ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। দোতলা পর্যটকবাহী বাসের যাত্রীরা আগুন লাগার কয়েক মিনিট আগেই বাসে পোড়া গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাসটির চালক ও কন্ডাক্টর তখনো সিগারেট খাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় এ কথা উল্লেখ করা হয়।
এফআইআর অনুযায়ী, বাসের ভেতরে চালক ও কন্ডাক্টরের ধূমপান নিয়ে এর আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন যাত্রীরা। এ নিয়ে দুজন হাসাহাসি করে যাত্রীদের চুপ থাকতে বলেন এবং হুমকিও দেন।
এর কিছুক্ষণ পর বাসের ভেতরে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীরা বিষয়টি চালককে জানালেও তিনি ও কন্ডাক্টর তা আমলে নেননি। তাদের দাবি ছিল, বাসের ভেতরে প্রায়ই এ ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। যাত্রীরা বারবার অনুরোধ করলেও চালক কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দ্রুতগতিতে বাস চালিয়ে যান এবং সিগারেট খেতে থাকেন।
কয়েক মিনিট পর বাসের সামনের অংশ থেকে আগুনের শিখা দেখা যায়।
যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার শুরু করলে চালক তাদের বলেন, ‘আপনারা মারা গেলেও আমার কিছু যায় আসে না, আমি বাস থামাব না।’
বিহারের নিবন্ধিত বাসটি দিল্লি থেকে উত্তর প্রদেশের মহোবার দিকে যাচ্ছিল। বাসটিতে ৩৫ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন ধোঁয়ার কারণে যাত্রীদের বের হয়ে আসতেও ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। জেওয়ারের কাছে দয়ানটপুর গ্রামের কাছে যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে বাসটিতে আগুন লাগে। সে সময় বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। কাচের জানালা ভেঙে অনেক যাত্রী বাইরে ঝাঁপ দেন। এক যাত্রী সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘ঘুমোচ্ছিলাম। একজন বললেন, বাসে আগুন লেগেছে। আমরা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করি। বাস থেকে বেরোনোর কাজটা সহজ ছিল না। কারণ চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। কোনো রকমে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি।’
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থায় বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে আগুন ধরে গেলে তা দ্রুত পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন থেকে চালক ও কন্ডাক্টর দুজনই প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ তাদের আটক করে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
