দুবাই থেকে তেল আভিভগামী একটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির দুই পাইলটের মধ্যে ‘সংঘর্ষ’ বা ‘হাতাহাতি’ হয়েছিল।
ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি বুধবার ভোরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইট-পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানটি একটি জরুরি সংকেত পাঠায়।
কয়েক মিনিট পর সেটি ছিনতাইয়ের ঘটনা জানানোর জন্য ব্যবহৃত একটি সংকেতে পরিবর্তিত হয়। পরে আবার সাধারণ জরুরি সংকেতে ফিরে যায়।
ইসরাইলের স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, পাইলট ও সহ-পাইলটের মধ্যে একটি ‘বাগ্বিতণ্ডা’ বা ‘সংঘর্ষের’ জেরেই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় ১৫০ জন আরোহী নিয়ে ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। তবে সেটি সৌদি আরবের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যাত্রীদের বেশিভাগই ইসরাইলি।
বিমানে থাকা একজন ইসরাইলি যাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের কাছে সহায়তা চান। পরে কয়েকজন যাত্রী একজন পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তাকে বেঁধে রাখতে সহায়তা করেন।
এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সৌদি আরব থেকে ইসরাইলি যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ওই ফ্লাইটে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরো তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী জেরুসালেম পোস্টকে বলেন, একজন পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। তবে ককপিটের কাছাকাছি থাকা কয়েকজন যাত্রী হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।
ওই প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বিমানের পেছনের দিকে আরো দু’জন পাইলট অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদের দিকে চিৎকার করে বলেছিলাম যেন তারা দ্রুত গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেয়।’
একই যাত্রী আরো জানান, আহত পাইলটকে বিমানে থাকা একজন দন্তচিকিৎসক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা দেন।
