ডেঙ্গু পরীক্ষায় নেগেটিভ, তবুও কি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে?

প্রতিবেদন:

·

,

এনএস১ অ্যান্টিজেন (NS1 Antigen) টেস্টটি অবশ্যই জ্বর শুরুর প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে করতে হবে। জ্বর শুরুর পাঁচ-ছয় দিন পর এই টেস্ট করা হলে রক্তে অ্যান্টিজেনের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ডেঙ্গু থাকা সত্ত্বেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। অন্যদিকে, আইজিএম অ্যান্টিবডি (IgM Antibody) টেস্টটি জ্বর শুরুর পাঁচ দিন পর করা উচিত। জ্বরের প্রথম এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে এটি করা হলে শরীরে তখনো অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ার কারণে রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে।

এছাড়া ডেঙ্গু ভাইরাসের কিছু নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট বা সেরোটাইপের কারণে (যেমন : Den-2 ইনফেকশন) এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। রক্তে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এনএস১ টেস্টে নেগেটিভ ফল আসতে পারে, যা ফলস নেগেটিভ হিসেবে পরিচিত।

সে ক্ষেত্রে ডেঙ্গুজ্বর নির্ণয়ে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (RT-PCR) তীব্র পর্যায়ে ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV) শনাক্তকরণের জন্য একটি দ্রুত, অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নির্দিষ্ট পরীক্ষা। এটি একটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড আণবিক কৌশল। সাধারণত লক্ষণ শুরুর প্রথম পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে, যখন ভাইরাল লোড সর্বোচ্চ থাকে, তখন এই পরীক্ষা করা হয়। পাঁচ থেকে সাত দিন পর RT-PCR নেগেটিভ এলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি বাতিল করা যায় না। তাই IgM ELISA-এর মতো সেরোলজিক্যাল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নেগেটিভ হলে করণীয় কী

লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করুন। রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও উচ্চ বা মৃদু জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, তীব্র শরীর ব্যথা কিংবা বমি বমি ভাব থাকলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সিবিসি (CBC) টেস্ট করুন

চিকিৎসকেরা সাধারণত ডেঙ্গু টেস্টের রিপোর্টের চেয়ে রক্তের প্লেটলেট ও শ্বেত রক্তকণিকার (WBC) সংখ্যা বেশি গুরুত্ব দেন। প্লেটলেট দ্রুত কমতে থাকলে ডেঙ্গু সন্দেহে চিকিৎসা করা হয়।

ওষুধের সতর্কতা

রিপোর্ট নেগেটিভ হোক বা পজিটিভ, জ্বর ও ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামল খাবেন। কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো NSAIDs খাবেন না। কারণ, এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

মনে রাখবেন, প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণগুলো মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে দ্বিতীয়বার ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট (ADE)-এর কারণে রোগের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। জ্বর কমে যাওয়ার পরের তিন থেকে সাত দিন সবচেয়ে বিপজ্জনক।

হাসপাতালে কখন যাবেন

* মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হলে

* অবিরাম বমি বা রক্তবমি হলে

* কালো রঙের পায়খানা হলে

* তীব্র পেটব্যথা হলে

* ত্বকে তীব্র ফুসকুড়ি বা দাগ দেখা দিলে

* রক্তচাপ কমে গেলে ও মাথা ঘুরলে

* শরীর, হাত বা পা হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে গেলে

* দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হলে বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে

লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

এসএমসি ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার, দারুস সালাম, মিরপুর