ইরানকে মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া

Russia supplying Iran with advanced weapons to counter US, intelligence reports say

প্রতিবেদন:

·

, ,

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মোকাবেলায় ইরানকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। সম্প্রতি এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে যা থেকে বোঝা যায়, মস্কো তেহরানকে বিপুল পরিমাণে নতুন নতুন প্রযুক্তির’ অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম।

গোয়েন্দা রিপোর্ট দাবি করছে, রুশ প্রযুক্তির কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। জানা গেছে, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। এবার জানা যাচ্ছে, মস্কো ইরানকে এমন কিছু ড্রোন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা জ্যাম করা বা মাঝপথে আটকে দেয়া প্রায় অসম্ভব। শুধু তাই নয়, এসব অত্যাধুনিক ড্রোন নিখুঁতভাবে চালানোর জন্য ইরানি সেনাদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া।

একটি গোপন নথির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় রাশিয়া ইরানকে পাঁচ হাজার ফাইবার-অপটিক ড্রোন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই একই ড্রোন বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে মস্কো।

এছাড়া, দূরপাল্লার স্যাটেলাইট-নির্ভর বেশ কিছু ড্রোনও তেহরানকে দেয়ার কথা রয়েছে এই প্রস্তাবে। শুধু অস্ত্র দেয়াই নয়, এসব ড্রোন নিখুঁতভাবে চালানোর জন্য ইরানি পেশাদারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার দায়িত্বও নিতে চায় রাশিয়া। ১০ পাতার ওই প্রস্তাবনায় বিভিন্ন দ্বীপের মানচিত্র এবং ড্রোন ব্যবহারের ছয়টি রেখাচিত্র যুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সাধারণত ড্রোন রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে চলে, যা জ্যাম করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু এই ড্রোনগুলো সরু তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এগুলো কোনো রেডিও সিগন্যাল ছড়ায় না এবং শত্রুপক্ষ অপারেটরের অবস্থানও খুঁজে পায় না। এগুলো ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পিনপয়েন্ট হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর কাছেও এমন ড্রোন দেখা গেছে, যা তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ড্রোন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী থেকে এসেছে। তবে এর উৎস যে রাশিয়া, সেটা এখন জোরালো হচ্ছে।

নথিটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপে স্থল হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল, ঠিক তখনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া রাশিয়া তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি উন্নতমানের শাহেদ ড্রোনও তেহরানকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ড্রোনে স্টারলিংক টার্মিনাল যুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী হামলা চালানো যায়।রাশিয়ার গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে মস্কো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ