এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে সাড়ে ১৩ হাজার আবেদন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য ১৩ হাজার ৬৭৭টি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন গ্রহণের পর এখন যাচাই শেষে বদলির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণে বৈঠক করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মহাপরিচালক বৈঠকের সময় নির্ধারণ করলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরর (মাউশি) একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, ফল প্রকাশের জন্য একটি মিটিং ডাকা হবে। মাউশির মহাপরিচালক সময় নির্ধারণ করলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে। বৈঠকে বদলি কার্যক্রমের যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ফল প্রকাশের একটি সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।

সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সময় শেষ হয়েছে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর। শিগগির বদলির পরবর্তী কার্যক্রম, ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় এবং আবেদনে থাকা বিভিন্ন ভুল সংশোধনের সুযোগসহ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র জানায়, মাাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে শিক্ষকদের বদলির সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া বদলির আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান ভুলভাবে শিক্ষক চাহিদা দেখিয়ে থাকলে সেই চাহিদা কর্তন করা হবে কি না, সেটিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে। একইসঙ্গে ইতোমধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাদের আবেদনে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য এডিট অপশন চালু করা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এছাড়া, কোনো শিক্ষক বদলির জন্য আবেদন করার পর তার বদলির আদেশ হলে, পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর সেখানে যেতে অনিচ্ছুক হলে সেসব বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে। অর্থাৎ বদলির আদেশ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করা বাধ্যতামূলক হবে কি না, নাকি নির্দিষ্ট শর্তে বদলি গ্রহণ না করার সুযোগ রাখা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

সূত্র জানায়, শুধু ফল প্রকাশ নয়, আবেদন যাচাই, ভুল সংশোধন, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষক চাহিদা, বদলির আদেশ এবং আদেশের পর যোগদানের বিষয়—বদলি প্রক্রিয়ার প্রায় প্রতিটি ধাপ নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক—প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক, ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব শিক্ষককে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বদলি করা হবে। টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকরা মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে সময় বর্ধিত করে ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর বদলির আবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

একজন আবেদনকারী পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবেন।

বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলায় আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা অথবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলায়ও বদলির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।

এদিকে বদলির আবেদন চলমান থাকায় অনেক শিক্ষক আবেদন ফরমে বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগে তা নিয়ে যাচাই করছেন। কেউ কেউ আবেদন সাবমিট করার পর ভুল তথ্য দেখতে পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সংশোধনের সুযোগ না থাকায় আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি তথ্য যাচাই করে আবেদন চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।