গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট:

প্রতিবেদন:

·

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের শুরুতে নিজেদের অবস্থান সঠিক ছিল না বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বৃটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টিকে গাজা ইস্যুতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। এই খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর অনেকেই মনে করেছেন আমার দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, এবং এর জন্য আমি দুঃখিত।

আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রায় সময়ই যথেষ্ট ভালো ছিল না। আমাদের আরও ভালো করা দরকার। তিনি স্বীকার করেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে বৃটেনের অনেক বেশি দেরি হয়ে গিয়েছিল। একই সাথে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এলে অবৈধ বসতিগুলোর সাথে সব ধরণের পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করাসহ ইসরাইলি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরাইল সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হবে।

এই ঘটনাটি লেবার পার্টির সাবেক প্রধান কিয়ার স্টারমারকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনিদের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে। তার এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বৃটেনের বিপুল সংখ্যক মুসলিম ও প্রগতিশীল ভোটার লেবার পার্টির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রিন পার্টিতে যোগ দেন। সেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের মান ভাঙাতেই মূলত বার্নহ্যামের এই প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা। অবশ্য বামপন্থী শিবিরের প্রবল দাবি সত্ত্বেও গাজার পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলতে রাজি হননি বার্নহ্যাম।

তিনি বলেন, গাজায় যে যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে তার প্রমাণ রয়েছে। তবে এটি গণহত্যা কি না তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের নয়, বরং আন্তর্জাতিক আদালতের। বার্নহ্যামের এই অবস্থানের সমালোচনা করে গ্রিন পার্টির ডেপুটি লিডার মথিন আলী অভিযোগ করেছেন যে, বার্নহ্যাম আন্তর্জাতিক আদালতের দোহাই দিয়ে আসল সত্য এড়িয়ে যাচ্ছেন, কারণ যুদ্ধাপরাধের কথা সরাসরি স্বীকার করলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ইসরাইলের কাছে বৃটেনের সব ধরণের অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ