ডাকসু সংগ্রহশালায় ভাঙচুরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

শিক্ষা ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। পাশাপাশি সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ‘মব কালচার’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার বিকেলে ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ডাকসুর ক্ষতিগ্রস্ত সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে ইউটিএল নেতারা বলেন, ডাকসু দেশের ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাধিকার, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ডাকসু সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল ও স্মারকের ক্ষতিসাধন অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালার আধুনিকায়নের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডাকসুর সভাপতি ও নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই। তবে ঐতিহাসিক এই সংগ্রহশালায় কোনো ধরনের ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০১ সালে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে সেখানে সংরক্ষিত কিছু ছবি ও স্মারক ভাঙচুর করেছেন। বিষয়টি তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।

মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভাঙচুর, দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতে পারে না। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে আইন ও নিয়মের পরিবর্তে এক ধরনের ‘মব কালচার’ দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, যুক্তি, সহনশীলতা ও মুক্ত বিতর্কের জায়গা। সেখানে এ ধরনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ে।

এ সময় ডাকসু সংগ্রহশালার ভাঙচুরের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইউটিএল। একই সঙ্গে সংগ্রহশালার নিরাপত্তা জোরদার এবং সেখানে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ছবি, দলিল, স্মারক ও অন্যান্য নিদর্শনের যথাযথ সংরক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানায় সংগঠনটি। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সংঘটিত সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ চাওয়া হয়। এ সময় শাহবাগ থানার সামনে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন ইউটিএল নেতারা।

অধ্যাপক যুবাইর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোনো অভিযোগ বা অপরাধের বিচার ভাঙচুর কিংবা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে।

পাশাপাশি ডাকসুর ঐতিহাসিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন ইউটিএল নেতারা।

তারা বলেন, ডাকসু বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। এর ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নয়, এটি জাতীয় দায়িত্বও। নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

এ সময় ইউটিএল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক ড. মুনিরা আহসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ দিদারে আলম মুহসিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবু সায়েম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।