জনপ্রিয়তায় রেকর্ড পতনের মুখে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এখন বাম ও ডানপন্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে তার মধ্যপন্থী শিবির। দেশজুড়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়ার পর রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ স্বীকার করেন। পাশাপাশি দাঙ্গাকারীদের সমালোচনা করে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য শুনতে চাননি ২০ বছর বয়সী ইয়ানিস। তিনি প্যারিসের ঠিক দক্ষিণ-পূর্বে ইভ্রি-সুর-সেন শহরতলির বাসিন্দা। ইয়ানিস বলেন, ম্যাক্রন তার চিরাচরিত ধারার বক্তৃতা দিয়েছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেননি।
আমরা আবারও রাস্তায় নামব। যত দিন না কিছু পরিবর্তন হচ্ছে, তত দিন একের পর এক বিক্ষোভ চলবে। প্রতি সপ্তাহান্তে, বিরতিহীনভাবে চলবে। ফ্রান্সের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে অনলাইন আল জাজিরা।
গত সপ্তাহান্তে সহিংস বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে জমে থাকা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির তরুণদের মধ্যে অন্তত ম্যাক্রনের প্রতিনিধিত্ব করা মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ দ্রুত কমে আসছে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই অস্থিরতা ফ্রান্সের রাজনৈতিক বিভাজন আরও তীব্র করেছে। রাস্তায় দৃশ্যমান হতাশার সমাধান হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
জনতুষ্টিবাদী বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ উৎসাহের সঙ্গে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরি লা পেন বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া বিশৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এটিকে নিরাপত্তা ও কর্তৃত্বের সংকট হিসেবে তুলে ধরেছেন। মধ্যপন্থী প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে ‘প্রাথমিক মহড়া’ চালাতে উগ্র বামপন্থীরা সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে কট্টর বাম ও কট্টর ডানÑ উভয় পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশজুড়ে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হলেও সেই পরিবর্তন ঠিক কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে ঐকমত্য নেই। দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা ম্যাক্রনকে আগামী নির্বাচনের পর সরে দাঁড়াতে হবে।
ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। প্যারিস-১২ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত ইউপিইসির জনআইন বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেলিগ নবলি বলেন, প্রার্থীদের সামনে অবস্থান নেয়া এবং তরুণদের দাবির জবাব দেয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের উদ্দেশে বার্তা দেয়া তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। সেই বার্তা ফাঁপা হলে চলবে না; তাদের দাবির উত্তর দিতে হবে।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা উন্নত বিদ্যালয়, আরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ এবং অধিকতর সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আন্দোলন দ্রুত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও সামনে চলে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের তুলনামূলক কম ভোটদানের প্রবণতা এবং রাজনৈতিক প্রচারণায় পেনশনের মতো বিষয় ও বয়স্ক ভোটারদের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়ার কারণে তাদের সমস্যাগুলো সাধারণত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকে না। এবারের বিক্ষোভ সেই সমস্যাগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
