ডেমোক্র্যাটরা যা করতে পারবে, যা পারবে না

প্রতিবেদন:

·

, ,

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। নির্বাচনে বড় জয়ের পর নতুন বছরের শুরু থেকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে আসবে।

এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও নীতিগত সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য সহজ হবে না।

যা করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা

কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্ত করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। বিশেষ করে ট্রাম্পের পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ, কথিত দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অভিবাসননীতি এবং এপস্টিন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের সুযোগ থাকবে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা ও বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করতে পারবে তারা। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগও আটকে দিতে পারবে।

এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। তবে অভিশংসনের পর সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করতে দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬৭টি ভোট প্রয়োজন হবে। ফলে ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানো তাদের জন্য কঠিন।

যা করতে পারবে না ডেমোক্র্যাটরা

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আইন প্রত্যাখ্যান বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। কোনো আইন পাস হলেও প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া তা কার্যকর করা সাধারণত সম্ভব নয়।

ট্রাম্পের ভেটো অগ্রাহ্য করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা কম। ফলে স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো কিংবা অন্যান্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে পারে দলটি।

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ বা সামরিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ক্ষমতা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে।

দলীয় ঐক্যও বড় চ্যালেঞ্জ

রিপাবলিকানদের বিরোধিতা ছাড়াও ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইসরায়েলের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দলের মধ্যে বিভাজন রয়েছে।

অন্যদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে রিপাবলিকানরাও ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সাফল্য সহজ করতে চাইবে না।

সব মিলিয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং আইন প্রণয়নের সুযোগ বাড়াবে। তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা, সিনেটে প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ