাসী শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীকে। নিজ ভূমিতে ফেরার আকুতি আর প্রবাসে টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা আজ বড়ই একা।

    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ২০২৬-এর ডেটামতে, কাতারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য অংশ। ২০২৫ সালের তথ্যমতে, কাতারে বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের প্রবাহে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮৭৭ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। নির্মাণ, সেবা ও ড্রাইভিং খাতে কর্মরত এসব বাংলাদেশি কাতারের আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    কুয়েতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি ছিল মোট অভিবাসনের প্রায় চার শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২০ হাজার ৬৪৪ মিলিয়ন টাকা (বিডিটি)। এখানকার সরকারি ক্লিনিং সেক্টর, ড্রাইভিং ও কৃষি খাতে বাংলাদেশিদের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, যা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম বড় উৎস হিসেবে বিবেচিত।

    লেবাননে বর্তমানে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যাদের এক বড় অংশ নারী গৃহকর্মী এবং পুরুষ কৃষি ও গ্যারেজ মেকানিক। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের অনেকেই দক্ষিণ লেবাননের হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কর্মরত। অর্থনৈতিক মন্দা এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতার কারণে লেবানন থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    আজ রাতে ইরান সভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে, ফের ট্রাম্পের হুমকি

    ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি ইরানকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।’

    ট্রাম্প বলেন, আমি এটা চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এমনটাই হবে। তবে এখন যেহেতু সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক শাসনব্যস্থার পরিবর্তন দেখেছি, যেখানে ভিন্ন, আরো বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তাধারার মানুষেররা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো ভালো কিছু ঘটতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, কে জানে? আমরা আজ রাতেই জানতে পারব—বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এটি। ৪৭ বছরের অবৈধ জুলুম, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ থাকুক!গত রোববার ইরানকে উদ্দেশ করে হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবার হবে ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস’, ‘সেতু দিবস’। সময়সীমা হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা’ (যুক্তরাষ্ট্রের সময়)। বাংলাদেশ সময় তা বুধবার সকাল ৬টা।

    পরদিন সোমবার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলতে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে ব্যর্থ হলে ইরানকে ‘এক রাতেই’ নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আর সেই রাতটি হতে পারে মঙ্গলবার রাত।

  • শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে যাত্রী ছাউনি দখল ও ছাউনি ভেঙে ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার পথচারী, যাত্রীসহ স্থানীয় সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন পাথারিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া।

    অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন,পাথারিয়া এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আব্দুল মমিন তার বাড়ির সামনের পূর্বদিকে বড় মার্কেটে যাতায়াতের রাস্তার জন্য পাথারিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পথচারী ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল যাত্রী ছাউনি গত ডিসেম্বর থেকে দখলে নিয়েছেন। ছাউনি দখলের পর পর্যায়ক্রমে ছাউনি ভেঙে তার ব্যক্তিগত মার্কেটের রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাথারিয়া এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী ও যাত্রীরা। এই ঘটনায় পাথারিয়া বাজারের অনেকেই বাধা আপত্তি দিলেও তার তোয়াক্কা করেননি আব্দুল মমিন। ফলে রোদ-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নেওয়া এবং গাড়ীতে উঠার জন্য অপেক্ষা করা যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পথচারী, যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা।

    এই অবস্থায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে যাত্রী ছাউনি পুনরুদ্ধার করে সেটি জনগণের জন্য পুনরায় স্থাপনের অনুরোধ জানান অভিযোগকারী আঙ্গুর মিয়া।

    স্থানীয় পাথারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মিয়া বলেন, ‘পাথারিয়া বাসস্ট্যান্ডে সরকারী যাত্রী ছাউনি ছিল। সেখানে এলাকার শিক্ষার্থী, পথচারী, দুরপথের যাত্রী বসে সেখানে বসতেন। কিন্তু মমিন মিয়া সেটি দখল করে ভেঙ্গে শেষ করে দিয়েছেন।

    গাজীনগর গ্রামের জিয়াউদ্দিন তুহিন বলেন, ‘পাথারিয়া বাজারের একমাত্র যাত্রী ছাউনি বাজারের যাত্রী, পথচারী ও সুরমা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা দখলমুক্ত করে পুনরায় নির্মান করা জরুরী।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুল মমিন। তিনি বলেন, ‘যাত্রী ছাউনি ভাঙার বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। যাত্রী ছাউনি সরকারীভাবে স্থাপন করা হলেও জায়গাটি আমার নিজের। কে বা কারা ছাউনিটি ভেঙেছে তা আমি জানি না। দীর্ঘদিন ধরে এটি পরিত্যক্ত ছিল।’

    এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

    হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

    যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।

    প্রস্তাবে ইরান তাদের ওপর ভবিষ্যতে কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেছে তেহরান।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করবে ইরান, যা ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে। প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব, তবে যথেষ্ট নয়।’

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে বলে সাম্প্রতিক সময়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

    হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টার পর নতুন হামলা চালানো হতে পারে, যা ইরানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হবে।’

    বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে নৌ চলাচল নিশ্চিত করার একটি প্রোটোকলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এর আগে গত ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠালেও তা প্রত্যাখ্যান করে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ওই প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • তুরস্কে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ৩

    তুরস্কে ইসরাইলি দূতাবাসের কাছে ব্যাপক গোলাগুলি, নিহত ৩

    তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেটের বাইরে ভয়াবহ এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

    তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের লেভেন্ট ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তুর্কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন হামলাকারী নিহত বা “নিউট্রালাইজড” হয়।

    তুর্কি চ্যানেল ‘হ্যাবারতুর্ক’-এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা রয়েছে এবং সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহত পুলিশ সদস্যদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইস্তাম্বুল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • দেশের জন্য জীবন দিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি প্রস্তুত: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    দেশের জন্য জীবন দিতে ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি প্রস্তুত: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের সুরক্ষায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্য জানান।

    নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ক্ষমতাধর সচিব আলী লারিজানি।

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২,০৭৬ জন নিহত এবং ২৬,৫০০ জন আহত হয়েছেন।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ইরানিদের ট্রেনে ভ্রমণ না করার সতর্কতা ইসরাইলি বাহিনীর

    ইরানিদের ট্রেনে ভ্রমণ না করার সতর্কতা ইসরাইলি বাহিনীর

    ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানে বসবাসকারীদের আজ মঙ্গলবার ট্রেনে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছে।

    সেনাবাহিনীর ফারসি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেয়া এক বার্তায় আইডিএফ ইরানের মানুষকে ‘নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে’ সারাদেশে ‘ইরান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত’ ট্রেন ব্যবহার ও ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। তারা আরো জানিয়েছে, ‘ট্রেনে এবং রেললাইনের আশপাশে অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’

    এ সতর্কতা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে ইরানের শাসকগোষ্ঠী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে (ব্রিটিশ সময় বুধবার রাত ১টা) হরমুজ প্রণালী দিয়ে মুক্ত চলাচলের অনুমতি না দিলে তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবেন।

    রাতভর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, তারা শাসকগোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট তেহরানের ‘অবকাঠামো লক্ষ্য করে’ ব্যাপক আকাশ হামলার একটি ধাপ সম্পন্ন করেছে এবং যাদের তারা হিজবুল্লাহর সদস্য বলে দাবি করেছে, এমন কয়েকজনকে হত্যা করেছে।

    এছাড়া আলাদাভাবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের দিকে আসার পথে তারা প্রতিহত করেছে।

  • ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে হামলা

    ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে হামলা

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সোমবার (৬ এপ্রিল) জানিয়েছে, তারা একটি ইসরাইলি মালিকানাধীন কনটেইনার জাহাজ এবং একটি মার্কিন আক্রমণাত্মক যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

    ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দিনের শুরুতে চালানো ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে তাদের ৯৮তম দফার হামলার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

    আইআরজিসি কনটেইনার জাহাজটির নাম ‘এসডিএন৭’ বলে উল্লেখ করে জানায়, এটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং এতে আগুন ধরে যায়।

    তারা আরও জানায়, ৫ হাজারের বেশি সেনা বহনকারী মার্কিন উভচর আক্রমণ জাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি (এলএইচএ-৭) লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়।

    আইআরজিসি আরও দাবি করে, তাদের বাহিনী ইসরাইলের হাইফা শহরের কৌশলগত কেন্দ্রগুলোতে, পাশাপাশি বেয়ার শেভার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি ও স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এছাড়া মধ্য ইসরাইলের পেতাহ টিকভায় ইসরাইলি বাহিনীর একটি সমাবেশস্থলেও হামলা করা হয়েছে।

    আইআরজিসির মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের যৌথভাবে ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র এবং ওই আরব দেশের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা কয়েকটি বিমান।
    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানসহ ইরানের কয়েকটি শহরে যৌথ হামলা চালায়, যাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।পাশপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপি-জামায়াত কে কতটি পাবে?

    সংরক্ষিত নারী আসন: বিএনপি-জামায়াত কে কতটি পাবে?

    জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট ৩৬ আসন, জামায়াত জোট ১৩টি, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশনের সভা শেষে জানানো হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আজকে মোট পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। এই নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল পরবর্তীতে জানানো হবে।

    তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করছেন ছয়জন ইন্ডিপেনডেন্ট ক্যান্ডিডেট, যারা একজোট করেছেন। বিএনপির সঙ্গে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং আন্দালিব রহমান পার্থের দল আছে। আর জামায়াতের সঙ্গে আছে এনসিপি এবং খেলাফত আন্দোলন। আর রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে যাবেন না, এটা বলেছেন। এক্ষেত্রে বিএনপির জোট ৩৬ আসন পাবে, জামায়াত জোট ১৩, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন।

    প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়া ভোট স্থগিত থাকে। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতায় থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন।

  • অবকাঠামোতে হামলার পরিণতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    অবকাঠামোতে হামলার পরিণতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যেকোনো ধরনের হামলার পরিণতি কেবল ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (৬ মার্চ) ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোটের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাকে ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার স্বাভাবিকীকরণ’ হিসেবে অভিহিত করেন আরাগচি।

    তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি খাত এবং অর্থনীতিতে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতির ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিণতির জন্য কেবল মার্কিন প্রশাসন এবং আগ্রাসনকারীরাই দায়ী থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো হামলা চালানো হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী তার ‘চূড়ান্ত ও সর্বাত্মক’ জবাব দেবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তা যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত ঘটাতে পারে, তেহরান মূলত সেই আশঙ্কার দিকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

  • কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে ১৫২ মিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব ট্রাম্পের

    কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে ১৫২ মিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব ট্রাম্পের

    কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে ১৫২ মিলিয়ন ডলার বাজেট প্রস্তাব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা জানান তিনি।

    সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজের কাছে অবস্থিত এই কারাগারটি ‘দ্য রক’ নামেও পরিচিত। একসময় একে আমেরিকার অন্যতম ভয়ংকর ও কুখ্যাত কারাগার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। আলকাট্রাজ কারাগার পুনরায় খুলতে, প্রকল্পের চূড়ান্ত খরচ কত দাঁড়াবে এবং আলকাট্রাজকে একটি সক্রিয় কারাগার হিসেবে চালানোর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

    উল্লেখ্য, এই কারাগারটি ১৯৬৩ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। এর দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে

  • যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাবের জবাব তৈরি করেছে ইরান

    যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর প্রস্তাবের জবাব তৈরি করেছে ইরান

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে কাজ করা মধ্যস্থতাকারীদের জন্য একটি জবাব প্রস্তুত করা হয়েছে।সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের ইতি টানতে একটি শান্তি প্রস্তাবের রূপরেখা পাকিস্তান তৈরি করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিনিময় করেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’র উদ্ধৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা কোনোভাবেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘সঙ্ঘাতের অবসান করতে একদিকে তারা আলোচনাও করতে চায়, অন্যদিকে আবার হামলার আল্টিমেটামও দিচ্ছে।’ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরান তার নিজের স্বার্থ বিবেচনা করেই জবাব প্রস্তুত করছে। আমরা শুরু থেকেই বলেছি আমরা কী চাই। আমরা কোনো রেডলাইন অতিক্রম করিনি। আমাদের অবস্থান এখনো পরিষ্কার।’

  • ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

    ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

    মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান মেজর জেনারেল সাইয়েদ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।

    আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের সন্ত্রাসী হামলায়’ মেজর জেনারেল সাইয়েদ মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।ইসরাইলি হামলায় তার পূর্বসূরি জেনারেল মোহাম্মদ কাজেমী নিহত হওয়ার পর, ২০২৫ সালের জুনে খাদেমিকে আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

  • ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

    ড. ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

    বিডিটািইমস ডেস্ক

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, তারা ক্ষমতায় ছিল তখন অধ্যাদেশ করেছে, ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নীরব থাকা উচিত নয় এবং তাকে রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া উচিত।

    তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম সংস্কার, বিএনপি বলেছিল নির্বাচন। দুই তৃতীয়াংশ ভোট পাওয়ার পর তারা কোনও কিছুই তোয়াক্কা করছে না। গণভোট মানছে না। গণভোট কিন্তু জুলাই সনদ অনুযায়ী হয়নি। বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে আনছে না।

    তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, সচিবালয় অধ্যাদেশ তারা বাতিল করছে। তাদের অধিকাংশ নেতাই গুমের শিকার হয়েছে, এই গুমের অধ্যাদেশও তারা বাতিল করে দিতে চাচ্ছে। এই অধ্যাদেশ বাতিল আইনে পরিণত না হলে বিএনপির কলঙ্কমুক্ত হবে না।

    শনিবার দুপুরে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

  • চৌগাছায় ইজিবাইক উল্টে যুবক  নিহত

    চৌগাছায় ইজিবাইক উল্টে যুবক নিহত

    বিডিটাইমস ডেস্ক

    যশোরের চৌগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক জন নিহত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে চৌগাছা- কোটচাঁদপুর সড়কের মেসার্স বিশ্বাস ফিলিং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান হোসেন ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চানপাড়া গ্রামের রায়হান হোসেনের ছেলে।

    জানা যায়, ইমরান হোসেন ইজিবাইকযোগে তার শাশুড়িকে ডাক্তার দেখানোর জন্য চৌগাছায় যাচ্ছিলেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইজিবাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় ইজিবাইক চাপা পড়ে মারাত্মক আহত হয়। পরে স্থানীয়লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে খানে তার অবস্থা অবনতি হলে যশোর সদর হাসপাতালের রেফার্ড করেন। যশোরে যাওয়ার পথে মারা যায়।

    চৌগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।