ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি তেল প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির হুমকি দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে যুক্তরাজ্য প্রশাসনের অধীনে থাকলেও এর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে বুয়েনস আইরেস উদ্যোগ।
১৯৮২ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১০ সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন নিহত হন।
ফকল্যান্ডসের উপকূলের কাছে বড় একটি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের কাজ করছে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান নাভিটাস ও ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার। আর্জেন্টিনার হুমকি প্রত্যাখ্যান করে কোম্পানি দুটি বলেছে, যুক্তরাজ্য তাদের বৈধ অনুসন্ধান লাইসেন্স দিয়েছে।
মিলেই সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘সি লায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর ফকল্যান্ডস অববাহিকায় আমাদের সম্পদ অবৈধভাবে লুট করার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম বা সালিশি পদক্ষেপ শুরু করতে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আমাদের আইনজীবী দলকে নির্দেশ দিয়েছি।’
সি লায়ন তেলক্ষেত্রটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার (১৩৭ মাইল) দূরে অবস্থিত। মিলেই আরো বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য যদি এই অবৈধভাবে পরিচালিত সম্পদ আহরণ বন্ধ না করে, তাহলে আমরা সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে যাব।’
ব্রিটেন অনুমোদিত এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মিলেইর সরকার ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আর্জেন্টিনার যুক্তি, প্রকল্পটি জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। ওই প্রস্তাবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দ্বীপপুঞ্জে একতরফাভাবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফকল্যান্ডস ইস্যুতে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনার কথা বলার পর ফকল্যান্ডসের ওপর নিজেদের দাবির বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বুয়েনস আইরেস।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার ফকল্যান্ডসের কাছে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এসব প্রতিষ্ঠানের ‘নিজেদের ইচ্ছামতো প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ও উন্নয়নের অধিকার রয়েছে।’
