ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলার বন্ধ ফাইলও নতুন করে খোলা হচ্ছে।
গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে জ্ঞানেশকে অপসারণের যে অভিযান শুরু হয়েছে, আজ রোববারও তা অব্যাহত। গত শুক্রবার শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো’ অভিযান করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ঠাকরে ভাইয়েরা, শিবসেনার উদ্ধব ও মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) নেতা রাজ ঠাকরে।
আজ সেই ‘ঠাকরে ব্রাদার্স’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করেন মুম্বাইয়ে। লক্ষাধিক মানুষের সেই মিছিলে মুম্বাইয়ের জনজীবন স্তব্ধ হয়ে যায়। থমকে যায় যান চলাচল।
মিছিলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘বিরাট গর্জনা মোর্চা’। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মেট্রো সিনেমা জংশন থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষ হয় বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের সামনে। মুম্বাইয়ের কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাট, বিজয় ওয়ারেত্তিওয়ার, এনসিপি (শরদ) নেতা জয়ন্ত পাটিল, শশীকান্ত শিন্ডেসহ বহু রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মানুষ ওই মিছিলে হাঁটেন।
তাঁরা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির বিপর্যয়ের মাত্র পাঁচ মাস পর এই কমিশন মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের আগে ৬০ লাখ ভোটারের নাম তুলে বিজেপিকে ক্ষমতা দখলে সাহায্য করেছিল। তারাই এবার এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে দুই কোটি ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে।
দেশজুড়ে জ্ঞানেশ হটাও আন্দোলন যেমন ছড়িয়ে পড়ছে, তেমনই আইনের জালেও তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। কংগ্রেস–শাসিত কেরলম সরকার তাঁর বিরুদ্ধে পুরোনো এক মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে।
মামলাটি অন্তত কুড়ি বছরের পুরোনো। কেরলমে তখন বামপন্থীরা ক্ষমতায় এসেছে। সেটা ২০০৬ সালের মধ্যভাগ। রাজ্যের একটি দীর্ঘ রাস্তা তৈরির বরাত পেয়েছিল ‘পাতি–বেল’ নামের এক নির্মাণ সংস্থা।
প্রকল্পটি ছিল ভারত–মালয়েশিয়ার যৌথ উদ্যোগ। মালয়েশিয় সংস্থা ‘পাতি’ এবং কেরলমের ভগীরথ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (বেল) ওই নির্মাণে অংশ নেয়। অভিযোগ, ২৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেই রাস্তার কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটির পাওনা টাকার এক অংশ আটকে রাখা হয়েছিল।
সে সময় সেই সংস্থার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন মালয়েশিয়ার নাগরিক লি সি বিন। তিনি ছিলেন প্রজেক্ট ম্যানেজার। টাকা পাওয়ার চেষ্টায় বিস্তর ঘোরাঘুরির সময় তিনি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগ, সুইসাইড নোটে তিনি কেরলম সরকারের তৎকালীন পূর্তসচিব জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন। তৎকালীন কেরলম সরকার ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিল ভিজিল্যান্স বিভাগের হাতে। কিন্তু তদন্ত শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। সেই পুরোনো মামলার তদন্ত নতুনভাবে শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন কেরলমের কংগ্রেস সরকারের পূর্তমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা।
কেরলম সরকার এ প্রসঙ্গে জানিয়েছে, পূর্ত দপ্তরের সচিব থাকাকালে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরকারি ঠিকাদারির কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অপরাধমূলক আচরণের অভিযোগ ছিল। কিন্তু তিনি প্রভাবশালী ছিলেন বলে তদন্ত মাঝপথে থেমে যায়। মালয়েশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যার ঘটনার পর জ্ঞানেশ ডেপুটেশনে চলে যান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি আইনে জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির রক্ষাকবচ রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা যাবে না। ২০২৩ সালে মোদি সরকারের তৈরি এই আইন অবশ্য কার্যকর হবে না ২০০৬ সালের ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
