শিক্ষা ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চার শিক্ষার্থীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
রিটকারীদের আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন জানান, গত ২৩ আগস্ট এক সভায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ একটি রোডম্যাপ জারি করে।
ওই রোডম্যাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে একাডেমিক মাইগ্রেশনের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি মাসে চার কলেজের চার শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটকারীদের আইনজীবীর যুক্তি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইনের ৫৯(৪) ধারায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত শিক্ষাকাঠামো ও কারিকুলামের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সনদ দেওয়ার বিষয়টি বলা হয়েছে।
কিন্তু এর আগে ভর্তি হওয়া তিন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের বিষয়ে আইনে কোনো বিধান নেই।
আইনজীবীর ভাষ্য, আইন সাধারণত কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রযোজ্য হয়। অতীতের কোনো বিষয়কে আইনের আওতায় আনতে হলে সেটি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হয়। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা রোডম্যাপের মাধ্যমে আগের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর করা হলে তাদের একাডেমিক পরিচয়, শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও অর্জিত অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তাসবির শরীফ ও জাহাঙ্গীর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান।
আইনজীবী কাজী আখতার হোসাইন বলেন, ২৩ আগস্টের সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট জারি করা রোডম্যাপটি রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান জানিয়েছেন, রোডম্যাপের কার্যক্রম অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চলমান থাকবে। শুধু রিট আবেদনকারী চার শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সাতটি সরকারি কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ।
অধিভুক্তির পর বিভিন্ন সংকট নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর এসব কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি এবং ১০ এপ্রিল ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন করা হয়।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
