বিপজ্জনক পর্যায়ে পাকিস্তান: প্রেসিডেন্ট-সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব

Written by

in

পাকিস্তানের মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) প্রতিষ্ঠাতা আলতাফ হোসেন দাবি করেছেন, দেশটির সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির মধ্যে ‘নীরব লড়াই’ চলছে। নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে বিতর্ক পাকিস্তানকে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

এক ভিডিও বার্তায় আলতাফ হোসেন বলেন, পাকিস্তান এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যাকে তিনি দেশের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার দাবি, এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অবগত নন।

প্রস্তাবিত ২৮তম সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে আলোচনার সঙ্গে বর্তমান উত্তেজনার যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই সংশোধনীতে নতুন প্রদেশ গঠনের বিধান থাকতে পারে।
আলতাফ হোসেন বলেন, ‘নতুন প্রদেশ গঠনকে কখনোই হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়।’ তার মতে, এই ইস্যু দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের সম্ভাবনা এবং এ ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য এল

প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আলতাফ হোসেন।
সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদ সিন্ধুতে নতুন প্রদেশ গঠনের বিরোধিতা করে একটি প্রস্তাব পাস করার উদ্যোগ নিয়েছে- এমন খবরের উল্লেখ করে তিনি এটিকে জারদারি ও সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের মধ্যকার ‘নীরব যুদ্ধের’ প্রমাণ হিসেবে দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বও এ ইস্যুতে বিভক্ত। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুজনই দেশের বাইরে থাকায় তিনি এর সমালোচনা করেন।

সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে আলতাফের বক্তব্য

প্রস্তাবিত ২৮তম সংশোধনীর পেছনে বৃহত্তর সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের সমর্থন রয়েছে বলেও দাবি করেন আলতাফ হোসেন। তার মতে, পুরো বিষয়টিকে শুধু ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে কেন্দ্র করে দেখাটা ভুল।
তিনি বলেন, বড় সিদ্ধান্তগুলো সেনাপ্রধান এককভাবে নেন না; বরং সামরিক নেতৃত্ব সম্মিলিতভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া সামরিক এস্টাবলিশমেন্ট মার্শাল ল জারি করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে পারে, যা সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের পথ তৈরি করবে- এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
নতুন প্রদেশ গঠন নিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হলে সিন্ধুতে ‘যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন এমকিউএমের প্রতিষ্ঠাতা।

তার আশঙ্কা, পরিস্থিতির অবনতি হলে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও সিন্ধিদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হতে পারে এবং স্বাধীন ‘সিন্ধুদেশ’-এর দাবিও জোরালো হয়ে উঠতে পারে।

আলতাফ হোসেন পৃথকভাবে বেলুচিস্তানকে বেলুচ জনগণের হাতে তুলে দেয়ার আহ্বান জানান। প্রদেশটিতে চলমান সহিংসতা আরও বাড়তে থাকলে তা বৃহত্তর গৃহসংঘাতে রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।