‘গরু পশু নয়, আমাদের মা

গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার দাবি প্রসঙ্গে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, কিছু মানুষ গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করার কথা বলছেন; কিন্তু আমাদের কাছে গরু কোনো পশু নয়, বরং মা। আমাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের।

লক্ষ্ণৌতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) প্রাক্তন নেতা অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

যোগী আদিত্যনাথের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সনাতন ঐতিহ্যে গরু ইতিমধ্যেই মাতৃরূপে পূজিত। তাই এর জন্য কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই। ঠিক যেমন কোনো সন্তানকে তার মাকে চিনতে বা সম্মান করতে আলাদা করে বলতে হয় না, তেমনি গরুর মর্যাদাও স্বতঃসিদ্ধ।

গঙ্গার সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গঙ্গাকেও কেউ মা বলে চিনতে শেখায়নি। এগুলো আমাদের সভ্যতার মৌলিক মূল্যবোধ।’ যারা গরুকে শুধু পশু হিসেবে দেখেন, তাদের চিন্তাধারাই পশুসুলভ—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গোমাতা আমাদের জাতীয় মাতা। তার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দরকার নেই।’

অনুষ্ঠানে গো-রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, ভক্তদের উচিত গো-সংরক্ষণ ও পালনে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশে গো-হত্যা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা এটিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে রাজনীতির মিশ্রণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যোগী এর মাধ্যমে হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতি তার অটল অবস্থানই তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন মহল থেকে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি উঠেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রস্তাব তাদের বিবেচনায় নেই। বর্তমানে ভারতের জাতীয় পশু হিসেবে বাঘ স্বীকৃত।