জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ছাত্রদলের ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম দফায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর দুপুরে উভয় পক্ষ আবারও মুখোমুখি হলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সাব্বির ও আবু সাঈদ নামে দুই কর্মীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা সদস্য সচিব মামুন সরকারের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী বর্তমান কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফিল হোসাইনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় রূপ নেয়।
জানা যায়, সাব্বির পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে তিনি তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত আছেন। পরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন।
এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর ওপর আবু সাঈদসহ কয়েকজন হামলা চালান। ফুটেজে হামলাকারীদের হাতে লাঠি ও রড দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এখন বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবু সাঈদ, সাব্বির ও রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
