সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ

  • সৌদি ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি ও কাতারে বাড়তি প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    সৌদি আরব ও কাতারের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় গত মাসে দুটি বাড়তি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্রের বরাতে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) এ খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ব্যাটারি বসানো হয়েছে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার সুরক্ষায়, অন্যটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায়। স্থাপনা দুটির নাম জানানো হয়নি।

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার তীব্র হলে তেহরানের পাল্টা হামলা থেকে এসব স্থাপনা বাঁচানোই এই মোতায়েনের উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার বড় পরিসরে অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলে মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষিত থাকবে, রিয়াদ ও দোহাকে সেই নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছে ওয়াশিংটন।

    অ্যাক্সিওস জানায়, আগস্টের শুরুতে সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা ট্রাম্পকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতসহ বড় ধরনের হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এর জবাবে ইরান তাদের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানবে।

    ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় অভিযান চালাতে হলে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারে রিয়াদের অনুমতি লাগবে যুক্তরাষ্ট্রের। তেল স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে সৌদি আরব সেই অনুমতি দেবে, এমন সম্ভাবনা কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) একজন মুখপাত্র।

    সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। জ্বালানিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অয়েলপ্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরুতে ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি স্থাপনা আক্রান্ত হলে কাতারএনার্জি সেখানে কার্যক্রম বন্ধ রাখে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল। এখন তা আংশিক চালু হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, তাকে এখন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার ভাষ্য, ইরান হয় একটি ন্যায্য চুক্তিতে সই করবে, নয়তো দেশটির আর অস্তিত্ব থাকবে না।

    সূত্র: অ্যাক্সিওস, টাইমস অব ইসরায়েল, অয়েলপ্রাইস ডটকম

  • পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতল ভারত

    শেষ পর্যন্ত একা লড়াই চালিয়ে গেলেন হাসান নাওয়াজ। তবে অন্যরা তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারায় চিন্তা করতে হয়নি ভারতকে। এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতে নিল শ্রেয়াশ আইয়ারের দল।

    নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২১১ রানের পুঁজি পায় ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় ১৯২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। তাদের ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখেন নাওয়াজ। শিবম দুবের করা ইনিংসের শেষ বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেলেন ৯৬ রানের ইনিংস।

    ৫১ বলে ৫ চার ও ৭ ছক্কা মারেন নাওয়াজ। ফাইনালে পাকিস্তানের সুখস্মৃতি হয়ে থাকল কেবল তাঁর সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস। দলীয় ৩৬ রানে উসমান খানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাওয়াজ। চতুর্থ উইকেটে সাইম আইয়ুবকে নিয়ে ৮৭ রান যোগ করেন। ২২ বলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করে সাইম বিদায় নেন।

    সাইম ফিরলেও নাওয়াজের ব্যাটিং ঝড় অব্যাহত ছিল। আব্দুল সামাদ ও শান মাসুদকে নিয়ে কঠিন সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু তাঁর ঝড় কেবল দলের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের হয়ে ২৩ রান করেন মাজ সাদাকাত। অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর ও দুবে দুটি করে উইকেট নেন।

    জোড়া ফিফটিতে বড় পুঁজি পেয়েছিল ভারত। ২৮ বলে অভিষেক শর্মার অবদান ৬১ রান। ৫১ রান করেন তিলক ভর্মা; ২২ বল খেলেন তিনি। শেষ ৪ ওভারে তিলক ও দুবে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৬৯ রান তোলে ভারতকে ২০০ পার করা সংগ্রহ এনে দেন। দুবে ২৭ ও আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়েল ও মিনহাজ দুটি করে উইকেট নেন। ৩ ওভারে মিনহাজ ২৫ রান দিলেও দানিয়েলের খরচ ৪৩ রান। সবচেয়ে বেশি ৪৭ রান দিয়েছেন সাইম আইয়ুব।

  • জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার

    জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে: পরওয়ার

    বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদানের ক্ষোভে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    আজ শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একজন প্রবীণ নাগরিক, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে অপদার্থ, ব্যর্থ, অদক্ষ কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। কিন্তু সরকার বিমানবন্দরের ওই ঘটনাকে ইস্যু করে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।’

    গোলাম পরওয়ার বলেন, খালেদা জিয়ার ঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতারা লুকিয়ে থাকলেও জামায়াত-শিবির রাজপথে জীবন দিয়েছিল। রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাদের পাওয়া যেত না। অনেকে মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ রাখত।

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, যাদের সঙ্গে আপনার মা জোট করেছিলেন, যাদের সমর্থনে আপনার মা সরকার গঠন করেছিলেন, তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতাবিরোধী বলে নিজেই মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

    আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের নয় বরং সরকারের তলে-তলে যোগাযোগ ও সখ্যতা রয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ রাজপথে মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে—বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি।

    সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতকে নিয়ে অপরাজনীতি করতে গিয়ে এরশাদের সলিল সমাধি হয়েছে, আওয়ামী লীগকে দিল্লি গিয়ে পালাতে হয়েছে। নতুন করে আবার কেউ অপরাজনীতির চেষ্টা করলে তাদের পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। তিনি আরও বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে সরকার মূলত বার্তা দিতে চাচ্ছে সরকারের দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না।

    সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। সমাবেশে শেষে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি পল্টন মোড়-প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত

    ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জন নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মাকে গাজীপুরে নিজের কাছে নিয়ে যেতে গতকাল শুক্রবার সকালে জামালপুরের দড়ি হামিদপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন মোফাজ্জল হোসেন লেবু। সাথে ছিলেন তার মেয়ে মর্জিনা আক্তার ও পাঁচ বছরের নাতি মিনান। কয়েক ঘণ্টার সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তাদের জীবনের শেষ যাত্রা।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের রহমতপুর বাইপাস সড়কের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সাথে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একই পরিবারের চার প্রজন্মের চারজনসহ সাতজন নিহত হন।

    নিহত একই পরিবারের চারজন হলেন রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫০), নাতনি মর্জিনা আক্তার (২৫) ও প্রপৌত্র মিনান (৫)।

    এ দুর্ঘটনায় নিহত অন্য তিনজন হলেন অটোরিকশাচালক সুজন আলী (৪৪), আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

    মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন বলেন, ‘মাকে নিজের কাছে বেড়াতে নিতে এসেছিল। মেয়ে ও নাতিও সাথে যাওয়ার বায়না ধরেছিল। তিনজনকে নিয়ে বের হয়েছিল। কিন্তু এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, সেটি তারা বুঝতে পারেনি।’

    শুক্রবার সকালে মাকে সাথে নিয়ে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মোফাজ্জল। পরিবারের স্বাভাবিক একটি যাত্রা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিণত হয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষের শব্দ ছিল বিকট। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রীরা।

    প্রত্যক্ষদর্শী নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুসহ এক নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই তাদের মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। রাতেই আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    শনিবার সকালে জামালপুরের রানাগাছা ইউনিয়নের দড়ি হামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয় একই পরিবারের চারজনকে। যে বাড়ি থেকে আগের দিন তারা গাজীপুরের পথে বের হয়েছিলেন, সেখানেই ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সড়কের বাঁকে দ্রুতগতিতে আসা দুই যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    দুর্ঘটনার পর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের দায়িত্বশীলতা, যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের বৈধ কাগজপত্র এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ হবে।

    একই পরিবারের চারজনকে একসাথে হারানোর ঘটনায় দড়ি হামিদপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি যেন অবিশ্বাস্য এক বাস্তবতা। যাদের সাথে প্রতিদিন দেখা ও কথা হতো, তাদের এভাবে একসাথে হারানোর ঘটনায় স্তব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী।

    একটি সড়ক দুর্ঘটনা একসাথে কেড়ে নিল একটি পরিবারের চার প্রজন্মের চারটি প্রাণ। আজ পাশাপাশি চারটি কবর যেন সেই শোকেরই নীরব সাক্ষী হয়ে রইল।

    মাকে নিতে বেরিয়ে যারা ঘর ছেড়েছিলেন, তারা আর ফিরে এলেন না। ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে—এক পরিবারের চার প্রজন্মের চারজন। এ,আর

  • মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা জানালেন শিভন জিলিস

    মাস্কের সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা জানালেন শিভন জিলিস

    মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও ব্যবসায়িক সহযোগী শিভন জিলিস। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

    জিলিস লিখেছেন, কোনো আগাম ইঙ্গিত ছাড়াই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদে পৌঁছানো কঠিন, তবে কখনো কখনো এমনই ঘটে। তিনি জানান, মাস্কের অভাব তিনি অনুভব করবেন। তাদের চার সন্তানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং আশা করেন, দুজন বন্ধু হিসেবে ও সন্তানদের সহ-অভিভাবক হিসেবে থাকবেন।

    মাস্ক এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানায়, জিলিসের পোস্টের কোনো জবাব না দিয়ে তিনি এক্সে নিজের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, স্টারলিংক ও টেসলা নিয়ে পোস্ট করে গেছেন।

    শিভন জিলিস মাস্কের মস্তিষ্ক-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের একজন নির্বাহী। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানটির অপারেশনস ও বিশেষ প্রকল্পের পরিচালক এবং মাস্কের একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।

    দুজনের চার সন্তান। ২০২১ সালে আইভিএফ পদ্ধতিতে তাদের যমজ সন্তানের জন্ম হয়। তৃতীয় সন্তানের জন্ম ২০২৪ সালে, চতুর্থটির ২০২৫ সালে।

    দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল। চলতি বছর ওপেনএআই-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে জিলিস সাক্ষ্য দিলে তা প্রকাশ্যে আলোচনায় আসে।

    দ্য ইনডিপেনডেন্টের হিসাবে, চারজন নারীর সঙ্গে মাস্কের মোট ১৪ সন্তানের কথা জানা যায়। মাস্ক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী।

    সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য ইনডিপেনডেন্ট

  • সিলেট সীমান্তে বিজিবির হাতে চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে বিজিবির হাতে চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪৬ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি।

    শনিবার সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, এদিন ভোরে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। এ সময় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাবাজার, তামাবিল, উৎমা, বিছনাকান্দি, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট, দমদমিয়া ও ডিবিরহাওর বিওপির সদস্যরা পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ভারতীয় জিরা, গরু, কম্বল, বডি লোশন, বাসমতি চাল, মদ, শুটকি, চকলেট, সুপারি ও চিনিসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ’রা

    আন্দোলনের ডাক দিল ‘ককরোচ’রা

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এ ডাক দেয় তারা। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

    গতকাল শুক্রবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দলের ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও সেখানে সমর্থকরা জমায়েত হয়। বিক্ষোভ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।

    বিক্ষোভ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘোষণা করেন দীপকে। তিনি বলেন, এর মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে যন্তর মন্তরে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    হুঁশিয়ারি দিয়ে দীপকে বলেন , দিল্লি যাওয়ার পথে পুলিশ তাদের বাধা দিলে যেখানেই আটকানো হবে, সেখানেই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে পুরো কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে এবং মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের নীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হবে।

    এর আগে গত ২ অক্টোবর দিল্লিতেও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছিল। যন্তর মন্তরের কাছে অনুমতি ছাড়া জমায়েতের অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতীশী, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, আইসা নেত্রী নেহা বোরা এবং আম আদমি পার্টির কয়েকজন নেতাও ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই কর্মসূচি থেকে ৭০০-র বেশি মানুষ আটকের কথা বলা হয়েছে।

    মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও গায়ক বিশাল দাদলানিসহ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি। শিবাজি পার্কের সমাবেশে দীপকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দেন।

    ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

  • চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে জরিমানা

    চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গায় ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সদর উপজেলার পৌর কলেজ রোড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

    অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে পৌর কলেজ রোড এলাকার এলপিজি গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সামগ্রীর বাজারে তদারকি করা হয়। এ সময় ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করে অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে মেসার্স মল্লিক গ্যাস ঘরের স্বত্বাধিকারী মো: মুক্তাজুর রহমান মল্লিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ করে ব্যবসা পরিচালনা করা ও কোনো ধরনের অবৈধ মজুদ না করার কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এছাড়া অভিযানে এলাকার অন্য ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্যসামগ্রী কেনা-বেচা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ, মানহীন ও নিষিদ্ধ পণ্য, ওষুধ বা শিশু খাদ্য বিক্রি না করার জন্য সতর্ক ও সচেতন করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ মামুনুল হাসান। অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের একটি দল।

    সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান জানান, ভোক্তা স্বার্থ সুরক্ষায় ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন দোতলা ভবনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান মিয়া (২০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাসাইল পৌরসভার প্রশিকা এলাকায় প্রবাসী আনিসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃত রায়হান দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বাসিন্দা বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি কয়েকদিন ধরে আনিসের নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

    জানা গেছে, সকালে রায়হান ভবনের রডের কাজ করছিলেন। এ সময় রডটি ওপরের দিকে উঠালে পল্লীবিদ্যুতের তারের সাথে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রায়হান গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বাসাইল থানার ওসি আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নিহতের লাশ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ এ,আর

  • শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী

    শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান: দীনেশ ত্রিবেদী

    ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

    তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।’

    এ সময় শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও একই কথা বলেন তিনি।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’- অনুষ্ঠানের একটি সেশনে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে উত্তর দিতে হলে প্রথমে আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এরই মধ্যে বারবার এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তারা বলেছেন- এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াটি আইনগত ও সুসংগঠিত। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া চলমান এবং আদালতও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

    শেখ হাসিনা যেভাবে ভারতে গেলেন, সে প্রসঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সে সময় বাংলাদেশে যে মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই তিনি ভারতে এসেছিলেন। পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই যেন এমন পরিস্থিতি আর কখনো সৃষ্টি না হয়, যেখানে নিরপরাধ মানুষকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়- এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

    দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘সেই সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে এসেছিল এবং ভারতও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না। আমি নিজেও তখন টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। সেই মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ফলে পরিস্থিতির বাস্তবতায় আমাদের সামনে খুব বেশি বিকল্পও ছিল না।’

    তিনি আরও বলেন, একজন প্রতিবেশী হিসেবে তখনকার বাস্তবতাকে গ্রহণ করাই ভারতের দায়িত্ব ছিল। কারণ কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার জন্য কোনো দেশই আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না। ভারত যদি বলত যে তাকে গ্রহণ করবে না, এমনকি অবতরণের অনুমতিও না দিত, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত, তা বলা কঠিন।

    ভারতের হাইকমিশনার বলেন, এটাই ছিল সেই সময়ের ঐতিহাসিক বাস্তবতা। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে যে আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি তার নিজস্ব গতিতে চলছে। বাংলাদেশ যেমন একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশটির মানুষ আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করে, ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তার আইনগত প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।

    সম্প্রতি ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি তারা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো বুঝেন। বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা কাউকে বলে দেওয়ার কারণ নেই। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।’

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভারতের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষও বুঝবেন যে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি কখনোই সামনে আসবে না।

    ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে এই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যে সম্পর্কই বজায় রাখুক না কেন, নিজেদের জনগণের স্বার্থ রক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। একইভাবে ভারতেরও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে। একজন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অন্যের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শুধু লেনদেনভিত্তিক সম্পর্ক হিসেবে না দেখার কথা জানিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। এর সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।

  • জেন জির বিক্ষোভে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে

    জেন জির বিক্ষোভে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে

    আরও সহিংস রূপ নিয়েছে ফ্রান্সজুড়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ । শুক্রবার বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা আগুন জ্বালিয়ে সড়ক ও স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে। এদিন প্রায় ৪০০ স্কুল বন্ধ ছিল। দেশটির মোট ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৬৪টিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

    মোট কথা শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কোথাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

    গত সেপ্টেম্বর প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ক্লাস, অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, অতিরিক্ত গরম শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছে।

    প্যারিসের কেন্দ্রীয় একটি স্কুলের ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থী সাইমন বলেন, তাদের এক বছর ধরে বিজ্ঞান শিক্ষক ছিল না। পাঠ্যবইও পর্যাপ্ত নেই। তার দাবি, শহরতলির স্কুলগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ।

    পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ব্রেস্টে কেরিশেন উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর শহরে এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে কয়েকজন তরুণ মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ঘটনাটিকে অসহনীয় বলে মন্তব্য করেছেন।

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। নিয়মিত কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে অনেক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। পুলিশের বিরুদ্ধে তিন বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগের পর বাহিনীটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।

    দক্ষিণাঞ্চলীয় তুলুজ শহরে কাঁদানে গ্যাসের প্রভাবে চোখে জ্বালাপোড়া হলে বিক্ষোভকারীরা একে অপরকে চোখের ড্রপ দিতে দেখা যায়। প্যারিসের উত্তরে অবারভিলিয়েতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে।

    এদিকে আন্দোলনটি দেশটির রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে সরকার অভিযোগ করেছে, বামপন্থি দল ফ্রান্স আনবোডের নেতৃত্ব আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে দলটির নেতা ম্যানুয়েল বমপার সরকারের অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলো শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার দাবি, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ৬৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন প্রধান শিক্ষক। আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭০ এবং ১০০টির বেশি স্কুলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভে সন্তানদের কারণে কোনো সম্পত্তির ক্ষতি হলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দারমানিনের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর প্রায় ২ হাজার মানুষকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

  • নওগাঁয় ছাগলে ফসল খাওয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১

    নওগাঁয় ছাগলে ফসল খাওয়ায় সংঘর্ষে নিহত ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নওগাঁর ধামুইহাটে করলা ক্ষেতে ছাগল প্রবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে ওই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পাঁচবিবি থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামে আবুল কাশেম ও রনি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত আবুল কাশেম বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

    গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের আব্দুর হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম (২৮), মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০), মরহুম আব্দুল গফুরের ছেলে কফিল উদ্দীন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), ইসমাইলের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) ও রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)।

    পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে আবুল কাশেম ও রাকিবুল ইসলাম রনি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার দিন দুপুরে একটি ছাগল করলা ক্ষেতে প্রবেশ করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে আবুল কাশেম গ্রুপের আবুল কাশেমের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।

    এ ব্যাপারে ওই দিন আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ,আর

  • চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

    চকরিয়ায় বনভূমির জমি দখল করে বসত বাড়ী নির্মাণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে দখল নিয়ে গড়ে উঠেছে বসতি ও স্থাপনা। সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি। দিন-রাতে বিপুল পরিমাণ অংশ একের পার এক দখল করে নিচ্ছে দলীয় প্রভাব কাটিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল। তাদের বিভিন্ন ভাবে সহায়তা প্রদানের অভিযোগ উঠছে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

    সংরক্ষিত বনভূমি দখল নিয়ে এ দখলবাজ সিন্ডিকেট মোটা অংকে দখল বেচা—বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ ভাগবাটোয়ারা করে নেয়ার অভিযোগ উঠছে। প্রভাবশালী এ সিন্ডিকেট হাওয়ায় ক্ষমতার দাপটে সরকারি বিধি নিষেধের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে সংরক্ষিত বনভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে পাকা ঘর- বাড়ি ও খামার বাড়িসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা। যার ফলে ধীরে ধীরে সংকোচিত হয়ে পড়েছে সংরক্ষিত বনভূমি।

    স্থানীয়রা জানায়, ডুলাহাজারা বনবিটের পশ্চিম পাশে বিটের লাগোয়া রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সংরক্ষিত এ বনভূমি দিবারাত্রি দখল বাজ এ সিন্ডিকেট দখল করে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে করে সংরক্ষিত বনের অনেক পুরানো মাদার ট্রি গর্জন সহ সামাজিক নবায়নের মূল্যবান বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি দখলদারিত্বে কারণে সংকোচিত হয়ে আসছে সংরক্ষিত বনভূমি এবং হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

    সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল। গত এক মাস ধরে এসব বনভূমি দখল নিয়ে অবৈধ বসতি, মুরগির খামার ঘরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

    স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা করে স্থাপনা উচ্ছেদ করলে হবে না, উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন এবং বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ-সব চিহ্নিত দখলবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

    তারা আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের বন কর্মকর্তাদের নীরব সহযোগিতার সুযোগে এ প্রভাবশালী একাধিক সিন্ডিকেট সংরক্ষিত বনভূমি একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

    ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দখল বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মামলা করে আসছি এবং প্রতিবাদ করছি কিন্তু দখলবাজ চক্রকর্তৃক প্রাণে হত্যার হুমকির আশঙ্কা থাকায় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সাহস পাচ্ছি না।’

    চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিকরা বলেন, অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ধীরে ধীরে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভারসাম্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

    চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ‘ডুলাহাজারা বনবিটের ওই জায়গায় ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা, মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়।’অভিযানের পর জড়িত দখলবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ,আর

  • ফাতিমা আল-ফিহরিই প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়

    ফাতিমা আল-ফিহরিই প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়

    শহরের কেন্দ্রের দিকে তাকালে চোখে পড়ে সবুজ সিরামিক টালির ছাদ। এসব ছাদের নিচেই শত শত বছর ধরে জ্ঞানের চর্চা হয়ে আসছে আল কারাউইয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ মরক্কোর প্রাচীন শহর ফেজ। পাহাড়ঘেরা এ শহরের সরু ও আঁকাবাঁকা গলিতে এখনো ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচল করে না।

    ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আল কারাউইয়্যিনকে ইউনেস্কো ও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বর্তমানে চালু থাকা বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    ইউরোপের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ইতালির বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় এর দুই শতাব্দীরও বেশি পরে, ১০৮৮ সালে। অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠিত হয় আরও পরে।

    তবে আল কারাউইয়্যিনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একজন মুসলিম নারী—ফাতিমা আল-ফিহরি।

    ফাতিমা আল-ফিহরি কে ছিলেন

    ইতিহাসবিদ ইবনে আবি জারের চতুর্দশ শতাব্দীর গ্রন্থ ‘রাওয আল-কিরতাস’-এ ফাতিমা আল-ফিহরি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন আরবের সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের উত্তরসূরি। তার পরিবার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের যাতায়াত ছিল।

    আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টাব্দে তিউনিসিয়ার কাইরুয়ান শহরে জন্ম নেন ফাতিমা। তার পুরো নাম ছিল ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ আল-ফিহরি আল-কুরাইশিয়া।

    ব্যবসায়িক কারণে তার বাবা মুহাম্মাদ আল-ফিহরি পরিবার নিয়ে মরক্কোয় চলে যান এবং শেষ পর্যন্ত ফেজে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে ব্যবসায় সাফল্য পেয়ে তিনি ধনী হয়ে ওঠেন। পরিবার থেকেই ফাতিমা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি কোরআন-হাদিস ও ফিকাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন।

    বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামীকে হারান ফাতিমা। একই সময়ের কাছাকাছি তিনি বাবা ও ভাইকেও হারান। ফলে উত্তরাধিকারসূত্রে বিপুল সম্পদের মালিক হন তিনি ও তার বোন মারিয়াম আল-ফিহরি।

    সম্পদ দিয়ে মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র

    উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ বিলাসিতায় ব্যয় না করে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন দুই বোন। মারিয়াম তার সম্পদের বড় অংশ দিয়ে নির্মাণ করেন আল আন্দালুস মসজিদ।

    আর ফাতিমা নিজের সম্পদ দিয়ে নির্মাণ করেন একটি বড় মসজিদ ও শিক্ষাকেন্দ্র। ইতিহাসবিদদের মতে, ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ১ রমজান এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই বছরের মধ্যে মসজিদের মূল ভবন তৈরি হলেও পুরো কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হতে আরও বহু বছর লেগেছিল।

    সবুজ টালির ছাদ ও নকশা করা মেঝের আল কারাউইয়্যিন প্রাঙ্গণ
    মরক্কোর ফেজ শহরে আল কারাউইয়্যিন মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। ছবি: মোমেদ সালহি/উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

    ফাতিমা নিজে নির্মাণকাজ তদারক করতেন বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর নিজের জন্মস্থান তিউনিসিয়ার কাইরুয়ানের নাম অনুসারে এর নাম দেন ‘আল কারাউইয়্যিন’।

    মসজিদ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়

    প্রতিষ্ঠার শুরুতে আল কারাউইয়্যিন ছিল মূলত মসজিদ ও ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র। সময়ের সঙ্গে সেখানে ভাষাবিজ্ঞান, ব্যাকরণ, আইন, গণিত, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষাদান শুরু হয়।

    মধ্যযুগে মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিস্টান শিক্ষার্থীরাও এখানে পড়াশোনা করেছেন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়।

    ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন, মালিকি বিচারপতি ইবনে আল-আরাবি ও জ্যোতির্বিদ নূরুদ্দীন আল-বিতরুজির মতো জ্ঞানী ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    মরক্কোর ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আল-মানুনির মতে, আনুমানিক ১০৪০ থেকে ১১৪৭ সালের মধ্যে আল কারাউইয়্যিন উচ্চশিক্ষার একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু ছিল।

    সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার

    আল কারাউইয়্যিন কমপ্লেক্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এর গ্রন্থাগার। ১৩৫৯ সালে মারিনিড রাজবংশের শাসনামলে এটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। সেখানে মধ্যযুগের ২০ হাজারের বেশি হাতে লেখা বই রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার দুর্লভ গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি।

    সংগ্রহে রয়েছে ইমাম মালিক ইবনে আনাসের ‘আল-মুওয়াত্তা’, ইবনে ইসহাকের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী এবং ইবনে খালদুনের ‘মুকাদ্দিমাহ’ ও ‘আল-ইবার’-এর পাণ্ডুলিপি। কোরআনের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপিও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

    ১৯৬৩ সালে রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আল কারাউইয়্যিনকে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৬৫ সালে এর নামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দটি যুক্ত হয়।

    এক হাজার বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে আজও ফেজ শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা আল কারাউইয়্যিন তাই শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

  • রূপগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জন আটক

    রূপগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে ৩ জন আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার মৈকুলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হচ্ছেন রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর এলাকার রেদোয়ানের ছেলে নাদিম হোসেন (২২), শুক্কুর আলীর ছেলে সিহাব হাসান (২১) ও জহিরুল ইসলামের ছেলে ইমন মিয়া (১৯)।

    পুলিশ জানায়, মৈকুলী গ্রামের কিশোরী তার বন্ধু আকাশ আহম্মেদের সাথে শুক্রবার বিকেলে পূর্বাচল উপশহরে মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে যায়। পরে পূর্বাচল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত ১১টার দিকে তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর এলাকায় পৌঁছলে কিশোরীর পূর্ব পরিচিত নাদিম হোসেন, সিহাব হাসান ও ইমন মিয়া তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়। এ সময় কিশোরীর বন্ধু আকাশ আহম্মেদকে ভবনের একটি কক্ষে আটকে রেখে ওই যুবকরা কিশোরীকে জোরপূর্বক পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।

    একপর্যায়ে ধর্ষকরা কিশোরীর বন্ধু আকাশ আহম্মেদের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সেই টাকা এনে দেয়ার জন্য কৌশলে সেখান থেকে আকাশ আহম্মেদ বের হয়ে সরকারি পরিষেবা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ওই যুবকদের গ্রেফতার করে।

    থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রূপগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ এ,আর

  • ব্রাহ্মণপাড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    ব্রাহ্মণপাড়ায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে জুনায়েদ (১০) ও হাসিব (৯) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর উত্তরপাড়া ইছামতি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু জুনায়েদ উপজেলার রামনগর গ্রামের হালিমের ছেলে। সে গোপালনগর উত্তরপাড়ায় তার খালার বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অপর নিহত শিশু হাসিব গোপালনগর উত্তরপাড়া ইছামতি বাড়ির কাউসারের ছেলে। সে স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে জুনায়েদ ও হাসিবসহ কয়েকজন শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে জুনায়েদ ও হাসিব পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুকুরে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার শুরু করে। পরে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ছুটে এসে পুকুরে নেমে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন।

    পরে দ্রুত তাদের ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেদওয়ান আহম্মদ হিমেল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধারণা করা হয়। পরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে উভয়ের ইসিজি করা হয়। ইসিজি পরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। এ,আর

  • মেহেরপুরে জামায়াতের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    মেহেরপুরে জামায়াতের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক দায়িত্বশীলদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেহেরপুর জেলা ডিআইটি মসজিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর অঞ্চল টিম সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা আমির অধ্যাপক খন্দকার এ কে এম আলী মুহসীন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য মো: আব্দুল মতিন ও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো: নাজমুল হুদা।

    শিক্ষাশিবিরে সাবেক ছাত্র দায়িত্বশীলদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, নৈতিক চরিত্র গঠন ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। বক্তারা ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সততা, জবাবদিহিতা ও সমাজ সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা তারবিয়াতী সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার, মেহেরপুর জেলা নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুব উল আলম, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, সাবেক মেহেরপুর জেলা শিবির সভাপতি অধ্যক্ষ আল আমিন ইসলাম বকুল, ইকবাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সোহেল রানা ডলার প্রমুখ।

    দিনব্যাপী আয়োজিত এ শিক্ষাশিবিরে জামায়াতে ইসলামী ও সাবেক ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। এ,আর

  • পশ্চিম তীর আমাদের: বেন-গভির

    পশ্চিম তীর আমাদের: বেন-গভির

    ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পুরো পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করেছেন । সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরের এ, বি ও সি এই তিন অঞ্চলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং পুরো জমিটিই ইসরাইলের।

    তিনি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে পারলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে দিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

    তিনি আরও বলেন, সেনাদের যত বেশি গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে, তত কম সেনা প্রয়োজন হবে। দায়িত্ব পেলে তিনি সেনাদের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেবেন বলেও জানান।

    বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ইসরাইলি নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টরপন্থী ভোটারদের মন জয় করতেই বেন-গভির এই ধরনের উগ্র ও উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন।

  • মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন ও সৎকারে সাড়ে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ সরকারের

    মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন ও সৎকারে সাড়ে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ সরকারের

    মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফন, সৎকার ও পরিবহনের তাৎক্ষণিক ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা আর্থিক মঞ্জুরি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক আদেশে এ অর্থ বরাদ্দের কথা জানানো হয়। বরাদ্দের অর্থ দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ছাড় দেওয়া হবে।

    এ সংক্রান্ত আদেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) ডা. মু. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষর করেছেন।

    আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় যুদ্ধাহত ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা খাতের দাফন বাবদ অনুদান হিসেবে বরাদ্দকৃত ১৮ কোটি টাকা থেকে এই ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ব্যয় করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিজ নিজ জেলা বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সারণি অনুযায়ী মোট বরাদ্দের অথরিটি পাঠাতে চিফ একাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ছাড়কৃত অর্থ চলতি অর্থবছরের বাজেটের নির্ধারিত দাফন বাবদ অনুদান খাতে সমন্বিত হবে।

    জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যথাযথ বিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা ট্রেজারি থেকে অর্থ উত্তোলন করবেন।

    শর্ত অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সৎকার, সমাহিত ও মরদেহ পরিবহন ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

    অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে।

    এ ছাড়া ৩০ জুন ২০২৭ তারিখের পর কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে, তা সরকারি কোষাগারের নির্ধারিত খাতে জমা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

    মন্ত্রণালয়ের আদেশে দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আদেশটি প্রকাশের জন্য সিস্টেম এনালিস্টকেও অনুরোধ করা হয়েছে।

  • চৌগাছায় শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    চৌগাছায় শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

    এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)

    যশোরের চৌগাছায় আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । শনিবার দুপুরে চৌগাছা থানা কম্পাউন্ডে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের চৌগাছা উপজেলার আহবায়ক গোবিন্দ কুমার রাহা,চৌগাছা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বলাই চন্দ্র পাল,উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ, সহকারী সেক্রেটারী মাষ্টার কামাল আহমেদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহসভাপতি সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান,পৌর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, বিএনপি নেতা ইউনুচ আলী দফাদার, প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সাধারণ সম্পাদক এম এ রহিম, চৌগাছা থানার অফিসার (তদন্ত) নুরুল আমিন শিকদার প্রমুখ।

    সভায় দুর্গা উৎসবকে যাতে নির্বিঘ্নভাবে উদযাপন করা যায় সে ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

  • বিনিয়োগ করলেই নাগরিক!

    বিনিয়োগ করলেই নাগরিক!

    আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, দেশটিতে কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আর্জেন্টিনা গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)।

    অর্থনীতিবিদ মার্সেলো এলিসোন্দো বলেন, তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো অপেক্ষা করছেন আর্জেন্টিনার অস্থির অর্থনীতি সময়ের সঙ্গে এসব সংস্কার টেকসই কি না, তা প্রমাণ করার জন্য।

    শুক্রবার সরকার ঘোষিত ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’-এ আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য দুটি সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্যারিসে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা উইক উপলক্ষে কর্মসূচিটি ঘোষণা করা হয়।

    প্রথম পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীকে আর্জেন্টিনার জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার সরাসরি অনুদান দিতে হবে। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে সরকার বিশেষভাবে এই কর্মসূচির জন্য যে ৮ লাখ ডলারের বন্ড তৈরি করবে, তাতে বিনিয়োগ করতে হবে।

    আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর জন্য প্রাপ্তবয়স্ক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে কোষাগারে ১ লাখ ডলার এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আর্জেন্টিনা সরকার বলেছে, এই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ দেশের রাজস্ব ও আর্থিক অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, বিনিয়োগগুলো একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে অর্থের উৎস ও লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অর্থপাচার ঠেকানো ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করা হবে।

    মিলেই চলতি সপ্তাহে প্যারিস সফর করেন এবং ওইসিডিতে আয়োজিত আর্জেন্টিনা উইক অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    সফরে তিনি বেশ কয়েকটি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পান। এর মধ্যে ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস প্যাটাগোনিয়ায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডের খনিশিল্প প্রতিষ্ঠান গ্লেনকোর একটি তামা প্রকল্পে ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিলেই সরকারের এই ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচি চলতি বছরের শেষ দিকে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

    মঙ্গলবার আদালত মিলেই সরকারের ২০২৩ সালের একটি ডিক্রি বহাল রাখে। ওই ডিক্রির মাধ্যমে ২০১১ সাল থেকে বিদেশিদের কৃষিজমির মালিকানায় থাকা ১৫ শতাংশ সীমা বাতিল করা হয়েছিল।

    ওইসিডির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আর্জেন্টিনা ৩.১৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ পেয়েছে।

    এর তুলনায় একই সময়ে ব্রাজিল পেয়েছে ৭৬.৮৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং মেক্সিকো পেয়েছে ৪০.৮৭১ বিলিয়ন ডলার।

  • সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া

    সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়াচ্ছে রাশিয়া

    আগামী বছর থেকে রাশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপকভাবে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো এবং কর বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রাশিয়ার খসড়া বাজেটের নথিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। মস্কো প্রায় প্রতিদিনই কিয়েভে বিমান হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অনুমোদনের জন্য খসড়া বাজেটটি জমা দেওয়া হয়েছে।

    খসড়া বাজেট অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রতিরক্ষা খাতে রাশিয়া রেকর্ড ১৭ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন রুবল (প্রায় ২০৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ব্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় এই বরাদ্দ প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    ২০২৮ ও ২০২৯ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় কমার পূর্বাভাস দেওয়া হলেও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের পূর্বাভাস একাধিকবার ছাড়িয়ে গেছে।

    ইউরোপিয়ান পলিসি অ্যানালাইসিস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আলেকজান্ডার কোলিয়ন্দ্র বলেন, প্রকৃত প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়তে পারে, কারণ এ খাতের প্রকৃত ব্যয়ের বড় অংশ গোপন রাখা হয়।

    তার মতে, প্রকাশিত অঙ্কগুলো অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনার কেবল প্রাথমিক প্রস্তাব।

    গত সপ্তাহে খসড়া বাজেট প্রকাশের সময় রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভ সামাজিক কল্যাণ ও প্রতিরক্ষা দুই খাতকেই ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তবে বাজেটের নথিতে সামরিক খাতের বাইরে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ২০২৭ সালের জন্য মূল পরিকল্পনার তুলনায় ৫ শতাংশের বেশি করে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সামাজিক কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমতে পারে ৬ শতাংশের বেশি।

    বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে সরকার কর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক আমানত ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর করের হার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বাড়ছে ঋণ

    ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বাজেটে প্রতি বছরই ঘাটতি হয়েছে। ২০২৭ সালে বাজেট ঘাটতি প্রায় ৫ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুবল বা ৬৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর ২০২৭ সালের জন্য যে ৩ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুবল ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, নতুন হিসাব তার তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি।

  • লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রভাব বেশি

    লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রভাব বেশি

    লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৭টি লাতিন আমেরিকান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    চলতি ২০২৬ সালের লাতিনোব্যারোমেট্রো জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে।

    জরিপে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকার ৫৭ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে ইতিবাচক মনে করেন। ২০২০ সালে এই হার ছিল ৬০ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রভাবকে ইতিবাচক বলে মনে করেছেন। ছয় বছর আগে এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ।

    লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে শুধু কোস্টারিকা ও ডমিনিকান রিপাবলিকে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পরের দুই দশকে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি’ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

    লাতিনোব্যারোমেট্রোর পরিচালক মার্তা লাগোস এএফপিকে বলেন, ওই সময়ে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের মতো অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে।

    তার মতে, কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়ে চীন লাতিন আমেরিকার মানুষের সমর্থন অর্জন করেছে।

    লাগোস বলেন, চীন যে শূন্যস্থান পূরণ করেছে, সেটি মূলত মানুষের পকেটের শূন্যস্থান—অর্থাৎ কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ।

    তবে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের তুলনায় বেশি জনপ্রিয়। জরিপে ৬৩ শতাংশ মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।

    তবে ২০২৪ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সে বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে থাকাকালে ৭৩ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছিলেন।

    প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নামটি ট্রাম্পের প্রথম নাম ‘ডোনাল্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর নাম মিলিয়ে তৈরি। দুই শতাব্দীরও বেশি আগে মনরো লাতিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের একচেটিয়া প্রভাববলয় হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। ওয়াশিংটন যে অঞ্চলকে ‘আমাদের গোলার্ধ’ বলে উল্লেখ করে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর এই প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

    জরিপে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা ছাড়া লাতিন আমেরিকার সব দেশেই বেশিরভাগ মানুষ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর হাতে মাদুরোর আটক হওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করেছেন।

    তবে মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা ভেনেজুয়েলার জন্য উপকারী হয়েছে। বিপরীতে ২৮ শতাংশ বলেছেন, এতে দেশটির ক্ষতি হয়েছে।

    তবে ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে দেখা জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছেন।

    চিলিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান লাতিনোব্যারোমেট্রো গণতন্ত্র, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মতামত নিয়ে জরিপ করে।

    চলতি ২০২৬ সালের এই জরিপে ১৭টি দেশে ৭ মে থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ২০০ জনের সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জরিপটির ভুলের সম্ভাব্য সীমা ১ শতাংশ।

  • বিএসএফের হত্যা ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    বিএসএফের হত্যা ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর গুলিতে দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার বেদিয়ান সেক্টরে সীমান্তের কাছে গুলিতে আজমত রাসুল শাহ ও মোহসিন জাট্ট নিহত এবং আরও একজন আহত হন। পাকিস্তানের দাবি, নিহত ও আহতরা নিরস্ত্র ছিলেন এবং সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করলেও তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

    ঘটনাটিকে ‘উস্কানিবিহীন প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তান এর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন ও সীমান্তসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

    পাকিস্তান আরও জানিয়েছে, নিহতদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

  • বিমানবন্দরের ঘটনায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

    বিমানবন্দরের ঘটনায় জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।

    এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।

  • চৌগাছায় সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্বোধন

    চৌগাছায় সোনালী অতীত ক্লাবের উদ্বোধন

    এম এ রহিম চৌগাছা

    যশোরের চৌগাছায় সোনালী অতীত ক্লাবের কেক কেটে উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে এ ক্লাবের উদ্বোধন করা হয়। ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করে, চৌগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘সোনালী অতীত ক্লাব’। পৌর শহরের সরকারি শাহাদৎপাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ক্লাবটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

    এতে সভাপতিত্ব করেন সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়ার। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম।

    সোনালী অতীত ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নানের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চঞ্চল, যশোর জেলার সাবেক ফুটবলার সহেল আল মামুন নিশাদ, ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, আব্দার রশিদ ও আইনাল হক প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে চৌগাছার সাবেক কৃতি ফুটবলার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়ানুরাগীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর সোনালী অতীতের খেলোয়াড়দের এক মঞ্চে দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসব আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

    একটি আনন্দ র‍্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ফুটবল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান এবং বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মুখরিত করে তোলেন।

    র‍্যালি শেষে আয়োজিত সভায় বক্তারা চৌগাছার হারানো ফুটবল ঐতিহ্য ফিরিয়ে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করার আহবান জানানো হয়। সোনালী অতীত ক্লাব ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। এই ক্লাবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সান্নিধ্যে এসে নিজেদের দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে পারবে।

    আগামীতে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ক্লাবের উদ্বোধন ঘোষণা করে কেক কাটেন।

    চৌগাছার ক্রীড়াঙ্গনে এই নতুন অধ্যায়ের শুরু তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা বলে সকলে আশা ব্যক্ত করেছেন। এ,আর

  • গোল্ডেন ভিসায় কেন কঠোর হচ্ছে দেশগুলো?

    গোল্ডেন ভিসায় কেন কঠোর হচ্ছে দেশগুলো?

    অন্য দেশে গিয়ে বসবাসের সুযোগ পেতে অনেক সময় চাকরি বা পড়াশোনার প্রয়োজন হয়। তবে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেও কোনো কোনো দেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। এই ব্যবস্থাই ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত। আবার কিছু দেশে বিনিয়োগের বিনিময়ে সরাসরি নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ কোনো না কোনোভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি বা নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে। ধনী ও সচ্ছল মানুষের বিদেশে যাওয়ার আগ্রহ থেকেই মূলত এই বিনিয়োগ-ভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার বিস্তার ঘটেছে।

    কেন মানুষ গোল্ডেন ভিসা নেয়

    বিদেশে স্থায়ীভাবে থাকা, সন্তানদের ভালো শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, ব্যবসার সুযোগ কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে দূরে থাকার জন্য অনেকে এসব কর্মসূচির দিকে ঝোঁকেন। কেউ কেউ করব্যবস্থা বা জীবনযাত্রার সুবিধার কারণেও অন্য দেশে বসবাসের সুযোগ খোঁজেন।

    বিশেষ করে চীনের ধনী নাগরিকদের মধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশে বসবাস বা নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহ বেশি। তবে শুধু চীন নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাই এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বিতর্ক কেন

    গোল্ডেন ভিসা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, শুধু অর্থের বিনিময়ে একজন বিদেশিকে কোনো দেশে বসবাসের সুযোগ দেওয়া কতটা নিরাপদ ও ন্যায্য? ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছে, এসব কর্মসূচি অর্থ পাচার, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    ২০১৮ সালে গ্রিসে চীনা বিনিয়োগকারীদের ঘিরে একটি প্রতারণার ঘটনা আলোচনায় আসে। অভিযোগ ছিল, দেশটির কিছু আবাসন ব্যবসায়ী বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে সম্পত্তি বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। পরে সেই অর্থের একটি অংশ তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    ইউরোপে কঠোর হচ্ছে নিয়ম

    এসব উদ্বেগের কারণে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য দেশগুলোর গোল্ডেন পাসপোর্ট কর্মসূচি বন্ধ করা এবং গোল্ডেন ভিসায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দিকে এগোয়। এর ফলে ইউরোপে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে।

    গ্রিস অবশ্য গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি চালু রেখেছে। ২০২৩ সালে দেশটির জনপ্রিয় কিছু এলাকায় সম্পত্তিতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ ইউরো করা হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলো অবশ্য এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

    স্পেনসহ কয়েকটি দেশের সিদ্ধান্ত

    স্পেনও গোল্ডেন ভিসা কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে ৫ লাখ ইউরো বিনিয়োগের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের নাগরিকদের বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতো। এসব কর্মসূচিতে রাশিয়া ও চীনের ধনীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

    বিনিয়োগের বড় অংশ আবাসন খাতে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে বাড়ির দাম ও ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এ ধরনের কর্মসূচি বাতিল করেছে।

    সব মিলিয়ে বিনিয়োগের বিনিময়ে অভিবাসনের সুযোগ ধীরে ধীরে কমছে। অর্থনৈতিকভাবে এসব কর্মসূচি সরকারের জন্য লাভজনক হলেও অর্থ পাচার, আবাসন সংকট ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় অনেক দেশ এখন সুবিধা-অসুবিধা নতুন করে বিবেচনা করছে।

  • চীন পানির নিচে চালাল একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন!

    চীন পানির নিচে চালাল একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন!

    পানির নিচে একসঙ্গে ছুটল ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন—আর তাতেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন। সুইমিং পুলে চালানো এক পরীক্ষায় কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শতাধিক ড্রোনকে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। প্রযুক্তিটির এই সাফল্য পানির নিচে বৃহৎ পরিসরে মানবহীন যান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

    উত্তর-পশ্চিম পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ উদ্যোগে এ পরীক্ষা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি সেপ্টেম্বরের শেষে এক বিবৃতিতে জানায়, পরীক্ষায় ‘টিএইচ-৬১৮’ নামের ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান বা ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

    গত ২৯ আগস্ট ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত একটি সুইমিং পুলে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরীক্ষাটি পরে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে রেকর্ড হিসেবে অনুমোদিত ও প্রকাশ করা হয়।

    পরীক্ষায় ড্রোনগুলো ধারাবাহিকভাবে পানিতে নামানো হয়। কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তারা ৩৪ মিনিট ধরে ৫০০ মিটার পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে। এ সময় ড্রোনগুলো বাস্তব সময়ের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের গতিপথ ঠিক রাখে।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, একই পরিবেশে কয়েক ডজন, এমনকি শত শত পানির নিচের যানকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও স্থিতিশীলভাবে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা পানির নিচের বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

    চীন স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে স্বয়ংক্রিয় যান এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে চালক বা মানবনির্ভর প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে মানবহীন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় এসব প্রযুক্তির গুরুত্বও বাড়ছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত টিএইচ-৬১৮ ড্রোনগুলোর দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার। প্রতিটির ওজন ৫ দশমিক ১৪ কেজি। এগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা ৩০ কিলোমিটার এবং একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।

    ড্রোনগুলো চলাচলের জন্য মোবাইল ফোনভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। নির্ধারিত পথে কোনো বাধা বা পরিবর্তন দেখা দিলে সেগুলো নিজে থেকেই গতিপথ সংশোধন করতে পারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, পানির নিচে চলাচলে বাস্তব সময়ে যোগাযোগের জটিলতা ও পরিবেশগত নানা বাধা রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে পানির নিচে লক্ষ্য শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ, শব্দতরঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ ও দৃশ্যগত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার ফলে এ রেকর্ড অর্জন সম্ভব হয়েছে।

    ড্রোন সরবরাহকারী শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিস জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান এখন সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি ও তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনসহ গবেষণা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

  • ‘এটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে’

    ‘এটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে’

    গাজায় একটি ভবন দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রশ্ন, তীব্র সমালোচনা ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হারমান সিং কাপুর সম্প্রতি গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উপহাস করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে কাপুর একটি ফোন উঁচিয়ে ধরে আছেন যাতে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত একটি কাঠামোর আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এখন আমি বিবি (নেতানিয়াহু) এবং ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে জিজ্ঞেস করছি… গাজায় এই ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে?” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি যখন জানতে চান তিনি কোন ভবনটির কথা বলছেন, তখন কাপুর সেটির দিকে আঙুল দেখিয়ে উত্তর দেন, এই ভবনটি। ধারণকারী মন্তব্য করেন যে মনে হচ্ছে ওটাই একমাত্র টিকে থাকা ভবন; জবাবে কাপুর বলেন, “হ্যাঁ, কেন?

    ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে কাপুরের এমন মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । ব্যবহারকারীরা এও উল্লেখ করেন যে, তার এই মন্তব্য বৃহত্তর শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।

    এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর আরেকটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই পোস্টে কাপুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আরেকটি আকাশ-চিত্র শেয়ার করেন, যেখানে একটি অংশ লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত ছিল। তিনি লেখেন: “কুলাঙ্গার ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের মতে, ভবন ধ্বংস করাকেই নাকি গণহত্যা বলা হয়।”

    পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত ভাষা ও উপস্থাপনার বিপরীতে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।

    এরই মধ্যে, গুগল ম্যাপসের হালনাগাদ স্যাটেলাইট চিত্রে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাফাহ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটি—সব জায়গাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান; একসময়ের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে এবং অনেক ভবনই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাফাহর তাল আল-সুলতানের ‘সৌদি নেইবারহুড’ এলাকায় শত শত ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প প্রায় পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছে, আর ‘সুইডিশ ভিলেজ’ এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

  • নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিচ্ছেন না ট্রাম্প

    নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিচ্ছেন না ট্রাম্প

    আসন্ন নির্বাচনের আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পরবর্তী মেয়াদের জন্য সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘদিনের এই মিত্রকে সরাসরি সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে কি আরেকটি মেয়াদ দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে আমি এখন আর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, তবে আমরা সেখানে বেশ জনপ্রিয়—।

    এ বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমার মূল লক্ষ্য হলো—আমি ইসরাইলের সুরক্ষায় তাদের সহায়তা করতে চাই। সোমবার নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি সমর্থন জানানোর বিষয়টি এড়িয়ে যান।

    এর পরিবর্তে ট্রাম্প ইসরাইলি জনগণের কাছে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে, অতীতের বিভিন্ন নীতির কারণে সেখানে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ-এর মতো।

    বিরোধী প্রার্থী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাডি আইজেনকোটের সঙ্গে ওয়াশিংটন আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি আইজেনকোট সম্পর্কে খারাপ কিছু শোনেননি, তবে নেতানিয়াহুকে পুরোপুরি বাতিল বা গুরুত্বহীন মনে না করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

    ট্রাম্প বলেন, মানুষ বহুবার বিবিকে (নেতানিয়াহু) হিসাবের বাইরে ফেলে দিয়েছে, ঠিক যেমন আমাকেও বহুবার হিসাবের বাইরে ফেলে দিয়েছিল। আমি বিবিকে খাটো করে দেখব না।

    ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং লেবানন ও গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপড়েন বেড়েছে বলে ধারণা করা হয়।

  • দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

    দামুড়হুদায় পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে আহত করা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ও ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ৯টি বাঁশের লাঠি ও ২টি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের আবু সিদ্দীক (৭০), লক্ষণ (৩৮), ফিরোজ হোসেন (১৯), ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) এবং ফুলন হালদার (৩২)। গ্রেপ্তারকৃত সবাই দর্শনা থানার চন্ডিপুর পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

    পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা থানার এসআই মোল্ল্যা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে অভিযান চালায়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আবু সিদ্দীক (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে।

    আটক আবু সিদ্দীককে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় একদল উশৃঙ্খল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে আসামি আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

    ঘটনার পরপরই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও দর্শনা থানা পুলিশ চন্ডিপুর গ্রামে যৌথ চিরুনি অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীকালে অভিযান অব্যাহত রেখে ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    দর্শনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনিপ্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ,আর

  • বক শিকার করার অপরাধে দুই যুবককে জেল-জরিমানা

    বক শিকার করার অপরাধে দুই যুবককে জেল-জরিমানা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক পাখি শিকার করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুই যুবককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম রব্বানী সরদার এ দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ উপজেলার চাঁপাইতোর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও সাকিব ইসলাম।

    পীরগঞ্জ বন বিট কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান, ঐ দুই যুবক বৃহস্পতিবার সকালে পীরগঞ্জ উপজেলার কালো পীর বাজারের পাশে নিজামপুর বিলে ফাঁদ পেতে অবৈধ ভাবে ১৫টি বক পাখি শিকার করেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন তাদের আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ মতে তাদের ঐ দণ্ডাদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং এ সময় শিকার করা বক পাখিগুলো খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত ঐ দুই যুবককে ঠাকুরগাঁও জেলখানায় পাঠানো হয়েছে। এ,আর

  • আমাদের নসিহত করার আগে নিজের ঘর সামলান: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী

    আমাদের নসিহত করার আগে নিজের ঘর সামলান: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী

    বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজেদের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে- সেটি আগে সামাল দেন, তারপরে অন্যকে কিছু বলতে আইসেন।

    তারেক রহমান বলেন, একটি গুপ্ত রাজনৈতিক দলের নেতারা আমাদের নসিহত করছে— আপনারা এটা করেন, আপনারা ওটা করেন। আজকে এখানে হাজারো লক্ষ মানুষের সামনে আমি তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, দয়া করে নিজের ঘরের দিকে আগে তাকান। নিজের ঘরের লোকেরা কিভাবে নারী নির্যাতন করছে, সেটি আগে সামাল দেন, তারপর অন্যকে কিছু বলতে আসেন।

    তিনি আরও বলেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকাতে হবে। নিজেদের সময়ে নারীদের জন্য এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কী করা হয়েছে, তার হিসাবও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ফেনীর পরশুরামে ১৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    নানাবাড়ির এলাকা ফেনীতে আসতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুধু নানাবাড়িতে এলেই হবে না, মানুষের দোয়া ও সমর্থনে যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা পালন করতে হবে। দেশের মানুষের পাশাপাশি নানাবাড়ির মানুষের জন্যও কাজ করতে হবে।

    তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে ভোটের অধিকার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নির্যাতন, গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এখন গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।

    তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ।

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। বিএনপি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবে সতর্ক থাকার জন্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য নেওয়া কর্মসূচি, নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং মানুষের সুবিধার জন্য নদী-খাল খনন, সবকিছুর মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে উপকৃত করা। বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

    পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সভাপতিত্বে সমাবেশে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল চৌধুরী মিন্টু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পিতা হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৬ বছর পর রায় ঘোষণা

    পিতা হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১৬ বছর পর রায় ঘোষণা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালে পিতাকে হত্যার দায়ে পুত্রকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    একই মামলায় অপর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত ঘাতক পুত্র পলাশ হাওলাদার পলাতক ছিল। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডিত ঘাতক পুত্র পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে।

    মামলার বাদী নিহত আলী আকবর হাওলাদারের অপর পুত্র মো. শহিদ হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন। তাদের মা দীর্ঘদিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। তার (শহিদ) মেঝ ভাই পলাশ সাকরাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা জোছনা আক্তারকে বিয়ে করে প্রায় একবছর ঘর সংসার করে। পরবর্তীতে পুনরায় সে (পলাশ) পরিবারের সকলের অমতে ভদ্রসা গ্রামের শাহ আলম রাঢ়ীর কন্যা সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

    তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রায়ই পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে চাইলে তার বাবা বাঁধা প্রদান করেন। এনিয়ে বাবা আলী আকবরের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত ছিলো পলাশ। এরইমধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জোছনা বেগমকে কোন প্রকার ভরণপোষণ না দেয়ায় তিনি (জোছনা) পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পলাশ বেশ কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়।

    মামলার বাদি বলেন, ওই মামলা দায়েরের জন্য পলাশ তার বাবা আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযুক্ত করেন। ফলে কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে সে (পলাশ) মরিয়া হয়ে ওঠে। এনিয়ে ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর তাদের পিতার সাথে পলাশের তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়।

    ওইদিন দিবাগত মধ্যরাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন ব্যক্তি তার ঘুমন্ত পিতাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরেরদিন (৩ মে) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার তাদের পিতাকে পার্শ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখমুখ গামছা দিয়ে বাঁধাসহ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দেখে তাদের (শহিদ) বাড়িতে খবর দেয়।

    পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের বাবা আলী আকবর হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে তার (আলী আকবর) মৃত্যু হয়।

    চাঞ্চল্যকর এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার ওসি সুকুমার রায় আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেছেন। এ,আর

  • বরিশালে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

    বরিশালে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জে একটি ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে আমেনা খানম (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বড় ছেলে রিফাতের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত আমেনা হিজলা উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি নগরীর রোকেয়া আজিম সড়কের একটি ভবনের দোতলার ফ্ল্যাটে প্রায় এক বছর ধরে একা ভাড়া থাকতেন।

    কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, আমেনার বড় ছেলে রিফাত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং কর্মসূত্রে রাজধানীতে থাকেন। ছোট ছেলে রিয়াদ থাকেন হিজলার গ্রামের বাড়িতে। বৃহস্পতিবার সকালে বড় ছেলের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে দরজা ভেঙে খাটের ওপর আমেনার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ ফুলে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

    ভবন মালিক রিনা বেগম জানান, আমেনা প্রায় এক বছর আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি ভবনের অন্য বাসিন্দাদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। তাঁর দুই ছেলে মাঝে মাঝে মায়ের কাছে আসতেন। ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর আমেনার বড় ছেলেকে খবর দেওয়া হয়।

    পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা তানিয়া জানান, মঙ্গলবার সর্বশেষ আমেনাকে দেখেছেন তিনি। এরপর ফ্ল্যাটে বাইরে থেকে তালা দেখে ভেবেছিলেন, তিনি কোথাও বেড়াতে গেছেন। বুধবার বিকেল থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, বড় ছেলের ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তালাবদ্ধ অবস্থায় ফ্ল্যাটটি পাওয়া যায়। পরে ভেতর থেকে কাপড় দিয়ে হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। এ,আর

  • রাউজানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত

    রাউজানে সন্ত্রাসীর গুলিতে ১২ পুলিশ সদস্য আহত

    দুই অস্ত্র ও ১২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গুলিবিনিময় হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ও ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার দিবাগত রাতে রাউজান থানার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

    আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিরস্ত্র) জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রবিউল হোসেনসহ ১২ জন।

    পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ।

    তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫)সহ অন্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    গুলিবিনিময়ের সময় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। এ,আর

  • ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    ডিসেম্বর ঘিরে অস্থিরতার আশঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কেউ কেউ আগের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করছে কি-না এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার বিষয়গুলো নজরে এলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কারও কারও দায়িত্ব অবহেলা আমরা লক্ষ্য করেছি। যেগুলো আমাদের সামনে আসছে, নজরে আসছে বা তদন্তে আসছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং নিচ্ছি।

    তিনি বলেন, প্রথমত আমরা শুধু তাদের প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছি না। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। ক্রিমিনাল অফেন্স যদি হয়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অফেন্সে অভিযোগ আনা হচ্ছে।

    এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত অভিযানের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তা অব্যাহত থাকবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন এজেন্সি সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। সেখানে আনসার ব্যাটালিয়নও থাকবে। তবে নতুন কোনো বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা নেই।

    এ সময় আনসার সদর দপ্তরের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪৫ একর বা ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল আনসারের জন্য একটি পরিকল্পিত জায়গায় সদর দপ্তর স্থাপন করা। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে খিলগাঁও থেকে আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আনসার বাহিনীর আকার বিবেচনায় সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং প্রায় ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত জনশক্তিও রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়মিত ব্যাটালিয়ন আনসার সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে। তাদের আবাসন সংকট রয়েছে। নতুন সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় এবং শেরেবাংলা নগরে আবাসনের জন্য জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য দিনটিকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ভূমিকা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও আনসার বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে।

    এদিকে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নির্মাণকাজ ও ইউটিলিটি শিফটিংয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, রাস্তা খননের ক্ষেত্রে একটি অংশের কাজ শেষ করে সেটি দ্রুত নির্মাণের পর অন্য অংশে কাজ করতে হবে। পুরো রাস্তা একসঙ্গে খনন করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা যাবে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হওয়ার ব্যবস্থার ফলে মানুষ ট্রাফিক আইন মানতে শুরু করেছে। এর ফলে সড়কে শৃঙ্খলাও আগের তুলনায় বেড়েছে।

  • কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যান চালকসহ মর্মান্তিকভাবে নিহত ২

    কুষ্টিয়ায় বাসচাপায় পাখিভ্যান চালকসহ মর্মান্তিকভাবে নিহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার মিরপুরে শ্যামলী পরিবহনের বাসের চাপায় পাখিভ্যানের চালক ও এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের আমতলা মাদরাসার সামনে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নিহতরা হলেন—মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার স্বস্তিপুর গ্রামের হাসেম আলীর স্ত্রী ভানুমতি (৫৫)। আহত নারী ভানুমতির মেয়ে হাসিনা।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে একটি পাখিভ্যান কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। পথে ভ্যানটির এক্সেল ভেঙে সেটি সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় পেছন থেকে মেহেরপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পাখিভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ভানুমতি নিহত হন।

    দুর্ঘটনায় ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম ও ভানুমতির মেয়ে হাসিনা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে আমলা পুলিশ ক্যাম্প ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভানুমতির লাশ উদ্ধার করেন এবং আহতদের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

    সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কামরুল ইসলাম ও হাসিনাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর পাখিভ্যানচালক কামরুল ইসলাম মারা যান বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন।

    স্থানীয়রা জানান, নিহত ভানুমতি তার জামাইয়ের বাড়ি নওদা আজমপুরে বেড়াতে এসেছিলেন।

    মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ এ,আর

  • শৈলকূপায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

    শৈলকূপায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে স্বামী মো: মিরাজ বিশ্বাসকে (৪০) হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী মোছাম্মৎ সুমাইয়া খাতুনের (২৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত মিরাজ শৈলকূপা উপজেলার ১৩ নম্বর উমেদপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামের আবু বকর বিশ্বাসের ছেলে। অভিযুক্ত সুমাইয়া যশোরের দলনগর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মিরাজের প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে সুমাইয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো। মিরাজের প্রথম পক্ষের সন্তানদের সাথে সুমাইয়া বিরূপ আচরণ করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

    আহত মিরাজ জানান, তিনি গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। বুধবার সামান্য বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে চড় মারেন।

    এর জেরে রাত ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সুমাইয়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে শৈলকূপা থানার এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত সুমাইয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

    শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ,আর

  • বড়াইগ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বড়াইগ্রামে ডোবার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বড়াইগ্রামে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে সাঈদ হোসেন নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের কুশমাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সাঈদ কুশমাইল গ্রামের শাকিল হোসেনের ছেলে।

    জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাসেল জানান, বিকেলে শিশুটিকে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলতে দিয়ে তার মা গৃহস্থালী কাজ করছিলেন। কিছুক্ষণ পরে তাকে দেখতে না পেয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবায় শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ,আর

  • মোহনগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি

    মোহনগঞ্জে যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ এবং হত্যার হুমকি দিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মো: রাকিব মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

    অভিযুক্ত রাকিব উপজেলার সহিলদেও ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ বাজারে এক পল্লী চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

    গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন বছর আগে রাকিবের সাথে ওই তরুণীর সম্পর্ক ছিল। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর রাকিব পুনরায় তার সাথে যোগাযোগ করে সম্পর্ক রাখার কথা বলেন।

    একপর্যায়ে গত ৮ জুন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে স্বামীর বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার জেরে ওই তরুণীর স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

    অভিযোগে আরো বলা হয়, স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাকিব একাধিকবার ওই তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন। একপর্যায়ে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে রাকিব তাকে হুমকি দিলে ওষুধ সেবনের পর তার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়।

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর তরুণী রাকিবের চেম্বারে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রাকিব তাকে গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। বর্তমানে রাকিব মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে আছেন। তার সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিবের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

    মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ,আর

  • সিরাজদিখানে রেললাইনের পাশ থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    সিরাজদিখানে রেললাইনের পাশ থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নিমতলা এলাকা থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, সকালে খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী ইউনিট রেললাইনের পাশে এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে।

    তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অসাবধানতাবশত রেললাইন পারাপারের সময় ওই নারী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তার আনুমানিক বয়স ৭৫ বছর।

    পরে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য লাশটি জিআরপি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা জানান। এ,আর

  • মহেশপুরে হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গরু বিতরণ

    মহেশপুরে হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে গরু বিতরণ

    মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি

    ঝিনাইদহের মহেশপুরে ফতেপুর গাজীরণনেছা বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিএনএফের আর্থিক সহায়তায় হত-দরিদ্র ও অসহায় পরিবার গুলোকে স্বাবলম্বীকরণ ও জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে আরডিসি সংস্থার উদ্দ্যোগে বিনামূল্যে গরু বিতরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে মানবাধিকার সংগঠন আরডিসির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে গরু বিতরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মহেশপুর থানার ওসি তদন্ত এনায়েদ হোসেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের প্রতিনিধি ডাক্তার রেজাউল ইসলাম,ফতেপুর ইউপি সদস্য আসাদ,সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা মতিউর রহমান,সাবেক ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান,গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। সঞ্চলনা করেন সহকারী শিক্ষক ওলিউল্লাহ। র্সাবিক সহযোগিতা করেন,আরডিসি‘র প্রোগ্রাম সুপার ভাইজার মোঃ ওসমান গণি। উল্লেখ্য,বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ও আরডিসি সংস্থার বাস্তবায়নে মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ও নাটিমা ইউনিয়নে ৬টি পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে এই গরু বিতরণ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এ,আর

  • পুলিশকে এখন কেউ ভয় পায় না…

    পুলিশকে এখন কেউ ভয় পায় না…

    গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দেশে এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ চালু ছিল। বলা হতো, বাংলাদেশ একটি ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে উলটো পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ পুলিশকে কেউ ভয় পায় না এমন আলোচনা এখন জনমনে চালু হয়েছে। ফলে শত শত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলেও কেন জানি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। অনেকের মতে, ভয়ের সংস্কৃতির বদলে তোয়াক্কা না করার (ড্যাম কেয়ার) সংস্কৃতি চালু হয়েছে। ফলে পুলিশ দেখলে পালানোর পরিবর্তে অনেক জায়গায় পুলিশই হামলার শিকার হচ্ছে।

    সর্বশেষ বুধবারও মিরপুরে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদের ঘটনায় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনায় মিরপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আগুন দেওয়া হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে। ভাঙচুর করা হয় উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর (ভেকু) এবং পুলিশের গাড়ি। অনেকের মতে, অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রতিনিয়তই নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন চিত্রকে চরম উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মিরপুরের ঘটনার আগে বৃহস্পতিবার রাতে ‘রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে’ অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শুধু তাই নয়; ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে। এর একদিন পরে শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরসংলগ্ন দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরসহ সেখানে তাণ্ডব চলে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় ৭ জনকে। এছাড়া মোহাম্মদপুরে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র মব হামলা, আদাবরে আটতলা বাড়ি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক সংঘর্ষসহ বেশকিছু ঘটনা গত কয়েকদিনে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়। এসব ঘটনা সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। বুধবার একদিনেই বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে চার শতাধিক অপরাধীকে।

    সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সচিবালয়ে বলেন, এসব হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী চরম অস্থিতিশীল বা নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি থেকে দেশ এখন অনেকটাই বেরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে অত্যন্ত কঠিন এক অবস্থার মধ্য দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কিছু অপরাধ বাড়লেও কিছু ক্ষেত্রে কমেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে যাদের অপরাধ নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে চরম বিপর্যয় তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলে। কিন্তু সেই অর্থে আজও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দেন, দেশে আর মব সন্ত্রাস থাকবে না। পরিস্থিতি দ্রুতই উন্নতি হবে। সে লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়। পুলিশ বাহিনীকে পেশাদার ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। চলমান রয়েছে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাং দমনে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতিনিয়ত গ্রেফতার করা হচ্ছে শত শত অপরাধীকে। পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে মনিটরিং টিম। কিন্তু বাস্তবে এসবের সুফল মিলছে না। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। একের পর এক নৃশংস ও বিশৃঙ্খল ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে সার্বিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিচার করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়া মাত্রই পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল যাচ্ছে। দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করছে। সুতরাং, সরকারের কোনো দায়ভার বা ব্যর্থতা নেই। তিনি বলেন, সরকার বা পুলিশের ব্যর্থতা তখনই বলা যেত যদি আমরা ব্যবস্থা না নিতাম। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়মিত গ্রেফতার করা হচ্ছে। সামনে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্বৃত্ত দুর্বৃত্তই, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।’

    পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করেছে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী পুলিশি তৎপরতা চলছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বর্ডার গার্ড হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে তার নৃশংস ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

    অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধীরা নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারা বলেন, প্রভাবশালী মহল কিংবা ক্ষমতাসীনদের মদদ ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব নয়। তাই অপরাধীদের দমনে শুধু গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়, সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন। যা দেখে বাকি অপরাধীরা ভীত হয়। তারা মনে করেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

    সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম যুগান্তরকে বলেন, জনমনে স্বস্তি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়বে। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধী বা সন্ত্রাসীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখা যাবে না। তাদের পেছনে যেসব মদদদাতা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও প্রশাসনিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি প্রয়োগ করতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে অপরাধীরা আইন এবং পুলিশের প্রতি যে ভয় পেত, বর্তমানে সেই ভয়ের সংস্কৃতি পুরোপুরি অনুপস্থিত। যে কারণে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, অপরাধী গ্রেফতারের খবর স্বস্তিদায়ক হলেও অপরাধের মূল শিকড়ে টান দিতে না পারলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধীরা যখন দেখে যে, তাদের পেছনে কোনো না কোনো প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক চক্রের অদৃশ্য হাত রয়েছে, তখন আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ কাজ করে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় উপেক্ষা করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে এক সময় সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

  • নোবেল প্রাইজ: ট্রাম্প-কাণ্ডে সতর্ক বিচারকরা, শান্তিতে যারা আলোচনায়

    নোবেল প্রাইজ: ট্রাম্প-কাণ্ডে সতর্ক বিচারকরা, শান্তিতে যারা আলোচনায়

    নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গত বছর জোর প্রচার চালিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে চলতি বছর বিজয়ী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নোবেল কমিটি। আগামী সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করার কথা।

    গত বছর ট্রাম্প না পেলেও তাঁকে পুরস্কারের মেডেলটি উপহার দেন ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের প্রকাশ্য দাবির মুখে চাপে পড়েছিল পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি। এ বছরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জুরি বোর্ডের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছেন।

    নোবেল কমিটির সেক্রেটারি ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘এখানে সবসময়ই প্রচুর তদবির বা লবিং থাকে। এমনকি শেষ পর্যন্ত হয়তো কমিটির ওপর চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করা হয়। তাই একদিক থেকে আমরা এসব বিষয়ে বেশ অভ্যস্ত।’

    শান্তিতে যারা আলোচনায়
    শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী ৯ অক্টোবর। মনোনীতদের তালিকা ও জুরি বোর্ডের আলোচনার বিষয়বস্তু নোবেল কর্তৃপক্ষ ৫০ বছর ধরে গোপন রাখে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্প-কাণ্ডের পর নোবেল কমিটি এবার হয়তো এমন কাউকে বেছে নেবে, যার ব্যাপারে সবার সম্মতি আছে।

    অসলো পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন জেরলো এএফপিকে বলেন, গত বছরের ঘটনার জেরে এবার তারা পরিস্থিতিকে কম বিতর্কিত রাখার উপায় খুঁজছেন।

    জেরলোর পছন্দের তালিকায় আছেন সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকার কর্মী মাইকোলা কুলেবা। অধিকৃত অঞ্চল থেকে বেআইনিভাবে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন কুলেবা। জেরলোর ধারণা, এই সংস্থা ও কুলেবাকে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

    এই বিকল্পটি বেছে নিলে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প খুশি হতে পারেন। কারণ, ইউক্রেনীয় শিশুদের মুক্তির আবেদন জানিয়ে গত বছর তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি চিঠি লিখেছিলেন।

    জেরলোর সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকায় আরও আছে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস (ইআরআর)। এটি মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ ও ক্ষুধার হুমকির মুখে পড়া মানুষদের সাহায্য করতে তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।

    এছাড়া, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসও (সিপিজে) আলোচনায় আছে। সাংবাদিকদের জন্য গত বছরের সময়গুলো বেশ খারাপ ছিল। জেরলোর পছন্দের তালিকায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনও (আইএসএস) আছে।

    তবে নোবেল কমিটি যদি ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়াতে চায়, তাহলে অন্য কাউকেও বেছে নিতে পারে। যেমন- ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চল বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত (র‌্যাপোর্টিয়ার) ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অথবা পোপ চতুর্দশ লিও।

    সাহিত্যে নোবেল কি আর্জেন্টিনার ঝুলিতে?
    পুরস্কার ঘোষণার সময় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সাহিত্য বিভাগ। যেটির বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ৮ অক্টোবর। এ বিভাগের বিজয়ী নির্বাচন করে সুইডিশ একাডেমি। গত বছর হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাস্নাহোরকাইকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।

    বার্তা সংস্থা এএফপি কয়েকজন সাহিত্য সমালোচকের মতামত নিয়েছে। তাদের ধারণা, একাডেমি এবার হয়তো কোনো নারী লেখককে বেছে নিতে পারে। তিনি হতে পারেন লাতিন আমেরিকার কেউ।

    সুইডিশ পাবলিক রেডিও ‘এসআর’-এর সাহিত্য সমালোচক লিনা কালমটেগ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাতিন আমেরিকার সাহিত্য নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের মতো পুরুষ লেখকদের পর নতুন এই জোয়ারে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছে।

    লিনা আরও বলেন, এই লেখকদের লেখায় প্রায়ই নারীবাদের ছোঁয়া থাকে। একইসঙ্গে সহিংসতা, ডার্ক ও পরাবাস্তবতার মিশ্রণ দেখা যায়। এ বছর বিভাগটিতে ৪৮ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন লেখক সামান্তা শোয়েবলিন চমকপ্রদ নাম হতে পারেন।

    সাধারণত কোনো একক গ্রন্থের জন্য সাহিত্যের নোবেল দেওয়া হয় না। বরং একজন লেখকের সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের জন্য সম্মাননা জানানো হয়। সে হিসেবে সমালোচকদের তালিকায় আরও আছেন, অ্যান্টিগুয়ান-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনকেড, চীনা লেখক ক্যান সুয়ের। তাদের লেখায় নির্বাসন, আত্মপরিচয় এবং ঔপনিবেশিকতা থেকে পাওয়া মানসিক আঘাতের বিষয়গুলো ফুটে ওঠে।

    নিয়মিত আলোচনায় থাকা কিছু নামও আছে। যেমন- অস্ট্রেলিয়ার জেরাল্ড মুরনেন, অ্যালেক্সিস রাইট, মার্কিন লেখক থমাস পিনচন ও মেক্সিকোর ক্রিস্টিনা রিভেরা গারজা।

    কবে কোন বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা?
    আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) চিকিৎসাশাস্ত্রের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে নোবেল মৌসুম শুরু হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ‘জিএলপি-১’ হরমোন নিয়ে গবেষণার জন্য পুরস্কারটি দেওয়া হতে পারে। এই হরমোন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজেম্পিকের মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরিতে কাজ করে।

    পরদিন ৬ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞান, ৭ অক্টোবর রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর। পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

  • সিলেট সীমান্তে ভারতীয় শটগান-গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ

    সিলেট সীমান্তে ভারতীয় শটগান-গুলিসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় শটগান, গুলি, মদসহ বিপুল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবি।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রতাপপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। তবে, এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

    বিজিবি সূত্র জানায়, বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ৪৮ বিজিবির একটি বিশেষ অপারেশন দল প্রতাপপুর বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩০০ বোতল ভারতীয় মদ, একটি ভারতীয় সিঙ্গেল ব্যারেল শটগান ও আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

    এছাড়া ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ জিরা, গরু, সানগ্লাস, কসমেটিকস, কম্বল, বিড়ি, চকলেট, ফুচকা ও এনার্জি ড্রিংক জব্দ করা হয়। একই অভিযানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারের সময় মশলা ও শিং মাছসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব চোরাইপণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৭৩ হাজার টাকা।

    সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ, শটগান, গুলি ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে আইন ও প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ,আর

  • ইরানের পরমাণু নিয়ে ন্যাটোর কোনো ধারণাই নেই : রাশিয়া

    ইরানের পরমাণু নিয়ে ন্যাটোর কোনো ধারণাই নেই : রাশিয়া

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। তিনি বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে ন্যাটো মহাসচিবের কোনো ধারণাই নেই।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উলিয়ানভ বলেন, এই ব্যক্তি নিজেকে ন্যাটোর সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা বলে দাবি করেন। অথচ তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

    তিনি আরো বলেন, পশ্চিমাদের পেশাদারিত্বের অভাব কিংবা এর নিম্নমান একটি প্রকৃত বিপর্যয়।

    এর আগে বুধবার ‘এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে মার্ক রুটে দাবি করেন, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বিমান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তার জন্য উড্ডয়ন করেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে ইউরোপের সামরিক অবকাঠামোর ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শন ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপকে ব্যবহার করা না হলে এই অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ত।

    রুটে আরো দাবি করেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে।

    তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে সম্ভাব্য ও আসন্ন হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি শুধু ইসরাইল ও পশ্চিম এশিয়ার জন্যই নয়, ইউরোপের জন্যও বিপজ্জনক।

    তবে ন্যাটো মহাসচিবের পক্ষ থেকে এ ধরনের বক্তব্য এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসেও বিভিন্ন বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপের সহযোগিতার বিষয়টি স্বীকার করেন। এমনকি ইতালির মতো দেশগুলো কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন।

  • ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ

    ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের মিশন শেষ

    সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাদের মিশন শেষ করেছে। দেশটির নেতারা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে এ নিয়ে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ২০১৪ সালে তথাকথিত উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার অজুহাতে ইরাক ও সিরিয়ায় জোটের সেনা মোতায়েন করা হয়।

    ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়। তবে গোষ্ঠীটির অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে জোটের সেনারা সেখানে থেকে যান।

    ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক মিশনটি ধীরে ধীরে বন্ধ করার বিষয়ে একমত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। একপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত হয়ে পড়ে।

    ইসলামিক স্টেটকে বোঝাতে ট্রাম্প এক পোস্টে বলেন, ‘এই দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়, ইরাকের বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট বিজয়।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমার সামনে সেখানে থেকে যাওয়া অথবা সেখান থেকে চলে যাওয়ার মধ্যে একটি বেছে নেয়ার সুযোগ ছিল। আর কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আমার মনে হয়েছে, আমেরিকার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে।’

    ‘সার্বভৌমত্ব’
    মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট একাই আইএসকে পরাজিত করেনি। কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোসহ ইরাকের শক্তিশালী কয়েকটি গোষ্ঠীও এতে ভূমিকা রাখে। এসব গোষ্ঠীর কয়েকটি এখনো অস্ত্র সমর্পণ করেনি।

    ইরাক সরকার মনে করে, জোটের সেনা প্রত্যাহার হলে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখার যে অজুহাত ব্যবহার করে আসছে, তা আর থাকবে না।

    তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আরো শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এসব গোষ্ঠীর সমর্থকেরা পতাকায় সাজানো একটি জনসমাগমস্থলে জড়ো হয়ে উদযাপন করেন। সেখানে মডেল ড্রোন দিয়ে সাজানো মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দেয়া হয়।

    অনুষ্ঠানে কাতায়েব হিজবুল্লাহর সামরিক মুখপাত্র জাফর আল-হুসেইনি বলেন, গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ‘নিয়ন্ত্রণে আনার’ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তবে ‘ইরাক সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি’।

    তিনি আরো বলেন, এ কারণে অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে তারা ‘কোনো সময়সীমা বা চুক্তির আওতাভুক্ত নয়’। ইরাকের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি কর্মকাণ্ডের সরাসরি জবাব দেয়ার অধিকার’ তাদের রয়েছে।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, ‘নতুন একটি পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায় ইরাকের সার্বভৌমত্ব, প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি এবং দেশের বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি দ্বারা নির্ধারিত হবে।’

    হামলা বেড়েছে
    যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলতি বছর ক্ষমতায় আসা জাইদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র হস্তান্তরে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    তার সরকার গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। তবে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আলোচনা চলতে থাকায় পরে সেই সময়সীমা প্রত্যাহার করা হয়।

    কুর্দি সামরিক কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘কুর্দিস্তানের আকাশ সুরক্ষার জন্য আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

    তবে তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, পেশমার্গা বাহিনী যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।

    জোটের দেয়া প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও অস্ত্রের কারণে তাদের সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’ বলেও তিনি জানান।

    কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানিও বুধবার বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবেলায় ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে অত্যন্ত ভালো সমন্বয় রয়েছে।’

    ইরান-সমর্থিত কয়েকটি গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে অস্বীকৃতি জানানোয় জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকেরা এখন একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

    গোষ্ঠীগুলো যেসব শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে শুধু বিদেশী সেনা প্রত্যাহার নয়, মার্কিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিও রয়েছে।

    কাতায়েব হিজবুল্লাহ বলেছে, ‘দখলদার বাহিনীর’ প্রত্যাহার ‘পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জনের পথে একটি সূচনা’। তবে গোষ্ঠীটি জাইদি সরকারকেও হুমকি দিয়েছে।

    তারা বলেছে, ‘যে সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে না, তাকে সম্ভাব্য সব উপায়ে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।’

    ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েক বছর ধরে গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় তেহরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকে হামলা আরো জোরদার করে। তারা কুর্দিস্তান অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

  • দিনাজপুরে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    দিনাজপুরে ডোবার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে ডুবে মালিহা জান্নাত মেহজাবিন (২) ও তানিয়া জান্নাত (৩) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাটলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিশু মালিহা জান্নাত মেহজাবিন উত্তর কাটলা গ্রামের হুমায়ুন কবিরের মেয়ে ও তানিয়া জান্নাত তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

    স্থানীয়রা জানান, সকালে খেলতে খেলতে দুই শিশু মেহজাবিন ও তানিয়া বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে দুই শিশুর ভাসমান লাশ দেখতে পান প্রতিবেশীরা।

    বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক সাইফুদ্দিন প্রামানিক জানান, খবর পেয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের হাতে তুলে দিয়েছেন তারা। এ,আর

  • অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদি

    অলৌকিকভাবে বাঁচলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী কয়েদি

    যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুই দফা প্রাণঘাতী বিষাক্ত ইনজেকশন দেয়ার পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন ক্রিস্টা গেল পাইক (৫০) নামের এক নারী কয়েদি। বুধবার রাতে এই নজিরবিহীন ব্যর্থতার পর তাকে অচেতন অবস্থায় কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবীরা।

    দীর্ঘ দুই শতাধিক বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া এভাবে ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।


    ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ক্রিস্টাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের তা খারিজ করে দেয়ার দীর্ঘ নাটকীয়তার পর রাত ৭টা ২৭ মিনিটে তাকে এক্সিকিউশন চেম্বারে নেয়া হয়।

    রাত ৮টা ২৬ মিনিটের মধ্যে ক্রিস্টাকে তীব্র প্রাণঘাতী বিষাক্ত ওষুধের দুটি পূর্ণ ডোজ প্রয়োগ করা হয়। তবে ওষুধ প্রয়োগের দীর্ঘক্ষণ পরও তিনি মারা যাননি, বরং তাকে জীবিত থাকতে এবং জোরে নাক ডাকতে শোনা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে মাইক বন্ধ করে পর্যবেক্ষকদের বাইরে বের করে দেয়া হয়।


    ঘটনার পরপরই ক্রিস্টার আইনজীবীরা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে জরুরি আবেদন দাখিল করে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের এবং তাকে জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ব্যর্থ এই প্রক্রিয়ার কারণে তাদের মক্কেল অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন, যা মার্কিন সংবিধানের লঙ্ঘন।

    ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক রবিন এম মাহের জানান, রগ খুঁজে না পেয়ে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের নজির অতীতে থাকলেও প্রাণঘাতী ড্রাগ শরীরে প্রবেশের পরও কোনো কয়েদির বেঁচে থাকার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। এ বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থ হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

  • পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

    পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

    তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোতে বরফ গলছে তীব্র গতিতে। হিমবাহ গলার এই গতি সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১২ মাসেই দেশটির মোট হিমবাহের সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি বরফ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।

    বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলার এই গতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। ফলে আগামী দশকগুলোতে ইউরোপের কৃষি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নৌপরিবহনে ব্যবহারের উপযোগী সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

    সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্কের নতুন তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে কম তুষারপাতের পর মে ও জুন মাসের আগাম তাপদাহের কবলে পড়ে হিমবাহগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ে। টাটকা তুষারের তুলনায় খালি বরফ সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করায় পরবর্তী সময়ে বরফ গলার গতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মাত্র কয়েক বছর আগেও আল্পস অঞ্চলে বছরে ২ শতাংশ বরফ ক্ষয়কে ‘চরম’ মাত্রার গণ্য করা হতো। কিন্তু এবার তা ৫.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিংয়ের পরিচালক ড. ম্যাথিয়াস হাস একে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিজ্ঞানীরা জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুইস হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি লিটার বরফগলা পানি নিঃসরিত হয়েছে। এই গলিত পানি চলতি মৌসুমে পানির সংকট সাময়িক মেটাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইউরোপের পানির মজুতকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। হাস সতর্ক করে বলেন, তাপপ্রবাহে যে পানি গলে যাচ্ছে, তা মূলত শত শত বছর ধরে সঞ্চিত থাকা প্রাচীন পানির ভাণ্ডার। হিমবাহ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে খরা দেখা দিলে এই পানির সরবরাহ আর অবশিষ্ট থাকবে না।

    ইতিমধ্যেই পানিস্তর রেকর্ড নিচে নেমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও গ্রীষ্মের শেষে কোনো তাজা তুষার টিকে থাকেনি। সাধারণত এই উচ্চতায় কয়েক মিটার পুরু শীতকালীন তুষার থাকার কথা। যা পরে জমাট বেঁধে নতুন বরফে পরিণত হতো। কিন্তু সেখানে চার মিটার পর্যন্ত বরফ হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফ্রিজ থেকে বের করে রাখা বরফের খণ্ডের মতো মানুষের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে আল্পসের চিরচেনা হিমবাহগুলো। এই সংকট ইউরোপ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রূপ ধারণ করার আগেই জীবাশ্ম জ্বালানি দূষণ কমিয়ে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

  • সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি

    সিলেটে বালুভর্তি ট্রাকে মিলল ৪৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সিলেটের জৈন্তাপুরে বালুভর্তি ট্রাকে অভিনব কায়দায় পাচারের সময় চার হাজার ৩৪১ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো: আলালকে (৩৫) আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার মো: সম্রাট তালুকদার।

    তিনি জানান, এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরপূর্বক আটক ট্রাকচালক আলালকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

    আটক ট্রাকচালক আলাল গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের পাঁচ সেউতী গ্রামের সিদ্দেক আলীর ছেলে।

    এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত সোয়া ৫টার দিকে জৈন্তাপুর থানার নিজপাট ইউনিয়নের নয়াখেল এলাকায় সারী নদীর সেতুর উত্তর পাড়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে একটি বালুভর্তি ট্রাকে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ট্রাকের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, জব্দকৃত শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩০ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া পাচারে ব্যবহৃত হলুদ রঙের ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ টাকা। এ,আর

  • কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

    কারও দান-খয়রাতের প্রয়োজন নেই আমাদের: পুতিন

    রাশিয়ার নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট দুমা’য় প্রথম ভাষণ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, সামাজিক ব্যয়, প্রতিরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন তিনি।

    বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নবম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় পুতিন আইনপ্রণেতাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপ এবং ‘ধ্বংসাত্মক জনতুষ্টি’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাইরের কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাশিয়ার প্রয়োজনীয় সম্পদ রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি। পুতিন বলেন, রাশিয়া সারা বিশ্বে ‘হাত পেতে দান-খয়রাতের জন্য ভিক্ষা করবে না’।

    দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন ফেডারেল বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথমত, এটি অপমানজনক। দ্বিতীয়ত, কেউ আমাদের কিছু দেবে না। এটা আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। আর তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের এর প্রয়োজন নেই। পুতিন রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করেন।

    তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের ভুল একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় প্রকল্প ও ফেডারেল কর্মসূচিগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ পুরোপুরি বরাদ্দ এবং সরকারের সব সামাজিক অঙ্গীকার পূরণের ওপর জোর দেন। বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক বাধা কমানোর আহ্বান জানান আইনপ্রণেতাদের প্রতি।


    প্রতিরক্ষা এবং রুশ সেনাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য সহায়তা পার্লামেন্টের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন পুতিন। তার মতে, আইনপ্রণেতাদের ‘রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ দিতে হবে, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে এবং ‘আমাদের বিজয়ের জন্য সবকিছু করতে হবে’। ইউক্রেন সংঘাতে অংশ নেয়া এবং পরে নতুন পার্লামেন্টে নির্বাচিত রুশ সেনা ও সাবেক যোদ্ধাদেরও স্বাগত জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, তারা ইতিমধ্যেই ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ দেশের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের প্রমাণ দিয়েছেন।

  • বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

    বাকেরগঞ্জে নিখোঁজ ৩ স্কুলছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বরিশালের বাকেরগঞ্জে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে নিখোঁজ হওয়া দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রীকে ঢাকার শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে কদমতলী থানার আওতাধীন শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার কথা বলে দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রী বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    পরে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো: আদিল হোসেনের নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। উপ-পরিদর্শক নাজমুল মোল্লা ও সবিতা রানীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার শ্যামপুরের ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

    ওসি আদিল বলেন, ‘দাড়িয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির নিখোঁজ তিন ছাত্রীকে ঢাকার শ্যামপুর থেকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’ এ,আর

  • সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

    সিডনিতে কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুর, মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নারেলানে আল নূর ইসলামিক কবরস্থানে একাধিক কবরের হেডস্টোন ও স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাটি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
    পুলিশ জানিয়েছে, ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার উদ্দেশ্য বা এটি ইসলামবিদ্বেষী হামলা কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।

    ইতোমধ্যে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ)। সংগঠনটির সেক্রেটারি গামেল খেইর বলেন, কবরের ওপর হামলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবিত মানুষের পাশাপাশি মৃতদের মর্যাদাও রক্ষা করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
    এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলোর মধ্যে মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানি ও সন্তানদের কবর রয়েছে। তারা সবাই মুসলিম অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ছিলেন। মৃত্যুর পরও তাঁদের কবর অন্য যেকোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের মতোই মর্যাদা ও সম্মানের দাবিদার।

    সংগঠনটি আরও বলেছে, কবর ভাঙচুরের কারণে স্বজনরা প্রিয়জনের সমাধিতে গিয়ে গভীর মানসিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, একই কবরস্থানে এর আগেও মুসলিম কবরের ওপর শূকরের মাথা ও অবশিষ্টাংশ নিক্ষেপের পৃথক ঘটনা ঘটেছিল। তবে আগের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    অ্যাসোসিয়েশন ঘটনাটিকে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ধর্মীয় বিদ্বেষকে কোনোভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। সংগঠনটি দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে এনএসডব্লিউ পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছে।

    এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কবরগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাড়াতে কবরস্থানে নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কাজও এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য মাল্টিকালচারালিজম বিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ ক্যাম্পার ও মাল্টিকালচারাল এনএসডব্লিউ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন।
    অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস (এএফআইসি)ও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ধর্মীয় বিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

  • রমজানের আগে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির

    রমজানের আগে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা ইসির

    আগামী বছরের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

    জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন শুরু হলে, সেক্ষেত্রে রমজান মাসের আগে তিনটি স্লটে দুই হাজার ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

    বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যদি প্রথম স্লটের নির্বাচন হয়, তাহলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    তিনি বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে যেহেতু পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীরা যেনো নির্বিঘ্নে, সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য আগামী বছরের শুরু থেকে, অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হতে পারে।

    তবে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। কোনো ব্যাপারে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছুই হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ইউপি নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি আছে উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। আরো যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন সেটা করব।

    তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি একটা চলমান প্রক্রিয়া।

    আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, রমজানের আগে একাধিক স্লটে ইউপি নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে। রমজানের পরে আবার শুরু করে জুন মাসের মধ্যে সকল ইউপি নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    রমজানের পরে আবার কখন থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রমজানের পরেই এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। কাজেই তখনকার অবস্থা বিবেচনা করে ঠিক করা হবে।

    সেক্ষেত্রে ইউপি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে ইসি মাছউদ বলেন, নির্বাচনের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। যদি জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম স্লটের নির্বাচন হয়, তাহলে তার ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

    স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই আমাদের পৌরসভা নির্বাচন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারলে তারপর পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচনগুলো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সবারই সহযোগিতা লাগবে। স্কুল, কলেজের শিক্ষকসহ সকলের সহযোগিতা লাগবে। কাজেই সরকারের সাথে সমন্বয় করেই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমরা চেষ্টা করব।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে উল্লেখ করে ইসি মাছউদ জানান, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির প্রস্তুতি সভায় আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

    ইসি মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক ধরেই আমরা কাজ শুরু করব এবং সেনাবাহিনীকে আমরা প্রথম ডাকবো না। তবে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচন করে যদি মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা আরো শক্ত হওয়া দরকার। সেক্ষেত্রে আমরা বিবেচনা করব। অন্যথায় স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ডাকার প্রয়োজন এই মুহূর্তে অনুভব করছি না।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ইউপি নির্বাচনও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার শতভাগ প্রচেষ্টা থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা দেশব্যাপী একদিন একটা বড় নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি, সেক্ষেত্রে ইউপি নির্বাচন এলাকাভিত্তিক বা সংখ্যাভিত্তিক এবং বিভিন্ন স্লটে হবে। আমরা চেষ্টা করব যতদূর সম্ভব গন্ডগোল বা মারামারি বা হানাহানি বা যে সকল অনিয়ম সেটা যতদূর সম্ভব যেন কম হয়।

    এদিকে দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ২৭২টিতে আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইসির সভা শেষে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ৬ জুনের আগেই স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে আগামী ৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন শেষ করা বিষয়ে একটা টাইমলাইন ধরে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। এর মধ্যে যদি সব মামলা মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়ে যায় তখন ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা আরো বাড়বে। প্রায় ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ধাপে ধাপে করতে গেলেও এক একটা ধাপে সংখ্যাটা অনেক বড় হয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, আমরা আশা রাখি, পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে গেলে জানুয়ারির থেকে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে পারবো।

    এদিকে সম্প্রতি ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা’, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। ইসির সংশোধিত বিধিমালায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা ও সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ১০ লাখ ও সদস্য প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে কমিশন।

    এছাড়া নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গকে হুমকি, ভীতি-প্রদর্শন ও বাধা প্রদানের শাস্তি অনধিক ২ বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে।

    অন্যদিকে কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ অপেক্ষা কম পেলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে। একইসাথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা সমান হলে কমিশন সর্বোচ্চ সমভোটপ্রাপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও মধ্যে পুনঃভোট গ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করবে।

  • কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    কলারোয়ায় মেধাবী ১০ শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে কলারোয়া উপজেলার আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মেধাবী ১০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

    এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মাহফুজুর রহমান।

    কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান চান্দু, শিক্ষক মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

    সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক তামিম আজাদ মেরিন। অনুষ্ঠানে ছেলেদের লাল ও মেয়েদের মাঝে গোলাপী রঙের সাইকেল বিতরণ করা হয়। এ,আর

  • যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে কোরিয়া: ট্রাম্প

    দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিউল বলছে, আলাস্কায় তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্রকল্পের জন্য ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    স্থানীয় সময় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয় ওভাল অফিস থেকে এ বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। খবর রয়টার্সের।

    গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সম্মত হয়। সেই বৃহত্তর কৌশলগত বিনিয়োগ প্যাকেজের আওতায় জাহাজ নির্মাণ খাতে ১৫০ বিলিয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে সিউল।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করেছে, তার আওতায় তারা ২০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।’

    তিনি জানান, এই বিনিয়োগের আওতায় আটটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, একটি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন এবং টেক্সাসে ৬-গিগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

    নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের করা অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ চুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ এটি। মূলত ইরান যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের মাঝে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

    তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক ও আইনি শর্ত পূরণ হলেই কেবল পাইপলাইন প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হবে। সিউল ট্রাম্পের ঘোষণার অন্যান্য বিষয়গুলো নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এআই ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য টেক্সাসের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং আটটি পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণে ১২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলাস্কা এলএনজি প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যকারিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি যাচাই করতে তারা পর্যালোচনা শুরু করবে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিনিয়োগ করা হবে কি না কিংবা বিনিয়োগের পরিমাণ কত হবে—এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এক্স বার্তায় লিখেছেন, এলএনজি প্রকল্প এবং পারমাণবিক চুল্লি—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ শুরুর আগে সেগুলোর বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে।

    সিউলের বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য দেখা দিলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে।

    আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে, এর আওতায় একটি ৮০৭ মাইল দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইনটি ‘নর্থ স্লোপ’ থেকে আলাস্কার দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি তরলীকরণ কেন্দ্রে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করবে। এতে এশিয়ার বাজারে এই জ্বালানি পাঠানো সম্ভব হবে।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৯০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টন এলএনজি উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    ট্রাম্প বারবার এই প্রকল্পটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি উপায় হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ব্যয়, অর্থায়ন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্পটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

  • শাহজালাল বিমানবন্দরে হয়রানি, লিখিত অভিযোগ জামায়াতের চার এমপির

    শাহজালাল বিমানবন্দরে হয়রানি, লিখিত অভিযোগ জামায়াতের চার এমপির

    হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চারজন সংসদ সদস্য।

    তারা হলেন- শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আইউবী ও খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।

    এই চার সংসদ সদস্যের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে বিমানের বিজি৩৩৮ ফ্লাইটটি। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী তিন ঘণ্টা পরও ট্যাগযুক্ত লাগেজ বুঝে পাননি।

    এ ঘটনায় যাত্রী হয়রানি, লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর করা ওই অভিযোগে বলা হয়, বিজি৩৩৮ (মদিনা-ঢাকা) ফ্লাইটে ঢাকায় আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ পাননি। যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। লাগেজ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যৌক্তিক কারণ জানানো কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও হয়রানির সৃষ্টি হয়।

    অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, লাগেজ বুঝে না পেয়ে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিযোগকারীরা।

    ওই অভিযোগের কপির ছবি নিজ ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এর সঙ্গে স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ হতে যাত্রী হয়রানি, মালামাল যথাযথভাবে বুঝিয়ে না পাওয়া ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে আমরা ৪ জন জাতীয় সংসদ সদস্য বিমান কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দাখিল করলাম।

    ওই অভিযোগের কপি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বলে বিমান সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

  • স্ত্রীর কবর জিয়ারতে মাহাথির, ফুল ছিটিয়ে করলেন দোয়া

    স্ত্রীর কবর জিয়ারতে মাহাথির, ফুল ছিটিয়ে করলেন দোয়া

    ৭০ বছরের জীবনসঙ্গী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর তিন দিন পর তার কবর জিয়ারত করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) থেকে সরাসরি পুত্রজয়ার প্রিসিঙ্কট কবরস্থানে যান মাহাথির। সেখানে স্ত্রীর কবরে ফুল ছড়িয়ে দেন তিনি। এরপর দুই হাত তুলে দোয়া করেন এবং কিছুক্ষণ নীরবে কবরের পাশে অবস্থান করেন। ফুল দেওয়ার পর দোয়া করে সেখান থেকে চলে যান দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কবরস্থানে মাহাথিরকে বেশ শান্ত ও বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

    গত ২৮ সেপ্টেম্বর ১০০ বছর বয়সে মারা যান সিতি হাসমাহ। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানোর পর এককভাবে এবারই প্রথম তার কবরে গিয়ে দোয়া করলেন মাহাথির।

    সিতি হাসমাহ ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং মালয়েশিয়ার জাতীয় জীবনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৫৬ সালে মাহাথিরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর প্রায় সাত দশক তারা একসঙ্গে ছিলেন। মাহাথিরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতেও সিতি হাসমাহ ছিলেন তার পাশে।

    মাহাথির প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। পরে ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় সিতি হাসমাহ সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

    সিতি হাসমাহর মৃত্যুর পর ২৮ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের ইস্তানা নেগারা থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষ বিদায়ের আয়োজন করা হয়। রাজপরিবার, প্রধানমন্ত্রী, সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।