চীনে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফাঁসির আদেশ

China sentences two former defense ministers to death for bribery

প্রতিবেদন:

·

, ,

চীনের সামরিক আদালত সাবেক দু’জন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক ওই দুই মন্ত্রী হলেন ওয়েই ফেংহে, লি শ্যাংফু। প্রথমজনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য তাকে দু’বছর স্থগিতাদেশ সহ মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে লি শ্যাংফুর বিরুদ্ধে ঘুষ দেয়া এবং নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাকেও একই সাজা দেয়া হয়েছে। চীনে এমন স্থগিত সাজার বেশির ভাগই লঘু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন এই শাস্তি তারই সর্বশেষ সংযোজন। শি বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে তার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। তা চলমান আছে। এতে জানুয়ারিতে চীনের সর্বোচ্চ র‌্যাংকের জেনারেল ও সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া হয়। এক বছর আগেও চীনের শক্তিশালী সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে ১১ জন সদস্য ছিলেন। এখন প্রেসিডেন্ট শি বাদে এর সদস্য সংখ্যা মাত্র একজন। অভিযানটি দুর্নীতিবিরোধী হলেও রাজনৈতিক অভিজাতদের কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্য ও নিয়ন্ত্রণকে সংহত করার একটি উপায় হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ব্যবহার করছেন শি জিনপিং।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার যে দুই সাবেক মন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে তাদের কোনো পলিসি বা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওয়েই ফেংহে। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হন লি শ্যাংফু। মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করার পর তিনি জনগণের চোখের আড়ালে চলে যান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। লি শ্যাংফু একজন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় কাটান। এছাড়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি’র ক্রয় শাখায়ও দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক হার্ডওয়্যার কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি।

২০২৪ সালে তাদের দু’জনকেই কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রাষ্ট্র। লি শ্যাংফুর স্থলাভিষিক্ত ডং ডুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাকে শক্তিধর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন নিয়োগ করেনি। এই কমিটি সামরিক বাহিনী তদারকি করে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ