ইরানের তেল রপ্তানি ও দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (৪ নভেম্বর) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চন্ডিগড়ভিত্তিক সুনীল কুমার শর্মা ও তার স্ত্রী জাসপ্রিত প্রীতি শহিদের পরিচালিত একটি ‘বিস্তৃত অপরাধী নেটওয়ার্কের’ বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওই দম্পতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং শর্মার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই দম্পতি গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন। তারা জাল পতাকা ও সনদপত্র ইস্যু করতেন। এর মাধ্যমে ইরানের তেল বহনকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকারগুলোকে চলাচল অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দেওয়া হতো। এসব জাহাজের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হয়ে কাজ করা জাহাজও ছিল।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত ২০১৪ সাল থেকে এই জালিয়াতি কার্যক্রম চলে আসছিল। বিভিন্ন দেশের সরকারি জাহাজ নিবন্ধন ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এই চক্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত।
তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
এদিকে তুরস্কভিত্তিক ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানের কয়েকটি বিমান সংস্থাকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। এসব বিমান সংস্থার মধ্যে ইরান এয়ার ট্যুর ও সাহা এয়ারলাইনস রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সংস্থাগুলো তুরস্কে বিমান চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
এ ছাড়া মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর (ওএফএসি) জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভুয়া পতাকা ব্যবহারকারী জাহাজের সঙ্গে ব্যবসা করার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তেহরানকে সহায়তাকারী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। পাশাপাশি সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিকদের তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত তেল রপ্তানির আয় বন্ধ করে দেওয়া।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, তাদের এ অভিযানের ফলে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দর নতুন করে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ার এক দিন পর নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা এলো। সূত্র: আল জাজিরা
