যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে চালু হওয়া ট্রাম্প মিম কয়েন থেকে রয়্যালটি হিসেবে তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। যদিও বাজারে আসার পর থেকে এই কয়েনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল নামের একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের ছেলেদের পাশাপাশি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।
আর্থিক বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য থেকেও কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।
২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ঘোষিত আয় সেই তুলনায় অনেক বেশি।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্প তাঁর ব্যবসাগুলো ছেলেদের পরিচালিত একটি ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন। তাই এ ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের কোনো প্রশ্ন নেই।
হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই আমেরিকান জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তিনি ফেডারেল স্বার্থসংঘাত আইনের আওতায় পড়েন না। অথচ কয়েক বছর আগেও তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে তাঁর আয় এখন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়ের চেয়েও বেশি। একসময় এই রিয়েল এস্টেট খাত থেকেই ট্রাম্প ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল মিয়ামি গলফ ক্লাব থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন তিনি। নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের ট্রাম্প টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও ৩ কোটি ডলারের বেশি করে আয় এসেছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকে ৪৭ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন তিনি। বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটার বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও নিজের আয় বিবরণীতে জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং এনএফটি বিক্রি করে আরও ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি মোট ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার পেয়েছেন। এর মধ্যে এবিসি, সিবিএস, মেটা, ইউটিউব ও এক্সের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব অর্থের বড় একটি অংশ ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অথবা ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে।
ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার সূচক তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭৬০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করেছে।
হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প ক্রিপ্টোশিল্পের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীতিতেও পরিবর্তন এনেছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেওয়া ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রধান পল অ্যাটকিন্স তাঁর পূর্বসূরির কঠোর নিয়ন্ত্রণনীতি থেকে সরে এসে তুলনামূলক শিথিল অবস্থান গ্রহণ করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ট্রাম্প জিনিয়াস অ্যাক্ট আইনে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ডিজিটাল সম্পদের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করা।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
