চৌগাছা প্রতিনিধি
ছোট ছোট স্বপ্নই একদিন বড় স্বপ্ন দেখার পথ তৈরি করে। মানুষ একদিনে হাঁটতে শেখে না। ধীরে ধীরে হাঁটতে শিখেই দৌড়াতে শেখে। তাই ভুলকে ভয় না পেয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
চৌগাছা স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতায় স্থানীয় সংসদসদ্য ডা. ফরিদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিজ্ঞান মুখস্থ করার বিষয় নয়। বিজ্ঞান বুঝতে পারলে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে গেলে ভুল হবেই। তবে ব্যর্থতায় ভেঙে পড়লে চলবে না।
ডা. ফরিদ বলেন, বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন প্রায় ১০ হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পর বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। আজকে আমরা যাদের খুদে বলছি তাদের ধারাবাহিক চেষ্টা অব্যহত থাকলে একদিন জগদীশ চন্দ্র বসু, আইনস্টাইন, নিউটন, ইবনে সিনা ও এরিস্টটলের মতো মহান বিজ্ঞানী ও দার্শনিক তৈরি করবে।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুরা ভুল করবেই। তবে তাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না। নিজেদের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, শিশুদের উদ্ভাবনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) চৌগাছা উপজেলা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার নাসরিন সুলতানা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএম মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম বজলুর রশিদ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল আহমেদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সায়েন্স স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ। দ্বিতীয় হয় চৌগাছা সরকারি কলেজ। তৃতীয় স্থান পায় চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
তবে ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, উন্নত চিন্তনশীল প্রজেক্ট থাকার পরেও একটি প্রতিষ্ঠানের অনেক নিম্ন মানের প্রজেক্ট প্রদর্শনী করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাদের প্রজেক্ট বাইরের থেকে কিনে এনে প্রদর্শন করার অভিযোগও করেন। এতে প্রকৃত উদ্ভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের উৎসাহ প্রদান করেন।
বি. এ
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
