ক্রীড়া ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। কাগজে-কলমে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলই ফেবারিট। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা-নরওয়ের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
দুই দলের একমাত্র বিশ্বকাপের লড়াই হয়েছিল ১৯৯৮ আসরের গ্রুপ পর্বে। সে ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল নরওয়ে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল শুরুতে এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে দুই গোল করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় নরওয়ে এবং নিশ্চিত করে নকআউট পর্বের টিকিট।
বিশ্বকাপের বাইরে দুই দলের সামগ্রিক রেকর্ডও ব্রাজিলের জন্য সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ ব্রাজিলের জয় শূন্য।
প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালে অসলোতে প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে একই ভেন্যুতে আবারও প্রীতি ম্যাচে রোনালদো, রোমারিও, দুঙ্গা, কাফু ও রবার্তো কার্লোসদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারায় নরওয়ে। ২০০৬ সালে সর্বশেষ দেখায়ও দুই দল ১-১ গোলে সমতায় মাঠ ছাড়ে।তবে বর্তমান নরওয়ে আরও শক্তিশালী। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা ও অস্কার ববের মতো আক্রমণভাগের তারকাদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইউরোপের দলটি। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। নুসার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আমাদ দিয়ালো সমতা ফেরালেও ৮৬ মিনিটে হালান্ডের গোলে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।
অন্যদিকে ব্রাজিলও সহজে শেষ ষোলোয় ওঠেনি। জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরো সমতা ফেরান। যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের রক্ষণ, বিল্ডআপ এবং মাঝমাঠের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। লুকাস পাকেতার চোটও দলটির জন্য বড় ধাক্কা। নরওয়ের মতো দ্রুতগতির ও শারীরিক ফুটবল খেলা দলের বিপক্ষে এসব দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হালান্ড হলেও ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা, নুসার গতি এবং অস্কার বব ও স্যান্ডার বার্গের ট্রানজিশনও ব্রাজিলের জন্য হুমকি হতে পারে। অন্যদিকে ব্রাজিলের আশা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও নেইমারদের ওপর।
পরিসংখ্যান ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না, তবে মানসিক চাপ তৈরি করে। নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ব্রাজিল। আর নরওয়ে চাইবে, ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের ব্যতিক্রমী আধিপত্য আরও একবার ধরে রাখতে।
Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ
