পুজোর আগে একটানা বৃষ্টিতে কার্যত নাজেহাল হয়ে ওঠে বঙ্গবাসী। প্রবল বৃষ্টির জেরে একাধিক জেলায় রীতিমতো বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের। জমিতে জল দাঁড়িয়ে বিঘার পর বিঘায় নষ্ট হয়েছে ফসল। যদিও মাঝের কয়েকদিনের কাঠফাটা রোদ্দুরে কিছুটা হলেও শুকিয়েছে মাঠ। কিন্তু নতুন করে অর্ণবের প্রভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাসে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে হুগলির কৃষকদের। সামনেই মাঠের ধান তোলা হবে। রয়েছে আলুর সিজল। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি সোমবার সকালেই পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে ‘অর্ণবে’। আবহাওয়াবিদদের কথায়, আগামী দু’দিনে তা আরও শক্তিবৃদ্ধি করে বুধবার, ২৮ অক্টোবর সকালে আছড়ে পড়তে চলেছে অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে। তবে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট নয়। তবে সাইক্লোন ‘অর্ণবে’র প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি হতে পারে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে পূর্বাভাস, কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হবে। তবে সবটাই নির্ভর করছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’র গতিবিধির উপর। সেদিকে নজর রেখেছেন আবহবিদরা।
তবে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে হুগলি জেলার সিঙ্গুর, ধনেখালি, আরামবাগ-সহ বিভিন্ন চাষ প্রধান এলাকার কৃষকদের মধ্যে। আমন ও আউশ ধানের ক্ষতির পাশাপাশি আলু চাষের প্রস্তুতিও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এমনিতেই সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। কখনও জলসংকট, কখনও অতিবৃষ্টি প্রভাব ফেলেছে। আর এবার ‘অর্ণব’। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় ফসলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। বর্তমানে সিঙ্গুর, হরিপাল, ধনেখালি, আরামবাগের বিভিন্ন এলাকায় মাঠে রয়েছে আমন ও আউশ ধান। অনেক জমিতে এখনও আমন ধানের শিষ বের হয়নি, আবার কোথাও শিষ বের হওয়া ও ফুল আসার প্রক্রিয়া চলছে। এই অবস্থায় ভারী বৃষ্টি হলে ও ঝড়ো হাওয়া বইলে ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। তাতে ফলন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে বলে তাঁদের উদ্বেগ। এমনকী ধান বাঁচানো নিয়েও দেখা দিয়েছে আশঙ্কা।
স্থানীয় এক কৃষকের কথায়, নতুন করে বৃষ্টি হলে মাঠে থাকা সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে যাবে। বাড়তে পারে শোষক পোকার আক্রমণও। এই পরিস্থিতিতে ধান কেটে ঘরে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা কৃষকদের। তিনি আরও জানান, জমি তৈরি করে জ্যোতি আলু-সহ বিভিন্ন প্রজাতির আলুর লাগানোর প্রস্তুতি চলছিল।কিন্তু টানা বৃষ্টি হলে জমিতে জল জমে মাটি কাদায় পরিণত হতে পারে। তাতে আলু রোপণের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চাষের কাজও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কৃষকদের। এহেন পরিস্থিতিতে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকেই এখন নজর কৃষকদের।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
