ইসরাইলের পতন হতে যাচ্ছে-নেতানিয়াহু

প্রতিবেদন:

·

, ,

সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি কোনো দল। তাই বাধ্য হয়েই জোট সরকার গঠন করতে হবে ইসরাইলে। নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে অনুমতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। এমন সিদ্ধান্ত বুমেরাং হবে বলে ধারণা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর।

তিনি মনে করেন, ইসরাইলের বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য জোট হলে দেশটির পতন ঘটবে। নেতানিয়াহুর দাবি, ইসলামপন্থিদের ওপর নির্ভরশীল এমন সরকার ভেতর থেকেই ইসরাইলকে ধ্বংস করে দেবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) এক ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন তিনি। আগামী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগের দিন এ বক্তব্য আসে। তবে দখলদার দেশটির প্রেসিডেন্ট বেছে নিয়েছেন আইজেনকটকে।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন বিরোধীরা। বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব আছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট।

সরকার গঠনের জন্য তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। এ ছাড়া মধ্যপন্থি ইসলামপন্থি দল রা’আমের সমর্থন এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট লিস্টের বাইরের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসলামপন্থিদের ওপর নির্ভরশীল এমন সরকার ভেতর থেকেই ইসরাইল রাষ্ট্রকে ভেঙে ফেলবে। ইউরোপের দেশগুলোতে যা ঘটছে, তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। ’

এর আগে বৃহস্পতিবার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জানান, সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়াই যৌক্তিক হতে পারে। সংসদের ৬৭ জন সদস্য আইজেনকটের পক্ষে সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।

এদিকে দুই শিবিরের দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। শনিবার নেতানিয়াহুও এমন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, জাতীয় শিবিরের সব দল এবং ইসরাইল রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে চায়—এমন সব জায়নবাদী দলকে নিয়ে ঐক্যের সরকার গঠন করা উচিত। তবে এমন সরকারের নেতৃত্ব নিজে দিতে চান কি না, সে বিষয়ে এবার স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ