যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

রাশিয়া রাজি হলে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেনও জ্বালানি-সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা বন্ধের যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এ ধরনের ‘এনার্জি সিজফায়ার’ বা জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত রয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা করেন জেলেনস্কি। যুদ্ধ চার বছর ধরে চললেও এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে হামলা বন্ধের একটি পৃথক সমঝোতা যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোয় হামলা চালানোর পাশাপাশি রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুদ্ধের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালানোর অভিযোগের মুখে রয়েছে। ফলে শীত মৌসুম সামনে রেখে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, জ্বালানি ইস্যু এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। এর আগে ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপেও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের বিষয়ে চাপ দিয়েছিলেন। জেলেনস্কির অবস্থান ছিল, রাশিয়াও একইভাবে ইউক্রেনের জ্বালানি খাত ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে এ ধরনের সমঝোতায় ইউক্রেন সম্মত হতে পারে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ন্যাটোর মধ্যেও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের ভাষ্য অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রমেই বেশি ‘বেপরোয়া’ আচরণ করছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও ন্যাটো সদস্য দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকেও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সম্মতির কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।