সবজি

  • মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    টানা কয়েক সপ্তাহের বাড়তি দামের পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচ ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মরিচের দাম কমেছে। তবে বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো চড়া। আগাম শীতকালীন সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ বাজারে কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দেয়। এতে দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ভারত থেকে আমদানি বাড়ার পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে মানভেদে কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা কমে ফার্মের লাল ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

    এদিকে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, বেগুন ও করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, পটল, ঢেঁড়শ ও শসা ৬০ টাকা এবং ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে।সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছের বাজারে চাষের পাঙাস ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৪০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম কমেছে, এটা স্বস্তির। তবে অন্যান্য সবজি, মাছ ও মাংসের দাম এখনো বেশি। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার।”

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পুরোপুরি পড়েনি। ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও তা এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

  • বৃষ্টির পর কমতে শুরু করেছে সবজির দাম

    বৃষ্টির পর কমতে শুরু করেছে সবজির দাম

    টানা বৃষ্টির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া ছিল রাজধানীর সবজির বাজার। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও এখন সেই তুলনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

    রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন, গাজর ও করলার মতো কয়েকটি সবজির দাম এখনো ১০০ টাকা বা তার বেশি রয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। গেল কিছুদিন কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা ছুঁয়ে গেলেও বর্তমানে দাম কমে ৩২০ টাকায় নেমে এসেছে।

    আজকের বাজারে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া, প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, মুলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কঁচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন সরকারি চাকরিজীবী রইস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে সবজির যে বাড়তি দাম ছিল, সেই তুলনায় আজ কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তারপরেও সবজির দাম এখনো ১০০ টাকা বা ১০০ টাকার উপরে রয়ে গেছে। তবে অনেক সবজি ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও আগের চেয়ে কমে এখন ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবমিলিয়ে বলা যায়, গেল কয়েক সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে।’

    সবজির দামের বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, ‘মূলত টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের খেতে সবজিগুলো নষ্ট হয়েছিল, এজন্য বাজারের সরবরাহ অনেক কম ছিল। সব মিলিয়ে গেল কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম বাড়তি ছিল, সেই তুলনায় আজ সবজির দাম কিছুটা কমে এসেছে। টানা বৃষ্টি আবার না হলে, সবজির দাম এমন কমের পথেই থাকবে। বর্তমান বাজারে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বেশিরভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে। তবে মৌসুম না হওয়া এবং সরবরাহ কম থাকার কারণে কিছু সবজি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে সবজির দাম এখন কমের পথেই থাকবে।’

  • কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ

    চট্টগ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আরও বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। চট্টগ্রামে এক লাফে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। শুক্রবার কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা করে। এর পাশাপাশি দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকার বেশি বেড়েছে। মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত। বেশি বেড়েছে সামুদ্রিক মাছের দাম। অন্য ভোগ্যপণ্যের সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। বন্যায় ফসলের ক্ষতি এবং সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় গত কয়েকদিনে বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

    সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সবজি বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক চড়া দামে। এরই মধ্যে আরও বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। দুই সপ্তাহ আগে কাঁচামরিচের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ১৮০-২০০ টাকা। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ের অভাবে দিনদিন অস্থির হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বেশির ভাগই পণ্যই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

    শুক্রবার চট্টগ্রামের কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। টিসিবির হিসাব বলছে, পেঁয়াজের দাম এক মাসের ব্যবধানে ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, এবারে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে এবং আমদানি করতে হবে না। এ অবস্থায় হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

    খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তদার রবিন হোসেন জানান, উত্তরবঙ্গের সরবরাহকারীরা হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। আমরা কমিশনে মাল বিক্রি করি। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৪০ টাকায় বিক্রি করেছি, তা এখন ৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে আরও কয়েক টাকা বেশি তা স্বাভাবিক। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বন্যার প্রভাবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দামও বেড়েছে। মোটা চালের (স্বর্ণা) কেজি ৫২-৫৫ টাকা ছিল তা এখন ৫৮-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের (পাইজাম ও বিআর-২৮) কেজিপ্রতি ৭২-৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মাঝারি মানের চালের দাম। কেজিপ্রতি মাঝারি মানের চালের দাম ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে জাত ও মানভেদে চিকন চাল নাজিরশাইল চাল ৮৩ থেকে ৮৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি মানের বিআর ২৮ ও ২৯ নম্বর চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা এবং গুটি, চায়না ইরিসহ মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। যা আগে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত কম ছিল।

    ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আগে আদার কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিভিন্ন বাজারে তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে আগের মতোই আলু ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এদিকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শূন্য করা হলেও খেজুর, জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গোলমরিচ, ধনিয়ার দাম কমেনি। আগের মতোই লবঙ্গের কেজি দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি ৫২০, জিরা ৬০০, কিশমিশ ৮০০ থেকে ৯০০, গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ ও এলাচ ৫ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    কাঁচাবাজারে সবজির দামও আকাশচুম্বি। টমেটো কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়শ, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, এছাড়া কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর মুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচকলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। বাজারে সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকাদরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তবে রূপচাঁদা, বড় আকারের শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাকে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার টাকা। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ওজনভেদে রুই মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও টেংরা ৭০০ টাকাদরে বিক্রি হয়েছে। মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

  • টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণে সবজির সরবরাহ কম, দাম বৃদ্ধি

    টানা বর্ষণের কারণে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই এর প্রভাব পড়েছে।

    উপজেলার ইটাখোলা হাট, বটতলী হাট ও থানা বাজার মনজার বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে আলু, পটল, বেগুন, কাঁকরোল, করলা, ঢেঁড়সসহ বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে।শুক্রবার ইটাখোলা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৫-৩৫ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০টাকা করলা ৮০-১০০ টাকা, কচুরলতি/কচুর বই ৬০-৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সবজি সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ফলনও কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।

    অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, একই বাজারে একই ধরনের সবজির দামে ভিন্নতা রয়েছে। কেউ স্বাভাবিক দামে বিক্রি করলেও কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৃষ্টি কমে মাঠ থেকে স্বাভাবিকভাবে সবজি উত্তোলন ও বাজারে সরবরাহ শুরু হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সবজির দাম কমে আসবে।

  • অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে

    অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে

    রাজধানীসহ সারা দেশে বাজারে জিনিসপত্রের দাম হুহু করে বাড়ছে। সবজির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ার অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে প্রায় প্রতিটি সবজিই এখন নাগালের বাইরে। কোনো কোনো সবজির দাম ছুঁয়েছে তিনগুণ উচ্চতায়। মেঘের গর্ভ থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির পানি যেন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে তৈরি করেছে এক চরম হাহাকার।

    রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া এখন বিরল এক সৌভাগ্য। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, করলা ও ঢ্যাঁড়শ ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আর শসার দাম ঠেকেছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। গাজর ১৬০ টাকা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিছুটা স্বস্তি দিলেও, পেঁয়াজের ঝাঁজও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে খুচরায় ৬০ টাকায় ঠেকেছে।

    তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নাঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাঁচা মরিচে। মাত্র এক মাস আগেও যে ভালো মানের মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেড়ে খুচরা বাজারে ২০০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে একটু কমে ২০০ টাকায় পাওয়া গেলেও অভিজাত এলাকার খুচরা বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী এম এম আকাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এক সপ্তাহ আগে যে মরিচ ৪০ টাকায় ২৫০ গ্রাম কিনেছি, আজ তা ৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হলো। সব সবজির দাম এখন আকাশে ঠেকেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে, কেরাণীগঞ্জ মডেল টাউনের সবজি বিক্রেতা আজিজুর রহমান আজিজ আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। খেতে পানি জমে যাওয়ায় অনেক ফসল পচে নষ্ট হয়েছে এবং কৃষকেরা মাঠ থেকে সবজি তুলতে পারছেন না। সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় বাধ্য হয়েই আমাদের বেশি দামে কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    কৃষিবিদ ড. জামাল উদ্দিনের মতে, আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ চলতে থাকলে স্থানীয় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও ভেঙে পড়তে পারে। তবে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মেঘ কেটে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং ক্ষেতের নতুন ফসল বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা নামতে পারে। তত দিন পর্যন্ত শ্রাবণের এই অবিরাম বর্ষণ রাজধানী ও আশপাশের কোটি মানুষের মনে তৈরি করে রাখবে নিত্যপণ্যের চড়া দামের এক দীর্ঘ ও ভারী ছায়া।

  • করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    করলা স্বাস্থ্যকর, কিন্তু বেশি খেলেই বিপদ!

    ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি করে করলা খান। কখনো জুস করে আবার কখনো করলার ভাজি বা তরকারি খেয়ে থাকেন। ডায়াবেটিক রোগী ছাড়াও গরমে আরাম পেতে অনেকেই উচ্ছে বা করলার তরকারি ও ঝোল রাঁধেন। এই সবজি অনেক উপকারী, তবে বেশি করলা হতে পারে বিপদের কারণ। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দুস্থান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশি করলা খাওয়ার অভ্যাস লিভার ও অন্ত্রের মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    বেশি করলা খেলে যেসব ক্ষতি হতে পারে

    রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া
    উচ্ছে বা করলার বড় গুণ হলো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত সুগারের ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাত্রায় করলা, উচ্ছে বা উচ্ছের রস খান, তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’। এর ফলে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। এমনকি রোগী অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন।

    লিভার বা যকৃতের ক্ষতি
    উচ্ছে ও করলায় ‘মোমোরচারিন’ নামক এক ধরণের প্রোটিন থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এই উপাদানটি লিভারের এনজাইমগুলোর ক্ষরণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকরা একে লিভার টক্সিসিটি বা যকৃতের ক্ষতি বলে থাকেন। ডায়রিয়া ও পেটের তীব্র সমস্যা
    উচ্ছেতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ল্যাক্সেটিভ উপাদান থাকে। তবে অতিরিক্ত উচ্ছে খেলে পাকস্থলীর কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা, বদহজম, গ্যাসের সমস্যা এবং বারবার পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত উচ্ছে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।গর্ভবতী নারীদের জন্য ক্ষতিকর
    গর্ভবতী নারীদের জন্য উচ্ছে অতিরিক্ত খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। উচ্ছের মধ্যে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান জরায়ুকে সংকুচিত করতে পারে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তপাত শুরু হতে পারে এবং চরম ক্ষেত্রে গর্ভপাতের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়েটে উচ্ছে রাখার আগে অবশ্যই গাইনিকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।