৭ অক্টোবরের উদযাপন করল ইসরাইল

প্রতিবেদন:

·

, ,

ইসরাইল আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ওই হামলা দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী। দিবসটির তিন সপ্তাহ পরই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এবারই প্রথম হামলার বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে। হামলায় নিহতদের স্মরণে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সীমান্ত ভেঙে দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে গুলি, রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়। সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাসংস্থা এএফপির হিসাবে, এতে এক হাজার ২২১ জন নিহত হন। ২৫১ জনকে পণবন্দী করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের ৪৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

তিন বছর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে হামলা শুরু হয়েছিল। ঠিক ওই সময় গাজা সীমান্তের কাছে কিবুতজ কাফার আজায় স্মরণ অনুষ্ঠান হবে। হামলায় সেখানে ৬৪ জন বাসিন্দা নিহত এবং ১৮ জন অপহৃত হন।

দক্ষিণ ইসরাইলের নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্থানেও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ পণবন্দী হন। নিহতদের স্বজনেরা বুধবার সন্ধ্যায় তেল আবিবের একটি পার্কে সমবেত হবেন।

কড়া নিরাপত্তা
সাধারণ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে এবং তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হওয়ার এক সপ্তাহ পর এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীতে গাজায় ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার জন্য হামাসের সম্ভাব্য পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সোমবার রাষ্ট্রীয় স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় হামাসের শাসন থাকবে না। ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত এবং পণবন্দী করার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

হামাসের হামলার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে গাজার বেশিভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ৭৪ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

গত তিন বছরে ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত থেকে ইরান পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াই করেছে দেশটি।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এখনো তাঁবু ও অস্থায়ী স্থাপনায় বসবাস করছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পুনর্গঠন নিয়েও বাস্তবে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

ইসরাইলের দাবি, তারা গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হামাসের হুমকি নির্মূল এবং ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িতদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেছে তারা।

ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক হাজার ৪৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।