ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ ভাঙচুর ও মাদরাসাগুলোকে হয়রানি বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির মুসলিমদের প্রচীন সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
রোববার (১ নভেম্বর) ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরিয়ানার নুহ জেলায় জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের গভর্নিং কাউন্সিলের বার্ষিক সভায় এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
ওই সভায় তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, তাতে বলা হয়—মসজিদ শুধু ভবন নয়; বরং এটি মুসলমানদের বিশ্বাস ও সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক।
ওই প্রস্তাবে জমিয়ত সরকারের কাছে অভিন্ন দেওয়ানি আইনকেও প্রকৃতিগতভাবেই বৈষম্যমূলক আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণরূপে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রস্তাবে স্বীকৃতির নামে মাদরাসাগুলোকে হয়রানি, তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপপ্রচার এবং সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট আইনি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং সংবিধান অনুযায়ী মাদরাসাগুলোর প্রাপ্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একইসাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে তাদের জমির দলিল, অনুমোদিত ভবন পরিকল্পনা, ছাত্রাবাসে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র এবং নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করতেও বলেছে।
ওই প্রস্তাবে ভারতজুড়ে মসজিদ, ঈদগাহ, দরগাহ এবং অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মসজিদ শুধু ভবন নয়; বরং তা মুসলমানদের বিশ্বাস ও সম্মিলিত পরিচয়ের প্রতীক এবং সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি বাস্তব প্রকাশ।
উপাসনালয় (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১-এর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো—উপাসনালয়গুলোর ধর্মীয় চরিত্র রক্ষা করা এবং ঐতিহাসিক বিবাদ পুনরায় উত্থাপিত হওয়া রোধ করা।
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ওই সভার উদ্বোধন করেন।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
