সাংবাদিকতায় আরো সোচ্চার থাকতে হবে: বারবারা মাসিং

প্রতিবেদন:

·

, ,

দুই দিনের এ আয়োজন সম্পর্কে সেখানে ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের প্রতিপাদ্য, জার্নালিজম আউট লাউড। কারণ, ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এ পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘সুসংবাদ এটাই, যে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)-এ যুগেও যে মাধ্যমগুলো তথ্য পাওয়ার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, সেগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলো তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে ঠিকই টিকে আছে। বিষয়টি আমাদের শক্তিশালী একটা ভিত্তি দেয়। এতে করে বিশ্বাসযোগ্যতা, তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সাংবাদিকতার প্রতি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের সুফল পাওয়া যায়।”

‘‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও এআই-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতাভিত্তিক কনটেন্ট বিপুলভাবে উপকৃত হয়, যেগুলো মূলত অন্যদের তৈরি, অথচ অন্য কোনো ক্ষেত্রে আমরা এসব কখনোই মেনে নিতাম না” উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘‘এ কারণে এমন টেকসই ব্যবসায়িক মডেল প্রয়োজন, যা মানসম্মত সাংবাদিকতাকে সহায়তা করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, কনটেন্ট-ক্রিয়েটররা তাদের কাজের বিনিময়-অর্জনের ন্যায্য অংশ পাবেন। এভাবে আমরা গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার সেবায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংবাদিকতার দক্ষতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে পারি।

”ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের প্রতিপাদ্য, জার্নালিজম আউট লাউড। কারণ, ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এ পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।’

বুধবার জিএমএফ-এর দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য ভ্যালু অব জার্নালিজম’, অর্থাৎ ‘সাংবাদিকতার গুরুত্ব’ শীর্ষক সামগ্রিক গবেষণা প্রতিবেদন (মেটা-স্টাডি) প্রকাশ করে ডিডাব্লিউ অ্যাকাডেমি৷ প্রতিবেদনে স্বাধীন সাংবাদিকতা যে সমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য জনমূল্য সৃষ্টি করে- এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়৷ বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করা প্রতিটি ডলার উন্নত জনসেবা এবং দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে একশ ডলারেরও বেশি মূল্যের জনমূল্য সৃষ্টি করতে পারে। অথচ এর বিপরীতে ভুল তথ্যের কারণে সারা বিশ্বে সমাজকে প্রতি বছর ৩৫০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়।”

এর আগে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের উদ্বোধনপর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন এ কারণে সাংবাদিকতাসংক্রান্ত কাজের গুরুত্ব আমাদের স্বীকার করে যেতে হবে এবং গণমাধ্যম-প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে।নইলে গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে এবং সেক্ষেত্রে গণতন্ত্রের অন্যতম একটি ভিত্তিকে আমরা দুর্বল করে ফেলবো।

”নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ফেডারেল, ইউরোপীয় ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নাথানায়েল লিমিনস্কি বলেন, ‘‘যারা তথ্য ও মতামতের বৈচিত্র্য আনেন, তাদের জন্য কেবল বিশ্বের অন্যান্য স্থানেই নয়, খোদ এখানে, অর্থাৎ জার্মানিসহ পুরো ইউরোপেও নিজেদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছে

জার্মানির বন শহরের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সেন্টার, বন (ডাব্লিউসিসিবি)-এ ১৯তম গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন একশ’টিরও বেশি দেশের ১৪০০-রও বেশি মানুষ।

দুই দিনের এ আয়োজনে সমকালীন গণমাধ্যমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল রাজনৈতিক চাপ ও সেন্সরশিপের মুখে গণমাধ্যমের টিকে থাকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবের মধ্যেও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা, নির্ভরযোগ্য তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আরো নতুন দর্শককে সম্পৃক্ত করা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আরো শক্তিশালী করা।

এবারের আয়োজনে হংকংয়ের গণমাধ্যমে-উদ্যোক্তা ও গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিমি লাইকে ডিডাব্লিউ ফ্রিডম অফ স্পিচ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। জিমি লাই এখন কারাবন্দি৷ তাই তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার মেয়ে৷

প্রথম আলো, দ্য হিন্দুসহ ভারত এবং বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। ভারত থেকে উপস্থিত ছিলেন ভিকাটান মিডিয়া গোষ্ঠীর প্রধান শ্রীনিবাসন বালসুব্রহ্মণ্যম।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ