টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে- তানজিন তিশা

প্রতিবেদন:

·

,

অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যপদ স্থগিতের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তানজিন তিশা। অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। শুটিং সেটে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে বিরোধ ও মারধরের অভিযোগের জেরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে প্রায় ২৫ মিনিট কথা বলেন অভিনেত্রী। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা এবং সাম্প্রতিক বিতর্কগুলো নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তিশা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা আমাদের সমালোচিত করে। আমরা যারা কাজ দিয়ে টিকে থাকতে চাই, তাদের জন্য সেটা কঠিন হয়ে পড়ে। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে অনেকের সঙ্গে মতের অমিল হতে পারে, ঝামেলাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গিয়ে সব বলে দেব কিংবা সাংবাদিকদের জানাব, যাতে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়।’

গত এক বছর ধরে তাঁকে ঘিরে চলা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন তিশা। তাঁর ভাষায়, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি–কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’

সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে শুটিং সেটের ঘটনা প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকে একজন মহান শিল্পী আছেন। তাঁর সঙ্গে আমার একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরো শুটিং সেটের সবাই সেই ঘটনার সাক্ষী। কী হয়েছে, কী হয়নি, সবাই দেখেছেন।’

নাটকটিতে মানসিক প্রতিবন্ধী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। তাঁর দাবি, নাটকের দৃশ্য দেখলেই দর্শকেরা বুঝতে পারবেন সেদিন কী ঘটেছিল। তিনি বলেন, ‘আমার পাগলের চরিত্র তো আমি করেছি। নাকি আরেকজন পাগলের চরিত্র করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। দৃশ্যটি দেখলেই বুঝবেন, কে আসলে ইম্প্রোভাইজ করেছে। নির্যাতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটাও আপনারা বুঝতে পারবেন।’

ঘটনার পর ফেসবুকে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। এরপর দুজনকেই ডেকে সালিশ বৈঠক করে অভিনয়শিল্পী সংঘ। এ প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিরা বিচারক হিসেবে ছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বসে পুরো ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন, কী ঘটেছে, সবকিছু শোনা হয়েছে। সেই বৈঠকের নোটিশও আমার কাছে আছে, লিখিতভাবে আছে।’

সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিশা। তাঁর ভাষ্য, ‘বলা হয়েছিল, আমরা দুজনই যেন ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিই এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাই। সে (সামিয়া অথৈ) ভিডিওটি দেয়নি। আমিও কোনো কারণে দিতে পারিনি। আমি নোটিশ অমান্য করেছি বলে আজ আমাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঠিক আছে।’

এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে তিশা ফেসবুক লাইভে কথা বললেও সামিয়া অথৈয়ের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘আমি শুটিংয়ে। এ ব্যাপারে পরে কথা বলব।’

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, বিরোধ মেটাতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই অভিনেত্রীকে ভিডিও বার্তা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউই তা দেননি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ