বিসমিল্লাহ খানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রতিবেদন:

·

, ,

ভারতের কিংবদন্তি সানাইবাদক ও ভারতরত্নপ্রাপ্ত ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের বারানসিতে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান ও বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব। তবে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো সরকারি উদ্যোগে নয়, পরিবারের সদস্যরাই নিজেদের সিদ্ধান্তে বাড়িটির একাংশ ভেঙেছেন।

শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে ‘চরম নিন্দনীয়’ বলে মন্তব্য করেন অখিলেশ যাদব।

তিনি লেখেন, ‘যাদের জন্য সানাই বাজেনি, তাদের কাছ থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়!’

অখিলেশের অভিযোগ, বিজেপি ও তাদের সংকীর্ণমনা সহযোগীরা সব সময় শিল্প ও শিল্পীদের বিরোধিতা করে। কারণ, সৃজনশীল মানুষেরাই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেন। ইতিবাচক শিল্প মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা বাড়ায়। এ কারণেই তারা শিল্পকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডার বাধা মনে করে অথবা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।

তিনি আরো বলেন, ভারতরত্নপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির অভিন্ন ঐতিহ্য ধ্বংস করা মানে শুধু তার মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করা নয়, ভারতের সম্মানও ক্ষুণ্ন করা। ঘৃণার রাজনীতিতে জড়িয়ে বিজেপি দেশের ক্ষতি করছে।

ক্ষমতায় গেলে ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের সংগীত ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি ‘শ্রবণ জাদুঘর’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন অখিলেশ।

তবে বারানসি পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরিবার তাতে সম্মতি দেয়নি। বরং ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়ে নিজেরাই সেটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।

পৌর করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ শ্রীবাস্তব বলেন, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় তাদের বাড়িতে যাওয়ার সড়কগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জীবন ও অবদানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো এবং প্রতিটি বাড়ির একটি কক্ষ জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়িতে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু পরিবার প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় তারা নিজেরাই সেটি ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে চেয়েছেন।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ