ইসরাইলের সঙ্গে নিরাপত্তাকাঠামো নিয়ে আলোচনায় প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে পরে ইসরাইল আলোচনা থেকে সরে যায় অথবা নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আটলান্টিক কাউন্সিলের এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু ‘বিভিন্ন কারণে’ ইসরাইল সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়।
আল-শারা বলেন, সাবেক সিরীয় সরকারের পতনের পর থেকেই ইসরাইল সিরিয়ায় হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। তার দাবি, ইসরাইল নতুন নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে এবং দেশটির ভেতরে অভিযান, গ্রেপ্তার ও বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে।
তবে এসবের মধ্যেও সিরিয়া কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, সিরিয়া এখনো আলোচনা ও কূটনীতির পথেই এগোতে চায়। তবে সিরীয়দের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়।
আল-শারা জানান, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু হয় প্রায় এক বছর আগে। শুরুতেই দামেস্ক দাবি করেছিল, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা শুরুর আগে ইসরাইলকে ১৯৭৪ সালের চুক্তির পর নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। ওই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সফল হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।
গোলান মালভূমি নিয়েও সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেন আল-শারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড। তাই এ ভূখণ্ড কার—এ নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
ইসরাইলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাই করতে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার মতে, ওই কমিটি ইসরাইলের উত্থাপিত উদ্বেগগুলোর কোনটি কেবল ধারণা এবং কোনটি প্রকৃত নিরাপত্তা-উদ্বেগ, তা যাচাই করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আল-শারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার একটি রসিকতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় তিনি প্রশ্ন করেছিলেন—‘নিউ জার্সি ইসরাইলিদের দিয়ে দেন না কেন? গোলান মালভূমির মালিক আপনি নন যে সেটি তাদের দেবেন, কিন্তু নিউ জার্সি আপনার।’
গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন আল-শারা। ১৯৪৬ সালে সিরিয়া স্বাধীন হওয়ার পর কোনো সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধানের এটিই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল।
সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আল-শারা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা প্রায় ১৭০ থেকে কমে বর্তমানে দুটিতে নেমে এসেছে। তার দাবি, এসব ঘাঁটি এখন সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থানও ‘আইনি কাঠামোর’ দিকে এগোচ্ছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সমন্বয়কারী ব্রেট ম্যাকগার্কের প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
তিনি ৯/১১ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে তৎকালীন মার্কিন নীতির কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কথাও উল্লেখ করেন। আল-শারা বলেন, ওই সময়ের ঘটনাবলির সঙ্গে তার সম্পূর্ণ কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
