নায়েমে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মারামারি, ডিজি লাঞ্ছিত

প্রতিবেদন:

·

, ,

শিক্ষা ডেস্ক:

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মহাপরিচালককে প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, অপদস্থ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে। তারা দুজনেই প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে দুজনই অধ্যাপক।

এর আগেও একাধিকবার দুইজন উপপরিচালক ও সহকারি পরিচালকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তারাও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। অভিযুক্ত একজনের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি সবচাইতে বেপরোয়াদের অন্যতম।

জানা যায়, গত ৪ আগস্ট নায়েমে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি ডেলিগেশনের সামনেই এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে ডিজির ওপর চড়াও ও লাঞ্ছনার চেষ্টা

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট নায়েমে আয়োজিত ইনডাকশন ট্রেনিং প্রোগ্রামের ‘ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন’ (এফজিডি) সেশনের শুরুতেই পরিচালক মো. শাহজাহান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে নায়েম ডিজি প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হককে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করতে থাকেন। ওই সময় সেখানে মাউশি অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহিদা নাজনীনসহ নায়েমের সব পরিচালক ও প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং নিজের সম্মান রক্ষার্থে ডিজি অনুষ্ঠানস্থল থেকে উঠে নিজ কক্ষে চলে যেতে চাইলে অভিযুক্ত পরিচালক আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মীর জাহিদা জানান, পরিচালক শাজাহান ডিজিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর কক্ষ পর্যন্ত ধাওয়া করেন। শত চেষ্টা করেও অন্যান্য কর্মকর্তারা তাঁকে নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন। এই ঘটনার পর সুবিচারের দাবিতে নায়েম ডিজি তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেশ করেছেন। তবে এলাকা প্রীতির কারণে অভিযুক্ত এই পরিচালক শিক্ষা ভবন থেকে নায়েমে বদলি হতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন প্রভাবশালী অামলার পছন্দে এই পরিচালককে নায়েমে পদায়ন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজে তিনি অনৈতিক হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছেন:

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারে অবাস্তব প্রাক্কলন: পাকিস্তান আমলে নির্মিত নায়েমের জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত প্রশাসনিক ও বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ডরমেটরি তৈরির নামে প্রায় ৭৭ লাখ টাকার মেরামত বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যধিক ব্যয় নির্ধারণের কারণে নায়েম কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাব বাতিল করলে তিনি ডিজির ওপর মারাত্মক ক্ষিপ্ত হন এই পরিচালক।

প্রশিক্ষণ বাজেট ও গবেষণা বিলে হস্তক্ষেপ: নায়েমে চলমান ইনডাকশন ট্রেনিং প্রোগ্রামের প্রায় ২৩৫ কোটি টাকার ডিডিওশিপের প্রভাব খাঁটিয়ে অর্থ সরানোর অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের গবেষকদের প্রায় ১৮ লাখ টাকার বকেয়া বিল আটকে রেখে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ আদায়ের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নায়েম ডিজি এসকল অনিয়মে বাধা দেওয়ায় তাঁকে নানাভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছিলো।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাউশির প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক খালিদ হোসেনকে চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের নজির রয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে একজন কর্মকর্তার এমন একের পর এক উগ্র আচরণ, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপদস্থকরণ এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন নায়েম ও মাউশির ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এই সুযোগে নায়েমের মহাপরিচালক হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ এমপির মেয়ে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ