আমদানি রপ্তানি

  • রাশিয়া ও কানাডা থেকে দেড় লাখ টন সার আমদানির প্রস্তাব

    রাশিয়া ও কানাডা থেকে দেড় লাখ টন সার আমদানির প্রস্তাব

    এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের সংকট এড়াতে রাশিয়া ও কানাডা থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় আরও দেড় লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য এ সংক্রান্ত চারটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চারটি সারের চালানের ক্রয় মূল্য হবে আনুমানিক প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে এ সারের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

    আর চলতি অর্থবছরে চাহিদা সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন। এর বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও ৩ লাখ টন সার প্রয়োজন।

    বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে জুমে ভার্চুয়ালি সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবে কানাডা থেকে ৮০ হাজার এবং রাশিয়া থেকে ৭০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার কথা বলা হয়েছে। এর আগে মন্ত্রিসভায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের ২ লাখ ৫০ হাজার টন সার আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে মোট সাড়ে ৮ লাখ টন সার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের (সিসিসি) কাছ থেকে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় দুই চালানে ৪০ হাজার টন করে মোট ৮০ হাজার টন সার কেনা হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) থেকে দুই চালানে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে চার চালানে আমদানি করা হবে দেড় লাখ টন।

    কানাডা থেকে সপ্তম চালানের ৪০ হাজার টন সার ১ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাহাজে পাঠানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এ চালানের সার ডিসেম্বরে আনার পরিকল্পনা থাকলেও মজুত ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনায় সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। এ চালানের প্রতি টন সারের প্রস্তাবিত দাম ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার। এতে ৪০ হাজার টন সার কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    অষ্টম চালানে কানাডা থেকে আরও ৪০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে নবম ও দশম চালানে ৩৫ হাজার টন করে ৭০ হাজার টন সার কেনার প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টন সার আমদানিতে আনুমানিক ব্যয় হবে প্রায় ৫৬৭ কোটি টাকা।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সারের চাহিদা বাইরে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে আরও অতিরিক্ত ৩ লাখ টন রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। সে হিসাবে মোট প্রয়োজন ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টন।
    কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে এমওপি সারের চাহিদা দাঁড়াবে ৫ লাখ ৬ হাজার টন। আমদানির অনুমোদন, জাহাজে পরিবহন ও দেশের ভেতরে সরবরাহ করতে ৮০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এ কারণে আসন্ন মৌসুমে কৃষকের চাহিদা মেটানো এবং নিরাপত্তা মজুত বজায় রাখতে দ্রুত সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

    আজকের সন্ধায় ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০ কেজি ধারণ ক্ষমতার এক কোটি বস্তা কেনার প্রস্তাবও রয়েছে। ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় পদ্ধতিতে (ই-জিপি) ৫০টি প্যাকেজের মাধ্যমে এসব বস্তা কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়-অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

    নীতিমালা শিথিলের সুযোগে যেন ফের লুটপাট না হয়-অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

    চলমান অর্থনীতির শ্লথগতি থেকে উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও এর সুযোগ নিয়ে যাতে ফের লুটপাট ও অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে সহায়তা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করা জরুরি।

    বুধবার ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরে নিজস্ব অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

    ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বর্তমানে অর্থনীতির শ্লথ গতি এবং ব্যাংক ও শিল্প খাতের তারল্য সংকট থেকে উত্তরণে অনেকেই নিয়মকানুন শিথিল করার কথা বলছেন। অতীতে ব্যাংক খাতে বিধিবিধান অতিরিক্ত শিথিল করার কারণেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অসাধারণ পরিস্থিতিতে অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে হয়। তাই সংকট উত্তরণে নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল করা হলেও তা যেন নতুন করে লুটপাট ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

    নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ছাড়াই বেসরকারি খাতে ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার ফলে ভুল পথে যাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে উদারীকরণ এবং বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমরা নানা বিতর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অতীতে কী কী ভুল করা হয়েছিল এবং সেসবের পরিণতি কী হয়েছিল, তা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।

    বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অতীতের সংকট, সংস্কারের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকিং খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে।

    তিনি বলেন, প্রথমবার ঋণখেলাপির মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়বার তা নষ্ট হয়েছে ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে, যা আরও বেশি মারাত্মক।

    ব্যাংকিং খাতের উত্থান-পতনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নব্বইয়ের দশকে সংস্কারের পর বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পেরেছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই যত্রতত্র নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ায় এ খাতের আবারও অবনতি ঘটে।

    তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু আইন বা বিধিবিধান দিয়ে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং, করপোরেট ও শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতা থাকা আবশ্যক।

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার বারবার ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্যায়ভাবে সুযোগ-সুবিধা বিতরণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির হৃদ্‌পিণ্ডতুল্য এই আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতা থেকে মুক্ত রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।

    বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই সরকার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (অথবা প্রাতিষ্ঠানিক পদবি অনুযায়ী সঠিক পদ) জ্যঁ পেম।

  • রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

    বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    রমজানে পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা নেই

    রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা তার আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।

    তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

    ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই

    ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

    আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।

  • ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

    ২ লাখ ৬০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন

    দেশের কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার ক্রয় ও আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সিসিজিপির ৪৭তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট ১৯টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সার ক্রয়-সংক্রান্ত সাতটি প্রস্তাব ছিল।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয়ের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    এর মধ্যে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩৮ দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ব্যাগিং চার্জ হিসেবে রয়েছে পাঁচ মার্কিন ডলার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এটি তৃতীয় লটের সার ক্রয়।

    এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশির সুযোগসহ ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৩ দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ১০ শতাংশ কম-বেশির সুযোগসহ আরো ৪০ হাজার টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৫ মার্কিন ডলার।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর মধ্যে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির দু’টি প্রস্তাব রয়েছে। ষষ্ঠ লটে ৪০ হাজার টন এবং সপ্তম লটে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। প্রতিটি লটের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৮৭৭ মার্কিন ডলার।

    একই প্রতিষ্ঠান থেকে অষ্টম লটে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    এছাড়া নবম লটে ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ থেকে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    কৃষি মৌসুমে কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা এবং সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এসব সার ক্রয় ও আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

  • রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

    রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন

    রাশিয়া থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    শিল্প মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেল্টা স্টার ট্রেডিং এফজেড-এলএলসি থেকে সরাসরি ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

    সারটির প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার জেএসসি শচেকিনোআজোট।

    সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সার আমদানির মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • ১৮ দেশের বাজার ঘিরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার

    ১৮ দেশের বাজার ঘিরে রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার

    দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনতে সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক বাজারভিত্তিক রপ্তানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘Bangladesh Export Diversification Strategy: Product and Market Diversification Across 18 Key Trading Destinations’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বাণিজ্য সচিব বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণ—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

    এ উদ্দেশ্যে নির্বাচিত ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ”

    তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। ”

    মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাজার বিশ্লেষণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ—এসব বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, “১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় নতুন পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। ”

    কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা রপ্তানিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি এবং সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

    তিনি দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ”

    একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

    কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস এসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা রপ্তানি সম্প্রসারণে তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

    অংশগ্রহণকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রণীত এ কৌশল বাংলাদেশের রপ্তানির ভিত্তি বিস্তৃত করা, নতুন পণ্য ও বাজার সৃষ্টি, বিদ্যমান বাজারে অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী ও টেকসই রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ভারত থেকে দুই লাখ টন গম কিনছে বাংলাদেশ

    ভারত থেকে দুই লাখ টন গম কিনছে বাংলাদেশ

    কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে গম সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার মধ্যে বাংলাদেশ আবারও ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করেছে।
    বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত আগস্টের শেষ দিকে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করে। এর পর বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা দেশটি থেকে দুই লাখ টনের বেশি গমের বুকিং দিয়েছেন।

    ২০২২ সালের পর এবারই প্রথম ভারত থেকে বড় পরিসরে গম কিনছে বাংলাদেশ।

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য পরিবহনে এখনো নানা ধরনের বাধা রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানি অঞ্চল। ফলে এ অঞ্চলে সরবরাহ সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামেও তার প্রভাব পড়ে।

    বাংলাদেশে বছরে ৭০ লাখ টনের বেশি গম আমদানির প্রয়োজন হয়। চার বছর আগে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। তার আগে দেশটি থেকে ৭০ শতাংশ গম আমদানি করত বাংলাদেশ।

    এর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ গম আমদানি করা হয়েছে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

    ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা গমের বেশিরভাগই রেলপথে পরিবহন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর গমের দাম প্রতি টন ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলারের মধ্যে হতে পারে।

    ডলারের দর আনুমানিক ১২৩ টাকায় হিসাব করলে, প্রতি কেজি ভারতীয় গমের দাম পড়বে ৩৭ দশমিক ৫২ টাকা থেকে ৪০ দশমিক ১০ টাকা।

    এদিকে শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকেরাও সম্প্রতি ভারত থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন গম কিনেছেন। জাহাজে তোলার আগে প্রতি টনের দাম ছিল প্রায় ৩২৫ ডলার। এক্ষেত্রেও প্রতি কেজির দাম পড়ছে প্রায় ৪০ টাকা।

    অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম বেড়ে যাওয়া এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারত ২০২২ সালের মে মাসে গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে গম রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    প্রায় চার বছর পর ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কোটার আওতায় সীমিত পরিসরে আবার গম রপ্তানির অনুমতি দেয় ভারত।

    এদিকে বাংলাদেশে গমের তৈরি পরিশোধিত আটার দামও বেড়েছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ঢাকায় পরিশোধিত গমের আটার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

    বাংলাদেশে গম দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত খাদ্যশস্য। ফলে গমের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    সরবরাহ নয়, দামই বড় উদ্বেগ
    এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৃষিপণ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির জিনকোভস্কি ব্লুমবার্গকে বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগ গমের সরবরাহ নয়, বরং এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা।

    তার মতে, গমের দাম বাড়লে দেশে চালের ব্যবহারও বাড়তে পারে।

  • বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

    বাণিজ্য সহজীকরণে ডব্লিউটিওর শর্ত বাস্তবায়নের তাগিদ

    বাণিজ্য সহজীকরণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শর্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পণ্য চালান খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সরকার দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার কার্যপত্র ঘেঁটে জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত মোট ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-‘এ’-এর ২১টি এবং ক্যাটাগরি-‘বি’-এর ১৮টি বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে ডব্লিউটিওকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাটাগরি-‘সি’-এর ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে ৮টি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি ৭টি পদক্ষেপ আগামী ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দেশের সক্ষমতা অটুট রাখতে অবশিষ্ট কার্যক্রমগুলো দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

    জানা গেছে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাণিজ্য সুরক্ষার সমীকরণ আরো বদলে যাবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক-সুবিধা সংকুচিত হওয়ার এই ক্রান্তিকালে দেশি শিল্প খাতকে বিদেশি পণ্যের অন্যায্য প্রতিযোগিতা ও তীব্র প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে এখন থেকেই নেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রস্তুতি। এ লক্ষ্যে এলডিসি উত্তরণে নতুন রোডম্যাপ তৈরি করেছে সরকার। সে লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনমুখী, উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্প অর্থনীতিতে রূপান্তরের সুনির্দিষ্ট রূপকল্প সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ করা হয়েছে। সেখানে ২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ যে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চায়, তার মধ্যে রয়েছে—সামষ্টিক অর্থনীতি এবং বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করা, তৈরি পোশাক বা আরএমজি খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক মূল্য সংযোজন শৃঙ্খলের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যব্যবস্থার গভীর ও টেকসই ইন্টিগ্রেশন নিশ্চিত করা।

    পাশাপাশি শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে টিকিয়ে রাখতে এফটিএ, সিইপিএ বা পিটিএ চুক্তি চূড়ান্ত করা, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের দৃশ্যমান উন্নতি সাধন, দক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মী বাহিনী তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।

    সভায় জানানো হয়েছে, বাণিজ্য-সংক্রান্ত সব সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবা একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো’ বাস্তবায়ন করেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন পর্যন্ত ১৯টি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে এবং আরো ১৮টি নতুন দপ্তরকে এর আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া, এই পুরো কার্যক্রমটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য একটি পৃথক ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট’ গঠনের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

    এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে। ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাস দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতেও এনবিআর উদ্যোগ নিয়েছে।

    জানা গেছে, পচনশীল পণ্য বা পেরিশেবল গুডস দ্রুত খালাস ও সংরক্ষণের জন্য বন্দরগুলোতে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় কোল্ড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি স্থাপন এবং তা আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরামর্শক সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে এবং পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বেনাপোল স্থলবন্দরে কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে যার দরপত্র মূল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সীমান্ত এজেন্সিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বর্ডার এজেন্সি কোঅপারেশন-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে তা ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আনা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

    বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

  • চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

    চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের

    চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। ট্যানারির মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা এতে প্রতিফলিত করা হবে।

    দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল দেশেই রয়েছে এবং এ খাতে দেশের প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার কথা জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মো: আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক এবং উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

    অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পের। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়ার তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। দেশের অনেক হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।

    দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বেশিরভাগ রপ্তানি করা হয়; অবশিষ্ট অংশ দেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি হয়। দেশের বাজারেও পাদুকার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাদুকা তৈরির ক্রয়াদেশ পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীটি ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। এছাড়াও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

    কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ল

    কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের স্থিতির ওপর ২ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এতে বলা হয়েছে, কাঁচা পাট রপ্তানি খাতে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে নেওয়া পূর্ববর্তী পদক্ষেপগুলোর শর্ত পূরণে রপ্তানিকারকদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কাঁচা পাট রপ্তানিজনিত জটিলতার কারণে এ খাতের গ্রাহকেরা এখনো পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য এককালীন টাকা জমা দিয়ে ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বরাবর আবেদন দাখিল করতে পারেননি। এ জন্য কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের পুনঃতফসিল সুবিধা গ্রহণের জন্য ব্যাংকের কাছে আবেদন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলো। সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের পর আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    এর আগেও কয়েক দফায় কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

  • আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

    আইআরসি ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ

    রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ করতে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানিতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে সরকার। এখন থেকে অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনে আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ছাড়াই মূলধনী যন্ত্রপাতি আনতে পারবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির সুযোগও আছে। চূড়ান্ত আমদানি নীতিমালায় এমন বিধান রাখা হয়েছে।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য-১ অধিশাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বিধানগুলো জানানো হয়। আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯–এ একগুচ্ছ সংশোধনী এনে এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

    সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাপিটাল মেশিনারি আইআরসি ছাড়াই আমদানি করতে পারবে। পাশাপাশি কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী আনার পথও সহজ করা হয়েছে। শিল্প স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে আমদানি প্রক্রিয়ার একটি প্রশাসনিক বাধা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন ধারাবাহিক রাখতেও এ সিদ্ধান্ত সহায়ক হবে।

    রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতেও শর্ত শিথিল করা হয়েছে। সিমলেস স্পোর্টসওয়্যার, উচ্চমূল্যের ফ্যাশন পণ্য ও ফাংশনাল পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের কৃত্রিম তন্তুর কাপড় এখন আকার ও সাইজের বাধা ছাড়াই আনা যাবে। তবে এসব পণ্য আমদানিতে বিজিএমইএ অথবা বিকেএমইএর সুপারিশ নিতে হবে।

    সংশোধনীতে কটন ফেব্রিক, ম্যান-মেইড ফাইবার ও সিনথেটিক ফেব্রিকের পাশাপাশি ‘অন্যান্য উপকরণ’ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলে বিশেষায়িত পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে।

    বিশেষায়িত টেক্সটাইল ও হোসিয়ারি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও কাঁচামাল সংগ্রহের বিধান সহজ করা হয়েছে। ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের বিপরীতে ইউডি কিংবা ইউপি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণে কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী আমদানি করা যাবে। নির্ধারিত নিয়মে নিষিদ্ধ বা শর্তযুক্ত তালিকায় থাকা পণ্যও এ সুবিধার আওতায় আনা যাবে।

    নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অপ্রত্যাহারযোগ্য ঋণপত্র বা চুক্তিপত্রের পাশাপাশি টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের (টিটি) মাধ্যমেও পণ্য আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। বন্ড লাইসেন্সধারী শিল্পকারখানার লবণ আমদানির ক্ষেত্রেও কমেছে প্রশাসনিক ধাপ। এখন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত বার্ষিক প্রাপ্যতা ও প্রকৃত ব্যবহারের ভিত্তিতে আমদানির পরিমাণ নির্ধারণ করবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পোষক কর্তৃপক্ষের সুপারিশ আর প্রয়োজন হবে না।

    এছাড়া বেসরকারি আমদানিকারকদের বীমাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমার প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন, দেশীয় বীমা কোম্পানি অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কভার নোট ও বীমা পলিসি পণ্য খালাসের সময় ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যেই এসব সংশোধনী আনা হয়েছে। বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক, বিশেষায়িত টেক্সটাইল এবং নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিদ্যমান কিছু জটিলতা কমবে।

    উল্লেখ্য, আইআরসি হলো বাংলাদেশে পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় সরকারি নিবন্ধন সনদ, যা আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে দেওয়া হয়। বাণিজ্যিক ও শিল্প আমদানিকারকদের জন্য পৃথক আইআরসি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে আমদানিকারকের বৈধতা, কে কী ধরনের পণ্য আমদানি করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার তথ্য যাচাই করা হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে এলসি খোলা বা বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের আগে আমদানিকারকের আইআরসি নিবন্ধন যাচাইয়ের বিধানও ছিল।

  • সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনছে সরকার

    চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীনের ইউনিপ্যাক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর বাইরেও দরপত্র ছাড়া একই সময়ের জন্য আরও ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন গ্যাস ওয়েল এবং জেট ফুয়েল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

    দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে।

    পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় এর আগে দরপত্র ছাড়া ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল এ কমিটির সভায়।

    অগাস্টেও একইভাবে দরপত্র ছাড়া দুই দফায় ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ অগাস্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো এলএনজি কেনার। ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের ‘আপৎকালীন’ এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের ‘স্থিতিশীলতা’ নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

    বুধবারের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে কেনার যে শর্ত ছিল তা বৈঠকে শিথিল করা হয়েছে।

    সে অনুযায়ী দুই দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি (চীনের ইউনিপেক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি) থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় এসব পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।
    তাতে খরচ হবে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় ছয় মাস ধরে কার্যত বন্ধ। সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা মান্দেব প্রণালিতেও হুমকি তৈরি করায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

    জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারকে পশ্চিম এশিয়ার বাইরে অন্য উৎস থেকে বাড়তি দামে তেল-গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। কখনও আবার দরপত্র ছাড়াই কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

  • বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে জ্বালানির আমদানি-বিপণন ঝুঁকিপূর্ণ

    বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের নীতিমালা তৈরির আগেই সরকারকে সতর্ক করে প্রতিবেদন দিয়েছে বিপিসি। সব বিপণন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা বিপিসির বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ১১ সদস্যের বিশেষ কমিটির মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে দেশের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকি হতে পারে।বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬ তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। ফলে বিপিসির এই প্রতিবেদন নতুন নীতিমালায় গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এই গোপনীয় প্রতিবেদনের একটি কপি আমার দেশ পেয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিওজিসিএল) গত ২৪ মে এবং বখতিয়ার আহমেদ জেনারেল ট্রেডিং ও পি সি গত বছরের ১১ নভেম্বর পরিশোধিত জ্বালানি তেল (ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও ফার্নেস অয়েল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমদানি করে বিক্রয় ও বিপণন ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিপিসি ও কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়। বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানকে আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মো. ইশতিয়াক হোসেনকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑবিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন, পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ, মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা অয়েলের এমডি মো. মফিজুর রহমান এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি মো. শাহীরুল ইসলাম। গত ১৯ জুলাই প্রতিবেদনটি তৈরির পর পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে।

    এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৮-৭০ লাখ টন। বিপিসির আওতাধীন একমাত্র পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল পাওয়া যায়। এর বাইরে স্থানীয় কনডেনসেট এবং নাফথা নির্ভর সরকারি ও বেসরকারি মিনি রিফাইনারিগুলো থেকে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত দরে সংগ্রহ করা হয়। অবশিষ্ট বিপুল পরিশোধিত জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়।

    দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ চাহিদা ডিজেলের। সেই হিসেবে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪৫ দশমিক ৫০ লাখ টন। প্রতিবছর এ চাহিদা ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বছরে প্রায় ছয় দশমিক ৫০ লাখ টন ডিজেল ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে, এক লাখ টন বেসরকারি মিনি রিফাইনারি বা ফ্রাকশনেশন প্লান্টগুলো থেকে এবং অবশিষ্ট ৩৮ লাখ টন ডিজেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

    তবে ৩০ লাখ টন প্রসেস করার ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রিফাইনারি ‘ইআরএল-টু’ স্থাপন শেষ হলে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রয়োজনীয়তা কমবে। এছাড়াও বিশ্বব্যাপী জ্বালানির ওপর চাপ কমানোর জন্য বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) এবং হাইব্রিড গাড়ির উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পরিবর্তে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইন অনুযায়ী দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের এখতিয়ার একচ্ছত্র সরকারের তথা বিপিসির। বেসরকারি এক বা একাধিক প্রতিষ্ঠানকে এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হলে এটি নজির হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিতে হতে পারে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত হলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে। জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এসব প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ হয়ে পড়লে সরকার এলপিজি সিন্ডিকেটের মতো পরিশোধিত জ্বালানি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়লে এবং মার্কিন ডলারের সরবরাহ সংকট হলে বেসরকারি অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি বন্ধ রাখবে। ফলে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র হবে। চলমান ইরান-আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে বিপিসি ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। কিন্তু বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি বিক্রি করতে রাজি হবে না।

    এর বাইরে বেশকিছু কৌশলগত-অর্থনৈতিক জটিলতা এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছে বিপিসির কমিটি। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে। বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে নাও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানিকারকরা আমদানি হ্রাস বা বিলম্বিত করতে পারে। ওভার ইনভয়েস ও আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মুদ্রা পাচারের আশঙ্কা থাকে। কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে জ্বালানির দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনকল্যাণের চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি খাতে ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও যুক্তরাজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বিপিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে জ্বলন্ত উদাহরণ শ্রীলঙ্কা। দেশটি তাদের জ্বালানি বাজার আংশিক বেসরকারিকরণ করে লঙ্কা আইওসি (এলআইওসি) এবং অন্য বিদেশি ও বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করে। ফলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বেসরকারি আমদানিকারকরা ডলার সংকটের কারণে তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। সরকারি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন একাই চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়, যার ফলে দেশটিতে মাইলের পর মাইল তেলের লাইন, গণপরিবহন বন্ধ হওয়া এবং ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

    পাকিস্তানে জ্বালানি আমদানির বড় অংশ বেসরকারি অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর হাতে ন্যস্ত। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা ডলারের রেট পরিবর্তন হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার আশায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। সেখানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নিয়মিত ‘নো পেট্রোল’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।

    ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সম্পূর্ণ জ্বালানি ও ইউটিলিটি খাত বেসরকারিতে ছেড়ে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার পর বহু বেসরকারি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এক বছরেই দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে যায় এবং লাখ লাখ পরিবার ‘জ্বালানি দরিদ্রতা’র শিকার হয়।

    বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ছেড়ে দিলে কৃত্রিম সংকট এবং মজুতদারির ৯ ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ১. সরকারের সঙ্গে নীতিগতভাবে মতদ্বৈততার উদ্ভব হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। ২. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার আভাস পেলে অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুতের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। ৩. দুর্গম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেল পাঠানো ব্যয়বহুল হওয়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে সরবরাহ কমাতে বা বন্ধ করতে পারে। শুধু লাভজনক ও বড় শিল্পাঞ্চলগুলোতে সরবরাহ সচল রাখার প্রবণতা দেখা যাবে। ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। ৪. জ্বালানি একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি হাতে গেলে সংকটের সময় সরকার অসহায় হয়ে পড়তে পারে। ৫. সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে জ্বালানিতে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। ৬. বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেলের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা ছেড়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। ৭. বেসরকারি খাতের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হতে পারে। ওয়াসা বা পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাম্প চালাতে খরচ বাড়বে, যা পানির বিল বাড়িয়ে দেবে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বাড়বে। গরিব জনগোষ্ঠী সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে। ৮. জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। ৯. জ্বালানির দাম একবার বাড়লে তার প্রভাবে বাজারের সবকিছুর দাম এমনভাবে বাড়ে যা সহজে আর কমে না।

    প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (পিওসিএল), যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (জেওসিএল) ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (এমপিএল) দেশব্যাপী নির্ধারিত মূল্যে বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি পণ্য বিপণন করে আসছে। এসব কোম্পানির দেশব্যাপী জ্বালানি তেল মজুত, পরিবহন, সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যাপক অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক রয়েছে। জ্বালানি তেল মজুতে বিপণন কোম্পানির নৌভিত্তিক, রেলহেডভিত্তিক এবং সড়কপথ ভিত্তিক সর্বমোট ২৭টি ডিপো রয়েছে। ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে বিপিসির দেশব্যাপী ২৩৭৯টি ফিলিং স্টেশন, ৬৬৭টি প্যাকড পয়েন্ট ডিলার, ২৬৪০টি এজেন্সি, ১২৯টি মেরিন ডিলার, ৩১১১টি এলপিজি গ্যাস ডিলার এবং ১৭টি বাঙ্কার ডিলার রয়েছে। নৌপথ, রেলপথ ও সড়কপথে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগে বিপিসি দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমুন্নত রেখেছে। চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা গেলেও বিপিসি ও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উচ্চহারে ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ অটুট রেখেছে, যা বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে সম্ভব হবে না। সংবেদনশীল ও কৌশলগত পণ্য বিবেচনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, বিপণন ও সরবরাহের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষমতা বিপিসির কাছে থাকা নিরাপদ।

    বিপিসি গত পাঁচ বছরে ৭১ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্বের পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে সরকারকে। বেসরকারি অংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি পেলে সরকারের রাজস্ব উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে।

    উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি মনে করে জনস্বার্থ রক্ষা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখা এবং চলমান ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখে কৌশলগত পণ্য হিসেবে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের একক ক্ষমতা সরকারের কাছে সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত তেল আমদানিপূর্বক মজুত, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩-এর আলোকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনে রিফাইনারি স্থাপন ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

  • ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো এই তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে আট দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসে ৩৩ দশমিক ২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করেছিল ৩৬ দশমিক ২২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

    ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৬১৪ দশমিক ৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। এই সময়ে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ছয় দশমিক ৯৫ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

  • প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    একুশ শতকের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর খাত বা চিপ। মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভরশীল বিশ্বে চিপ এখন কৌশলগত পণ্য। সেই দৌড়ে পা রাখতে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযক্তিনির্ভর চিপ তৈরি এ খাতকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের এই বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার পথ সুগম করেছে সরকার। সরকারি এই নীতি সহায়তায় পুরোপুরি রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর খাতের ৬ মিলিয়ন ডলারে থাকা রপ্তানি আয় আগামী ৫ বছরে বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের পর প্রযুক্তি খাত হতে পারে আরেকটি বড় রপ্তানিমুখী শিল্প।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য আমদানিকৃত উপকরণের ওপর ১ শতাংশের ওপরে কোনো আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আগাম কর সুবিধা স্থগিত রাখা হবে। এরপরই এই সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন-ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং (ওএসএটি) এবং প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় ক্ষুদ্রাংশ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের ওপরে আছে তাদের নাম। তবে বাজেটে প্রযুক্তি খাতের বড় সুখবর হচ্ছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ এবং কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের এ উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও অভিমত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখনো এ খাতে তেমন উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিপ ডিজাইন করে বছরে প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিপ ডিজাইন ও টেস্টিং খাতে মনোনিবেশ করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ আয় এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদিম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উন্নয়ন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন, আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং ফ্যাব্রিকেশন খাতের জন্য ব্যাপক কর ও শুল্ক অব্যাহতি দিয়েছে। সরকারের এই নীতিগত সহায়তা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোন, ডেটা সেন্টার, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। ফলে এই শিল্পে অংশগ্রহণ মানে কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়; বরং উচ্চমূল্যের রপ্তানি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, পরীক্ষণ সরঞ্জাম এবং উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি কার্যত ১ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম চৌধুরী বলেন, সরকারের এই সুবিধার মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইডিএ সফটওয়্যার যেমন ক্যাডেন্স, সিমেন্সের মতো ডিজাইন টুলসকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের চিপ ডিজাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, হার্ডওয়্যার এমুলেশন সিস্টেম, হাইস্পিড অসিলোস্কোপ, ভেক্টর নেটওয়ার্ক অ্যানালাইজার, অটোমেটেডটেস্ট ইকুইপমেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক পরীক্ষণ সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান বুয়েটের এই শিক্ষক।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের এই প্রণোদনা দেশের জন্য কৌশলগত কয়েকটি সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন কোম্পানি গড়ে ওঠার পথ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে গবেষণা ও ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে আগ্রহী হবে। তৃতীয়ত, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং উৎপাদনভিত্তিক শিল্প বিকাশের ভিত্তি তৈরি হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদীয়মান প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প একাডেমি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ম্যাককিন্সির মতে, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২১ শতকের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে খাতটি ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে ২০২১ সালে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় রপ্তানি খাত। সরকারের এই রেয়াতি সুবিধা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র পরিসরের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পটি এরই মধ্যে বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানে উল্কাসেমি প্রায় ৩০০ প্রকৌশলী নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন করছে। তারা গুগল, অ্যাপল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করছে। আপাতত ডিজাইন পর্যায়ের কাজ করলেও লক্ষ্য উৎপাদনে যাওয়া। এ ছাড়া নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন, টোটন ইলেকট্রনিকসের মতো কোম্পানি কাজ করছে। এ ছাড়া দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো এই বাজারে প্রবেশ করার কাজ শুরু করেছে। ঘরের বাতি, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মোবাইল হ্যান্ডসেট—যেখানে যা, তার সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর।

  • ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

    রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।

    তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

    সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

    এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

    ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

    এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

    নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব

    নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

  • সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

    সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

    ‘ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।’

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

    বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের সকল ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো খোলা ছিল।

    তিনি আরো জানান, ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।বাসস

  • চামড়া শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য সরকারের

    চামড়া শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য সরকারের

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন,কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

    তিনি বলেন , জুলাই মাসের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

    শুক্রবার বিকালে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, ব্যবসায়ী-আড়তদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এবারের কোরবানির অধিকাংশ চামড়া ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

    মন্ত্রী বলেন, “গতকাল আমিনবাজার এবং আজ পোস্তা ও সাভারের হেমায়েতপুর আড়ত পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ চামড়া এসেছে এবং সেখানে লবণ মাখানোর কার্যক্রম চলছে। কোরবানির সব চামড়া একসাথে ঢাকায় আসে না, স্বাভাবিকভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তবে এবার সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।”

    চামড়া সংরক্ষণে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকায় পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোরবানির চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে চামড়া তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।”

    তিনি বলেন, “চামড়া কিনে ব্যবসায়ীরা তা পরবর্তী শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করেন। কাঁচা চামড়া থেকে ওয়েট ব্লু, এরপর ক্রাস্ট লেদার এবং পরে ফিনিশড লেদার তৈরি হয়। সেই চামড়া দিয়েই জুতা, স্যান্ডেল, বেল্টসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই সময়মতো লবণ না মাখালে সেই চামড়ার কোনো ব্যবহারিক মূল্য থাকে না।”

    চামড়া পাচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছর চামড়া পাচারের অভিযোগ শোনা যায়। আমরা চাই না দেশের একটি চামড়াও পাচার হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ও সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। সিইটিপির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো সমাধান করে আরও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের সব চামড়া শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

    তিনি জানান, বর্তমানে সিইটিপির প্রকল্পগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

    চামড়ার গুণগত মান উন্নয়নে জবাই ও স্কিনিং প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে হয়। সঠিকভাবে স্কিনিং করা না হলে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও মেকানাইজড করার পরিকল্পনা করছি।”

    মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও চামড়াজাত পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে।

    তিনি বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সংগ্রহকেন্দ্রে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করেছে। বিসিক ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব লবণ বিতরণ করা হয়েছে যাতে কোরবানির চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং পরবর্তীতে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী থাকে।”

    এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান , বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব ) মো. আবদুর রহিম খান ,বিসিকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ টেনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে  প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গতকারনে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    আজ রোববার সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

    প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

    প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

    প্রতিনিধিদল জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

  • মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি

    মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও অব্যাহত ইরানের তেল রপ্তানি

    ইরান তাদের রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোড করেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও দেশটি তেল রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    এই তথ্য স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে তেলবাহী জাহাজের চলাচল এবং বন্দর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই তেল লোড করার প্রক্রিয়ার ফলে ইরান কয়েক দিনের অতিরিক্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা পাচ্ছে, যা তাদের রপ্তানি ব্যবস্থার ওপর তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমাচ্ছে।

    এই প্রতিবেদন এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করতে এবং অঞ্চলে সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

  • সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯০০ মেক্টিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।

    সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ৩০টি অনুমোদনপত্রের বিপরীতে সোনামসজিদ বন্দরে দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর গিয়ে ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছিল বলে জানান সমীর চন্দ্র ঘোষ।

  • দেশজুড়ে   সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    দেশজুড়ে সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

    ডেস্ক নিউজঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৯০০ মেক্টিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ৩০টি অনুমোদনপত্রের বিপরীতে সোনামসজিদ বন্দরে দিয়ে ৯০০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আমদানি শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর গিয়ে ভারতের মোহদীপুর থেকে দুটি ট্রাকে ৬০ টন পেঁয়াজ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ এসেছিল বলে জানান সমীর চন্দ্র ঘোষ।

  • দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিন্ধান্ত

    দাম না কমলে পেঁয়াজ আমদানির সিন্ধান্ত

    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না কমলে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা বলেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো সংকট নেই-যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ফলে আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হলে আমরা আমদানির অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিবো।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পেঁয়াজ আমদানির জন্য ২ হাজার ৮০০ আবেদন পড়েছে। আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে বাজারের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসলে আমদানি অনুমোদন ইস্যু করা হবে।

    এ সময় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন , একাধিক কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মৌসুমের শেষ, হঠাৎ করে ভারী বৃষ্টি, পেঁয়াজ সংরক্ষণের সময় শুকিয়ে যাওয়ার পরে ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি দাম বেড়ে যাওয়ার কারন।

    হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে আমরা বাজারের নজর রাখছি। দেশে যথেষ্ট পেঁয়াজের মজুত রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। ফলে আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক না হলে আমরা আমদানির অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মজুতদার বা সিন্ডিকেটের কারণে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমার কাছে মজুমদারি বা সিন্ডিকেটের খবর নেই। সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। আশা করি দ্রুত সংকট কেটে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য পেঁয়াজ মজুত করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে।

    পেয়াজ আমদানির জন্য দুই হাজার ৮০০ আমদানির আবেদন পড়েছে এর ১০ শতাংশ যদি অনুমোদন দেওয়া হয় তাহলে বাজারে পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে যাবে। কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এজন্য আমরা সামগ্রিক বিবেচনায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • ডিম-পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ আমদানির বিষয়ে সরকারের  সিদ্ধান্ত

    ডিম-পেঁয়াজ-কাঁচামরিচ আমদানির বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত

    এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা ছাড়ালেই আমদানির অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক–কর ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আজ বৃহস্পতিবার এই সুপারিশ করে বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বাজারে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ছিল ১৪০ টাকার আশপাশে। কিছুদিন আগে ডিমের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

    শুধু ডিম নয়, পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৯০ টাকা পেরোলে আমদানির অনুমতিসহ শুল্ক–কর ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করেছে ট্যারিফ কমিশন। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

    ট্যারিফ কমিশন বলছে, স্থানীয়ভাবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার ৭০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আমদানি উন্মুক্ত করায় পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল হয়েছে।

    এদিকে কিছুদিন ধরে কাঁচামরিচের দাম বাড়তি। বর্তমানে বাজারে ২২০ থেকে ২৬০ টাকার মধ্যে এক কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। ট্যারিফ কমিশন কাঁচামরিচের বাজারদর ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া কাঁচামরিচ আমদানির সময় শুল্কায়নযোগ্য মূল্যের পরিবর্তে প্রকৃত বিনিময়মূল্য শুল্কায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

    এদিকে সবজির বাজার স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটি বলেছে, সবজির উৎপাদন মূল্য থেকে খুচরা মূল্য পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খল তদারকি জোরদার করতে হবে।