বাগেরহাট

Bagerhat district

  • নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    নারকেলে মন্দা, ডাবে ঘুরছে বাগেরহাটের অর্থনীতি

    ঘূর্ণিঝড় সিডরের ক্ষত, জলবায়ু পরিবর্তনের লবণাক্ততা আর সাদা মাছি ও ইঁদুরের উপদ্রব—সব মিলিয়ে দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে বাগেরহাটের নারকেল উৎপাদন। একসময় জেলার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেও নারকেল তেলের শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে গেছে কাঁচামালের অভাবে। তবে ঐতিহ্যের এই ধ্বসে আশার আলো জ্বালিয়েছে ‘কাঁচা নারকেল’ বা ডাব। পাকা নারকেলের বাজার হারালেও দেশজুড়ে তুঙ্গে থাকা ডাবের চাহিদাই এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যোগাচ্ছে উপকূলীয় এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

    বাগেরহাটের দেপাড়া, মুনিগঞ্জ, বৈটপুর, সাইনবোর্ড কিংবা দৈবজ্ঞহাটির মতো অন্তত দেড় শতাধিক মোকামে প্রতিদিন চলে শত শত মণ ডাব কেনাবেচা। এসব আড়ত থেকে ট্রাকে করে ডাব চালান হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, রংপুরসহ দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে।

    দেপাড়া বাজারের ‘বরকত ডাব ঘর’-এর ব্যবসায়ী লিটন জানান, সাধারণত সপ্তাহে ৩-৪ দিন গড়ে দেড় হাজার ডাব চালান করলেও গ্রীষ্মের মৌসুমে প্রতিদিন ৩ হাজার পর্যন্ত ডাব পাঠান উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সাইনবোর্ড বা দেপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বাগান ও ঘেরের পাড় থেকে ৪০-৮৫ টাকায় ডাব কিনে আড়তে ৭৫-১২০ টাকায় হাতবদল করেন, যা শেষপর্যন্ত শহরের খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
    সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি ডাটাবেজ না থাকলেও ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মতে, জেলায় প্রায় দেড়শ আড়তদার, শতাধিক খুচরা বিক্রেতা এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি ফড়িয়া ডাব ব্যবসার সাথে সরাসরি যুক্ত।
    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাগেরহাটে ৩ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে নারকেলের চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন প্রায় ৩৩ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, নারকেল ও ডাব খাত থেকে বছরে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা আয় আসছে।

    বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা শরীফ সরদার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আক্ষেপ—আগে যেখানে বার্ষিক উৎপাদন ছিল লাখ মেট্রিক টনের বেশি, সেখানে কাঁচামাল সংকটে তেলের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে অন্য ব্যবসা ধরতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

    কচুয়া উপজেলার কৃষক মনির শেখ জানান, ‘গাছে আর আগের মতো নারকেল ধোবে না। রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন কমলেও বাজারে ডাবের দাম ভালো পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি পোষাচ্ছে।’
    কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ ও গরম বাড়লে সারা দেশেই ডাবের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়, যা বাগেরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।’

    তবে কেবল ডাব বেচে দীর্ঘমেয়াদে এ খাত ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোতাহার হোসেনের মতে, সাদা মাছি, মাকড় ও ইঁদুর দমনে কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলে একটি ‘নারকেল ও সুপারি গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপন করা গেলে এই উপকূলীয় সম্পদ আবার আগের রূপে ফিরে পেতে পারে।

  • মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।

    বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পিছনের মাঠে কৃষিকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন শৌলখালী গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)।

    মোরেলগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল্লাহ দুই ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: হাবিবুল্লাহ জানান, নিহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের কিছু আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    দুই সপ্তাহেও মেলেনি নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রের খোঁজ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঢাকা থেকে ৮ আগস্ট নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নারায়নগঞ্জের ফতুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করা হয়েছে।

    নিখোঁজ আরিফ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জিলবুনিয়া গ্রামের মরহুম ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। সে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র।

    ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকুরিরত নিখোঁজ আরিফের মা আরিফা বেগম জানান, তার ছেলে আমানুল ইসলাম আরিফ ফতুল্লার রসুলপুর দারুন জান্নাত ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। গত ৮ আগষ্ট সকালে আরিফকে মাদরাসায় পাঠিয়ে তিনি গার্মেন্টেসে চলে যান। এরপর থেকে তার ছেলে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মাদরাসা থেকে জানানো হয়েছে সেদিন আরিফ মাদরাসায় যায়নি।

    নিখোঁজ আরিফের নানি মিনারা বেগম জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার নাতির কোনো সন্ধান মেলেনি।

    এ বিষয়ে আরিফের মা আরিফা বেগম গত ১১ আগস্ট নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি জিডি করেছেন।

  • ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে ১৩টি দোকান এবং দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ, মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

    এসব দোকানের মধ্যে দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি ভাতের হোটেল, দুটি মুদি দোকান, ১টি ফাস্টফুডের দোকান ও অন্যান্য খাবারের দোকান ছিল।

    ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার আরিফ শেখ, মো: বক্কার, নিমাই, রূপ সাহাসহ অন্যান্যরা জানান, তারা ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

    ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    নিজের খাবার জোগাতে চুল বিক্রি করেন রেহানা

    দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে সব হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। শেষ আশ্রয় এখন রেললাইন। জমিনই তার বসতভিটা আর আকাশ মাথার ওপর ছাদ। দুই সন্তানকে নিয়ে নির্মম নিয়তির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন তিনি। একদিকে মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, অন্যদিকে খাবারের অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভাড়া মেটাতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন এই নারী।

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেললাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা রেহানা খাতুনের জীবনের দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধের এটি এক নিদারুণ গল্প।

    দুই সন্তানকে নিয়ে তার এই জীবনযুদ্ধ আবারও যেন প্রমাণ করে, মাতৃত্বের শক্তির কাছে পৃথিবীর সব দুঃখ যেন নস্যি। নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে সন্তানদের জন্য প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন রেহানা।

    জানা গেছে, রেহানা একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জায়গায় স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেখানে একবেলার খাবার জোটানোই কঠিন, সেখানে ঘর তৈরি করা যেন তার জীবনে দিবাস্বপ্ন।

    কয়েক মাস ধরে সেখানে শুধু বাঁশের খুঁটির অস্তিত্ব থাকলেও এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়ে ওঠেনি। রোদের প্রখর উত্তাপ আর বৃষ্টির কান্না আসে-যায়। কিন্তু রেহানা ও তার দুই সন্তানের জীবনে স্বস্তির হাসি কবে আসবে, সেই প্রশ্নই যেন থেকে গেছে।

    স্থানীয় নারী ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো ঠিকানা না থাকায় রেহানা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ছিলেন। ওই ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করে দেন তিনি।

    ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আমি একদিন হঠাৎ দেখি রেহানার মাথায় চুল নেই। আমি বললাম, কী ব্যাপার, তোর চুল কী হইছে? তখন রেহানা কেঁদে দিয়ে বলে, ‘ও বু, কাউরে কইও না, আমি ঘরের ভাড়া দিতি ৫০০ টাকায় চুল বেইচে দিছি।’

    রেহানার এমন অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আবু তালেব শেখ বলেন, ‘রেহানার যে অবস্থা, তাতে সে একটা ঘর পায়—সরকারের কাছে আবেদন করবো, দ্রুত যেন একটা ঘর দেওয়া হয়।’

    এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশপথের মুখে একটি ঘরের বাঁশের ফ্রেম রয়েছে। সেখানে রেহানা ও তার অবুঝ দুই সন্তানের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে জানান গ্রামের মহিদুল ইসলাম।

    মহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশের ফ্রেম যেহেতু আছে, এখন টিন এবং বেড়ার খরচ যোগাতে পারলেই রেহানার একটা বন্দোবস্ত হবে।’ এ জন্য এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করেন রেহানা। রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয়, রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে নিষ্পাপ দুটি মুখ।

    ছোট দুই সন্তানের মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেতে শেষ সম্বল নিজের মাথার চুল বিক্রি করেছেন রেহানা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত রয়েছে খিদের যন্ত্রণা।

    কান্নাভেজা কণ্ঠে রেহানা জানান, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। একদিকে ঘর নেই, অন্যদিকে খিদের যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি।’ তিনি সরকার ও বিত্তশালী মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

    নারীর অহংকার ও শেষ সম্বল হিসেবে বিবেচিত নিজের চুল বিক্রি করে দারিদ্র্যের কাছে হার মানলেও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসাকে হারাতে দেননি রেহানা। সন্তানদের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিসর্জন দিয়েছেন তিনি।

    এখন প্রশ্ন একটাই—একজন মাকে আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে মিলবে মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই?

  • বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামে বসত ঘরে একই পরিবারের তিন জনের লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়রা ঘরের মধ্যে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

    পুলিশ, পিবিআই ও উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভীর করেছেন। এখনও লাশ ঘরের মধ্যে রয়েছে, সিআইডি পৌঁছালে লাশ উদ্ধার করা হবে।

    মৃতরা হলেন, চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলীর স্ত্রী মনিরা বগেম (৫২) ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৮৫)। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।

    কয়েকদিন আগে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসছিলেন তিনি।

  • বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে আইনজীবী নিহত

    বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে শহরের হাড়িখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

    শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমবাগ এলাকার বাসিন্দা।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে তাল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টায় পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

    নিহত শান্তর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা জনায়, শান্ত প্রতিদিনের মতো চেম্বারে কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তারা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা ২৫০ বেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

    আইনজীবী নিহতের খবর পেয়ে শনিবার সকালে বাগেরহাট ২৫০ বেড হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হন আইনজীবী নেতারা। তারা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়।

  • বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটে নিজ ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    বাগেরহাটের শরণখোলায় নিজ ঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রাজৈর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মো. কবির হোসেন ও তার স্ত্রী হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত কবির হোসেন রাজৈর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। একজনের বয়স পাঁচ বছর ও আরেকজনের দুই মাস।

    পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করে স্বেচ্ছায় পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

    শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইনুল ইসলাম মহিন (৩২) নামে এক ঘের কর্মচারী মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার নোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাইনুল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মগিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী শেখ হেমায়েত উদ্দিনের নোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘেরের বাসায় থেকে ঘেরের দেখভাল করতেন। তিনি এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি ঘেরের পানি দেওয়ার জন্য মেশিন ঠিক করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাহিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • চৌগাছায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ

    চৌগাছায় পুলিশ সদস্য নিখোঁজ

    যশোরের চৌগাছায় আক্তারুজ্জামান (৪৬) নামের এক পুলিশ সদস্য তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের বিষয়ে চৌগাছা থানায় অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার শিমা।

    নিখোঁজ আক্তারুজ্জামান উপজেলার সিংহঝুলি ইউনিয়নের জামলতা গ্রামের মৃত আনিচুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত আছেন। তার বিপি নং ৮৪০৩০২৪৬৪৪।

    ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের স্ত্রী শাহিনা আক্তার চৌগাছা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন। ‘আমার তিন সন্তান নিয়ে চৌগাছা শহরের ইছাপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছি। আমার স্বামী ২৬ নভেম্বর ৫ দিনের জন্য ছুটি নিয়ে চৌগাছায় আসেন। ২৭ নভেম্বর সকালে মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়। এর পরে তিনি আর ফিরে আসেননি’। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বাসায় রেখে যান। (তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর-০১৭৯০০১৫৬৭৭৫ এবং ০১৯৫৩৮২৪৪৫২) যে কারনে আক্তারুজ্জামানের সাথে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান শাহিনা আক্তার।

    নিখোঁজ আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার জানান, তিনধরে স্বামী আক্তারুজ্জামানের কোনো সন্ধ্যান না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

    চৌগাছা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে দ্রুত ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ, স্তম্ভ ও বিশেষ করে মিহরাবে ফাটল, চুন খসে পড়া এবং সাদা লবণের স্তর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। নিচ থেকে উঠে আসা নোনা পানি ইটের ভেতরে লবণ ক্রিস্টাল তৈরি করে স্থাপনার মূল গঠন দুর্বল করে দিচ্ছে।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং আইকমসের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে—তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শিল্প দূষণ, বর্ষাকালের আর্দ্রতা এবং ভূগর্ভস্থ লবণাক্ততা ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে।ঐতিহাসিক স্থাপনাটির জরুরি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাবেক ডিজি ড. মো. শফিকুল আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, মিহরাব যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাথর খণ্ড যুক্ত রাখতে ব্যবহৃত লোহার ক্ল্যাম্পে জং ধরায় ভার বহনক্ষমতাও কমে গেছে।আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ইউনেস্কোর সহায়তায় মসজিদের পূর্ণ ক্ষয়-মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে দ্রুত সংরক্ষণ-কাজ শুরু করা হবে। ইউনেস্কো ঢাকার পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক সংরক্ষণ কাজেরও সুপারিশ করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ষাটগম্বুজ মসজিদকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—যা দেশের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

  • লবণাক্ততার  ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    লবণাক্ততার ঝুঁকিতে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ

    ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে দ্রুত ক্ষয়ের মুখে পড়েছে। মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ, স্তম্ভ ও বিশেষ করে মিহরাবে ফাটল, চুন খসে পড়া এবং সাদা লবণের স্তর স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। নিচ থেকে উঠে আসা নোনা পানি ইটের ভেতরে লবণ ক্রিস্টাল তৈরি করে স্থাপনার মূল গঠন দুর্বল করে দিচ্ছে।

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং আইকমসের যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে—তাপমাত্রা বৃদ্ধি, শিল্প দূষণ, বর্ষাকালের আর্দ্রতা এবং ভূগর্ভস্থ লবণাক্ততা ক্ষয়কে আরও ত্বরান্বিত করছে।

    ঐতিহাসিক স্থাপনাটির জরুরি সংরক্ষণের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সাবেক ডিজি ড. মো. শফিকুল আলমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, মিহরাব যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাথর খণ্ড যুক্ত রাখতে ব্যবহৃত লোহার ক্ল্যাম্পে জং ধরায় ভার বহনক্ষমতাও কমে গেছে।

    আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, ইউনেস্কোর সহায়তায় মসজিদের পূর্ণ ক্ষয়-মানচিত্র তৈরি করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে দ্রুত সংরক্ষণ-কাজ শুরু করা হবে। ইউনেস্কো ঢাকার পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক সংরক্ষণ কাজেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ষাটগম্বুজ মসজিদকে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ ঘোষণা করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—যা দেশের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

  • ‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

    ‘শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল’

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ‘শিক্ষা শুধু সনদ বা ডিগ্রি নয়, এটি জাতি গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীই রাষ্ট্রের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।’

    জাতি গঠনে মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বর্তমান প্রেক্ষাপট বিষয়ে বিশেষ শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে মোরেলগঞ্জ রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘যে দেশ যত বেশি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করবে, সেই দেশ তত বেশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং সচেতন নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম হবে। সুশিক্ষিত মানুষই প্রকৃত জাতির সম্পদ। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। শিক্ষককে অস্ত্র ঠেকিয়ে ব্যালটে সিল মারতে বাধ্য করা হয়েছিল। দিনের ভোট রাতে নিয়ে ব্যালট বক্স ভর্তি করতে বাধ্য করা হয়েছিল শিক্ষকদের। সেই দিন আর বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।’অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সৃজনশীল চিন্তা এবং মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। অফিস ও সমাজে নয়, চরিত্র নির্মাণেই শিক্ষার আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন – কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম আজাদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতন উদ্যোগের মাধ্যমেই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব।’সমাবেশে রওশ-আরা স্মৃতি মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু

    চৌগাছায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু

    1. যশোরের চৌগাছায় গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেল ধাক্কা লেগে সাগর (১৭) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) চৌগাছা-যশোর সড়কের তারিনিবাস মাঝের পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাগর উপজেলার মাশিলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে সাগর হেলমেট পরিহিত অবস্থায় নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে যশোরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারিনিবাস মাঝের পাড়া এলাকায় পৌঁছালে এপাচি আরটিআর মোটরসাইকেলটি (নম্বর: যশোর-ল-১২-২৮০৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি কাঁঠাল গাছে ধাক্কা খায়। এতে সাগর গুরুতর আহত হন।
    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • চিতলমারীতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    চিতলমারীতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    জেলার চিতলমারী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে রবি মৌসুমে গম, মুগ, সরিষা, সূর্যমুখী (ওপি ও হাইব্রিড) এবং খেসারি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তাবৃন্দ।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. সিফাত আল মারুফ জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৮৭০ জন কৃষকদের মধ্যে গম ২০জনকে, সরিষা ৩৫০ জন, সূর্যমুখী (ওপি) ৩০জন, সূর্যমুখী হাইব্রিড ২০০জন, খেসারি ৭০ জন এবং মুগ ২০০জনকে দেয়া হয়েছে।

  • ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মাল্টি-হ্যাজার্ড ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

    ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি ও মাল্টি-হ্যাজার্ড ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

    যে কোনো দুর্যোগে শিল্প কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে মোংলা ইপিজেডে শুরু হয়েছে ‘দুর্যোগ প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা এবং বহু-বিপদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি । প্রশিক্ষণে মোংলা ইপিজেডের শিল্প-কারখানা হতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন।

    সোমবার (৩ নভেম্বর, ২০২৫) সকালে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন মোংলা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক কালাম মো. আবুল বাশার।

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সেইফটি কাউন্সিল এবং মোংলা ইপিজেডের যৌথ উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবুল বাশার বলেন, দুর্যোগের প্রস্তুতি ও দুর্যোগকালে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিল্পকারখানার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পের উৎপাদনশীলতা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

    এ সময়, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে এফবিসিসিআইয়ের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোংলা ইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ওয়াহেদুজ্জামান।

    তিনি জানান বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ প্রিপেয়ার্ডনেস পার্টনারশিপ (বিপিপি) প্রকল্পের আওতায় এফবিসিসিআই দেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোংলা ইপিজেডের পরিচালক (প্রশাসন) মো. কাউসার হোসেন, ইপিজেড জোন অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের কর্মকর্তাগণ।

  • বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    বারান্দায় মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী সবুজ

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার পানবাড়িয়া গ্রামের যুবক সবুজ শিকদার (৩৪)। জীবিকার খোঁজে ১৭ বছর গ্রামের বাইরে ছিলেন। গত বছর নিজ গ্রামে ফেরেন তিনি। মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিজ ঘরের বারান্দায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। এখন সেই মাশরুমই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি।

    বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের পানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইছহাক আলী শিকদারের ছেলে সবুজ শিকদার। ২০০৭ সালে জীবিকার খোঁজে বাড়ি ছেড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কাটিয়েছেন।

    এক সময় ওষুধের ব্যবসা করলেও, গত বছর তিনি নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। সবুজ সাভারের মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে ১২ দিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাশরুম চাষ শুরু করেন। নিজের ঘরের বারান্দার মাত্র ১২ হাত জায়গায় তিনি ‘মেসার্স সাইবা পিও-টি জাতের মাশরুম’ প্রকল্প চালু করেন। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে ৬২২টি মাশরুম ব্যাগে চাষ করছেন এবং প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন কেজি মাশরুম উৎপাদন করতে সক্ষম।

    সবুজ স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মাশরুম ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন, আর মাশরুম গুঁড়া বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা দরে। তিনি দারাজ, পাঠাও, স্কুট এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাশরুম সরবরাহ করছেন। এছাড়াও ৫০০ গ্রাম ইস্পন প্যাক ২৫ টাকায়, ১ কেজি ৫০ টাকায় এবং ২ কেজির প্যাকেট ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

    পানবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, সবুজ ভাই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আগে কেউ ভাবেনি যে ঘরের বারান্দায় বসেই এত কিছু করা যায়। এখন গ্রামের অনেক যুবকই মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

    স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শিরিন বেগম বলেন, মাশরুম চাষ করে সবুজ এখন ভালো আয় করছেন। এমন উদ্যোগে যদি সরকারি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন এবং স্বাবলম্বী হবে।

    সবুজ শিকদার বলেন, প্রথমে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। যদি সরকারি সহযোগিতা পাই, তাহলে আরও বড় আকারে চাষ করতে পারব। আমার স্বপ্ন অনেক বড়। এই বারান্দার ছোট পরিসর থেকে শুরু করে একদিন আমি এই মাশরুম চাষকে অনেক বড় একটি শিল্পে পরিণত করতে চাই।

    তিনি বলেন, আমি চাই আমার মতো আরও অনেক বেকার যুবক এই মাশরুম চাষে আগ্রহী হোক এবং স্বাবলম্বী হোক। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই চাষকে আমি দেশের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দিতে চাই।

    কচুয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শেখ নাইমুর রশিদ লিখন বলেন, মাশরুম চাষ এখন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগ। খুব অল্প জায়গায়, অল্প খরচে এটি চাষ করা যায়। সবুজ যা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই আরও যুবক তার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করুক। কৃষি অফিস থেকে আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি। মাশরুম পুষ্টিকর হওয়ায় বাজারে এর

    চাহিদাও হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে। সবুজের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, সবুজের মতো কেউ যদি এই উদ্যোগ শুরু করতে চায়, তাহলে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ বা যে কোনো সহযোগিতায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

  • মোড়লগঞ্জে চাচাত ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    মোড়লগঞ্জে চাচাত ভাইকে পিটিয়ে হত্যা

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. কালাম খান (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে চোর তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে। গতকাল রাত ৯টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়িখালী ইউনিয়নের ছোট জামুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালাম খান ওই ইউনিয়নের ঢেপুয়ারপাড়

    গ্রামের ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জমিজমা নিয়ে কালাম খান ও একই বংশের সোহেল খানের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে ফেরার পথে সোহেল খান তাঁর লোকজন দিয়ে কালাম খান ও তাঁর বড় ভাই লুৎফর খানকে ধরে নিয়ে চুরির অভিযোগে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে কালাম খান অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে রাস্তায় এনে ফেলে পুলিশে দেন। পরে পুলিশ তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় দুই ভাইকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালাম খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বড় ভাই লুৎফর খানের অবস্থায়ও সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    বাগেরহাটের পুলিশ সুপার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

    সুত্র: প্রথম আলো

  • রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড

    রামপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেকর্ড

    বাগেরহাটে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে নতুন রেকর্ড হয়েছে। আগস্ট মাসে কেন্দ্রটি ৭৭১.৭০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের (১০ হাজার ১০০ মিলিয়ন ইউনিট) ৭.১৫ শতাংশ।

    গত তিন মাস ধরে প্ল্যান্টটি ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে ৬০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, যার মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৬.৪ মিলিয়ন ইউনিট।
    মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম।

  • মোল্লার হাটে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের দাবি

    মোল্লার হাটে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মানের দাবি

    বাগের হাট জেলার মোল্ল ার হাটে ধলেশ্বরী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। প্রতিদিন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীসহ হাজার হাজার মানুষ শ্যালো নৌকাযোগে ধলেশ্বরী নদী পার হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে এলাকার সাধারণ মানুষের চলা চলে সুবিধা হবে।

    সেতু নির্মানের জন্য সরকারের দৃষ্ট করেছে মোল্লাহাটের স্কুল কলেজ, এলাকার সাধারণ মানুষ।

  • নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    নতুন জাতের ধান চাষে লাভবান

    চলতি বোরো মৌসুমে চাষি মোস্তফা হাসান চার বিঘা জমিতে মাত্র ২১ কেজি বীজ লাগিয়ে ২২১ মণ ধান উৎপাদন করেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা! বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে সোনালি বর্ণের এই ধান।

    বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক জাত ব্রি-১০৮ ধান চাষে এ অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন উপজেলার শৌখিন এই চাষি।

    ইউটিউবের মাধ্যমে খোঁজ পেয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে কৃষক মোস্তফা হাসান শেরপুর থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে ২১ কেজি বীজ ধান সংগ্রহ করেন। চার বিঘা জমিতে কিষান খরচ, জমি চাষ, সার ওষুধ ও সেচ খরচ মিলে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অধিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় বীজতলা থেকে শুরু করে ধান পাকা পর্যন্ত তার এই খরচ হয়েছে বলে জানান। সার ব্যবস্থাপনা কম লাগায় ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশা প্রকাশ করেন। জানুয়ারিতে রোপণ করা ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। এক শতক জমির ধান নমুনা কর্তনে ৪৫ কেজি ধান পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৬০০ টাকা বলে তিনি জানান। ২/১ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা হবে বলে জানান মোস্তফা হাসান।

    ইতোমধ্যে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বীজের জন্য ২০ মণ ধানের চাহিদার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন।

    রোববার সকালে উপজেলার বাহিরদিয়া ব্লকে কৃষক মোস্তফা হাসানের ধানক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের অনেক কৃষক আগ্রহ নিয়ে ধান দেখতে এসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন।

    উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন সেন বলেন, সোনালি রঙের ব্রি-১০৮ জাতের ধানটি এই উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে। সম্ভবত জেলায়ও প্রথম হবে। এ ধানের চাল মাঝারি লম্বা ও চিকন। ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় উচ্চ মূল্যের জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে অধিক দামের কারণে ইতোমধ্যে ধানটির প্রতি ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে।

    কৃষক মোস্তফা হাসান ও ক্ষেত মজুর রহমত ফকির জানান, ৪ বিঘা ৫ শতক জমিতে ব্রি-১০৮ ধান চাষের সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হবে। এ অঞ্চলে প্রথম চাষেই সাফল্য পাওয়ায় অনেক চাষি এটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করতে চান তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ব্রি-১০৮ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আবিষ্কৃত সর্বাধুনিক জাতের ধান। এ ধানটি অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১৬/১৭টি। দানার পুষ্টতা শতকরা ৮৮.৬ ভাগ। চালে প্রটিনের পরিমাণ ৮.৮ ভাগ যা অন্যান্য চালের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্য সম্মত।

    উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ধানটি ছড়িতে দিতে এই ক্ষেত থেকে সরকারিভাবে বীজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

  • নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    নারকেলের ছোবড়ায় সাবলম্বী ৮০ টি পরিবার

    বাগেরহাটের সদর উপজেলার বাসাবাটি এলাকায় নারীদের হাতে তৈরি অর্গানিক পণ্য এখন শুধু ঘরের সাজসজ্জা নয়, তাদের জীবিকা ও স্বপ্নের উৎস। নারকেলের ছোবড়া, কাঠ, কাপড় ও সুতা দিয়ে তাদের হাতে তৈরি পাখির বাসা, বিড়ালের খেলনা, দোলনা, জুতাসহ নানা ধরনের পণ্য বাজারে বিক্রি হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় এগুলো। রোজী আহমেদের উদ্যোগে নারীবান্ধব এই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ৮০ জন নারী। এই শ্রম শুধু নারীদের আয়ের পথই খুলে দেয়নি, জুগিয়েছে তাদের আত্মবিশ্বাস।

    সরেজমিনে দেখা যায়, রোজী আহমেদের ফ্যাক্টরিতে, বাড়ির উঠানে এবং পাশের দুটি একতলা ভবনে তৈরি হচ্ছে ৫০-৬০ প্রকারের অর্গানিক পণ্য। নারকেলের ছোবড়া ও আঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাখির বাসা, দোলনা, নারকেলের জুতা। কাঠ, কাপড় ও সুতো দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিড়ালের খেলনা, চপিং বোর্ড, দোলনা, কাপড়ের ব্যাগ। প্রতিটি পণ্যে নারীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া স্পষ্ট। প্রতিটি পণ্য নকশা অনুযায়ী সজ্জিত করা হয়, পরিশোধন করা হয়, এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য নিখুঁতভাবে প্যাক করা হয়। জার্মান, জাপান, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই উদ্যোগে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীরা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। প্রতিটি পণ্যে তাদের শ্রম ও সৃজনশীলতার ছোঁয়া রয়েছে।

    রোজী আহমেদের তিনতলা বসতবাড়ি ও পাশের দুটি একতলা ভবন মিলিয়ে গড়ে উঠেছে অর্গানিক প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি। এখানে কমপক্ষে ৮০ জন নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা প্রত্যেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করছেন। নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নারীরা অত্যন্ত খুশি।

    করোনার সময় যখন সমস্ত মিল-ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখনই রোজী আহমেদ ফেসবুকে নিজের হাতে তৈরি নারকেলের মাজুনি বিক্রি শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর উদ্দিপন নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আঁশের তৈরি পাখির বাসার তৈরির অর্ডার দেন। এরপর একের পর এক নতুন পণ্য তৈরি শুরু হয় এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশে বিক্রি করা শুরু হয়।

    বিসিক, বাগেরহাট উপ-ব্যবস্থাপক শরীফ সরদার বলেন, রোজী আহমেদের উদ্যোগ নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। অর্গানিক পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। এটি অন্যান্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। রোজী আহমেদ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা-২০২৪’ পেয়েছেন।

    বাগেরহাটের এই উদ্যোগ শুধু নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, দেশেও বৈদেশিক মুদ্রা আনার পথ খুলছে। প্রতিটি নারী শ্রমিকের প্রতিদিনের শ্রম, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায় অর্গানিক পণ্যকে দেশের এবং বিদেশের বাজারে পরিচিতি দিয়েছে। রোজী আহমেদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ অসহায় নারীদের জীবনে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে।

    নারীরা প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছে, নতুন কিছু তৈরি করছে, এবং প্রতিটি পণ্যের সঙ্গে তাদের জীবনের গল্প ও স্বপ্ন মিশে আছে। এই উদ্যোগ অন্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস এবং এটি প্রমাণ করছে, উদ্যোক্তা নারীর উদ্যোগে একদম ছোট উপকরণ থেকেও বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব তৈরি করা সম্ভব।

  • সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    সুন্দরবনে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে ৭ শিকারি আটক

    রাতের আঁধারে সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একদল শিকারি। তবে বন বিভাগের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে পুরো চক্রটি।

    শনিবার (২ নভেম্বর) গভীর রাতে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির হোন্দল এলাকা থেকে সাত শিকারিকে আটক করে বন বিভাগের স্মার্ট টিম–১ এর সদস্যরা।

    বন বিভাগ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে বন বিভাগের পতাকাসহ দুটি ট্রলার, ১০০টি হরিণ শিকারের হাটা ফাঁদ, একটি মই জাল, একটি করাত, ২০টি কন্টেইনার, দুটি ড্রাম, একটি নোঙর, তিনটি ত্রিপল, দুটি পাতিল ও দুটি ককসিট জব্দ করা হয়।

    আটকরা হলেন- বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শগুনা গ্রামের মনোজ পাল (৪২), বাইনতলা গ্রামের মুজিবুর রহমান (৫৬), চাঁনপুর গ্রামের মুনাফ আলী মোল্লা (২২), মোজাম্মেল শেখ (৫২), বারইপাড়া গ্রামের খান তামিম (২০), ওহিদ মল্লিক (৩৬) এবং মোংলার জয়মনি গ্রামের আলী হোসেন (৪৫)।

    বন আইনে মামলা দায়েরের পর রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে আটক সাতজনকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গভীর রাতে হোন্দল এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদ পেতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন একটি চক্র। আমাদের স্মার্ট টিম দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনে ফুট ট্রেইলে বাঘ

    সুন্দরবনে ফুট ট্রেইলে বাঘ

    বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের হাড়বাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘটেছে এক বিরল ঘটনা। কাঠের তৈরি উঁচু হাঁটার পথ অর্থাৎ ফুট ট্রেইলে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে এক প্রাপ্তবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে।

    সম্প্রতি নিয়মিত টহলের সময় বনরক্ষীরা বাঘটিকে ফুট ট্রেইলের ওপর দেখতে পান। সৌভাগ্যবশত তখন সেখানে দেশি-বিদেশি কোনো পর্যটক ছিলেন না। এতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

    বনরক্ষীরা বাঘটিকে দেখে আতঙ্কিত না হয়ে চিৎকার ও হাঁকডাক শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর বাঘটি ধীরে ধীরে ফুট ট্রেইল থেকে নেমে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে প্রবেশ করে।

    এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শনিবার সকালে হাড়বাড়িয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনরক্ষীরা ফুট ট্রেইলে একটি প্রাপ্তবয়স্ক বাঘ দেখতে পান। পরে তাদের হাঁকডাকের কারণে বাঘটি বনের ভেতরে চলে যায়। এটি সত্যিই বিরল দৃশ্য, কারণ সুন্দরবনের কোনো ফুট ট্রেইলে এর আগে কখনও বাঘ দেখা যায়নি।

    তিনি আরও বলেন, হাড়বাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাঘের অবাধ বিচরণ রয়েছে। কেন্দ্রের দিঘির পাড়েও প্রায়ই বাঘের দেখা মেলে। তবে এই প্রথমবারের মতো কোনো ফুট ট্রেইলে বাঘ উঠতে দেখা গেল।

    স্থানীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বাঘের দেখা মেলার ঘটনা বেড়েছে, যা ইকোসিস্টেমের জন্য ইতিবাচক হলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।