বেন গাভির একজন যুদ্ধাপরাধী, ইসরাইলকে কোনো মার্কিন সহায়তা দেওয়া উচিত নয়: বার্নি স্যান্ডার্স

প্রতিবেদন:

·

, ,

লেবানন প্রসঙ্গে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের একটি চরম উগ্র ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বেন গাভিরকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্যান্ডার্স সাফ জানিয়েছেন, জেরুজালেমের (ইসরাইল) বর্তমান উগ্রপন্থী প্রশাসনকে আমেরিকার কোনো ধরনের সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চার সেনা নিহতের খবর প্রকাশের পর গত শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেন গাভির দাবি করেন— ‘পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে হবে।’ তার এই উগ্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবেই ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

এক বিবৃতিতে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “কোনো সভ্য বা বড় রাষ্ট্রের একজন স্বাভাবিক ক্যাবিনেট সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য আসতে পারে না। ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গাভিরের এই মন্তব্যটি মূলত একজন প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধীর বক্তব্য।” তিনি স্পষ্ট করেন, যারা একটি পুরো দেশকে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, তাদের পেছনে মার্কিন করদাতাদের ডলার খরচ করা বন্ধ করতে হবে।

তবে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন চাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার এই উগ্র অবস্থানের পক্ষে পুনরায় সাফাই গেয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “আমেরিকানদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বের কাছে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো ফেলনা জিনিস নয়।” একই সঙ্গে তিনি নিজের আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে আবারও জোর দিয়ে বলেন, “পুরো লেবাননকে অবশ্যই পুড়তে হবে।”

এদিকে লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির (মনিটরিং) জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে ওয়াশিংটন। গত সোমবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে এই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা শেষ হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অমীমাংসিত ধারাগুলো, বিশেষ করে সব ফ্রন্টে বৈরিতা ও যুদ্ধ বন্ধের (যুদ্ধবিরতি) বিষয়গুলো নিয়ে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে লেবানন সীমান্তে শুরু হওয়া ইসরাইলের ভয়াবহ সামরিক অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি বোমাবর্ষণের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাসিন্দা। এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিশেষ বর্ধিত আলোচনা সম্পন্ন হলো।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ