ক্যাটাগরি বাগেরহাট

Bagerhat district

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে ১৩টি দোকান এবং দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ, মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

    এসব দোকানের মধ্যে দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি ভাতের হোটেল, দুটি মুদি দোকান, ১টি ফাস্টফুডের দোকান ও অন্যান্য খাবারের দোকান ছিল।

    ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আরিফ শেখ, মো: বক্কার, নিমাই, রূপ সাহাসহ অন্যান্যরা জানান, তারা ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে সব হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। শেষ আশ্রয় এখন রেললাইন। জমিনই তার বসতভিটা আর আকাশ মাথার ওপর ছাদ। দুই সন্তানকে নিয়ে নির্মম নিয়তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন তিনি। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে খাবারের অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভাড়া মেটাতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন এই নারী।

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেললাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা রেহানা খাতুনের জীবনের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধের এটি এক নিদারুণ গল্প।

    দুই সন্তানকে নিয়ে তার এই জীবনযুদ্ধ আবারও যেন প্রমাণ করে, মাতৃত্বের শক্তির কাছে পৃথিবীর সব দুঃখ যেন নস্যি। নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে সন্তানদের জন্য প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন রেহানা।

    জানা গেছে, রেহানা একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জায়গায় স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেখানে একবেলার খাবার জোটানোই কঠিন, সেখানে ঘর তৈরি করা যেন তার জীবনে দিবাস্বপ্ন।

    কয়েক মাস ধরে সেখানে শুধু বাঁশের খুঁটির অস্তিত্ব থাকলেও এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে ওঠেনি। রোদের প্রখর উত্তাপ আর বৃষ্টির কান্না আসে-যায়। কিন্তু রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে স্বস্তির হাসি কবে আসবে, সেই প্রশ্নই যেন থেকে গেছে।

    স্থানীয় নারী ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো ঠিকানা না থাকায় রেহানা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ছিলেন। ওই ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করে দেন তিনি।

    ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমি একদিন হঠাৎ দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই। আমি বললাম, কী ব্যাপার, তোর চুল কী হইছে? তখন রেহানা কেঁদে দিয়ে বলে, ‘ও বু, কাউরে কইও না, আমি ঘরের ভাড়া দিতি ৫০০ টাকায় চুল বেইচে দিছি।’

    রেহানার এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আবু তালেব শেখ বলেন, ‘রেহানার যে অবস্থা, তাতে সে একটা ঘর পায়—সরকারের কাছে আবেদন করবো, দ্রুত যেন একটা ঘর দেওয়া হয়।’

    এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশপথের মুখে একটি ঘরের বাঁশের ফ্রেম রয়েছে। সেখানে রেহানা ও তার অবুঝ দুই সন্তানের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান গ্রামের মহিদুল ইসলাম।

    মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের ফ্রেম যেহেতু আছে, এখন টিন এবং বেড়ার খরচ যোগাতে পারলেই রেহানার একটা বন্দোবস্ত হবে।’ এ জন্য এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেন রেহানা। রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয়, রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে নিষ্পাপ দুটি মুখ।

    ছোট দুই সন্তানের মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেতে শেষ সম্বল নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন রেহানা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত রয়েছে খিদের যন্ত্রণা।

    কান্নাভেজা কণ্ঠে রেহানা জানান, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। একদিকে ঘর নেই, অন্যদিকে খিদের যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি।’ তিনি সরকার ও বিত্তশালী মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

    নারীর অহংকার ও শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচিত নিজের চুল বিক্রি করে দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাকে হারাতে দেননি রেহানা। সন্তানদের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।

    এখন প্রশ্ন একটাই—একজন মাকে আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মিলবে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই?

  • বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে বসত ঘরে একই পরিবারের তিন জনের লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

    পুলিশ, পিবিআই ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভীর করেছেন। এখনও লাশ ঘরের মধ্যে রয়েছে, সিআইডি পৌঁছালে লাশ উদ্ধার করা হবে।

    মৃতরা হলেন, চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলীর স্ত্রী মনিরা বগেম (৫২) ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৮৫)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।

    কয়েকদিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন তিনি।

  • বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে শহরের হাড়িখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে তাল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

    নিহত শান্তর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা জনায়, শান্ত প্রতিদিনের মতো চেম্বারে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

    আইনজীবী নিহতের খবর পেয়ে শনিবার সকালে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন আইনজীবী নেতারা। তারা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

  • বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় নিজ ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর ও আরেকজনের দুই মাস।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইনুল ইসলাম মহিন (৩২) নামে এক ঘের কর্মচারী মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার নোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাইনুল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মগিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী শেখ হেমায়েত উদ্দিনের নোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘেরের বাসায় থেকে ঘেরের দেখভাল করতেন। তিনি এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি ঘেরের পানি দেওয়ার জন্য মেশিন ঠিক করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাহিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • চৌগাছায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ

    চৌগাছায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ

    যশোরের চৌগাছায় আক্তারুজ্জামান (৪৬) নামের এক পুলিশ সদস্য তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের বিষয়ে চৌগাছা থানায় অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার শিমা।

    নিখোঁজ আক্তারুজ্জামান উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জামলতা গ্রামের মৃত আনিচুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত আছেন। তার বিপি নং ৮৪০৩০২৪৬৪৪।

    ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শাহিনা আক্তার চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন। ‘আমার তিন সন্তান নিয়ে চৌগাছা শহরের ইছাপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছি। আমার স্বামী ২৬ নভেম্বর ৫ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে চৌগাছায় আসেন। ২৭ নভেম্বর সকালে মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়। এর পরে তিনি আর ফিরে আসেননি’। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বাসায় রেখে যান। (তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর-০১৭৯০০১৫৬৭৭৫ এবং ০১৯৫৩৮২৪৪৫২) যে কারনে আক্তারুজ্জামানের সাথে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান শাহিনা আক্তার।

    নিখোঁজ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার জানান, তিনধরে স্বামী আক্তারুজ্জামানের কোনো সন্ধ্যান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

    চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।