নখের নিচে সাধারণত যে ময়লা জমে, তা থাকলেও অজু হয়ে যায়। তবে নখের ওপরে বা নিচে এমন কিছু লেগে থাকলে, যা পানি পৌঁছাতে দেয় না, তা তুলে ফেলে অজু করতে হবে। হানাফি ফিকহের গ্রন্থ আদ-দুররুল মুখতার ও ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় বিধানটি এভাবেই এসেছে।
কোনটি বাধা, কোনটি নয়
ধুলা, মাটি, কাদা বা কাজের সময় জমা সাধারণ ময়লা নখের নিচে থাকলেও অজু ও ফরজ গোসল শুদ্ধ হয়। ফকিহরা বলেছেন, শহরের মানুষ হোক বা গ্রামের, এ থেকে পুরোপুরি বেঁচে থাকা কঠিন; তাই এতে ছাড় আছে।
অন্যদিকে শুকিয়ে যাওয়া আটার খামিরের মতো জিনিস নখের ওপর একটি স্তর তৈরি করে, যার নিচে পানি যায় না। কিতাবে খামিরের উদাহরণই দেওয়া হয়েছে; এ যুগের আলেমরা রং, আঠা ও নেইলপলিশকেও এর মধ্যে ধরেন। এগুলো থাকা অবস্থায় অজু বা গোসল হয় না, আগে তুলে ফেলতে হয়।
কেন এই পার্থক্য
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, নামাজে দাঁড়াতে চাইলে মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধুতে হবে, মাথা মাসেহ করতে হবে এবং টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধুতে হবে। (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৬) নখ হাতেরই অংশ। যে অঙ্গ ধোয়া ফরজ, তার কোথাও শুকনো থেকে গেলে অজু পূর্ণ হয় না।
নখ ছোট রাখাই সুন্নত
নখ কাটাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ফিতরাতের, অর্থাৎ মানুষের স্বভাবজাত পরিচ্ছন্নতার অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। (বুখারি, হাদিস: ৫৮৮৯) আনাস (রা.) বলেন, নখ কাটা ও গোঁফ ছাঁটার মতো কাজগুলো যেন চল্লিশ রাতের বেশি ফেলে রাখা না হয়, সে জন্য তাঁদের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮)
নখ ছোট থাকলে ময়লা জমার সুযোগ কমে, অজুতে পানি পৌঁছানো নিয়ে সন্দেহও থাকে না। অজুর সময় আঙুলের ডগা ও নখের চারপাশ ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
অজুর মর্যাদা সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতকে ডাকা হবে অজুর চিহ্নে উজ্জ্বল মুখ ও হাত-পা নিয়ে। (বুখারি, হাদিস: ১৩৬)
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
