বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

প্রতিবেদন:

·

, , ,

ক্রীড়া ডেস্ক:

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর চেষ্টা নতুন কিছু নয়। আধুনিক সময়ে সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, জ্যোতিষী এবং সাধারণ ভক্ত—সবাই নিজেদের মতো করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম অনুমান করেন।

এরই মধ্যে জার্মান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ইয়োআখিম ক্লেমেন্ট গত তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। কোনো ম্যাচে ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত বা বলের সামান্য ব্যবধানও ফল বদলে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যেও সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই, কারণ এখানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার ভূমিকা অনেক বড়।

সীমিত চ্যাম্পিয়ন ক্লাব

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ৮৪টি দেশ, কিন্তু ট্রফি জিততে পেরেছে মাত্র ৮টি দেশ— আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং উরুগুয়ে।

ফাইনালে উঠেছে মোট ১৩টি দেশ। সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে জার্মানি (৮ বার), এরপর ব্রাজিল (৭ বার) এবং আর্জেন্টিনা ও ইতালি (৬ বার করে)।

২০১০ সালে স্পেন সর্বশেষ নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপ জেতে, যা দেখায় শিরোপা জেতা ক্লাব কতটা সীমিত ও কঠিন।

নেদারল্যান্ডসের ব্যর্থতা ও নতুন সম্ভাবনা

তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস। তবে ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হতে পারে।

অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে—২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০২২ সালে মরক্কো।

ভৌগোলিক সুবিধার প্রভাব

বিশ্বকাপ ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজ মহাদেশের বাইরে গিয়ে শিরোপা জেতা খুবই কঠিন। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে—ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৯৪, ২০০২), স্পেন (২০১০), জার্মানি (২০১৪) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ, আবহাওয়া, ভ্রমণ ক্লান্তি এবং দর্শক সমর্থন—সব মিলিয়ে আয়োজক মহাদেশের দলগুলো বাড়তি সুবিধা পায়।

বিশ্বকাপ র‍্যাঙ্কিংয়ের ‘অভিশাপ’

১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় এক নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দল এখনো ট্রফি জিততে পারেনি।এটি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, কারণ তারা বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে।

ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া কত কঠিন

বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দুইবার কোনো দল টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে—ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২)।

২০০২ সালের পর দেখা গেছে, আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে বেশিরভাগই পরের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।

বিদেশি কোচদের ব্যর্থতা

বিশ্বকাপে বিদেশি কোচ নিয়োগ এখন সাধারণ বিষয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি কোচের অধীনে কোনো দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

২০২৬ আসরে ৪৮ দলের মধ্যে ২৭টির কোচই বিদেশি হতে পারেন। এর মধ্যে ব্রাজিলের দায়িত্বে কার্লো আনচেলত্তি এবং ইংল্যান্ডের দায়িত্বে টমাস টুখেল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্লাব সংযোগের অদ্ভুত পরিসংখ্যান

আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো—গত বহু বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে প্রায় সবসময়ই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ অথবা ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের কোনো না কোনো খেলোয়াড় ছিলেন।

১৯৮২ সালের পর খুব কমবারই এমন হয়েছে যেখানে এই দুই ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় ছাড়াই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—মিলিয়ে আয়োজন করবে আসরটি। দল সংখ্যা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৪৮টি।

নতুন দল হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান ও উজবেকিস্তান।

সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে—অতীতের অনেক ধারা ভাঙার সম্ভাবনা থাকলেও, বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা এখনো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

বি. এ

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ