ক্যাটাগরি আমদানি রপ্তানি

  • বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির আগেই সরকারকে সতর্ক করে প্রতিবেদন দিয়েছে বিপিসি। সব বিপণন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বিপিসির বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যের বিশেষ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকি হতে পারে।বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬ তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। ফলে বিপিসির এই প্রতিবেদন নতুন নীতিমালায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই গোপনীয় প্রতিবেদনের একটি কপি আমার দেশ পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল) গত ২৪ মে এবং বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ও পি সি গত বছরের ১১ নভেম্বর পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি করে বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিসি ও কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানকে আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইশতিয়াক হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑবিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন, পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা অয়েলের এমডি মো. মফিজুর রহমান এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি মো. শাহীরুল ইসলাম। গত ১৯ জুলাই প্রতিবেদনটি তৈরির পর পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে।

    এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৮-৭০ লাখ টন। বিপিসির আওতাধীন একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল পাওয়া যায়। এর বাইরে স্থানীয় কনডেনসেট এবং নাফথা নির্ভর সরকারি ও বেসরকারি মিনি রিফাইনারিগুলো থেকে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত দরে সংগ্রহ করা হয়। অবশিষ্ট বিপুল পরিশোধিত জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়।

    দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ চাহিদা ডিজেলের। সেই হিসেবে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৫ দশমিক ৫০ লাখ টন। প্রতিবছর এ চাহিদা ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বছরে প্রায় ছয় দশমিক ৫০ লাখ টন ডিজেল ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে, এক লাখ টন বেসরকারি মিনি রিফাইনারি বা ফ্রাকশনেশন প্লান্টগুলো থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৮ লাখ টন ডিজেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

    তবে ৩০ লাখ টন প্রসেস করার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রিফাইনারি ‘ইআরএল-টু’ স্থাপন শেষ হলে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর জন্য বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) এবং হাইব্রিড গাড়ির উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পরিবর্তে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইন অনুযায়ী দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের এখতিয়ার একচ্ছত্র সরকারের তথা বিপিসির। বেসরকারি এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হলে এটি নজির হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিতে হতে পারে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত হলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে পড়লে সরকার এলপিজি সিন্ডিকেটের মতো পরিশোধিত জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এবং মার্কিন ডলারের সরবরাহ সংকট হলে বেসরকারি অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি বন্ধ রাখবে। ফলে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হবে। চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে বিপিসি ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। কিন্তু বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে রাজি হবে না।

    এর বাইরে বেশকিছু কৌশলগত-অর্থনৈতিক জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছে বিপিসির কমিটি। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে নাও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানিকারকরা আমদানি হ্রাস বা বিলম্বিত করতে পারে। ওভার ইনভয়েস ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মুদ্রা পাচারের আশঙ্কা থাকে। কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনকল্যাণের চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বিপিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। দেশটি তাদের জ্বালানি বাজার আংশিক বেসরকারিকরণ করে লঙ্কা আইওসি (এলআইওসি) এবং অন্য বিদেশি ও বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে। ফলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বেসরকারি আমদানিকারকরা ডলার সংকটের কারণে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সরকারি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন একাই চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে দেশটিতে মাইলের পর মাইল তেলের লাইন, গণপরিবহন বন্ধ হওয়া এবং ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

    পাকিস্তানে জ্বালানি আমদানির বড় অংশ বেসরকারি অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর হাতে ন্যস্ত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা ডলারের রেট পরিবর্তন হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সেখানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত ‘নো পেট্রোল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।

    ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সম্পূর্ণ জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাত বেসরকারিতে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পর বহু বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এক বছরেই দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায় এবং লাখ লাখ পরিবার ‘জ্বালানি দরিদ্রতা’র শিকার হয়।

    বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দিলে কৃত্রিম সংকট এবং মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ১. সরকারের সঙ্গে নীতিগতভাবে মতদ্বৈততার উদ্ভব হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। ২. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুতের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ৩. দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেল পাঠানো ব্যয়বহুল হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে সরবরাহ কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। শুধু লাভজনক ও বড় শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ সচল রাখার প্রবণতা দেখা যাবে। ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। ৪. জ্বালানি একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি হাতে গেলে সংকটের সময় সরকার অসহায় হয়ে পড়তে পারে। ৫. সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে জ্বালানিতে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। ৬. বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেলের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। ৭. বেসরকারি খাতের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হতে পারে। ওয়াসা বা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাম্প চালাতে খরচ বাড়বে, যা পানির বিল বাড়িয়ে দেবে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বাড়বে। গরিব জনগোষ্ঠী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। ৮. জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। ৯. জ্বালানির দাম একবার বাড়লে তার প্রভাবে বাজারের সবকিছুর দাম এমনভাবে বাড়ে যা সহজে আর কমে না।

    প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) দেশব্যাপী নির্ধারিত মূল্যে বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি পণ্য বিপণন করে আসছে। এসব কোম্পানির দেশব্যাপী জ্বালানি তেল মজুত, পরিবহন, সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যাপক অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। জ্বালানি তেল মজুতে বিপণন কোম্পানির নৌভিত্তিক, রেলহেডভিত্তিক এবং সড়কপথ ভিত্তিক সর্বমোট ২৭টি ডিপো রয়েছে। ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে বিপিসির দেশব্যাপী ২৩৭৯টি ফিলিং স্টেশন, ৬৬৭টি প্যাকড পয়েন্ট ডিলার, ২৬৪০টি এজেন্সি, ১২৯টি মেরিন ডিলার, ৩১১১টি এলপিজি গ্যাস ডিলার এবং ১৭টি বাঙ্কার ডিলার রয়েছে। নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগে বিপিসি দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা গেলেও বিপিসি ও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চহারে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ অটুট রেখেছে, যা বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হবে না। সংবেদনশীল ও কৌশলগত পণ্য বিবেচনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, বিপণন ও সরবরাহের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষমতা বিপিসির কাছে থাকা নিরাপদ।

    বিপিসি গত পাঁচ বছরে ৭১ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্বের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পেলে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে।

    উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি মনে করে জনস্বার্থ রক্ষা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখা এবং চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে কৌশলগত পণ্য হিসেবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের একক ক্ষমতা সরকারের কাছে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩-এর আলোকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনে রিফাইনারি স্থাপন ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

  • ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো এই তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে আট দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসে ৩৩ দশমিক ২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করেছিল ৩৬ দশমিক ২২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

    ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৬১৪ দশমিক ৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। এই সময়ে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ছয় দশমিক ৯৫ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

  • প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    একুশ শতকের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর খাত বা চিপ। মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভরশীল বিশ্বে চিপ এখন কৌশলগত পণ্য। সেই দৌড়ে পা রাখতে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযক্তিনির্ভর চিপ তৈরি এ খাতকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের এই বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার পথ সুগম করেছে সরকার। সরকারি এই নীতি সহায়তায় পুরোপুরি রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর খাতের ৬ মিলিয়ন ডলারে থাকা রপ্তানি আয় আগামী ৫ বছরে বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের পর প্রযুক্তি খাত হতে পারে আরেকটি বড় রপ্তানিমুখী শিল্প।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য আমদানিকৃত উপকরণের ওপর ১ শতাংশের ওপরে কোনো আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আগাম কর সুবিধা স্থগিত রাখা হবে। এরপরই এই সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন-ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং (ওএসএটি) এবং প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় ক্ষুদ্রাংশ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের ওপরে আছে তাদের নাম। তবে বাজেটে প্রযুক্তি খাতের বড় সুখবর হচ্ছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ এবং কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের এ উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও অভিমত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখনো এ খাতে তেমন উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিপ ডিজাইন করে বছরে প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিপ ডিজাইন ও টেস্টিং খাতে মনোনিবেশ করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ আয় এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদিম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উন্নয়ন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন, আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং ফ্যাব্রিকেশন খাতের জন্য ব্যাপক কর ও শুল্ক অব্যাহতি দিয়েছে। সরকারের এই নীতিগত সহায়তা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোন, ডেটা সেন্টার, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। ফলে এই শিল্পে অংশগ্রহণ মানে কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়; বরং উচ্চমূল্যের রপ্তানি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, পরীক্ষণ সরঞ্জাম এবং উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি কার্যত ১ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম চৌধুরী বলেন, সরকারের এই সুবিধার মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইডিএ সফটওয়্যার যেমন ক্যাডেন্স, সিমেন্সের মতো ডিজাইন টুলসকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের চিপ ডিজাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, হার্ডওয়্যার এমুলেশন সিস্টেম, হাইস্পিড অসিলোস্কোপ, ভেক্টর নেটওয়ার্ক অ্যানালাইজার, অটোমেটেডটেস্ট ইকুইপমেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক পরীক্ষণ সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান বুয়েটের এই শিক্ষক।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের এই প্রণোদনা দেশের জন্য কৌশলগত কয়েকটি সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন কোম্পানি গড়ে ওঠার পথ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে গবেষণা ও ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে আগ্রহী হবে। তৃতীয়ত, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং উৎপাদনভিত্তিক শিল্প বিকাশের ভিত্তি তৈরি হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদীয়মান প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প একাডেমি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ম্যাককিন্সির মতে, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২১ শতকের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে খাতটি ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে ২০২১ সালে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় রপ্তানি খাত। সরকারের এই রেয়াতি সুবিধা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র পরিসরের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পটি এরই মধ্যে বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানে উল্কাসেমি প্রায় ৩০০ প্রকৌশলী নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন করছে। তারা গুগল, অ্যাপল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করছে। আপাতত ডিজাইন পর্যায়ের কাজ করলেও লক্ষ্য উৎপাদনে যাওয়া। এ ছাড়া নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন, টোটন ইলেকট্রনিকসের মতো কোম্পানি কাজ করছে। এ ছাড়া দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো এই বাজারে প্রবেশ করার কাজ শুরু করেছে। ঘরের বাতি, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মোবাইল হ্যান্ডসেট—যেখানে যা, তার সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর।

  • ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

    রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।

    তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

    সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

    এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

    ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

    এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

    নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব

    নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

  • সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

    সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

    ‘ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।’

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

    বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের সকল ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো খোলা ছিল।

    তিনি আরো জানান, ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।বাসস

  • চামড়া শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য সরকারের

    চামড়া শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য সরকারের

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন,কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

    তিনি বলেন , জুলাই মাসের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

    শুক্রবার বিকালে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, ব্যবসায়ী-আড়তদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এবারের কোরবানির অধিকাংশ চামড়া ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

    মন্ত্রী বলেন, “গতকাল আমিনবাজার এবং আজ পোস্তা ও সাভারের হেমায়েতপুর আড়ত পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ চামড়া এসেছে এবং সেখানে লবণ মাখানোর কার্যক্রম চলছে। কোরবানির সব চামড়া একসাথে ঢাকায় আসে না, স্বাভাবিকভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তবে এবার সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।”

    চামড়া সংরক্ষণে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকায় পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোরবানির চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে চামড়া তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।”

    তিনি বলেন, “চামড়া কিনে ব্যবসায়ীরা তা পরবর্তী শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করেন। কাঁচা চামড়া থেকে ওয়েট ব্লু, এরপর ক্রাস্ট লেদার এবং পরে ফিনিশড লেদার তৈরি হয়। সেই চামড়া দিয়েই জুতা, স্যান্ডেল, বেল্টসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই সময়মতো লবণ না মাখালে সেই চামড়ার কোনো ব্যবহারিক মূল্য থাকে না।”

    চামড়া পাচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছর চামড়া পাচারের অভিযোগ শোনা যায়। আমরা চাই না দেশের একটি চামড়াও পাচার হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ও সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। সিইটিপির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো সমাধান করে আরও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের সব চামড়া শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

    তিনি জানান, বর্তমানে সিইটিপির প্রকল্পগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

    চামড়ার গুণগত মান উন্নয়নে জবাই ও স্কিনিং প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে হয়। সঠিকভাবে স্কিনিং করা না হলে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও মেকানাইজড করার পরিকল্পনা করছি।”

    মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও চামড়াজাত পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে।

    তিনি বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সংগ্রহকেন্দ্রে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করেছে। বিসিক ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব লবণ বিতরণ করা হয়েছে যাতে কোরবানির চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং পরবর্তীতে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী থাকে।”

    এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান , বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব ) মো. আবদুর রহিম খান ,বিসিকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ টেনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে  প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গতকারনে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    আজ রোববার সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

    প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

    প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

    প্রতিনিধিদল জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

  • মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি

    মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি

    ইরান তাদের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড করেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও দেশটি তেল রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই তথ্য স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে তেলবাহী জাহাজের চলাচল এবং বন্দর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই তেল লোড করার প্রক্রিয়ার ফলে ইরান কয়েক দিনের অতিরিক্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা পাচ্ছে, যা তাদের রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমাচ্ছে।

    এই প্রতিবেদন এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে এবং অঞ্চলে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

  • সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯০০ মেক্টিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।

    সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ৩০টি অনুমোদনপত্রের বিপরীতে সোনামসজিদ বন্দরে দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর গিয়ে ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছিল বলে জানান সমীর চন্দ্র ঘোষ।

  • দেশজুড়ে   সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    দেশজুড়ে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    ডেস্ক নিউজঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯০০ মেক্টিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ৩০টি অনুমোদনপত্রের বিপরীতে সোনামসজিদ বন্দরে দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর গিয়ে ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছিল বলে জানান সমীর চন্দ্র ঘোষ।