কিটো ডায়েট ও ‘ডিটক্স’: ফ্যাশন নাকি বিজ্ঞান?

প্রতিবেদন:

·

,

না। কিটো ডায়েটের চিকিৎসাগত ব্যবহার রয়েছে—বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে, যেমন : Drug-resistant Epilepsy। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত ‘সবাই কিটো ডায়েট করুন, দ্রুত রোগ ও চর্বি উধাও হয়ে যাবে’—এ ধরনের প্রচারণা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে, Diabetes, Kidney disease, Liver disease, Cardiovascular disease, Pregnancy বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসক বা Dietitian-এর পরামর্শ ছাড়া চরম Carbohydrate restriction শুরু করা উচিত নয়। আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ওজন কমা মানেই স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমা নয়।

‘ডিটক্স’ ও কফি এনেমা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শরীরে টক্সিন জমে আছে’, ‘কোলন পরিষ্কার করতে হবে’, ‘লিভার ডিটক্স করতে হবে’-এ ধরনের কথা অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে বলা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন টক্সিন? কীভাবে সেটি মাপা হয়েছে? চিকিৎসার আগে কত ছিল এবং পরে কত কমেছে? বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় কোনো চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হলে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

কফি এনেমায় কফি পায়ুপথ দিয়ে Rectum ও Colon-এ প্রবেশ করানো হয়। এটি মূলত কিছু ‘detox’ বা Alternative medicine পদ্ধতির অংশ হিসেবে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু এর কথিত Detoxification বা রোগ নিরাময়ের উপকারিতা সমর্থন করার মতো শক্তিশালী Clinical Evidence নেই। বরং এর ক্ষতিকর প্রভাবের Documented Evidence রয়েছে।

কফি পায়ুপথ দিয়ে সরাসরি লিভারে যায়

শরীরের Anatomy ও Physiology-কে এমন সরলীকরণ করে বলা যায় না যে পায়ুপথে কফি প্রবেশ করালেই তা কোনো ‘সুপারহাইওয়ে’ দিয়ে সরাসরি লিভারে পৌঁছে যাবে এবং সেখানে বিশেষ Detoxification শুরু হবে। লিভার ও কিডনি নিজেরাই প্রতিনিয়ত শরীরের বিপাকীয় বর্জ্য ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ‘কোলনে জমে থাকা টক্সিন’ বের করার জন্য নিয়মিত Coffee enema প্রয়োজন—এমন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

কফি এনেমার পর ভালো বোধ করেন কেন

কেউ কোনো পদ্ধতি নেওয়ার পর ভালো অনুভব করতেই পারেন। কিন্তু ভালো লাগা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অর্থে কার্যকারিতা এক জিনিস নয়। এর পেছনে থাকতে পারে—

• মলত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই হালকা লাগা;

• Caffeine-এর সাময়িক Stimulant effect;

• Placebo effect;

• একই সময়ে খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের পরিবর্তন;

• রোগের উপসর্গের স্বাভাবিক ওঠানামা।

তাই কোনো ব্যক্তি বললেন, ‘আমি ব্যবহার করে ভালো হয়েছি’—এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে পারে; কিন্তু সেটি Clinical Evidence-এর বিকল্প নয়।

ওজন কমাব কীভাবে

ওজন কমানোর সবচেয়ে নিরাপদ পথ কোনো ‘ম্যাজিক ডায়েট’ নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত—ধীরে, নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে অতিরিক্ত শরীরের চর্বি কমানো। সহজ কিছু নিয়ম—

১. ভাত বা রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমাণ কমিয়ে খাবারের ভারসাম্য ঠিক করুন।

২. প্রায় অর্ধেক সবজি, এক-চতুর্থাংশ protein—মাছ, ডিম, মুরগি, ডাল—এবং এক-চতুর্থাংশ ভাত বা রুটি রাখা যেতে পারে।

৩. শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, ছোলা, বাদাম ও পরিমিত দই পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

৪. কোমলপানীয়, মিষ্টি, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, Fast food ও প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয় সীমিত করুন।

৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট Moderate-intensity physical activity এবং সপ্তাহে অন্তত দুদিন Muscle-strengthening exercise করার চেষ্টা করুন।

৬. নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৭. Crash diet এড়িয়ে চলুন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অত্যন্ত দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ