বেড়েছে চালের দাম, কমেছে সবজি

প্রতিবেদন:

·

রাজধানীর পাইকারি বাজারে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সরু ও মাঝারি চালে ৫০ কেজির বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। আড়তদাররা বলছেন, মিলগুলোতে ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পরিবহনে বাড়তি ভাড়ার প্রভাবে দাম বেড়েছে। তবে, পাইকারি ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছে, পরিবহনের ভাড়া বাড়ায় দাম একদফা বাড়ানো হয়েছে, সুতরাং নতুন করে দাম বাড়ানোটা যৌক্তিক নয়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি প্রতিষ্ঠান লাকসাম ট্রেডার্সের বিক্রেতা মো. মোশাররফ হোসেন গতকাল শুক্রবার কালবেলাকে বলেন, মিলগেট থেকেই দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে তাদের। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিলিগেটে খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবহনে বাড়তি ব্যয়ের কারণে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদেরই আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বাড়তি দামে।

পাইকারি বিক্রেতারা জানান, দুদিন আগেও মিনিকেটের ৫০ কেজির যে বস্তা ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, মাঝারি আটাশ চালের ৫০ কেজির বস্তার দামও একইভাবে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার যা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। তবে, মোটা চালের দাম আগের মতোই রয়েছে।

এদিকে পাইকারিতে বাড়লেও খুচরায় এখনো তার প্রভাব পড়েনি। বেশিরভাগ দোকানেই আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। মালিবাগ বাজারের গাজী স্টোরের বিক্রেতা মো. মাসুদ রানা বলেন, মিনিকেটের কেজি আগের মতোই ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি আটাশ চালের কেজি ৬৫ টাকা। তিনি জানান, চালের বাজারে পাইকারিতে দাম বাড়লেও খুচরায় তার প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগে। এদিকে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে কাঁচাবাজারগুলোতে। ফলে দাম নিম্নমুখী। অনেক ধরনের তরকারির দাম কমেছে। তবে, ভোক্তারা বলছেন, দাম কিছুটা কমলেও এখনো তা চড়া। এখনো বেশিরভাগ সবজি কিনে খেতে কষ্ট হচ্ছে নিম্নবিত্ত ও খেটেখাওয়া মানুষের। তাদের প্রত্যাশা, শীতের মৌসুমে দাম আরও কমে আসবে। একই আশা করছেন ব্যবসায়ীরাও।

সবজির বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে শিমের দাম কমে এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুনের দাম কমে হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। করলার কেজি ১০ টাকা কমে ৭০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ১০ টাকা কমে অনেক দোকানে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধুন্দল, ঝিঙা, কচুরমুখি, কচুরলতি, বরবটি ও মুলার কেজিতেও ১০ টাকা কমেছে। তবে, টমেটোর দাম এখনো অনেক চড়া। কেজি ১২০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের কেজিও ১৪০ টাকা। শশার কেজি প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা পেঁপের কেজি আগের মতোই ৩০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। বড় ও ছোট প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা-রসুন ও আলুর দরও অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। মাংসের বাজারে গরু, খাসি, মুরগি ও ডিমের দামে তেমন নড়চড় নেই। ব্রয়লার মুরগির কেজি এখন ১৯০ টাকা। অন্যদিকে, ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে, পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে প্রতি হালি এখনো ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ