বেকারত্ব ঘুচিয়ে রজনীগন্ধা চাষ

প্রতিবেদন:

·

, , , ,

পড়াশোনা শেষ করেও মেলেনি কর্মসংস্থান। অর্থাভাবে থেমে যায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, ব্যর্থ হয় বিদেশ যাওয়ার চেষ্টাও। একসময় জীবিকার তাগিদে করেছেন রাজমিস্ত্রি ও কৃষিশ্রমিকের কাজ। তবে হতাশায় থেমে না গিয়ে মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে রজনীগন্ধা চাষ শুরু করে এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার উমরনগর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহানুর রহমান।

২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি সোহান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে কর্মসংস্থানের সন্ধানে নানা চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে কৃষিকাজে আগ্রহী হন তিনি। মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ১৫ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন রজনীগন্ধা চাষ। যশোরের গদখালী থেকে ফুলের কন্দ সংগ্রহ করে জমি প্রস্তুত, বেড়া নির্মাণ, সার ও কীটনাশকসহ আনুষঙ্গিক কাজে তাঁর প্রাথমিক বিনিয়োগ দাঁড়ায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

সোহানের সেই উদ্যোগে এখন মিলছে সাফল্য। এ পর্যন্ত তার বাগানের প্রায় দুই লাখ টাকার রজনীগন্ধা বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি স্টিক ফুল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালীসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে তাঁর বাগানের ফুল। পাশাপাশি মাগুরা ও যশোরেও সরবরাহ করছেন তিনি।

নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে সোহানুর রহমান বলেন, একসময় বেকারত্ব ও অভাব-অনটনের কারণে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। পরে অন্যের কাজ করার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে কিছু করার চিন্তা থেকে রজনীগন্ধা চাষ শুরু করেন।

তিনি বলেন, শুরুতে সফলতা নিয়ে সংশয় থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পেরেছেন। এ সাফল্যে তিনি আশাবাদী। ভবিষ্যতে বাগানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকার অন্য বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চান। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে ফুল চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, ফুল চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষি উদ্যোগ। রজনীগন্ধার বাজারে চাহিদা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, যথাযথ পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষ করলে এ খাত থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সীমিত পুঁজি ও অল্প জমিতে শুরু করা সোহানের এই উদ্যোগ এখন সম্ভাবনার নতুন পথ দেখাচ্ছে। নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্য বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের স্বপ্নও দেখছেন তিনি। তাঁর ছোট্ট রজনীগন্ধার বাগান তাই হয়ে উঠেছে আত্মনির্ভরতার এক সম্ভাবনাময় উদাহরণ।