‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

Teachers were forced to stamp ballots at gunpoint, Bangladesh Open University VC says

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ বা ডিগ্রি নয়, এটি জাতি গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।’

জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিষয়ে বিশেষ শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে মোরেলগঞ্জ রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যে দেশ যত বেশি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করবে, সেই দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং সচেতন নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে। সুশিক্ষিত মানুষই প্রকৃত জাতির সম্পদ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল। দিনের ভোট রাতে নিয়ে ব্যালট বক্স ভর্তি করতে বাধ্য করা হয়েছিল শিক্ষকদের। সেই দিন আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।’অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সৃজনশীল চিন্তা এবং মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। অফিস ও সমাজে নয়, চরিত্র নির্মাণেই শিক্ষার আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন – কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম আজাদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন উদ্যোগের মাধ্যমেই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব।’সমাবেশে রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ