অবহেলিত রোগীদের পাশে দাঁড়াবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন

প্রতিবেদন:

·

, ,

চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা নিতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার রোগী এবং তাঁর স্বজনদের সংখ্যা খুব কম নয় এ দেশে। কিন্তু তাঁদের অধিকাংশই জানেন না, কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে কিংবা আদৌ এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না। এমন ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও ফলোআপ সহায়তা দিতে যাত্রা শুরু করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন।

এই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চিকিৎসাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অভিযোগগুলো কোথায় ও কীভাবে জানাতে হবে, কোন চিকিৎসা নথিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে, এসব বিষয়ে একটি সহজ সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আন্দোলন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগীদের জন্য নীতিগত দিকনির্দেশনা ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম আইনি দৃষ্টিকোণ ও বাস্তবতার আলোকে চিকিৎসায় অবহেলা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া উল্লিখিত বিষয়টির প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন আলতাফ পারভেজ। নিভীন রেজা ও মাজহারুল ইসলাম প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব হিসেবে প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

আলতাফ পারভেজ বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিরাপত্তা ও নাগরিক ভরসার চরম অভাবের কারণে উন্নত সেবা পেতে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা চোখে পড়ে। তবে বেশির ভাগ মানুষ বাধ্য হচ্ছে এই ভঙ্গুর ব্যবস্থার মধ্যে বাস করতে। ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম বলেন, এসব অবহেলার বিচারগুলো দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য বাংলাদেশের বর্তমানে কার্যকরী আইনি অবকাঠামো নেই। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করে ল কমিশন গঠন করা উচিত, যেন সমস্যা ও সমাধানের যাত্রা একত্রে শুরু হয়। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে রিসোর্সের ঘাটতি আছে কি না বা লাইসেন্সের শর্তগুলো তারা যথাযথভাবে পালন করছে কি না, সেদিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে। ব্যারিস্টার সারা হোসেন পরামর্শ দেন, আর্থসামাজিক অবস্থানের কারণে যেসব ভুক্তভোগী পিছিয়ে থাকেন, তাঁরাও যেন এই আন্দোলনের অংশীদার হতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ ছাড়া গণমাধ্যমগুলোকে যথাযথ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, প্রতিটি অভিযোগ যেন ন্যায্যভাবে শোনা ও যাচাই করা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ পান এবং একটি ঘটনার শিক্ষা ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা বাড়াতে কাজে লাগে, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রোগীর অধিকার এবং চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা—দুই দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে উদ্যোগটি।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বড় ধরনের চাপ রয়েছে। অন্যদিকে, চিকিৎসায় অবহেলা বা দুর্ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থাকা মানুষের সংখ্যা এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়। অনেক রোগী ও পরিবার জানেন না কোথায় অভিযোগ করবেন, কী প্রমাণ বা নথি রাখবেন এবং অভিযোগের পর কীভাবে অগ্রগতি অনুসরণ করবেন। এই তথ্য ও সহায়তার ঘাটতি কমাতেই প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে।

আয়োজকেরা জানান, অভিযোগ মানেই চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ নয়। তবে প্রতিটি অভিযোগ শোনা, নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে প্রতিকার নিশ্চিত করা একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যক্তি, চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে নয়; বরং অবহেলা, অস্পষ্টতা ও জবাবদিহির ঘাটতির বিরুদ্ধে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ