ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের সীমিত সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হতাশার কথা বলেছেন, সেটির ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্য নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুট।
বুধবার (১৩ মে) রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অনুষ্ঠিত নাইন সামিট ও নর্ডিক অ্যালাইজ সামিট শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের হতাশা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন ন্যাটো প্রধান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমার বার্তা হলো, ইউরোপ তাদের বার্তাটি শুনেছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা এ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। সংবাদ সম্মেলনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি উপস্থিত ছিলেন।
মার্ক রুট বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দুটি ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো ৩.০ মানে আরও শক্তিশালী ইউরোপ ও আরও শক্তিশালী ন্যাটো। আর শক্তিশালী ইউরোপ ও ন্যাটো মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত শক্তি।
রুটের বক্তব্যের সমর্থনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোয় সমানুপাতিক অবদান নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ‘বার্ডেন শেয়ারিং’ বা দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আপত্তির পর ইউরোপ এ বিষয়ে আরও সচেতন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমরা ইতোমধ্যেই ন্যাটো ৩.০-এর পথে রয়েছি। ৩.৫ প্লাস ১.৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে এবং আমরা সে লক্ষ্য পূরণের ধারাবাহিকতায় আছি।
এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের আচরণ নিয়ে হতাশ হয়ে ট্রাম্প জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের পর ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে তৎপরতা শুরু করেছে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
