যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে ভয়াবহ যুদ্ধের প্রস্তুতি

Behind ceasefire extension, Iran sees US preparing for new war

প্রতিবেদন:

·

, ,

নানা নাটকীয়তা ও হুঙ্কারের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির আড়ালে নতুন করে ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করলেও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান ট্রাম্প। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ-অবরোধকে যুদ্ধের শামিল হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারাও হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নিচ্ছে না।

এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়ে জানান, ইরান চুক্তি না করলে যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলা হবে। সিএনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ফের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমাদের সেনারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান ফের যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য ইরানি বাহিনী নতুন অনেকগুলো চমকের আয়োজন করেছে। তবে ইরানি বাহিনী নতুন সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য তাদের চমকে কী রেখেছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো নতুন যুদ্ধের শুরুতেই আমেরিকান ও ইসরাইলিদের জীবন আবার নারকীয় করতে ইরান প্রস্তুত।

তথ্যের বরাতে তাসনিম নিউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি এবং নৌ অবরোধের কারণে ইরানের নতুন করে আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই ফের যুদ্ধের জন্য ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
এদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণার পর হরমুজ প্রণালিতে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা হরমুজে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া দুইটি জাহাজকে জব্দ করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বুধবার হরমুজে জাহাজে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউকেএমটিও বলেছে, প্রথম হামলাটি ওমানের ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। প্রথমে আইআরজিসির গান বোট জাহাজটির কাছে আসে এবং গুলি ছুড়ে। এতে জাহাজটির কমান্ড ডেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজের সকল ক্রু নিরাপদে আছেন।

আরেক জাহাজে হামলা হয়েছে ইরানের ৮ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে। সেখানে একটি কার্গো জাহাজে গুলি ছোড়া হয়। জাহাজটি এখন জলসীমায় আটকে আছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
ইউকেএমটিও নিশ্চিত করেছে, দ্বিতীয় এই জাহাজে হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং ক্রুরাও নিরাপদে আছেন।
বিবিসির বিশ্লেষণী রিপোর্ট বলছে, হরমুজ প্রণালিতে একই দিনে তিন জাহাজে হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

এসব হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে এবং উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
সর্বশেষ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসমাইল বাঘেই বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের অনুরোধ বিবেচনা করছে তেহরান। বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে দেয়া পোটে তিনি লিখেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় ইরান সঠিক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ