নদীর কাছে কেন বারবার হার মানছে নেপালের রাস্তা-সেতু?

Written by

in

নেপালের ভোটকোশি ও ত্রিশূলী নদীর সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা দেখিয়ে দিল যে প্রকৃতির শক্তির সামনে দেশটির রাস্তাঘাট ও সেতু কতটা নাজুক। চীনের তিব্বতে বরফ গলে পাহাড়ি ধস নামার কারণে এই হঠাৎ বন্যা তৈরি হয়।

পানির প্রচণ্ড তোড়ে সীমান্ত এলাকার থানা, শুল্ক কার্যালয়, বেশ কিছু বাজার, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৬৪টি সেতু মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান এই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো দেশের অর্থনীতি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর পাড়ে বারবার এমন ক্ষতি হওয়ার পেছনে নেপালের নিজেদের ভুল পরিকল্পনাই মূলত দায়ী। এখানে রাস্তা বা সেতু তৈরি করা হয় বহু পুরোনো বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে, যা এখন আর কোনো কাজে আসছে না।

এছাড়া নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালি-পাথর তোলা এবং কাটা মাটি নদীতে ফেলার কারণে নদীর তলা ভরাট হয়ে পানি খুব সহজেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। অন্যদিকে এক নদীর ওপরই অনেকগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করায় ওপরের একটি বাঁধ ভাঙলেই তা তাসের ঘরের মতো নিচের সবকটি বাঁধকে গুড়িয়ে দিচ্ছে।

এই বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই সেনাবাহিনীর সাহায্যে অস্থায়ী সেতু বানিয়ে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাঁচতে হলে পুরো নদী অববাহিকা ধরে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। নদীর একদম কাছাকাছি নতুন কোনো ভবন বা রাস্তা নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ রাখা জরুরি। যেহেতু নেপালের বেশিরভাগ নদীর উৎপত্তি তিব্বতে, তাই চীন ও ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে নজরদারি চালিয়ে দুর্যোগের আগাম খবর পাওয়ার প্রযুক্তি চালু করতে হবে।

একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের বেপরোয়া বালি-পাথর উত্তোলন বন্ধ করা এবং নদীর পাড়ের মানুষদের বিপদের কথা জানাতে আগাম সতর্কবার্তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে কখনো কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। ত্রিশূলী নদীর এই মহাবিপর্যয় প্রমাণ করল যে শুধু অবকাঠামো বানিয়ে গেলেই হবে না, তা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে কতটা টিকে থাকবে সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়।

Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।