ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে ৩০ মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩৪) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও পিচ্চি রাজার বোনকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রিজন ভ্যান থেকে নয়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পালিয়েছেন পিচ্চি রাজা। এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানে দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। সাময়িক বরখাস্ত অন্য তিন পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেন।
আজ সোমবার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
জিএমপি কমিশনার বলেছেন, ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে পিচ্চি রাজাসহ ২৯ আসামিকে এসকর্ট করে প্রিজনভ্যানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জিএমপি ডিবির দক্ষিণ বিভাগের পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলামকে।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে প্রিজনভ্যানটি রওনা হয়ে তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে পৌঁছালে সেটি থামানো হয়। এরপর এসকর্ট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেওয়া হয়।
পরে পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নেওয়া হয়। খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসেন। তবে পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার ভ্যানে ওঠেননি।
পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সময় অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে পিচ্চি রাজা প্রস্রাব করতে গেলে কৌশলে পালিয়ে যান।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য ও তথ্যের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নায়েক কামাল হোসেনের বাসা থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সময় প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানালেন, প্রিজনভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে যাওয়ার পথে কোথাও থামার নিয়ম নেই। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে নিকটবর্তী থানায় থামতে হয়। কিন্তু প্রিজনভ্যানটি যে স্থানে থামানো হয়েছিল বলে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দাবি করেছেন, সেখানে থামার কোনো কারণ ছিল না।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামি পালানোর সময় এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস সিভিল পোশাকে ছিলেন। এসকর্ট পার্টিতে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ কর্মকর্তার সিভিল পোশাকে থাকারও নিয়ম নেই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম জানিয়েছেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। আসামি যে স্থান থেকে পালিয়ে গেছেন বলে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে সেটিও সঠিক পাওয়া যায়নি। পালানোর স্থান নিয়ে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক পিচ্চি রাজাসহ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
